বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবন: একটি সুপরিকল্পিত 'শূন্যতা'



নওশাদ শোয়াইব
বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবন: একটি সুপরিকল্পিত 'শূন্যতা'

বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবন: একটি সুপরিকল্পিত 'শূন্যতা'

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমি নিজেকে, অন্ধকারের দিকে চেয়ে, আত্ম-অহংকারে তাড়িত ও উপহাস্য একটা জীব হিসেবে দেখতে পেলাম এবং আমার চোখ দুটো ক্ষোভে আর যন্ত্রণায় পরিপূর্ণ’। ‘আরাবি’-  জেমস জয়েস।

এই এপিগ্রাফটি জেমস জয়েস-এর ছোটগল্প 'আরাবি'-র সর্বশেষ বাক্য। এই গল্পের নামহীন বক্তা (যে কিনা পুরো গল্প জুড়েই তার এই রাগভাবাপন্ন বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায় ছিলো) আরাবী বাজারে যাওয়া নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত আর উচ্ছ্বাসিত ছিলো। কিন্তু বাজারের স্থানিক অবস্থা বোঝার পর সে সব আগ্রহ হারিয়ে রাগান্বিত হয়ে গেলো।

একইভাবে, যেদিন আমি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবনে গিয়েছিলাম, আমিও সমানভাবে উচ্ছ্বাসিত এবং শিহরিত ছিলাম এই নিয়ে যে আমি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার সম্পর্কে জানতে যাচ্ছি, যিনি ব্রিটিশ শাসনামলে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম নারী শহীদ; কিন্তু ১৮-ই ডিসেম্বর, ২০১৯, যখন আমি আর আমার বন্ধু মিজানুর রহমান বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবন নামের ছয় তলা বিল্ডিং ঘোরা শেষ করেছিলাম, আমার সব আকাঙ্ক্ষা উড়ে গিয়েছিল।

বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান পঙ্কজ চক্রবর্তী-র মতে, ভবনটি সম্পন্ন হতে মোট খরচ হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ভবনটিতে ১২-টি কক্ষ, মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ৩০-টি সেলাই মেশিন, শিক্ষানবিশ আর ফ্রিল্যান্সিং-এর জন্য ৫০-টি কম্পিউটার, কিছু বাদ্যযন্ত্রে ভরা লাইব্রেরী নামক একটি শূন্য কক্ষ  এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এর একটা সুন্দর ভাস্কর্য রয়েছে। প্রীতিলতা তাঁর নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন এই লক্ষ্যে নিয়ে যে, "নারীরা কখনো নিজেদের দুর্বল ভাববে না। কারণ তারা পিছনে থাকার জন্য নিরূপিত নয়, বরং পুরুষের সাথে সক্রিয়ভাবে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য।"

সবকিছুই ঠিক ছিলো কিন্তু লাইব্রেরী নামের বড় শূন্য বন্ধ কক্ষটি আমাকে প্রচণ্ড হতাশ করেছিলো। কারণ আমি সেখানে গিয়েছিলাম এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে আমি কিছু অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবো যা অবশ্যই আমাকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

যাইহোক, ১৯৭১ সনে আমরা একটি জাতি হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিলাম। এবং এটিকে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশনের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ বলা যেতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোথা থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়তে যাবার সাহস পেয়েছিলাম? অবশ্যই বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন আর সাতচল্লিশের ভারতবর্ষ বিভাগ আমাদের পাকিস্তানি পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করেছিলো। কিন্তু ইতিহাসকে সেই ১৯৭১ সাল থেকেই গণতন্ত্রের নামে শাসকগোষ্ঠী নতুনভাবে লিখে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০১ সালে আমার স্কুলজীবন শুরু হওয়ার পর থেকে আমার পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে আমি জানতে পারি, বাংলার প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম), কিন্তু ২০০৯ সালে এসে আমি নতুনভাবে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাই।

বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান, ভালোবেসে যাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়া হয়েছিলো, নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ গঠনে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। ইতিহাস সবসময়ই একটি সামষ্টিক ব্যাপার। তবে আমাদের ইতিহাসের প্রতি নিচু আর সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ সমন্বিত ত্যাগ আর পরিশ্রমকে ইতিহাস থেকে বাতিল করে দিয়েছে। ১৯৭১ সালের আগের ইতিহাসকেও মুছে দেয়া হয়েছে বা কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখন এই দেশ ১৯৭১ সালের আগের ইতিহাস ছাড়াই একটি জাতি হয়ে উঠেছে।

আমাদের সংস্কৃতি এবং মিডিয়াতে প্রীতিলতার অবস্থান উল্লেখযোগ্য নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের জাতীয় পাঠ্যক্রমে প্রীতিলতা এবং তাঁর মতো অন্যদের খুবই অল্প জায়গা দেওয়া হয়েছে। আমরা কি তবে জাতির অগ্রগতির জন্য তাঁদের তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছি না? নাকি, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রভাব সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ আছে? ঘটনাগুলো এমনটাই নির্দেশ করছে নাতো?

আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি এটি একটি সুপরিকল্পিতভাবে গঠিত পরিস্থিতি, তা নাহলে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় হতে বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবনের ৫০-টি কম্পিউটার আর ৩০-টি সেলাই মেশিন-এর জন্য কোনো অর্থ প্রদান করা হতো না। নারী ও পুরুষদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য সরকারের কাছে যথেষ্ট অর্থ আর উপকরণ আছে, কিন্তু, বই (যা একটি বুদ্ধিগত প্রতিরোধ--যা আমাদেরকে জাতি হিসেবে সকল অত্যাচার আর চরমপন্থা-র বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তুলবে, এবং, অবশেষে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে যা বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং তার অস্তিত্বের  একটি মৌলিক উপাদান) -এর জন্য কেনো বরাদ্দ নেই?

আমি বলবো, কম্পিউটার এবং সেলাই মেশিন পূর্ণ দুটো আলাদা কক্ষ আর লাইব্রেরী নামক শূন্য কক্ষ মাথায় রেখে বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবন গঠন করা শাসকদের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যাতে করে তারা এই জাতিকে ইতিহাস শূন্য, দুর্বল সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিজীবী হীন জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, এবং এমনই একটা জাতি শাসন করার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট; নিঃসন্দেহে, শক্তিশালী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়তে এমন একটি অস্পষ্ট জাতির কোনো শক্তি বা ধারণা কোনোটাই থাকবে না।

পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪-ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মস্তিষ্কহীন জাতি হিসেবে তৈরি করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো তা এখনও বিদ্যমান, তবে ভিন্ন পন্থায়। বর্তমানে যেসকল উপায়ে জাতি বুদ্ধিদীপ্ত হতে পারে রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে সেসকল উপায়গুলোকে প্রতিরোধ করছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, বীরকন্যা প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক ভবনের লাইব্রেরীতে কোনো বই না থাকা। তুলনামূলকভাবে, দ্বিতীয় পন্থাটি বেশি ভয়ঙ্কর কেননা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, বুদ্ধিজীবী তৈরি হওয়ার/করার উপায়কে নয়।

পরিশেষে, আমাদেরকে বাঙালি সত্ত্বা-র ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত, কেননা, স্টুয়ার্ট হল-এর মতে, “identity as being” হলো অনেকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা একটি সামষ্টিক সত্য যা আমাদের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মহিমান্বিত ইতিহাসকে রিপ্রেজেন্টেশনের(উদাহরণস্বরূপ, চলচ্চিত্র,গান,নাটক ইত্যাদি) মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যাতে করে তুলনামুলকভাবে উৎকৃষ্ট বাঙালি সত্ত্বা তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করা যায়-- যা সময়ের সাথে বিকশিত হবে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আর উন্নয়নের নামে জাতীয় চেতনার অবমাননার বিরুদ্ধে প্রশ্ন দাঁড় করাবে।

এই লেখাটি New Age পত্রিকায় ১২-০১-২০২০ তারিখে প্রকাশিত "Birkonya Pritilota Sanskritik Bhavan: a well-constructed hollowness"-এর বঙ্গানুবাদ- লিখেছেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

অনুবাদকঃ  নওশাদ শোয়াইব, ছাত্র, মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

   

‘আলোর স্কুল’ জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশবে ফেনী শহরে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রজীবনে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে পথ ও পন্থা খুঁজছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন তাদের মননশীলতার চর্চাকে উন্মুক্ত করতে। সেই কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন নি। থেকে গেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই। তার আসল নাম কাজী জামালউদ্দিন বলে এখন কম লোকেই ডাকে। সবাই বলে জামাল স্যার, চট্টগ্রামের পাঁচশাইশের জামাল স্যার।

জামাল স্যার দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গ দেন। তাদের দুর্বলতা কাটাতে চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় বসেন মটিভেশনাল সেশানে। তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী যখন শিক্ষাজীবনে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন তার চোখের কোণে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। আর পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটির পরিবার জুড়ে বয়ে যায় খুশির হিল্লোল। ‘এমন পরিস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়‘, বললেন জামাল স্যার।

‘সঠিক দিক-নির্দেশনা না পেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না। তারা হতাশ ও জীবনবিমুখ হয়ে যায়। স্কুল ও বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সমস্যাগুলো দরদ ও মনোযোগ দিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ পান না।  ফলে সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেকেই সফল হয় না। আমি তাদের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করি। সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করি,‘ জানালেন জামাল স্যার।

