শান্তিচুক্তির দুই যুগের পথে উন্নয়নমুখী পার্বত্য চট্টগ্রাম



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
শান্তিচুক্তির দুই যুগের পথে উন্নয়নমুখী  পার্বত্য চট্টগ্রাম।

শান্তিচুক্তির দুই যুগের পথে উন্নয়নমুখী পার্বত্য চট্টগ্রাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার প্রস্তাবে বুধবার (২৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'শত বাধা অতিক্রম করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ এক উন্নয়ন বিস্ময়', যার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামেও। কোনো তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে দীর্ঘ সংঘাতের অবসানে ১৯৯৭ সালে সূচিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। শান্তিচুক্তির দুই যুগের পথে উন্নয়নমুখী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের জনপদে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে মাত্র সাতটি বৈঠকের মাধ্যমে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা পার্বত্যাঞ্চলে শান্তির আবহ তৈরি করেছে। সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে শান্তির, উন্নয়নের, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ইতিবাচক পরিবেশ।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বিগত ২৪ বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং নিয়ন্ত্রণাধীন ৩৩টি দফতর-সংস্থার মধ্যে রাঙামাটিতে ৩০টি, খাগড়াছড়িতে ৩০টি এবং বান্দরবানে ২৮টি হস্তান্তর করা হয়েছে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গঠন করা হয়েছে ভূমি কমিশন। প্রত্যাগত ১২ হাজার ২২৩টি উপজাতি শরণার্থী পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
সংসদ উপনেতার নেতৃত্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল-২০১০ জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। ক্ষুদ্র তিন পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন দফতরে চাকরির ক্ষেত্রে নৃগোষ্ঠীর লোকদের নির্ধারিত কোটা অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৃগোষ্ঠীর জন্য কোটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিষদ আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে জারিকৃত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০১৪ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।

ভূমিবিষয়ক আইন ও বিধিমালা ছিল না। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন ২০০১ প্রণয়ন এবং ২০১৬ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থ-সামাজিকভাবেও উন্নয়ন হয়েছে। অনেক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন বাজেট ছিল ৫০.৫৭ কোটি টাকা, আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ হয়েছে ৯১৫.৮৩ কোটি টাকা। তিন পার্বত্য জেলায় দুই হাজার ৮৯৯ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্গম হওয়ার কারণে যেখানে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয়, এ রকম পাঁচ হাজার ৫০০টি পরিবারকে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

শান্তিচুক্তির আগে পার্বত্য অঞ্চলে মাত্র ২০০ কিলোমিটার রাস্তা ছিল। রুমা ও থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর ওপর কোনো সেতু ছিল না। এখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাস্তা ও বিভিন্ন আকারের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। শান্তিচুক্তির পর এক হাজার ৫৩২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে টেলিযোগাযোগ, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতা বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা হয়েছে, যা শান্তিচুক্তির আগে ছিল না বললেই চলে। চুক্তির আলোকে পার্বত্য জেলায় কৃষি, স্বাস্থ্য, নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকা পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি চালু রয়েছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র্য বিমোচন তথা জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক শ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম

সংঘাত থেকে শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রা কণ্টকমুক্ত নয়। শান্তি বিরোধী নানা গোপন তৎপরতা হিংসা ও সন্ত্রাস বাড়াচ্ছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘শান্তি চুক্তি’ ও ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রসঙ্গ দুটি আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা প্রতিনিয়ত চর্চা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিকে এ লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করতে হয়। ‘শান্তির পক্ষে’ ও ‘শান্তির জন্য’ সহায়ক পরিবেশ ও পরিকাঠামো গঠন এবং নাগরিক সমাজে আস্থা, বিশ্বাস, সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সমঝোতা বজায়ের মাধ্যমে তরান্বিত করতে হয় শান্তির গতিবেগ।

‘চুক্তি’ স্থায়ী শান্তি পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি সময়ের পরিবর্তনে ক্রমে ক্রমে তৈরি হওয়া শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর প্রতিও নজর দেওয়া অপরিহার্য। এজন্য সরকার ও জনসংহতি সমিতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক সংস্থাকে শান্তি, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ হানিকর প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সতর্ক, সজাগ থেকে নিরাপত্তা ও শান্তির পক্ষে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি সকলেরই প্রত্যাশা। অশান্তির আগুন সকলের জন্যই বিপজ্জনক এবং অশান্তির কুফল ভয়াবহ ও ক্ষতিকর। অতীতে দেশে-বিদেশে অশান্তির ভয়াবহ পরিণাম দেখা গেছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বক্ষণিক ভাবে একযোগে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। অশান্তি নয়, সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রসর হওয়াই কল্যাণকর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্পন্ন শান্তিচুক্তির পটভূমিতে শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা সূচিত হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় শান্তি ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। চুক্তির দুই যুগের প্রাক্কালে শান্তিপূর্ণ ও উন্নত পাবর্ত্য চট্টগ্রামের অপেক্ষায় দেশবাসী।

