জার্মানির কোলনে মাইকে জুমার আজানের অনুমতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জার্মানির কোলনে মাইকে জুমার আজানের অনুমতি

জার্মানির কোলনে মাইকে জুমার আজানের অনুমতি

  • Font increase
  • Font Decrease

স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের অনুরোধ ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে জার্মানির কোলন নগরীতে মসজিদের মাইকে আজান দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউরোপের বিখ্যাত এ নগরীর মেয়র হেনরিয়েত্তে রেকে এই অনুমতি দেন।

তিনি বলেন, ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য দুই বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মাইকে জুমার নামাজের আজান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

মেয়র হেনরিয়েত্তে আরও বলেন, ‘আমাদের শহরে অনেক মুসলিম বাসিন্দা রয়েছেন। তারা আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। বৈষম্য দূর করার জন্য এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে আমরা জুমার নামাজের আজান মসজিদের মাইকে দেওয়ার বৈধতা দিয়েছি।’

তবে আজান দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জার্মানির পশ্চিমে অবস্থিত মুনস্টার শহরে মাইকে জুমার আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছিল নিম্ন আদালত। উচ্চ আদালত সেই রায় নাকচ করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, মসজিদে আজান ধর্মীয় অধিকার। রাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ২০১৮ সাল থেকে মুনস্টার শহরে মাইকে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ হয়েছিল।

কোলনে ইউরোপের অন্যতম বড় মসজিদ এবং জার্মানির সবচেয়ে বড় মসজিদ অবস্থিত। এটি কোলনের কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ৪৫০০ বর্গমিটার আয়তনের এই মসজিদে একসঙ্গে চার হাজার মুসল্লির নামাজ আদায় করতে পারেন।

জার্মানিতে প্রায় পাঁচ মিলিয়নের মতো মুসলমান বাস করেন। তাদের একটি বড় অংশ তুর্কি বংশোদ্ভূত। কোলনে বসবাসরত সোয়া লাখ মুসলমানের জন্য সত্তরটির মতো মসজিদ রয়েছে। অধিকাংশ মসজিদ এমন জায়গায় তৈরি যা সচরাচর চোখে পড়ে না। তবে কোলন কেন্দ্রীয় মসজিদটি ব্যতিক্রম।

শুধু কোলনে ২০১৭-১৮ সালে তুরস্ক থেকে এসেছেন ৫৫ হাজার মুসলিম অভিবাসী। দেশটির অন্য যেকোনো নগরী থেকে এখানে মুসলিমদের বসতি সবচেয়ে বেশি।

জার্মানিতে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯১৫ সালে। জার্মানিতে তিন হাজারের মতো মসজিদ রয়েছে।

সম্প্রতি জার্মানিতে মসজিদের সংখ্যার একটি ধারণা দিয়েছে জার্মানির ‘সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ মুসলিমস।’ তাদের হিসেবে জার্মানিতে প্রায় আড়াই হাজার মসজিদ আছে, যার মধ্যে পথচারীরা মাত্র নয়শ’টিকে মসজিদ হিসেবে চেনে। বাকিগুলো হয় কোনো সমিতির চত্বরে কিংবা পরিত্যক্ত কোনো কারখানায় গড়ে তোলা হয়েছে।