মঙ্গলগ্রহে পা ছোঁয়াল নাসার মহাকাশযান ‘পারসিভেয়ারেন্স’



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মঙ্গলগ্রহে পা ছোঁয়াল নাসার মহাকাশযান ‘পারসিভেয়ারেন্স’

মঙ্গলগ্রহে পা ছোঁয়াল নাসার মহাকাশযান ‘পারসিভেয়ারেন্স’

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার মহাকাশযান ‘পারসিভেয়ারেন্স’ ৪৭ কোটি মাইল যাত্রার পর নিরাপদে মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠে অবতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে সংস্থাটি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। খবর বিবিসি ও সিএনএন।

নাসা জানায়, পারসিভেয়ারেন্স অবতণের পর প্রথম ছবি পাঠিয়েছে। মহাকাযান রোভারের মঙ্গলপৃষ্ঠের যেখানে স্পর্শ করার কথা সেই স্থানটি হলো জেজেরো ক্রেটার। ছবিতে সেখানে রোভারের অবতরণ দেখা গেছে।

মিশনের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ম্যাট ওয়ালেস বলেছেন, মহাকাযানটি আমাদের দারুণ সুসংবাদ দিয়েছে। এটা দুর্দান্ত।

পারসিভেয়ারেন্সের পাঠানো প্রথম ছবি

পারসিভেয়ারেন্স মঙ্গলগ্রহে পা ছোঁয়ানোর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় জেট প্রোপালসান গবেষণাগার মিশন কেন্দ্রে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন প্রকৌশলীরা।

ছয় চাকার এই স্বয়ংচালিত যানটি পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করেছিল সাত মাস আগে। পারসিভেয়ারেন্সের এই সফল অবতরণে মঙ্গলগ্রহে অতীতে কোন প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা তা জানার অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হলো। মহাকাশযানটি সেখানে দুই বছর সময় অতিবাহিত করবে।

উপগ্রহে পাওয়া ছবি থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এক সময় জেযেরো ক্রেটারে বিশাল একটি হ্রদ থাকার আভাস তারা পেয়েছে।তাদের ধারণা এই হ্রদটিতে প্রচুর পানি ছিল এবং সম্ভবত সেখানে জীবনও ছিল।

পারসিভেয়ারেন্সের অবতরণের খবর দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

এদিকে পারসিভেয়ারেন্সের লালগ্রহে নিরাপদে অবতরণের খবর জানার পরপরেই নাসার বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তিনি বলেন, অভিনন্দন নাসা এবং যাদের কঠোর পরিশ্রমে ঐতিহাসিক এই অবতরণ সম্ভব হয়েছে। আজ আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে বিজ্ঞানের শক্তি এবং আমেরিকানদের প্রচেষ্টায় কোন কিছুই অর্জন অসম্ভব নয়।

মঙ্গলগ্রহে নভোযান অবতরণের ১৪টি প্রচেষ্টা আগে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সফল হয়েছে আটটি আর এর সবগুলোই ছিল আমেরিকান মিশন। তবে ১৯৯৯ সালে একবার নাসার মঙ্গল মিশন ব্যর্থ হয়েছিল।