অস্ত্রধারীদের হামলায় কঙ্গোতে ২০ জন নিহত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কঙ্গোতে অস্ত্রধারীরা রাতভর হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০ জনকে হত্যা করেছে। রোববার (১৭ মে) ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর উত্তরপূর্ব অঞ্চলের এক গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার (১৭ মে) রাত একটার দিকে ইতুরি প্রদেশের দজালার হেমা গ্রামে একদল অস্ত্রধারী প্রবেশ করে। হামলাকারীরা লেন্দু গোষ্ঠীর জঙ্গিদের নিয়ে গঠিত কো-অপারেটিভ ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব দ্য কঙ্গো (কোডেকো) জঙ্গি বাহিনীর সদস্য।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোলো বুকুপুতা বলেন, তারা রামদা নিয়ে আক্রমণ করে। ইতোমধ্যে ২০ জন মারা গেছে এবং ১৪ জনেরও বেশি গুরুতর আহত হয়েছে।

জাতিসংঘের এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, জাতিসংঘের শান্তি বাহিনীর সদস্যরা গ্রামে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তারা নিকটস্থ একটি জাতিসংঘের ঘাঁটিতে গুলি চালায়।

গত দুই মাসে জাতিগত সহিংসতায় কঙ্গোতে ২ লাখ মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এই অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনীর পরিকল্পিত হামলার ফলে করোনাভাইরাস এবং ইবোলা মহামারি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ইবোলায় কঙ্গোতে মারা গেছে ২ হাজার ২০০ মানুষ।

ইতুরি প্রদেশ সোনা, হীরা এবং কোলতান খনি সমৃদ্ধ এলাকা। মূলত হেমা এবং লেন্দু গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বে বিদ্রোহী বাহিনী জাতিগত সহিংসতা শুরু করে। এরপর ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ইতুরিতে দেশের অন্যতম কিছু সহিংস ঘটনা ঘটে।

বেশ কয়েক বছর পরিস্থিতি শান্ত থাকার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। গত বছর শেষের দিকে সেনাবাহিনী জঙ্গিদের নির্মূল করার অভিযান শুরু করে। এর পালটা প্রতিক্রিয়ায় জঙ্গিরা ইতুরিতে অন্তত ৩৫০ জনকে হত্যা করে।

এ বছর মার্চের শেষ দিকে কঙ্গোর সেনাবাহিনী কোডেকোর নেতা জাস্টিন গুডজোলোকে হত্যার পর দলটি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এই মাসের শুরুতে কোডেকোর নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে বলে দাবী করা গাবু গাউয়ি অলিভিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।