আর্মেনিয়ায় ঢুকছে নাগোর্নো কারাবাখের হাজার হাজার মানুষ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
নাগোর্নো-কারাবাখ ছেড়ে পালানোর চিত্র। ছবি : সংগৃহীত

নাগোর্নো-কারাবাখ ছেড়ে পালানোর চিত্র। ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজারবাইজানের সামরিক অভিযানের পর বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিচ্ছিন্ন অঞ্চল নাগর্নো-কারাবাখ থেকে হাজার হাজার জাতিগত আর্মেনিয়ান আর্মেনিয়ার পথে পাড়ি জমিয়েছে।

নাগর্নো-কারাবাখের ১ লাখ ২০ হাজার আর্মেনীয়র মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৮ হাজারেরও বেশি সীমান্ত অতিক্রম করে আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

নাগর্নো-কারাবাখ থেকে আর্মেনিয়ার দিকে যাওয়ার পাহাড়ী রাস্তাটিতে তীব্র যানযট সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকে গাড়িতে ঘুমিয়েছেন, কেউবা আবার রাস্তার পাশে নিজেদের গরম করার জন্য জ্বালানি কাঠের সন্ধান করেছেন।

৭০ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভেরা পেট্রোসিয়ান মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি সবকিছু পিছনে ফেলে এসেছি। আমি জানি না আমার ভাগ্যে কী আছে। আমার কিছুই নেই। আমি কিছুই চাই না।’ আজারবাইজানের সঙ্গে সীমান্তের আর্মেনিয়া অংশের একটি হোটেলই এখন তার বাড়ি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে, গুলি, ক্ষুধা, অশান্তি এবং যন্ত্রণা প্রত্যক্ষ করেছি তা আর দেখতে চাই না।’

এদিকে আজারবাইজান বলছে, তাদের সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান ৩০ বছরে ছিটমহল নিয়ে দুটি যুদ্ধ করেছে। ২০২০ সালে ছয় সপ্তাহের সংঘর্ষের পর নাগর্নো-কারাবাখ এবং এর আশেপাশের কিছু অংশ ফিরে পায় আজারবাইজান।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, ‘আর্মেনিয়ানদের অধিকারকে সম্মান করা হবে এবং ওই অঞ্চলটিকে একটি স্বর্গে পরিণত করা হবে।’

কিন্তু কারাবাখের আর্মেনিয়ানরা রয়টার্সকে বলেছে, তারা আজারবাইজানের অংশ হিসাবে বাস করতে চায় না, বরং তারা আজারবাইজানের হাতে জাতিগত নির্মূলের ভয় পায়।

কারাবাখ নেতৃত্বের উপদেষ্টা ডেভিড বাবায়ান বলেন, ‘আমাদের জনগণ আজারবাইজানের অংশ হিসেবে থাকতে চায় না। ৯৯ শতাংশ আর্মেনিয়ান আমাদের ঐতিহাসিক ভূমি ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক।’

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিকমেত হাজিয়েভ আল-জাজিরাকে বলেছেন, ওই অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের রাজনৈতিক একীকরণ, আর্থসামাজিক সমস্যাসহ তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে সরাসরি সংলাপের জন্য বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী শিলা পেলান বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে, আজারবাইজানের শাসনের অধীনে জাতিগত আর্মেনিয়ানদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আর্মেনিয়ানদের প্রতি ঘৃণার একটি দীর্ঘস্থায়ী নীতি রয়েছে। এটা শুধু রাতারাতি শেষ হবে না। কারাবাখের আর্মেনিয়ানদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বা অধিকার সুরক্ষিত থাকবে বলে বিশ্বাস করার কোনো যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। তারা এখন খুব বিপদে আছে।’

নাগোর্নো-কারাবাখে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য অবিলম্বে জাতিসংঘের একটি দল মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে আর্মেনিয়া।

   

নিরাপত্তা পরিষদ হলো ‘ইসরায়েল সুরক্ষা পরিষদ’: এরদোগান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘ইসরায়েলের সুরক্ষা পরিষদ’ বলে অভিহিত করেছেন।

রোববার(১০ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম এএফপি’র প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৯ ডিসেম্বর) এরদোগান বলেন, ‘৭ই অক্টোবর থেকে নিরাপত্তা পরিষদ ইসরায়েলের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা পরিষদে পরিণত হয়েছে।’ তিনি সংস্থাটির কঠোর সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন।
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়। এতে করে জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস ও আরব দেশগুলোর নেতৃত্বে যুদ্ধ থামানোর ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন রাষ্ট্রের উল্লেখ করে এরদোগান বলেন ‘পৃথিবী ওই পাঁচটির চেয়ে বড়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন ‘এটা কি ন্যায়বিচার?’
তিনি বলেন, আমেরিকাকে বাদ দিয়ে অন্য বিশ্বকে ভাবা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। অথচ গাজায় প্রতিদিন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের পাল্টা হামলায় গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সেখানে খাদ্য, জ্বালানি, পানি ও ওষুধের মারাত্মক অভাব বিরাজ করছে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় গাজায় মৃতের সংখ্যা ১৭,৪৯০ জনে পৌঁছেছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
যুদ্ধের দুই মাসেরও বেশি সময় পরে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের ভেটোর কারণে পাশ হয়নি। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েল- ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা সম্পর্কিত প্রস্তাবনা উঠেছে ৩৭ টি। যার মধ্যে ৩৫ বারই ভেটো দিয়েছে ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতিতেও দেশটি ইসরায়েলকে সমর্থন করে যাচ্ছে বলে এমন মন্তব্য করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

