রাশিয়ার উদ্যোগে সংগঠিত ব্লক ব্রিকসের কার্যক্রমে ইরান সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন মুদ্রা চালুর লক্ষ্যে মস্কোর সঙ্গে কাজ করছে তেহরান ।
বিজ্ঞাপন
‘রাশিয়া-ইসলামিক ওয়ার্ল্ড: কাজানফোরাম’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, ‘ব্লকটির নতুন সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে ব্রিকসে বড় ভূামকা রাখছে ইরান।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘ব্লকটির কাঠামোর মধ্যে অভিন্ন মুদ্রা তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে কাজ করছে রাশিয়া এবং ইরান।’
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করতে ডলার ব্যবহার করে এবং এক্ষেত্রে পারস্পরিক মীমাংসার ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহারও এজেন্ডায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ৬০ শতাংশেরও হয় বেশি রুবল এবং রিয়ালে। রাশিয়া এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্ক এখন সুবর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম ‘রাশিয়া-ইসলামিক ওয়ার্ল্ড: কাজানফোরাম ২০২৪’ ১৫তম বৈঠক কাজানে ১৪ থেকে ১৯ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বছরের প্রতিপাদ্য হলো, ‘বিশ্বাস এবং সহযোগিতা।’
ফোরামের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার অঞ্চল এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং সেইসঙ্গে রাশিয়ায় ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন করা।’
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের সেনা অভিযান, ৩০ জঙ্গি নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
|
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে এক সেনা অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি জানিয়েছে পাকিস্তানি সেনা বাহিনী। মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আফগান সীমান্ত সংলগ্ন গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী এলাকা ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। এ অভিযানে অন্তত ৩০ জন জঙ্গী নিহত হয়েছে বলে সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানির সেনা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযানটি প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অশান্ত দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের উপজাতীয় জেলায় পরিচালিত হয়েছিল। এই এলাকায় অন্য কোনও জঙ্গি পাওয়া গেলে তা নির্মূল করার জন্য একটি স্যানিটাইজেশন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪৪টি সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ৬৮৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির অনুগত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও ৬ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছে গেছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু ।
আনাদোলু প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্ধারকর্মীরা গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে আরও ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৯১ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। আমরা ধারণা করছি ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মরদেহ রয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় পর গত মাসেই ফিলিস্তিনের গাজায় কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি। তবে এরপর থেকেই সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে নিহতদের মরদেহ। আর এতে করে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির সংখ্যা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিন-পর্যায়ের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে বন্দি বিনিময় এবং স্থায়ী শান্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে।
ধেয়ে আসছে ‘শহর খুনি’ গ্রহাণু, ভারতসহ বাংলাদেশের ক্ষতির শঙ্কা!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
|
ভারতসহ বাংলাদেশের ক্ষতির শঙ্কা!
আন্তর্জাতিক
পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে অতিকায় গ্রহাণু, নিমেষে মুছে যেতে পারে একাধিক দেশ! জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এমন পূর্বাভাসে আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। গ্রহাণুর আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কোন প্রান্ত? এর থেকে বাঁচার নেই কি কোনও উপায়? ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।
যে গ্রহাণুর ধাক্কায় পৃথিবী তছনছ হওয়ার আশঙ্কা, তার নাম ২০২৪ ওয়াইআর৪। সম্প্রতি এর হদিস মিলতেই মহাকাশ গবেষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। গ্রহাণুটি চওড়ায় ৪০ থেকে ১০০ মিটার বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা এর নাম দিয়েছেন ‘শহরের খুনি’ বা ‘সিটি কিলার’।
২০২৪ ওয়াইআর৪-এর ওপর কড়া নজর রেখে চলেছে বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। আমেরিকার নাসা, রাশিয়ার রসকসমস, চিনের সিএনএসএ থেকে শুরু করে ভারতের ইসরো। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সাল নাগাদ পৃথিবীর আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু। আর ঠিক তখনই ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন তারা।
