দক্ষিণ এশিয়ায় চীন চুপ মেরে গেছে!



খুররম জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় ৫ বছর আগে চীন দক্ষিণ এশিয়াসহ তার পশ্চিমে একটি দুর্দান্ত যাত্রা শুরু করেছিল। চীনের নেতারা এশিয়া মহাদেশ জুড়ে নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জোট দ্বারা পূর্ব প্রান্তে আবদ্ধ হওয়ার আতঙ্ক তাদের এ নতুন অভিযানে স্বস্তি দিচ্ছিল। কিছু কাঁচা টাকা হাতে আসার ফলে ইউরেশিয়া ও ভারত মহাসাগর জুড়ে সুযোগ অপেক্ষা করছে বলে তাদের উপলব্ধি হয়।সেই পথ ধরে, তাদের প্রথম নিশানা হল দক্ষিণ এশিয়ার দেশ-আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তানও শ্রীলঙ্কা। এই অঞ্চলের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী এবং ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আগে থেকে বেশ পুরনো।

যাইহোক, এই শতাব্দীর শুরুতে, দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক ‘বিশ্বব্যাপী যাওয়ার’ বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত প্রসারিত এবং গভীর হতে শুরু করে। শি জিনপিং ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট পদে আরোহণ করার পর তিনি নিজের দেশের সীমানা ছাড়িয়ে তার কার্যকলাপের সম্প্রসারণ ঘটান। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মাধ্যমে - নতুন এবং উচ্চাভিলাষী উপায়ে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ায় চীন এমন একটি গতিশীল অঞ্চলের মুখোমুখি হয়েছে যার অনেক সংকট রয়েছে। চীন ধারণা করেছিল এগুলো তারা বস্তা ভর্তি টাকা (পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের মতে) দিয়ে সমাধান করতে পারবে।

কিন্তু এ অঞ্চল হিংসাত্মক সংঘাত, পারমাণবিক সশস্ত্র ক্ষমতা, ব্যাপক মানব উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট বা শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে কোভিড-১৯ এসে পড়ায় চীন নিজেকে সন্তর্পণে সরিয়ে রাখে। এমনকি আফগানিস্তান ও নেপালের বিপদে প্রাথমিক অবস্থায় উকিঝুঁকি মারতে দেখা গেছে চীনকে কিন্তু যখনই ব্যাপক সহযোগিতা দরকার পড়ল নিজেকে মৃয়মান করে ফেলে দেশটি। চীন নিজেকে একজন বিশ্ব বেনিয়া হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। যখন ব্যবসা দেখেছে, সেখানে সস্তা বিনিয়োগে নিজেকে নিয়োজিত করেছে।

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোভিড-১৯ মহামারির আগে শক্তিশালী ছিল, যার সুবিধা নিতে প্রাণবন্ত স্বাধীন গণতান্ত্রিক শাসনের চ্যালেঞ্জগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে। সকলেই চীনের প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়াকে পুনর্নির্মাণে এক বড় অবতারে আবির্ভূত করা হচ্ছিল বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছিলেন। যেখানে হিমালয় শিখর থেকে ভারত মহাসাগরের অতল পর্যন্ত মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতা দেখতে সকলেই উন্মুখ হয়েছিলেন।

কিন্তু কোভিড-১৯ সংকটের আগে যে দেশগুলো চীনের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্বে নিজেকে একটি স্বস্তিময় দেশে পরিণত করার স্বপ্ন বুনছিল। কিন্তু বিপদে চুপ মেরে যাওয়া পার্টনার যে বন্ধু নাও হতে পারে তা শ্রীলংকা স্বর্ণরাজ্য পোড়ার সময় মনে হয়েছে।

হুমকি সত্ত্বেও ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন ফিনল্যান্ড-সুইডেনের

  রুশ-ইউক্রেন সংঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হুমকি সত্ত্বেও পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য ফিনল্যান্ড ও সুইডেন আবেদনপত্র জমা দিয়েছে।

বুধবার (১৮ মে) ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দফতরে আবেদন করে দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ফিনল্যান্ডের এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া ও ফিনল্যান্ডের ৮৩০ মাইল সীমান্তে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে চলে আসবে। তবে চূড়ান্ত হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে কারণ ন্যাটের বর্তমান সদস্য ৩০ দেশের আইনসভাকে অবশ্যই নতুন আবেদনকারীদের অনুমোদন করতে হবে।

এদিকে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে সদস্যপদপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ দুটির মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন।

বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার ক্রোধ উসকে দেওয়ার ঝুঁকিও রাখে। যার আভাসে গত শনিবার দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সুইডেনের সরকার কয়েক দশকের জোটনিরপেক্ষতার পর ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ন্যাটোর সচিবালয় থেকেও পরিষ্কার বলা হয়েছে, উত্তর ইউরোপের এই দুই দেশ- যাদের একটির (ফিনল্যান্ড) সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে - সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে যত দ্রুত সম্ভব তা অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;