;

গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে হাল না ছাড়ার ঘোষণা জাতিসংঘের



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজা উপত্যকায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের লাগাতার প্রচেষ্টায় কোনো বিরতি থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। 

রোববার (১০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে এই ইস্যুতে কখনও হাল না ছাড়ার কথা জানান তিনি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মহাসচিব বলেন, ‘গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধ করতে সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য আমি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলাম। এটা খুবই দুঃখজনক যে নিরাপত্তা পরিষদ সেই অনুরোধ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তাই বলে যে সেখানে যুদ্ধবিরতির আবেদন ফুরিয়ে গেছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি কখনও হাল ছাড়ব না।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে পরিষদের অন্যতম অস্থায়ী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু প্রস্তাবটির ওপর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভোটপর্ব শেষে দেখা যায়, পরিষদের স্থায়-অস্থায়ী ১৫ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি পক্ষে সমর্থন দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তা দেয়নি।

উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বা ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্র মিশনের কর্মকর্তা ও উপ রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড এটিকে ‘বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন’ উল্লেখ করে বলেন, এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধবিরতি দেওয়া হলে সেটি সেখানে পরবর্তী যুদ্ধের বীজ বপন করবে।



;

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। 

গাড়ির দরজায় সেন্ট্রাল লক থাকায় সংঘর্ষের পর দরজা খোলা সম্ভব হয়নি। ট্রাকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ হওয়ার পরে বন্ধ গাড়িতেই আগুন ধরে যাওয়ায় দগ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রোববার (১০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশে গতকাল গভীর রাতে হাইওয়েতে ট্রাকের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষের পর আগুন লেগে এক শিশুসহ আট যাত্রী দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার ওই গাড়িটি সেন্ট্রাল লক করা ছিল। বেরেলির এই দুঘর্ঘটনায় নিহতদের সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অন্যজন শিশু।

এনডিটিভি বলছে, দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে জ্বলন্ত গাড়িটিকে নৈনিতাল হাইওয়েতে ট্রাকের পাশে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির দরজা সম্ভবত জ্যাম হয়ে যায় এবং খোলেনি। এতেই ভেতরে আটকে দগ্ধ হন তারা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মধ্যরাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা গাড়িটির আচমকাই টায়ার ফেটে যায়। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ের উল্টোদিকের লেনে ঢুকে যায় গাড়িটি। সেই সময়ই ওই লেন দিয়ে হরিদ্বার থেকে বালিবোঝাই একটি ডাম্পার আসছিল। ট্রাকটির গতি বেশি থাকায় সজোরে সংঘর্ষ হয় গাড়িটির সঙ্গে।

এছাড়া ধাক্কা মারার পর গাড়িটিকে কিছুটা টেনে নিয়ে যায় ট্রাকটি। এরপরই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। সংঘর্ষের জেরে গাড়ির সবকটি দরজার লকই বিকল হয়ে যাওয়ায় দরজা খোলেনি। ফলে গাড়ির ভেতরেই আটকে পড়েন এক শিশুসহ আটজন যাত্রী। গাড়িতে পুড়ে সকলের মৃত্যু হয়। আগুন ধরে যায় ট্রাকটিতেও।

বেরেলির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট সুশীল চন্দ্র ভান ধুলে বলেন, গাড়িটি বিপরীত লেনে ঢুকে একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি কেন্দ্রীয়ভাবে লক করা ছিল, তাই আগুনের কারণে ভেতরে থাকা লোকেরা প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহত যাত্রীরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

;

লন্ডনে ‘গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতি’র দাবিতে বিক্ষোভ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যার প্রতিবাদ এবং স্থায়ী মানবিক যুদ্ধবিরতির দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) তীব্র শীত উপেক্ষা করে লাখো বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শনিবার সেন্ট্রাল লন্ডনের ব্যাংক থেকে পার্লামেন্ট স্কয়ার পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেন। এ সময় তারা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান।

মিছিলটি ব্যাংক জংশন থেকে শুরু হয়ে সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল এবং সমারসেট হাউসের পাশ দিয়ে বিকালে ওয়েস্টমিনস্টারে শেষ হয়।

সমাবেশ ও বিক্ষোভে নানা স্লোগান লেখা ফেস্টুন হাতে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে বিক্ষোভকারীরা গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

;