তিনি বলেন, ‘আমি গতানুগতিক কোচিং এ বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, প্রতিটি সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে কিছু অপূর্ণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ হয় না। এই গ্যাপটি ধরিয়ে দিতে পারলেই সমস্যা পরিণত হবে সম্ভাবনায়।‘

বই উপহার পেলো শত শিক্ষার্থী/বার্তা২৪

জামাল স্যারের মতে, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী একই রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তাদের সমস্যা বহুমাত্রিক। আবার স্কুলগুলোর সমস্যাও নানামুখী। এগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সংযোগ সাধন করা আমার কাজ।‘

তিনি জানান, ‘আমাদের স্কুলগুলো মূলত আধাদিনের। বাকী সময় শিক্ষার্থী থাকে মাঝিবিহীন নৌকার মতো। অভিভাবকরাও নিজের কাজের শেষে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল পথ খুঁজে পায় না। অথচ তাদেরকে সঠিক দিশা দেখানো হলে দেশের মানবসম্পদ বিকাশের কথ মসৃণ হবে। তাদের অন্যান্য সুপ্ত প্রতিভা এবং লাইফস্কিল ডেভেলপ করলে সে শুধু ভালো ছাত্রই হবে না, ভালো ও সফল মানুষ হবে।‘

এ কারণেই বিকল্প স্কুলের মতো একটি লাইব্রেরি গড়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক সমায়ক বই রয়েছে সেখানে। তার মতে, ‘ইন্টারনেটে অনেক ফেক ও অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। শুধু নেটে বসে হাজারো তথ্যের অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও মননশীল প্রচেষ্টার শক্তি হারাবে। এজন্য তাদেরকে বই ও পাঠাগার মুখী করতে হবে।“

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান ফেনী শহরেও জামাল স্যার শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ভিন্নধর্মী, জীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে একযোগে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বই উপহার দিয়েছেন তিনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ডা.সালাউদ্দীন ভবনে আনন্দমুখর পরিবেশে এই বই উপহার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামে সৃজনশীল পাঠদানের পথিকৃৎ জামাল স্যারের সভাপতিত্বে বই উৎসব ও পাঠাগার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম‘র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন আরো অনেক শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, সভ্যতার আদি সূচনা থেকে আজকের অত্যাধুনিক জগত পর্যন্ত গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির উপস্থিতি বিদ্যমান এবং মানব জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত। লাইব্রেরি-বিহীন সমাজের ঐতিহ্যগত শেকড়, সাংস্কৃতিক দ্যুতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দুর্বল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজকের পৃথিবীতে বিশেষায়িত ও সাধারণ গ্রন্থাগার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি, যা সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে এবং মানব জাতির মেধার ভাণ্ডারকে প্রজন্মব্যাপী সম্প্রসারিত করে চলেছে। জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার আসলে একটি ‘আলোর স্কুল‘।

;

১৮ ক্যারেটের সোনার টয়লেট চোরকে পাওয়া গেল!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ৩০০ বছরের পুরনো বাড়ি ব্লেনহিম প্যালেস থেকে চুরি হওয়া একটি সোনার টয়লেটের চোরকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই টয়টেলটি ১৮ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনার দাম অনুযায়ী এর মূল্য ছিল ৪৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানায়,  এ ঘটনায় নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েলিংবোরোর বাসিন্দা জেমস 'জিমি' শিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই টয়লেটটি চুরি হয়। ওই সময় অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িটিতে ইতালির শিল্পী মাউরিজিও ক্যাতেলানের 'ভিক্টরি ইজ নট এন অপশন' প্রদর্শনীতে টয়লেটটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই চুরি হয় সেটি।

পুলিশের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রাসাদের সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত থাকায় চুরির সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশ ভেসে গিয়েছিল।

ব্লেইনহিম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, টয়লেটটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘আমেরিকা’ নামে। ওই প্রাসাদের যে ঘরে উইংস্টন চার্চিল জন্মেছিলেন, তার পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জেমসকে এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ক্রাউন আদালতের শুনানিতে যুক্ত করা হয়েছিল। এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিন বর্তমানে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই ঘটনা এবারই শিনের প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিউমার্কেট এলাকার জাতীয় ঘোড়দৌড়-বিষয়ক জাদুঘর থেকে চার লাখ পাউন্ড দামের ট্রাক্টর ও অত্যন্ত দামি স্মারক বস্তু চুরি করেছিলেন জেমস।

;

কী ছিল টাইটানিকের সকাল-বিকাল-রাতের খাবারের তালিকায়?