ড. মাহফুজ পারভেজ, প্রফেসর, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম।

বিড়ালের মৃত্যুতে আর্দ্র হৃদয়



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবিরের গৃহপালিত বিড়ালগুলো। বার্তা২৪.কম

ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবিরের গৃহপালিত বিড়ালগুলো। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্তন্যপায়ীদের মধ্যে পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়ালের কদর সবচেয়ে বেশি। বিড়াল শান্তশিষ্ট প্রাণী, তার মেজাজ-মর্জিও অন্যসব পোষা প্রাণী থেকে আলাদা। বিড়ালের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ যুগ যুগ ধরে অব্যাহত। পাহাড় ও অরণ্যের মেলবন্ধনের অনিন্দ্য ভূমিতট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক এলাকায় বহুমাত্রিক প্রাণবৈচিত্র্যে অভাব নেই। অবাধে ঘুরে বেড়ায় নানা বন্য প্রাণী। বিভিন্ন বাড়িতে রয়েছে পোষা প্রাণীও। যার মধ্যে বিড়ালের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মানব সমাজে ঠিক কবে থেকে বিড়ালকে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার প্রচলন শুরু হয়, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। প্রাক-ইসলামি যুগ থেকে শুরু করে নবী করিম (সা.)-এর জামানায় অনেকেই বিড়াল পুষতেন। এমনকি সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী (৫৩৭৫টি হাদিস তিনি বর্ণনা করেছেন) সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে 'বিড়ালের পিতা' বলে ডেকেছেন স্বয়ং নবী করিম (সা.)। তিনিও বিশ্ববাসীর কাছে আবু হুরায়রা বা  'বিড়ালের পিতা' নামে পরিচিত, যদিও তার প্রকৃত নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর।

আবু হুরায়রা বা 'বিড়ালের বাবা' নামটির পেছনে একটি মজার কাহিনী রয়েছে। একদিন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জামার আস্তিনের নিচে একটি বিড়ালছানা নিয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন। সে সময় বিড়ালটি হঠাৎ করে সবার সামনে বেরিয়ে পড়ল। এ অবস্থা দেখে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে রসিকতা করে, ‘হে বিড়ালের পিতা’ বলে সম্বোধন করলেন। এরপর থেকে তিনি আবু হুরায়রা নামে খ্যাতি লাভ করেন। আর সেদিন থেকে তিনি নিজেকে আবু হুরায়রা নামেই পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।


উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যায়, ইসলামে বিড়াল পালনে কোনো বাধা নেই। যারা মসজিদের হারাম কিংবা মসজিদে নববিতে যান, তারা সেখানে প্রচুর বিড়াল ছোটাছুটি করতে দেখেন। আগত মুসল্লিরাও তাদের পানি কিংবা খাবার দিয়ে থাকেন।

অনেকেই জানতে চান, বিড়াল পালা কি জায়েজ? এর উত্তরে ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, হ্যাঁ, বিড়াল পালা বৈধ। তবে তাকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। বিড়াল পুষতে চাইলে অবশ্যই তাকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে। বিড়ালের প্রতি যথাযথ দয়া-অনুগ্রহ দেখাতে হবে। বিড়ালকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। শুধু বিড়াল নয় কোনো প্রাণীর ওপর কোনো ধরনের অমানবিক নির্যাতন কিংবা অবিচার করলে গোনাহগার হতে হবে।

প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে রয়েছে যে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জনৈক মহিলাকে বিড়ালের প্রতি অমানবিক আচরণের কারণে আজাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটি বন্দি করে রাখে, এ অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। এমনকি বন্দি করে রেখে পানাহার করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে করে বিড়ালটি জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৭৪৫)

বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেছেন, ‘এ হাদিস থেকে বিড়াল পালা ও বিড়ালকে বেঁধে রাখা জায়েজ বলে প্রমাণিত হয়, যদি তাকে খানাপিনা দেওয়ার ব্যাপারে ত্রুটি না করা হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৪১২)