র্যাঙ্কিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রহাণুটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, আরব সাগর অথবা আফ্রিকার যে কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে। এর জন্য বড় ক্ষতি হতে পারে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, সুদান, নাইজ়েরিয়া, ভেনেজ়ুয়েলা, কলম্বিয়া এবং ইকুয়েডরের। তবে এই তালিকা যে কোনও সময়ে বদলে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে নাসা।
নাসা জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহাণুটিকে ভালভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ পাওয়া যাবে। তার পর কিছু দিনের জন্য মহাশূন্যে অনেকটা দূরে চলে যাবে ২০২৪ ওয়াইআর৪। তাই এর ওপর নজরদারিতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
মহাকাশ গবেষকদের দাবি, গ্রহাণুটি মহাশূন্যে হারিয়ে গেলে ফের তার গতিপথ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে ২০২৪ ওয়াইআর৪-এর গতি এবং কক্ষপথই বলে দেবে এটি পৃথিবীর জন্য কতটা বিপজ্জনক, বলছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহাণুটির ছবি তুলে নিতে চাইছেন। এতে মহাজাগতিক বস্তুটিকে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করার কাজ অনেক বেশি সহজ হবে। পৃথিবীর থেকে এর বর্তমান দূরত্ব এখনও পরিমাপ করতে পারেননি মহাকাশ গবেষকেরা। ফলে ২০২৪ ওয়াইআর৪ মানবজাতির জন্য কতটা বিপজ্জনক, তা এখনই নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছে না কোনও সংস্থাই।
তবে একটি ব্যাপারে দুনিয়ার তাবড় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একমত। সেটা হল গ্রহাণুটির আকার, গতি এবং গঠনের ওপর নির্ভর করবে বিপদ। ২০২৪ ওয়াইআর৪ আকারে অস্বাভাবিক বড় হলে ধাক্কার অভিঘাত সহ্য করা যথেষ্ট কঠিন হবে। তবে এ ব্যাপারে এখনই কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করতে চাইছেন না তারা।
বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরিবর্তে এর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়বে ওই গ্রহাণু। আর সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে হবে বিরাট বিস্ফোরণ, যা ৮০ লক্ষ টন ট্রাই নাইট্রো টলুইনের (টিএনটি) সমতুল্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ জাপানের হিরোশিমায় ফাটা পরমাণু বোমার থেকে ৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণ সইতে হবে পৃথিবীকে।
বিশেষজ্ঞেরা আরও জানিয়েছেন, ওই বিস্ফোরণ কোথায় হচ্ছে তার উপর নির্ভর করবে এর অভিঘাতের পরিমাণ। তবে সাধারণ ভাবে ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে সেটি বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা। আর তাই পৃথিবীর কোন প্রান্ত ‘গ্রহাণু দুর্ঘটনাপ্রবণ’, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
২০২৪ ওয়াইআর৪-এর ঝুঁকির বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব ক্যাটালিনা স্কাই সার্ভে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ডেভিড র্যাঙ্কিন এবং তাঁর দলকে দিয়েছে নাসা। গ্রহাণুটির গতিবেগ হিসাব কষে পৃথিবীর কোন কোন এলাকায় এটির আছড়ে পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট দিয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টটি প্রকাশ্যে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
গ্রহাণু ধাক্কার এই সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মানবজাতিকে বাঁচাতে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংগঠনকে একজোট হয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ২০২৪ ওয়াইআর৪ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে তাকে কী ভাবে ঠেকানো যাবে, তার নীল নকশা অবশ্য এখনও তৈরি করা যায়নি। ফলে যত দিন গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা।
পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা ধূমকেতুর ধাক্কা লাগার সম্ভাব্য বিপদের পরিমাণ করে থাকে টোরিনো স্কেল। এতে ১১ পয়েন্টে রেটিং দেওয়া হয়। রেটিং যত বেশি হবে ততই আঘাত এবং ধ্বংসের ঝুঁকি বেশি হবে বলে মানেন দুনিয়ার তামাম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
গ্রহাণুটির হদিস মেলার পর পৃথিবীর সঙ্গে এর আঘাতের আশঙ্কা ১.২ শতাংশ বলে অনুমান করা হয়েছিল। পরে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ২.৩ শতাংশ। বর্তমানে সেটি সামান্য নেমে দুই শতাংশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ গ্রহাণুটির পৃথিবীর গা ঘেঁষে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৮ শতাংশ।
আশ্চর্যজনক বিষয় হল, বিজ্ঞানের বরপুত্র তথা মাধ্যাকর্ষণের আবিষ্কর্তা আইজ্যাক নিউটনও একটি চিঠিতে পৃথিবীর ধ্বংসের কথা বলেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০৬০ সালে, অর্থাৎ আজ থেকে মাত্র ৩৫ বছর পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে গোটা বিশ্ব। আর সেটা হবে গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে। ১৭০৪ সালে ওই চিঠি লেখেন নিউটন।