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে প্রায় ১১২ বছর আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক। বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরী নিয়ে এখনো আগ্রহের কমতি নেই মানুষের মধ্যে। এতো সময় পরও এখনো টাইটানিক সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষের অজানা। তবে এবার বের হয়েছে এক নতুন তথ্য।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টাইটানিক জাহাজের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের খাবারের তালিকা।

এক্স হ্যান্ডলে ফ্যাসিনেটিং নামের একটি পেজে প্রকৃত মেনুকার্ডের দুই পাশের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

ওই ছবিতে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের মেনু দেওয়া ছিল।

প্রথম শ্রেণির মেনুকার্ডের শিরোনাম ছিল ‘আরএমএস টাইটানিক’। তারিখ ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। প্রথম শ্রেণির খাবারের তালিকায় কনসোমে ফার্মিয়ার, ফিলিটস অব ব্রিল, চিকেন আ লা ম্যারিল্যান্ড, লবণে জারিত গরুর মাংস, ককি লিকি সবজি ও ডাম্পলিং ছিল।

‘ফ্রম দ্য গ্রিল’ ক্যাটাগরিতে ছিল গ্রিলড মাটন চপ, ম্যাসড, ফ্রায়েড এবং বেকড জ্যাকেট পটেটোজ, কাস্টার্ড পুডিং, আপেল মেরিঙ্গু ও প্যাস্ট্রি।

বুফেতে স্যামন মেয়োনিজ, পটেড চিংড়ি, নরওয়েজিয়ান অ্যাঙ্কোভিস সসড হেরিংস, প্লেইন এবং স্মোকড সার্ডিনস, রোস্ট গরুর মাংস, মসলাযুক্ত গরুর মাংসসহ ছিল নানা পদ।

তৃতীয় শ্রেণির সকালের নাশতার মেনুতে ছিল ওটমিল পোরিজ ও দুধ, স্মোকড হেরিংস, জ্যাকেট আলু, হ্যাম ও ডিম, গরম–গরম রুটি ও মাখন, মার্মালেদ, সুইডিশ রুটি, চা ও কফি। রাতের খাবারে ছিল চালের স্যুপ, রুটি, ব্রাউন গ্রেভি, কেবিন বিস্কুট, মিষ্টি ভুট্টা, সেদ্ধ আলু, পাম পুডিং, মিষ্টি সস ও ফল।

ছবি দুটি দিয়ে পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগের দিন। ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। টাইটানিক ১ম শ্রেণীর খাবারের তালিকা বনাম ৩য় শ্রেণির খাবারের তালিকা।

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকেই নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

একজন লিখেছেন, তৃতীয় শ্রেণীর মেনু আমার কাছে ভাল লেগেছে।

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, লক্ষ্য করেছেন ৩য় শ্রেণির মেনুতে রাতের খাবারের জন্য গ্রুয়েল (দুধ অথবা পানিতে ফোটানো তৈরি তরল খাবার) অফার করা হয়। এটা সবার কাছে ভালো খাবার নাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এক বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় জাহাজটি। তখন জাহাজটিতে থাকা প্রায় এক হাজার ৫০০ যাত্রী মারা যায়।

;

ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ যুদ্ধ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা। বাড়ি ফেরা নয়, যেনো এক যুদ্ধে। ভোগান্তির পরও এই যুদ্ধ যেনো আনন্দের ঘরমুখো মানুষের কাছে। যে করে হোক প্রিয়জনের কাছে যেতে ট্রেনে উঠতেই হবে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার ২য় দিন। এদিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিটি ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। তবে ঘরমুখোর মানুষের প্রচণ্ড চাপ ছিল। 

ঈদে বাড়ি যাচ্ছে মা, বাবার ছুটি আরও পড়ে। তাই তো বাবার কোল ছাড়তেই দিল কান্না জুড়ে/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুটিও ফিরছেন গ্রামে/ছবি: নূর এ আলম


 

প্ল্যাটফর্মের বাইরে এভাবে ট্রেনে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উঠছেন এই নারী/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে একটি পরিবার/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে উঠতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়/ছবি: নূর এ আলম


 

গরম থেকে বাঁচতে ছোট্ট ব্যাটারিচালিত পাখা সঙ্গে নিয়েছে শিশুটি/ছবি: নূর এ আলম


 

হাজারো যাত্রী ছাড়ছেন ঢাকা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে ওঠার যুদ্ধ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার কাছে কোনো বাধাই বাধা নয়/ছবি: নূর এ আলম


 

টিকিট চেক করে তবেই যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে/ছবি: নূর এ আলম


 

ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও বেশ তৎপর/ছবি: নূর এ আলম


 

;