চীনে ১৩২ যাত্রী নিয়ে প্লেন বিধ্বস্ত ছিল ইচ্ছাকৃত!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্ঘটনা নয়, ইচ্ছাকৃত ভাবেই ক্র্যাশ করানো হয়েছিল চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি প্লেন। দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস বাদে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে তদন্তকারী দল। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

চীনের গুয়াংঝু প্রদেশে বিধ্বস্ত হওয়া সেই প্লেনের ১৩২ জন যাত্রী নিহত হয়েছিলেন।

গভীর জঙ্গলে বিধ্বস্ত হওয়া সেই প্লেনের ব্লাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, গত মার্চ মাসে বিধ্বস্ত হওয়া চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের প্লেনটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটির দিকে নাক বরাবর নামিয়ে আনা হয়েছিল, যে কারণে দুর্ঘটনাটা ঘটেছে।

এছাড়া চলতি সপ্তাহে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এর ব্ল্যাক বক্স থেকে ফ্লাইট ডেটা ইঙ্গিত দেয় যে ককপিটে থাকা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্লেনটি বিধ্বস্ত করেছে।

তবে, মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গত ২১ মার্চ চীনের গুয়াংঝু প্রদেশের একটি পাহাড়ে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ১২৩ জন যাত্রী এবং নয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ২৮ বছরের মধ্যে এটি ছিল চীনের সবচেয়ে মারাত্মক প্লেন দুর্ঘটনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্তকারীর বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, প্লেনটি দ্রুত অবতরণের সময় পাইলটরা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কলের জবাব দেননি। তাই তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাটি একটি ইচ্ছাকৃত কাজ কিনা তা খতিয়ে দেখছেন।

এবিষয়ে চায়না ইস্টার্ন তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কিন্তু এর আগে এয়ারলাইনটি এক বিবৃতিতে বলেছিল, এখনও এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে প্লেনটিতে কোনও সমস্যা ছিল।

বিধ্বস্ত হওয়ার পর চায়না ইস্টার্ন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ প্লেনের পুরো বহরকে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তারা আবার ফ্লাইট শুরু করে।

;

ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ম্যাক্রোঁর

  রুশ-ইউক্রেন সংঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এছাড়াও তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিশ্চিত করেছেন যে ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার জন্য কিয়েভের আবেদন আগামী মাসে গভর্নিং বডিতে আলোচনা করবেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মে) এ খবর জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসে প্যালেস।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের পর জেলেনস্কি বলেন, আমাদের মধ্যে ‘দীর্ঘ এবং অর্থবহ’ কথা হয়েছে।

ঘন্টাব্যাপী ওই ফোনালাপে ফ্রান্স ইউক্রেনকে আগামী দিনে অস্ত্র সরবরাহ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, জ্বালানি, মানবিক সহায়তা, আর্থিক সহায়তার সমস্ত অনুরোধ পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা হল সদস্যপদ লাভের প্রথম পর্যায় কিন্তু প্রার্থী দেশের সঙ্গে আলোচনা হয় একটি কাঠামো বা আদেশের ভিত্তিতে। বিশেষ করে ইইউ কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়া আলোচনা শুরু করা যাবে না।

ম্যাক্রোঁ জেলেনস্কিকে অবহিত করেছেন ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যতার জন্য আবেদনটি জুনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সময় আলোচনা করবেন।

যুদ্ধের প্রথম দিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে ফ্রান্স। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বন্ধে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। এ অবস্থায় ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিলেন ম্যাক্রোঁ। রুশ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়তে ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বেশি সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যৎ-এ আরও সামরিক চালান কিয়েভে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, জাপান অনেক দেশ সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে জেলেনস্কিকে।

;

ফিনল্যান্ডের ২ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল রাশিয়া

  রুশ-ইউক্রেন সংঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফিনল্যান্ডের দুই জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে মস্কো। মঙ্গলবার (১৭ মে) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ দুই কূটনীতিক বহিষ্কারের পাল্টা পদক্ষেপে ফিনল্যান্ডের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করল মস্কো।

এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।

এর আগে নিরপেক্ষতার নীতি বদলে ফেলে ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর অনেক সদস্যদেশ সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে ইউরোপের এই দেশ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

এদিকে, জোটের অন্যতম সদস্য তুরস্ক কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়ায় ফিনল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, সবার আগে যে কথা বলতে চাই তা হলো—যারা তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদেরকে ইতিবাচক কিছু বলবো না। কারণ, তাদেরকে ইতিবাচক কিছু বললে ন্যাটো আর সামরিক জোট থাকবে না।

;