এ ছাড়া আরও কিছু হাদিস রয়েছে, যা থেকে বিড়াল পালন জায়েজ প্রমাণিত হয়। সুতরাং পৃথিবীতে বিড়ালসহ আল্লাহর যত সৃষ্টি রয়েছে, সবকিছুর প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করতে হবে। কেননা, নবী করিম (সা.) নিজেও তা করেছেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন অজু করতেন তখন নিজের অজুর পাত্র থেকে বিড়ালকে পানি পান করাতেন। এ সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দয়াবানদের ওপর দয়াময় আল্লাহও দয়া করেন। তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪১)

দুনিয়ায় আল্লাহর যত সৃষ্টি রয়েছে সবকিছুর প্রতি দয়া অনুগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে, মানুষের পরম বন্ধু বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা বা মমত্ববোধ দেখাতে হবে। সমাজের অনেকেই আছে, যারা বিড়াল দেখলে তাড়িয়ে দেয়, অকারণে পেটায়, গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারে এসব পাপের কাজ; যা মোটেও কাম্য নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় বিড়ালের প্রতি স্নেহ ও প্রেমের অম্লান দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। একটি বিড়ালের আকস্মিক মৃত্যুতে মানবিক বেদনার ধারাও লক্ষ্য করা গেছে। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক, সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবির জানান, 'আমাদের বাসার বিড়ালটা আজ (শুক্রবার) বেলা পৌনে বারোটার দিকে মারা গিয়েছে। তাকে আমি ডাকতাম "ঘুষুমা" বলে, আমার মেয়ে ডাকত "পেঙ্গু" আর আমার স্ত্রী, আনোয়ারা ম্যাডাম, "এনজো" বলে ডাকতেন। সে একটা হুলো বিড়াল ছিল। তার বয়স হয়েছিল মাত্র দশ মাস।'

তিনি জানান, 'আমাদের ক্যাম্পাসস্থ বাসায় প্রথমে বিড়ালটা মায়ের আশ্রয়স্থল হয়। এরপর এই বাসাতেই বাচ্চাটার জন্ম হয়। বাসাতেই বড় হয়। ম্যাডামের উদ্যোগে বাসার সবার আদরে, যত্নে, ভালোবাসায়, বাসার একজন সদস্য হিসাবে। আমাদের সবার প্রতি তার দাবী ছিল আলাদা।'

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রুটিন অনুযায়ী আমি তাকে দুধ ও টোস্ট বিস্কুট খেতে দেই। উল্লেখ্য, ও শীতে আমার কম্বলের নীচে ঘুমাত।

তারপর রুটিনমতোই বাসা থেকে বের হয়ে তিন রাত পরে ভয়ংকর অসুস্থ ও কাহিল অবস্থায় রাত পৌনে একটার দিকে বাসার দরজায় বসে কান্না করতে থাকে। এটা অস্বাভাবিক রকমের ব্যতিক্রম ছিল। একটানা এতদিন কখনো সে বাইরে থাকেনি। দিনে চার-পাঁচবার সে বাসায় আসতো, খেতো। তো, ওর কান্না শুনে ম্যাডাম ওকে ভেতরে নিয়ে আসেন। অবশেষে সে বাসায় এলো বলে মনে স্বস্তি পেলেও তার পরিস্থিতি দেখে ভয় পেলাম, কষ্ট হলো। বাঁচবে তো! এমন অলক্ষুণে চিন্তা মাথায় এসে গেল। আমি নিজেই তখন অনেক অসুস্থ। ভয় বেড়ে গেল যখন দেখলাম সে ঠিকমত হাঁটতে পারছেনা, সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। কিছুই খাচ্ছিলনা দেখে মনের ভিতরটা আৎকে উঠল। তবুও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। কলিগ/ক্যাম্পাসের ভাতিজা পিলু (প্রাণীবিদ্যা বিভাগের আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী)'র সাথে পরামর্শক্রমে হাটহাজারীতে প্রাণিসম্পদ অফিসে ডাক্তার দিয়ে দেখানো হলো। কিন্তু সবার ভালোবাসা নিয়ে, সবাইকে ভালোবাসায় কাঁদিয়ে আমাদের "ঘুষুমা"/"পেঙ্গু"/"এনজো" এই নিষ্ঠুর দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। জানান প্রফেসর কবির।

বিড়ালের মৃত্যুতে বাড়ির কারোই মন ভালো নেই। যারা বিড়ালটিকে দেখেছেন, তারা সবাই মর্মাহত। ঘটনাটি যারা শুনেছেন, তারাও বেদনাহত।  অবলা প্রাণী ও গৃহপালিত পশুর প্রতি মমত্বের চেতনায় দীপ্ত এই ঘটনা ক্যাম্পাস জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। একটি বিড়ালের মৃত্যুতে আর্দ্র হয়েছে বহু হৃদয়।

;

