তুরস্কে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের কন্যাশিশু জীবিত উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৮৫



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কন্যাশিশু উদ্ধার। ছবি: রয়টার্স

কন্যাশিশু উদ্ধার। ছবি: রয়টার্স

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউরোপের দেশ তুরস্কের এজিয়ান অঞ্চলের ইজমির শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তিন দিন পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এমনটি জানা যায়।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভয়াবহ এই কম্পনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: রয়টার্স

দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এক দশক ধরে এমন ভূমিকম্প এরআগে হয়নি দেশটিতে। শুক্রবারের ভূমিকম্প সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। ইজমিরের ৮টি বিল্ডিংয়ে উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। যেখানে প্রায় ৮৩ জন মারা গিয়েছিল। এছাড়া গ্রিক দ্বীপ সামোসেও দুই কিশোর নিহত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ইজমিরে মোট ৯৯৪ জন আহত হয়েছে এবং প্রায় ২২০ জনকে এখনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের ৬৫ ঘন্টা পরে কন্যাশিশু এলিফকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করার পর জরুরিভাবে একটি স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এর আগে, শনিবার এলিফের মাসহ তার দুই বোন এবং ভাইকে ধ্বংসস্তূপে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু পরে তাদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান মেহমেত গুল্লুগ্লু টু্ইটারে লিখেন, ‘ঈশ্বরকে অজস্র ধন্যবাদ। আমরা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক থেকে ছোট্ট এলিফকে উদ্ধার করেছি।’

এএফএডি জানিয়েছে, শুক্রবারের ভূমিকম্পে আহত ৯৬২ জনকে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ৩ হাজার ৫০০ টিরও বেশি তাঁবু এবং ১৩ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এএফএডি আরো জানায়, ৭৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ভূমিকম্পে পূর্ব প্রদেশের এলাজিগ শহরে ৪১ জন নিহত হয়েছেন।

১৯৯৯ সালে, উত্তর পশ্চিম তুরস্কে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে ১৮ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

ইস্তাম্বুল-ভিত্তিক কান্ডিলি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শুক্রবার তুরস্কের সামোসের উত্তর-পূর্বে এজিয়ান সাগরে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার উচ্চতায় ছিল ভূমিকম্পটি।