সিরিয়ায় ৫ দিনের যুদ্ধ বিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরিয়ায় পাঁচ দিনের যুদ্ধ বিরতিতে যেতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভবনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আলোচনাকালে এই সিদ্ধান্তে পোঁছায় দেশ দুটি।

আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্স বলেন, 'দীর্ঘ চার ঘণ্টার আলোচনার পর আমরা এই চুক্তিতে পোঁছেছি। চুক্তির ফলে তুরস্ক সিরিয়ায় পাঁচ দিন হামলা বন্ধ রাখবে। আর এই ১২০ ঘণ্টার মধ্যে পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) তুরস্কের ঘোষণাকৃত সেফ জোন ছেড়ে চলে যাবে।'

এদিকে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, 'তুরস্ক থেকে দুর্দান্ত খবর এসেছে।' টুইট বার্তায় এরদোগানকে ধন্যবাদ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'এই চুক্তির ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা পেলো।'

এছাড়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে তুরস্কের ওপরে থাকা সকল অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তবে তুরস্কের ঘোষণাকৃত সেফ জোনে তুর্কি বাহিনীর সদস্য থাকবে বলে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় বলে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে দেশ দুটি।

তবে এই চুক্তিতে কুর্দিদের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে কুর্দি কমান্ডার মাজলুম কোবানি রোনাহী টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কুর্দি বাহিনী উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যাবে। কিন্তু এটি শুধুমাত্র রস আল-আইন ও তাল আবায়দ শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'আমরা যা চেয়েছি তাই পেয়েছি।' আর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট কাভুসোগ্লু এই চুক্তিকে কুর্দি যোদ্ধাদের সরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য এটিকে বিরতি হিসাবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, 'এ চুক্তির কারণে কুর্দি যোদ্ধারা তাদের ভারী অস্ত্র ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে এবং তাদের অবস্থানগুলি ধ্বংস হয়ে যাবে।'

তবে কাভুসোগ্লু এই চুক্তিকে যুদ্ধবিরতি বলতে নারাজ। তিনি বলেন, 'আমরা কোনো সন্ত্রাসীদের সাথে বৈঠকে বসিনি। আর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে চুক্তি করিনি।'

তিনি আরও বলেন, 'সন্ত্রাসী সংগঠন যখন সেফ জোন ছেড়ে চলে যাবে তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করতে পারি।'

এ বিষয়ে পেন্স বলেন, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা সেফ জোন ছেড়ে যেতে রাজি রয়েছে।

তবে কুর্দিদের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ আলদার জেলিল আল আরবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'কুর্দিরা যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। কিন্তু তাদের ওপর আক্রমণ করা হলে তারা তা প্রতিরোধ করবে।'

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর পরই (৯ অক্টোবর) দেশটিতে অবস্থানকৃত কুর্দিদের ওপর হামলা চালায় তুর্কি সেনাবাহিনী। কুর্দি বাহিনীর ওপর হামলার পর থেকে নিজ ও বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আবার অন্যদিকে সিরিয়া থেকে আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে এই কুর্দিরাই। এর ফলে বিপাকে পড়েন ট্রাম্প।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, হামলার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার সিরিয়ান তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। যার মধ্যে ৭০ হাজার শিশু রয়েছে। আর এসডিএফ'র মতে হামলায় এ পর্যন্ত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫০ জন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কয়েকদিনের এই হামলায় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এবং পিপল প্রটেকশন ইউনিটের (ওয়াইপিজে) ৬৩৭ জঙ্গি নিহত হয়েছে। অপরদিকে কুর্দি সেনারা দাবি করছে তুরস্কের হামলায় ২১৮ জন বেসামরিক সিরিয়ান নাগরিক নিহত হয়েছেন।

তুরস্কের দাবি তারা সিরিয়ায় একটি সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করবে যেখানে সিরিয়ার সাধারণ নাগরিক ও শরণার্থীরা এক সঙ্গে থাকতে পারবে। এছাড়া অর্থনৈতিক অবরোধ ও বিশ্বের পরাশক্তিদের চাপের মুখেও হামলা বন্ধ করনি তুরস্ক।

আপনার মতামত লিখুন :