দীর্ঘ লেজে উড়ন্ত সৌন্দর্যময় ‘বড় ভীমরাজ’



বিভোর বিশ্বাস, বার্তা২৪.কম, সিলেট
বনের সুস্বাস্থ্যর জানান দেয় ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

বনের সুস্বাস্থ্যর জানান দেয় ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

বনের নিস্তব্ধতা। উঁচু গাছের মগডালে ডেকে চলেছে একটি পাখি। তবে যে পাখিটির যে ডাক হওয়ার কথা এই ডাকটি ওই পাখিটির নয়। উঁচু ডালের পাখিটি অন্য একটি পাখির ডাক নকল করে দিব্বি প্রতিধ্বনি ছড়াচ্ছে সবুজ সমারোহে।

গবেষকের মতে, বড় ভীমরাজ অন্যপাখির ডাক নকলে পটু। শুধু তা-ই নয়, ‘ভি’ আকারের লম্বা লেজের দু’পাশটি চিকন এবং মনোমুগ্ধকর। ওই লম্বা লেজ নিয়ে যখন উড়াল দেয় তখন এ দৃশ্যটি দৃষ্টিনন্দন লাগে। এই বিশেষ ধরণের বাহারি লেজ ভীমরাজের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বড় ভীমরাজের ইংরেজি নাম Great Racket tailed Drongo এবং বৈজ্ঞানিক নাম Dicrurus Paradiseus। আকারে আমাদের পাতিকাকের সমান। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর তথ্য অনুযায়ী এরা ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ পাখি।

‘ভি’ আকারের দীর্ঘ লেজের পাখি ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, বড় ভিমরাজ পাখি চিরসবুজ বনের পাখি। বনের বাইরে বা লোকালয়ে এদেরকে পাওয়া যায় না। এরাও পতঙ্গভুক পাখি। যে সব বনে পোকা ও কীটপতঙ্গের উৎপাদন খুব ভালো সেখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। উড়ন্ত পোকা এরা ধরে ধরে খায়। এছাড়াও ফুলের মধু এবং পাখির ডিমও এরা খেয়ে থাকে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এদের দেহ নীলাভ কালো চকচকে। এই পাখিটির কপালে রয়েছে বিশাল ঝুঁটি। এদের লেজ লম্বা এবং দেখতে অনেকটা রকেটের মতো। লেজের শেষভাগের দুই দিকের পালকটি বাঁকানো। এদের চোখ বাদামি-লালচে। পালক এদের শারীরিক উচ্চতা প্রায় ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১২০ গ্রাম।’  

 ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।’

এদের এ বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এরা অন্যপাখির ডাক নকল করতে পারে। দেখা যায়, বনের মাঝে অন্যপাখির শিস নকল করে দিব্বি ডেকে চলেছে ভীমরাজ। এদের গলার আওয়াজ বেশ সুরেলা। অন্যান্য পাখির ডাক ও গান সহজে নকল করতে এরা পারদর্শী বলে জানান ড. কামরুল হাসান।

;

বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা



আবু রায়হান ওবায়দুল্লাহ
বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা

বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা

  • Font increase
  • Font Decrease

সুযোগ পেলেই চলে আসি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের কাছে। এবার কিশোরগঞ্জের হাওরের অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়ায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব চৌদ্দমাদল উপলক্ষে ৪ দিন ব্যাপী মেলায় এসেছি।

 


১৮ জানুয়ারি থেকে বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে মেলা চলছে। এবার ৯১তম মেলাকে ঘিরে হাওরের এ গ্রামীণ জনপদে প্রাণচাঞ্চল্যের দেখা মিললে। মেলা উপলক্ষে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক আনন্দ প্রীতি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পরস্পরের মধ্যে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে এই মেলাকে ঘিরে। উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে এলাকার ঘরে ঘরে।


মেলায় দেশের নানা জায়গার প্রায় পাঁচশত ব্যাবসায়ী মিষ্টি, উইড়া, ফল, চটপটি, খেলনা, কসমেটিক, প্রসাধনী, জুতা, কাপড়, কাঠের ফার্নিচার, তৈজষপত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি, গৃহস্থালি আসবাবপত্রসহ নানা রকম দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

 


মেলায় বাহারী আসবাবপত্রের পসরা ছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে রেলগাড়ি, নাগরদোলা,নৌকাদোলা, পুতুলনাচ ইত্যাদি।

 


 

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ মিষ্টান্নে ভরপুর মেলা। গজা, জিলাপি, তালের পিঠা, মিষ্টি, নাড়ু, মোয়া ইত্যাদি তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্বাদে, গন্ধে অপূর্ব সেসব মিষ্টান্ন।

 


