চীনে কমেছে জন্মহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জন্মহার কমেছে চীনে, ছবি: বিবিসি

জন্মহার কমেছে চীনে, ছবি: বিবিসি

  • Font increase
  • Font Decrease

গত বছর চীনে ব্যাপক হারে জন্মহার কমেছে যা গত সাত দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, বর্তমানে জন্মহার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। যা ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন।

২০১৯ সালে চীনের ১৪৬ কোটি ৫০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার গর্ভপাত করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দেশের জন্মহার হ্রাস পাওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন।

জন্মহার কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে মৃত্যুর হারও কমেছে। ২০১৯ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যা ১.৩৯ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৪ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

চীনের জন্মহারের চ্যার্ট, ছবি: বিবিসি

চীনের জন্মহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকেও কম। বিভিন্ন তথ্যাদি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি হাজারে বারোজন করে জন্ম নিত। আর জাপানে যার পরিমাণ ছিলো ৮।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী জন্মের হার ছিলো ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

১৯৭৯ সালে চীনা সরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য একটি শিশুর নীতি গ্রহণ করেন। ওই নীতি অনুযায়ী কোনো দম্পতি একটির বেশি শিশু নিলে তাদেরকে জরিমানা করা হত। এমনকি অনেক সময় চাকরি থেকে বহিষ্কার ও গর্ভপাত করানো হত।

চীনা জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক চ্যার্ট, ছবি: বিবিসি

আর এই নীতিটিকেই লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী করা হয়েছে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে পুরুষের চেয়ে মহিলার সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন বেশি।

এদিকে ২০১৫ সালে একটি সন্তানের নীতিটি বাতিল করে চীনা সরকার। তখন দুই সন্তানের নীতিতে চলে চায় দেশটি। কিন্তু এরপরেও জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

শুধু নীতি পরিবর্তন করলেই জন্মহার বাড়বেনা বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জন্মহার বাড়াতে হলে শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা ও পিতৃত্বের ছুটি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

 

আপনার মতামত লিখুন :