টেক্সাসেই তৌহিদ পরিবারের দাফন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটের ডালাস সংলগ্ন এলেন সিটিতে বসবাস করা বাংলাদেশি বংশোদ্ধভূত আমেরিকান দু’ভাই মানসিক বিষন্নতা থেকেই পরিবারের সবাইকে গুলি করে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছিল। আর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমগ্র বাংলাদেশি কমিউনিটি শোকাচ্ছন্ন। 

‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাস’-এর জেনারেল সেক্রেটারি নাহিদা আলী বলেন, ৩ জনের লাশ আজ বুধবার নেতা-কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি তিনজনের ময়না তদন্ত শেষে দুপুরের মধ্যেই হস্তান্তর করা হলে বাদ আসর টেক্সাসের ডালাস সংলগ্ন এলেন সিটি মসজিদে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে এবং একইদিন সন্ধ্যার মধ্যে সবাইকে ডেন্টন সিটির মুসলিম গোরস্থানে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে। তবে সবটাই নির্ভর করছে বাকি তিনজনের লাশ প্রাপ্তির ওপর।

নাহিদা আরও উল্লেখ করেন, আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এলেন সিটিতে সেলিব্রেশন পার্কে নিহতদের স্মরণে ‘মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি’ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে নিহত পরিবারের প্রধান তৌহিদুল ইসলামের বড়ভাই মঙ্গলবার ফ্লোরিডা থেকে টেক্সাসের এলেন সিটিতে এসেছেন। ছোট ভাইয়ের পরিবারের এমন দুঃখজনক পরিস্থিতি দেখে তিনি শোকে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। সে শুধু সকলের কাছে দোয়া চাইছেন বলে জানান নিহতদের পারিবারিক বন্ধু শাহীন।

এ সময় শাহীন জানান, 'তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে সকলের প্রাণ ঝরেছে বুলেটে। কার শরীরে কটি বুলেট বিদ্ধ হয়েছে সেটিও তারা পুলিশের ডিটেকটিভকে অবহিত করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় ঐ বাসা থেকে দু’ভাইয়ের ৬টি নোট বুক পেয়েছে পুলিশ।' সেগুলোসহ তাদের ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ফারহান তৌহিদ (১৯) এবং তার বড়ভাই তানভির তৌহিদের (২১) মেডিকেল রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ দু’জনের বুলেটেই পরিবারের সকলের দুঃখজনক মৃত্যু ঘটেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন। কারণ হত্যাকান্ডের পূর্বাপর পরিস্থিতির আলোকে ইন্সটাগ্রামে দীর্ঘ এক বিবৃতি দিয়েছে ফারহান তৌহিদ।

উল্লেখ্য, তৌহিদুল ৮ বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তার দেশের বাড়ী ছিল পুরান ঢাকায়। একটি রেস্টুরেন্টে ম্যানেজারের চাকরি ছেড়ে সর্বশেষ তিনি টেক্সাসে সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।