পৃথিবীর ধ্বংসের দিনক্ষণ গণনার পদ্ধতিটিও চিঠিতে উল্লেখ করেন নিউটন। তাঁর দাবি ছিল, বাইবেলের ‘বুক অফ ড্যানিয়েল’-এ উল্লেখ করা তারিখ এবং সময় গণনা করে নির্দিষ্ট বছরটি নির্ধারণ করা গিয়েছে। নিউটনের লেখা চিঠিটি বর্তমানে জেরুসালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সংগ্রহশালায় সুরক্ষিত রয়েছে।
নিউটনের মতে, রোমান সাম্রাজ্য পতনের ১২৬০ বছর পর পৃথিবী ধ্বংসের লীলাখেলায় মেতে উঠতে পারে। নিউটন যে সময়ে এই গণনা করেছিলেন, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই সময়কে অনেক মনে হয়েছিল। তিনি ভেবেছিলেন যে, কয়েক বছরের মধ্যেই এ সব নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।
নাসার তরফে জানানো হয়েছে, ১০০ বছর পর পর মাঝারি আকারের গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হয়। বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এসে তাতে আগুন ধরে যায়। খুব কম অংশ জল অথবা স্থলভাগে এসে পড়ে। তীব্র গতিবেগে আসার ফলে সেখানকার এলাকায় গ্রহাণুর ওজনের কারণে গর্ত তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ২০২৪ ওয়াইআর৪-র সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লাগা সংক্রান্ত রেটিং তিন বলে ধরা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহাণুটির গতিপথ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রেটিং শূন্যে নেমে যেতে পারে। তখন আর এটির পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ার কোনও আশঙ্কাই থাকবে না।
আশ্চর্যজনক বিষয় হল, বিজ্ঞানের বরপুত্র তথা মাধ্যাকর্ষণের আবিষ্কর্তা আইজ্যাক নিউটনও একটি চিঠিতে পৃথিবীর ধ্বংসের কথা বলেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০৬০ সালে, অর্থাৎ আজ থেকে মাত্র ৩৫ বছর পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে গোটা বিশ্ব। আর সেটা হবে গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে। ১৭০৪ সালে ওই চিঠি লেখেন নিউটন।
নতুন আত্মঘাতী ও গোয়েন্দা ড্রোন উন্মোচন করল আইআরজিসি
ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
|
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি বৃহৎ সামরিক মহড়ায় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস গ্রাউন্ড ফোর্স নতুন আত্মঘাতী এবং গোয়েন্দা ড্রোন উন্মোচন করেছে। সোমবার থেকে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘পায়াম্বার-এ-আজম (মহান নবী) ১৯’ যুদ্ধ মহড়া শুরু করেছে আইআরজিসি। মহড়ার সময় আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্স দেশীয়ভাবে তৈরি ড্রোনের একটি সিরিজ ব্যবহার করেছে। খবর তাসনিম নিউজ
আইআরজিসি এমন সময়ে এই ড্রোন উন্মোচন করল, যখন ইসরাইল এ বছরের মাঝামাঝি ইরানে বড় ধরণের হামলা চালাতে পারে বলে খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
যুদ্ধ মহড়ায় উন্মোচিত নতুন মনুষ্যবিহীন বিমানের মধ্যে রয়েছে ‘বিনা’, একটি হাইব্রিড রিকনাইসেন্স ড্রোন যার অপারেশনাল রেঞ্জ ৪০ কিলোমিটার, ‘কান্দিল ৪ এবং ৫’ রিকনাইসেন্স ড্রোন যার রেঞ্জ ১০০ কিলোমিটার এবং ফ্লাইট এন্ডুরেন্স ৫ এবং ১০ ঘন্টা, পাশাপাশি ‘আরবাইন’ ভিটিওএল (উল্লম্ব টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং) ড্রোন, একটি মনুষ্যবিহীন বোমারু ড্রোন যা ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ কেজি ওজনের বোমা বহন করতে পারে।
মহড়ায় ব্যবহৃত অন্যান্য নতুন ড্রোনগুলি হল ‘রা’দ-২’ আত্মঘাতী ড্রোন যার পাল্লা ২০ কিলোমিটার এবং ৫ কেজি ওজনের ওয়ারহেড, ‘রা’দ-৩’ আত্মঘাতী ড্রোন যার পাল্লা ১০০ কিলোমিটার এবং ১২ কেজি ওজনের ওয়ারহেড এবং ‘সায়েকহ’ আত্মঘাতী ড্রোন যার পাল্লা ২০ কিলোমিটার এবং এক কেজি ওজনের ওয়ারহেড।
আইআরজিসি ‘সাবের’ কমব্যাট মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকেলও উন্মোচন করেছে, যা ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন এন্টি-ট্যাঙ্ক এবং এন্টি ট্যাঙ্ক পার্সোনেল অস্ত্র বহন করতে পারে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে, আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্স ‘রেজওয়ান’ নামে একটি নতুন লোটারিং ড্রোন উন্মোচন করেছে যার পাল্লা ২০ কিলোমিটার এবং উড়ানের ক্ষমতা ২০ মিনিট। নতুন ড্রোনগুলি আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্স ইউনিটগুলিকে পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করতে সক্ষম করেছে।
‘কামিকাজে ড্রোন’ বা ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ নামেও পরিচিত-এটি একটি নির্দিষ্ট ধরণের অস্ত্র যা সুনির্দিষ্ট আক্রমণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। একবার চালু হয়ে গেলে, এই সিস্টেমগুলি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত এবং ট্র্যাক করার জন্য উন্নত অপটিক্যাল এবং তাপীয় সেন্সর ব্যবহার করে। তারা সম্ভাব্য হুমকির জন্য স্ক্যানিং করে, নির্ধারিত আকাশসীমায় টহল দেয় এবং যখন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পায়, তখন তারা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে, শত্রুদের ধ্বংস নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের বিস্ফোরণ ঘটায়।
নজরদারি এবং আঘাত করার ক্ষমতার এই অনন্য সমন্বয় আধুনিক যুদ্ধে লোটারিং গোলাবারুদকে অত্যন্ত কার্যকর করে তোলে। এই ধরনের অস্ত্র স্থল যুদ্ধ এবং আক্রমণ-বিরোধী অভিযানেও বিশেষভাবে কার্যকর।