সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতিতে চীন, বৈশ্বিক হুমকি কতটুকু!



সানজিদা খান, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। এই দুই পরাশক্তির মধ্যে যে শীতল স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, তা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ক্রমেই উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকী করোনা মহামারির চেয়েও এই দুই শক্তির মতভেদকে আরো বেশি উদ্বেগজনক মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি লক্ষ্য হলো, চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া। কেননা, চীন এখন অর্থনীতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং এ কারণেই প্রধান শত্রুও।

এদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরাশক্তি হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তবে দুটি দেশই এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে কাজের ক্ষেত্রে স্বল্পসংখ্যক নিয়োগদাতা বৃহৎ-সংখ্যক কর্মজীবীর ওপর আধিপত্য করে। যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বেশির ভাগ ক্ষেত্রই ব্যক্তিমালিকানাধীন। অন্যদিকে, চীনের আবার একটি হাইব্রিড ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি মালিকানাধীন দুটি ব্যবস্থাই চলছে।

সম্প্রতি, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ, সামাজিক অস্থিরতা ও মহামারি মোকাবিলায় চীনা কোম্পানিগুলো এমন এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যা পুরো পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে এসব কোম্পানি তাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা চীনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বহির্বিশ্বের জন্য বড় সামরিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্বের 'দ্বিতীয় অর্থনীতি'র দেশ হিসেবে চীনের সামরিক শক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী। এমন সময়ে বেসরকারিভাবে গঠিত এ ধরনের মিলিশিয়া বাহিনীর প্রত্যাবর্তন দেশটির সামরিক শক্তিকে আরো বেশি জোরদার করে তুলবে। এর ফলশ্রুতিতে চীন সামরিক শক্তিতে বিশ্বের কাছে এক মহাপরাক্রম শক্তি হিসেবে প্রতীয়মান হবে, যা আগামী দিনগুলোতে বহির্বিশ্বের জন্য ভয়ংকর হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বেসরকারি মালিকানাধীন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিসহ অন্তত ১৬টি বড় বড় প্রতিষ্ঠান গত এক বছরে তাদের নিজস্ব 'ফাইটিং ফোর্স' (নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী) গঠন করেছে।

'পিপলস আর্মড ফোর্সেস ডিপার্টমেন্ট' নামে পরিচিত এসব ফাইটিং ইউনিট ওই সব কোম্পানিতে চাকরিরত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়। তারা বিশ্বের বৃহত্তম দেশ চীনের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি রিজার্ভ এবং সহায়ক বাহিনী হিসেবে কাজ করে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে যুদ্ধের সময় সহায়তা প্রদান করে থাকে। তবে এই ফোর্সটি কেবল চীনের ভেতরেই কাজ করে থাকে। বেসামরিক এই বাহিনীটির সঙ্গে মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের বেশ মিল রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের কর্পোরেট ব্রিগেড (বাহিনী) প্রতিষ্ঠা বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের পাশাপাশি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এটিকে, প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের চীনকে সামরিক শক্তিতে বিশ্বের 'আধিপত্যশীল' দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বহুদিনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখছেন অনেকেই।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর চায়না অ্যানালাইসিসের চীনা রাজনীতিবিষয়ক ফেলো নিল থমাস বলেন, কর্পোরেট মিলিশিয়াদের প্রত্যাবর্তন জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরো ভালোভাবে সংহত করতে শি জিন পিংয়ের প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে। কারণ, দেশটির ধীর প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরো কঠিন ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সামরিক নেতৃত্বের অধীনে এসব কর্পোরেট মিলিশিয়ারা কমিউনিস্ট পার্টিকে ভোক্তা বিক্ষোভ এবং কর্মচারী ধর্মঘটের মতো সামাজিক অস্থিরতার ঘটনাগুলো আরো কার্যকরভাবে দমন করতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে চীনের অর্থনীতি ৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বেইজিংয়ের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি। তবে রেকর্ড পরিমাণ মন্দা, ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতির চাপ, ক্রমবর্ধমান কর্পোরেট খেলাপি এবং স্থানীয় সরকারগুলোর আর্থিক চাপসহ অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে চীনকে ।