 

মেলায় এসেছে গ্রামীণ অনেক বাদ্যযন্ত্র। বিলুপ্ত হওয়ার পথে এসব বাদ্যযন্ত্র রক্ষা পাচ্ছে এসব গ্রাম্যমেলার মাধ্যমে। অনেকে শখে আর অনেকে প্রয়োজনে সংগ্রহ করছেন এসব সামগ্রী।

 


 

মেলা উদযাপন কমিটি স্বাস্থ্য বিধি মেনে, মাস্ক পরিধান করে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত প্রবেশদ্বার নির্মাণ করেছেন। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আবু রায়হান ওবায়দুল্লাহ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ট্র্যাভেলর, ব্লগার।

;

দরগাহ মেলায় নজর কাড়ছে বড় মাছের হাট



ছাইদুর রহমান নাঈম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কিশোরগঞ্জ
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দরগাহ মেলা। হাজারো মানুষের আনাগোনাতে জমে উঠেছে গ্রাম্য মেলা। মেলায় বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। ছোট বড় সবাই আসছে মেলা দেখার জন্য। কসমেটিকস সহ সবধরনের দোকান রয়েছে। তবে সবার থেকে আলাদা হচ্ছে মেলাতে আসা মাছের বাজার। বিভিন্ন রকমের বড় মাছের সমাহার মেলাতে।

কিশোরগঞ্জ জেলার পাশ্ববর্তী মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের কটিয়াদী-মনোহরদী সড়কের পাশেই দরগাহ বাজারে এই মেলা। এই মেলা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) থেকে। মেলা চলবে টানা পাঁচ দিন।

দরগাহ মেলায় নজর কাড়ছে বড় মাছের হাট

এ মেলার সময় আশেপাশের এলাকার মেয়ে আর জামাইকে দাওয়াত করে আনা হয়। তারপর মেলা থেকে বড় বড় মাছ কিনে, সেই মাছ জামাইকে খাওয়ানো হয়। এটা এখানকার দীর্ঘ দিনের একধরনের প্রচলিত নিয়ম।

‘মাছের মেলা’ নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বড় বড় মাছের ছবি। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। এর মধ্যে নদীর বড় বড় বাঘাইর, আইড়, বোয়াল, কাতলা, পাঙ্গাস, সামুদ্রিক টুনা, ম্যাকরেল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেচাকেনা হয়। তবে, চাষের বিভিন্ন ছোট বড় আকারের মাছও পর্যাপ্ত পাওয়া যায়।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ।

মেলার প্রথম দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় দর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই আছে। মেলায় সবকিছু ছাপিয়ে সবার দৃষ্টি যেন মাছের বাজারের দিকে। একটি রুই মাছ দাম হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। বোয়াল মাছ ৩০ হাজার, বাঘা’ইর ২৫ হাজার, চিতল ৩০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছে বিক্রেতারা। নরসিংদী, বি-বাড়িয়া, গাজীপুর থেকে এসেছেন মাছ নিয়ে।

মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘১০ টি রুই মাছ, ৫ টি কাতল মাছ নিয়ে এসেছি মেলায়। রুই মাছ ৪০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছি। ক্রেতারা ২০-২৫ হাজার টাকা বলছেন। ৩০ হাজার হলে বিক্রি করবো।’

এলাকার জামাই আহমদ আলী বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে বেড়াতে আসছি। ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি বোয়াল মাছ কিনলাম। তবে মেলার বাজারে মাছের দাম চড়া মনে হচ্ছে।’

মেলায় থাকে বড় বড় আর লোভনীয় মাছের বিশাল সংগ্রহ, বিকিকিনি, সংসারের যাবতীয় উপকরণ, বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগরদোলা, পালাগান ইত্যাদি।

মেলা চলাকালে একসঙ্গে প্রচুর বড় ও জীবিত মাছ পাওয়া যায়। এলাকার অনেক মাছচাষি কেবল মেলায় অধিক লাভে বড় মাছ বিক্রির জন্য মাছ বড় করে তোলেন। তাছাড়া মেলায় বিক্রির জন্য বেশ আগে থেকেই নদীর বাঘাইর, আইড় ইত্যাদি মাছ স্থানীয় পুকুরগুলোতে বা অন্য জলাশয়ে বেঁধে রাখা হয়।

মেলায় কেবল যে মাছ পাওয়া যায় তা নয়, মাছ ছাড়াও কাঠের আসবাবপত্র, বাঁশ ও বেতসামগ্রী, লৌহজাত দ্রব্য, ফলমূল, নানা ধরনের মিষ্টি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য এবং প্রচুর চুন পাওয়া যায়।

;