ওআইসির ৫২ বছর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা সংক্ষেপে ওআইসি একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা। এর সদস্যদেশ ৫৭টি। জাতিসংঘের পর সবচেয়ে বড় আন্তদেশীয় জোট এটা। প্রায় ১৮০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এ জোট। আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ওআইসি গঠন করা হয়।

১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে ইসরায়েল। এতে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ সময় ১৪টি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক বৈঠকে মিলিত হন। ওই বছরের ২২-২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাবাতে ২৫টি মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সব রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সিদ্ধান্তে ২৫ সেপ্টেম্বর ওআইসি গঠন করা হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ মোট সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৭। এই সংস্থা মূলতঃ মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ওআইসি। এতে পর্যবেক্ষক হিসেবে ওআইসির সঙ্গে যুক্ত আছে পাঁচটি দেশ (রাশিয়া, বসনিয়া, থাইল্যান্ড, সিএআর ও তুর্কি সাইপ্রাস) এবং সাতটি সংগঠন ও সংস্থা। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা হিসেবে ওআইসির একটি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি দল রয়েছে।

১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে বাংলাদেশ। একাধিক প্রতিবেশী দেশের পরামর্শ উপেক্ষা করে এই সম্মেলনে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মহাসচিবই ওআইসির নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। ওআইসির প্রথম মহাসচিব ছিলেন মালয়েশিয়ার টুংকু আবদুর রহমান এবং বর্তমান মহাসচিব আফ্রিকার হুসেইন ইব্রাহিম তাহা। সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মহাসচিব নির্বাচনে ভোট দেন। ওআইসি চার্টার মতে একজন ব্যক্তি পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সর্বোচ্চ দুইবার মহাসচিব হতে পারেন।

ওআইসি যে সাতটি বিষয় সামনে রেখে কাজ করে থাকে- সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ইসলামি সংহতি বৃদ্ধি করা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, বর্ণবৈষম্যের মূলোচ্ছেদ এবং উপনিবেশবাদ বিলোপের চেষ্টা অব্যাহত রাখা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়া, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধানের সংগ্রামকে সমন্বিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য সংগ্রামকে সমর্থন করা। মুসলমানদের মান-মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং জাতীয় অধিকার সংরক্ষণের সব সংগ্রামে মুসলিম জনগণকে শক্তি জোগানো। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে সহযোগিতা এবং সমঝোতা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।