ছবি: সংগৃহীত

এ পরিস্থিতিতে হতাশা যতই বাড়ছে, বিক্ষোভ ততই ছড়িয়ে পড়ছে। শ্রমিকবিক্ষোভ পর্যবেক্ষণকারী হংকংভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা চায়না লেবার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শ্রমিক ধর্মঘট ও বিক্ষোভের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৪টিতে, যা ২০২২ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

মাত্র একবছর আগেও, ঝেংঝুতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম আইফোন তৈরির কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছিল। এছাড়াও ফক্সকনের মতো বড় কোম্পানিতেও করোনা মহামারি পরবর্তী কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে বেতন ও সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করায় শ্রমিক আন্দোলন হয়েছিল।

তবে শুধু কর্পোরেট সেক্টরই না, এর বাইরেও মিলিশিয়া ইউনিটগুলো স্থানীয় সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও গঠিত হয়েছে। তবে আগের দশকগুলোর মতো এত বড় পরিসরে না হলেও এই ইউনিটগুলো এখনো নির্দিষ্ট একটি জায়গায় স্থির হয়ে রয়েছে।

কর্পোরেট মিলিশিয়া গঠনকারী বিভিন্ন ধরনের ফার্ম

এখন পর্যন্ত যেসব কোম্পানি মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (এসওই), যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকারের অধীন।

কিন্তু গত ডিসেম্বরে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'ইলি গ্রুপ' ইতিহাসের প্রথম বড় বেসরকারি নিয়ন্ত্রিত চীনা কোম্পানি হিসেবে 'পিপলস আর্মড ফোর্সেস ডিপার্টমেন্ট ইউনিট' তৈরি করে। 'ইলি' কোম্পানির মালিকানায় রাষ্ট্রীয় অংশীদারিত্ব নেই। তবে এক্সচেঞ্জ ফাইলিং অনুসারে, হোহোট স্থানীয় সরকারের ৮.৫% শেয়ার রয়েছে।

এছাড়া এখানে, ইলির মিলিশিয়া বাহিনীর শক্তি বা যোগদানকারী কর্মীদের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান সম্পর্কে কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি। চীনের মিলিটারি সার্ভিস আইন অনুযায়ী, মিলিশিয়া বাহিনীর পুরুষ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর হতে হবে। বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এ আইনে কিছুটা শিথিলযোগ্য। নারীদের যোগদানের জন্য বয়সের সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

তবে ইলির এই ইউনিটটি পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং আঞ্চলিক সরকারের কমিউনিস্ট পার্টির সরাসরি পরিচালনায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইলির মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান হুয়াং ঝিকিয়াং বলেন, একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার জন্য এই ইউনিটটি গঠন করা হয়েছে, যা শান্তির সময় সেবা করতে পারে। জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে পারে এবং যুদ্ধের সময় ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে চীনা সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি মিলিশিয়ার মধ্যে এটিই ছিল সর্বশেষ বড় মিলিশিয়া ইউনিট।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে, সাংহাইয়ের একটি সরকারি মালিকানাধীন নির্মাণ সংস্থা একটি 'পিপলস আর্মড ফোর্সেস ডিপার্টমেন্ট ইউনিট' স্থাপন করেছে। শহরটির কমিউনিস্ট পার্টির অফিসিয়াল সংবাদপত্র জিফাং ডেইলি অনুসারে, এটি পিএলএ'র অধীনে নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি চাকরিচ্যুত প্রবীণদের চাকরি দেওয়া বা সামরিক বাহিনীর জন্য সৈন্য নিয়োগের মতো দায়িত্বে সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য গঠিত হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, গত বছর আরো অন্তত ১৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান একই কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউ ডেইরি; জিয়াংসু প্রদেশের নানটং শহরে হাইয়ান আরবান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট; গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝো শহরের তিনটি নির্মাণ, পরিবহন ও জলসেবা সংস্থা এবং হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের নয়টি সংস্থা রয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, 'রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোতে মিলিশিয়া গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে -'জাতীয় প্রতিরক্ষা উন্নয়নকে আরো জোরদার করা।' 

মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ইতিহাস

চীনের মিলিশিয়া বাহিনী ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠারও আগেও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, তারা ১৯২০-এর দশকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং কমিউনিস্ট পার্টির অসংখ্য লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল। ১৯৪৯ সালের পর যখন পার্টি চীনের মূল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল, তখন এই ইউনিটগুলোকে সরকার, স্কুল এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত মাওবাদী যুগে এই বাহিনীর তৎপরতা ছিল। তবে ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে যখন তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখন চীনের সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল তখন ২২ কোটি সদস্য নিয়ে বাহিনীটি তার ইতিহাসের শীর্ষে অবস্থান করছিল।

মিলিশিয়ারা চীনের সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দুটি পূর্ণকালীন পেশাদার বাহিনী পিএলএ এবং পিপলস আর্মড পুলিশ নিয়ে গঠিত। এটি অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। এছাড়া চীনের প্রতিরক্ষা আইন অনুযায়ী, মিলিশিয়ারা পিএলএ'র সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে।

ছবি: সংগৃহীত 

এদিকে, কর্পোরেট ব্রিগেডে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিককে তালিকাভুক্ত করে চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সেতুং বলেছিলেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষা জোরদার করছেন। কিন্তু ঐতিহাসিকরা বলেন, মাও তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা প্রচার এবং তার ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য এই বাহিনীকে ব্যবহার করেছিলেন।

তিনি ব্রিগেডগুলোকে কমিউন (প্রজাসভার) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই কমিউনগুলো ১৯৫৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে গ্রামীণ চীনের প্রায় সমস্ত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ পরিচালনা করেছিল। কমিউনগুলো মাওয়ের 'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' প্রচারাভিযানের একটি কেন্দ্রীয় অংশ ছিল।

মাও তার কট্টর নীতির বিরোধিতাকারীদের দমন ও ভয় দেখানোর জন্য মিলিশিয়া বাহিনীকে ব্যবহার করেছিলেন।

১৯৭৬ সালে মাওয়ের মৃত্যুর পর দেশটি রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিবর্তে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করতে শুরু করে। ফলশ্রুতিতে জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৮০ লাখে নেমে আসে। যদিও কিছু এসওই তাদের মিলিশিয়া ধরে রেখেছিল, কিন্তু তখন কোনো বেসরকারি উদ্যোগ ছিল না। কারণ, ১৯৭৮ সালের পর যখন চীন মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়লো তখন থেকেই কেবল বেসরকারিখাত প্রসার লাভ করতে শুরু করে।

কর্পোরেট মিলিশিয়াদের পুনরুত্থান: এখনই কেন

র‌্যান্ড কর্পোরেশনের সিনিয়র আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষাগবেষক টিমোথি হিথের মতে, কর্পোরেট মিলিশিয়াদের পুনরুত্থান সম্ভবত কোভিড-১৯ মহামারি এবং সাম্প্রতিক সময়ে রিয়েল এস্টেট খাতের সংকটের কারণে হয়েছে। চীনে বছরের পর বছর ধরে রিয়েল এস্টেট বাজারের চলা মন্দা ব্যাপক আকারে ধর্মঘটের সূত্রপাত ঘটায়। এ কারণে ২০২২ সাল থেকে চীনের বিভিন্ন শহরে নগদ অর্থের সংকটে থাকায় ভবন নির্মাণে বিলম্ব বা প্রকল্প পরিত্যক্ত হওয়ায় ক্রেতারা অসমাপ্ত অ্যাপার্টমেন্টের জন্য কিস্তি দিতে অস্বীকার জানান।

রিয়েল এস্টেটের এই মন্দার পরিণতি আর্থিকখাতে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে কিছু ব্যাংক তাদের বিনিয়োগকৃত প্রকল্প ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়। এটি জামানত হারানো মানুষদের বিক্ষোভকে আরো আলোড়িত করেছে।

এ পরিস্থিতে কর্পোরেট মিলিশিয়াদের আবারও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দেশটি। এর ফলে বেসরকারি মালিকানায় কর্পোরেট মিলিশিয়াকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত

এ বিষয়ে টিমোথি বলেন, পিপলস আর্মড ফোর্সেস ডিপার্টমেন্টের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চীনা সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর জন্য শি'র বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ। চীনা প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং এটিকে একটি বিশ্বমানের লড়াকু বাহিনীতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতিরক্ষাখাত পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো।

জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো উইলি লাম দেজা ভু বলেন, 'গণযুদ্ধ' এবং 'বেসামরিক ও সামরিকখাতের সহাবস্থানের মাধ্যমে আমরা মাওয়ের মূল স্লোগানের পুনরুজ্জীবন দেখতে পাচ্ছি ।

দেজা ভু'র এ মন্তব্য এটাই ইঙ্গিত করে যে, সমাজের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করা এবং চীনকে যুদ্ধকালীন পর্যায়ে দাঁড় করানোর যে আকাঙ্ক্ষা শি জিন পিংয়ের, তা এবার প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে। যেমনটি ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে মাও করেছিলেন।

দেজা ভু আরো বলেন, অনেকদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট শি তাইওয়ানে আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য শি এসব কর্পোরেট মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের মাধ্যমে পুরো চীনকে সামরিকীকরণ করতে চান। কারণ, বহুকাল ধরে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে। যদিও তারা কখনো এর নিয়ন্ত্রণ পায়নি।

তিনি বলেন, 'যদি আরো বেশিসংখ্যক চীনা নাগরিক মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য হয়ে ওঠে, তাহলে তাইওয়ানসহ বহির্বিশ্বের জন্য চীন এক বৈশ্বিক হুমকিতে পরিণত হতে পারে।' 

   

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ভারী বর্ষণ, নিহত শতাধিক



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান জুড়ে বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের ফলে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে আঘাত হানা ঝড়ের কারণে কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছে। দেশটির প্রশাসন জরুরি সেবাদানকারী পরিষেবাগুলিকে উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তানে বেশিরভাগ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়াতে। যেখানে প্রবল বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার কারণে ভূমিধস হয়েছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছ উপড়ে গেছে।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভারী বর্ষণের ফলে এখানে ২১ জন মারা গেছে, এই সপ্তাহে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানী ইসলামাবাদেও বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশে সাতজন নিহত হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ার এবং বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছেন যে, তিনি কর্তৃপক্ষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) আবহাওয়ার তীব্র পরিস্থিতির পূর্বাভাসের মধ্যে জরুরি পরিষেবাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলেছে।

এদিকে আফগানিস্তান ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএনডিএমএ) মঙ্গলবার জানিয়েছে, মৌসুমি বৃষ্টি এবং প্রবল বন্যার কারণে আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে আরও ৩৬ জন।

বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের ফলে আফগানিস্তানে ৬০০ টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ২০০ গবাদি পশু মারা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিতে আকস্মিক বন্যার খবর পাওয়া গেছে।

;

‘মাই নেম ইজ কেজরিওয়াল, অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট’



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০১০ সালের বলিউড ফিল্ম ‘মাই নেম ইজ খান’-এ রিজওয়ান খান চরিত্রে শাহরুখ খানকে বার বার বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘মাই নেম ইজ খান, অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট।’

বলিউড বাদশার সেই সংলাপ ১৪ বছর পর আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে এলো দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর মুখে।

এনডিটিভি জানিয়েছে তিনি বলেছেন, ‘মাই নেম ইজ অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট।’ আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সঞ্জয় সিং মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) জেলবন্দি কেজরিওয়ালের একটি বার্তা পড়ে শোনাতেতে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন।

গত ২১ মার্চ দিল্লির আবগারিনীতি বিষয়ক মামলায় ধৃত কেজরিওয়ালের বর্তমান ঠিকানা এখন তিহার কারাগার। সেখানকার দুই নম্বর সেলেই দিন কাটছে তার। তবে, গ্রেফতার হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েননি তিনি।

আপ দাবি করেছে, জেল থেকেই সরকার চালাবেন কেজরিওয়াল। বন্দি হওয়ার পর থেকেই স্ত্রী সুনিতাসহ আপের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর মাধ্যমে নিজের বার্তা জানিয়ে আসছেন তিনি। তেমনই এক বার্তা মঙ্গলবার পড়ে শোনালেন আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয়।

আপ সাংসদের অভিযোগ, ‘জেলে কেজরিওয়ালের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের মতো আচরণ করা হচ্ছে।’

সোমবার তিহারে গিয়ে কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান। তিহার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, একজন দাগী আসামিকে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, কেজরিওয়ালকে সেটুকুও দেওয়া হচ্ছে না। তার দোষটা কোথায়?’ মঙ্গলবার একই অভিযোগ করেছেন সঞ্জয়ও।

সেইসঙ্গে আপ সাংসদ অভিযোগ করেছেন, ‘জেলে কাছের মানুষের সঙ্গে কেজরিওয়ালকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটিই স্পষ্টতই একটি প্রতিহিংসার রাজনীতি। এভাবে তাকে আটকে রাখা যাবে না। এতে করে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।’

সঞ্জয় বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যিনি দেশ এবং দিল্লির জনগণের জন্য তাদের ভাই এবং পুত্রের মতো কাজ করেছেন, তিনি জেল থেকে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।

আপ প্রধান বলেছেন, ‘মাই নেম ইজ অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট।’

আপ সাংসদ আরও বলেন, ‘আপনি যতই তাকে (অরবিন্দ কেজরিওয়াল) ভাঙার চেষ্টা করবেন, ততই তিনি শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবেন। এটি আমাদের সকলের কাছে একটি সংবেদশীল বিষয়, কিন্তু বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য লজ্জার।’

;

ইসরায়েলে হামলার পর ইরানের পরমাণু স্থাপনা সাময়িক বন্ধ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান সোমবার (১৫ এপ্রিল) বলেছেন, ‘নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে তাদের পারমাণবিক স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান।’

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলে কয়েকশ’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার পর তেহরান এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ইরানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি-না।

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বদা এমন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইরানে অবস্থানকারী আমাদের পরিদর্শকদের দেশটির সরকার জানিয়েছে, ‘আমরা প্রতিদিন যেসব পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করছি নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে সেসব স্থাপনা রবিবার বন্ধ থাকবে।’

গ্রোসি বলেন, ‘সোমবার পারমাণু স্থাপনাগুলো ফের খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরিদর্শকরা ওই দিন পর্যন্ত এসব স্থাপনা পরিদর্শনে যাবেন না।’

এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিদর্শকদের সেখানে যেতে দেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতি ইরানের সংযমের প্রশংসার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সোমবার (১৫ এপ্রিল) আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর পর দেশটি এ আহ্বান জানাল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরিবর্তে পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত হবে নিজেদেরকে দোষারোপ করা।’

কানানি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ইরানের সংযমের প্রশংসা করা উচিত।’

অন্যদিকে, গত ১ এপ্রিলের ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতভর ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

ওই হামলার জবাবে ইসরায়েল পাল্টা হামলা করলে তার কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানেই ইরান ফের হামলা চালাবে এবং এর যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের রাজনীতিবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি এই হুমকি দিয়েছেন বলে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান উত্তেজনার মধ্যে আলি বাঘেরি কানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায় ইরান কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জবাব দেবে। নজিরবিহীন হামলার পর এবার ইসরায়েলকে কঠোর হুমকি দিল ইরান।

;

ইরানের সংযম প্রদর্শনের প্রশংসা করতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরায়েলের প্রতি ইরানের সংযমের প্রশংসার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সোমবার (১৫ এপ্রিল) আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর পর দেশটি এ আহ্বান জানাল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরিবর্তে পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত হবে নিজেদেরকে দোষারোপ করা।’

কানানি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ইরানের সংযমের প্রশংসা করা উচিত।’

এদিকে, গত ১ এপ্রিলের ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতভর ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

ওই হামলার জবাবে ইসরায়েল পাল্টা হামলা করলে তার কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানেই ইরান ফের হামলা চালাবে এবং এর যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের রাজনীতিবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি এই হুমকি দিয়েছেন বলে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান উত্তেজনার মধ্যে আলি বাঘেরি কানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায় ইরান কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জবাব দেবে। নজিরবিহীন হামলার পর এবার ইসরায়েলকে কঠোর হুমকি দিল ইরান।

;