শরিয়া আদালত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে উগান্ডায়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শরিয়া আদালত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে উগান্ডায়

শরিয়া আদালত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে উগান্ডায়

  • Font increase
  • Font Decrease

উগান্ডায় প্রচলিত আদালতের চেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইসলামি শরিয়া আদালত। সাফিনা নামুকোসে (৩০) নামে এক মুসলিম নারীকে তার তিন সন্তানসহ ফেলে রেখে স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ ঘুষ খেয়ে তার স্বামীকে আটক করছিল না। কয়েক মাস ধরে তিনি থানা পুলিশের কাছে ধরণা দিয়ে ক্লান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত শরিয়া আদালতের দ্বারস্থ হন। এতে সঙ্গে সঙ্গেই কাজ হয়। শরিয়া আদালতের ফরমান পেয়ে স্বামী এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে সন্তানসহ প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। সাফিনার মতো অনেকেই এখন ভরসা করছেন উগান্ডার ইসলামি আদালতে।

শরিয়া আইন ইসলাম ধর্মভিত্তিক আইনব্যবস্থা। ইসলাম ধর্মের উৎসমূল কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রণীত আইন। শরিয়া আইন বলতে, আল্লাহর নির্দেশিত অপরিবর্তনীয় ঐশী শাসনব্যবস্থা, যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের আলোকে গঠিত হয়।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় ৪৬ মিলিয়ন জনসংখ্যা। তন্মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ মুসলিম। ১৯৯৫ সালে দেশটিতে নতুন সংবিধান গৃহীত হয়। সংবিধানে শরিয়া আইনের উদ্ধৃত দেওয়া হলেও নির্দেশক নীতির অভাবের কারণে তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে উগান্ডা সরকার দেশটির সব জেলায় শরিয়া আদালত প্রতিষ্ঠা করে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তা মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গত তিন মাসে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বুগিরি জেলার শরিয়া আদালতে ১৪০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। প্রতিটি জেলায় একজন শরিয়া সেক্রেটারি আছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একটি শরিয়া অধিদপ্তর রয়েছে।

 গাদ্দাফি ন্যাশনাল মসজিদ

উগান্ডা মুসলিম সুপ্রিম কাউন্সিলের মুখপাত্র আশরাফ মুভাওয়ালা তুরস্কভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, উগান্ডায় শরিয়া আদালত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শরিয়া আদালতের প্রতিদিন খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রতিদিন অসংখ্য লোক নতুন মামলা নিয়ে আসেন।

শরিয়া আদালতে আশ্রয়ের প্রধান কারণ হিসেবে মুভাওয়ালা বলেন, দেশের পুলিশ ও ম্যাজিট্রেট আদালতে প্রচুর দুর্নীতি হয়। ফলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী ও তাদের মধ্যে আস্থার সংকট হচ্ছে। মায়ুগ জেলার মসজিদের ইমাম শায়খ হাবিব লুগায়া বলেন, দেশের সংবিধানে শরিয়া আইন রয়েছে। তবে তা কেবলমাত্র দেওয়ানি মামলা নিয়ে কাজ করে, ফৌজদারি ক্ষেত্রে নয়।

মুসলিম সুপ্রিম কাউন্সিলের সাবেক মুখপাত্র হাজি আবদুল নেরেকো মুতুম্বা এক প্রবন্ধে লিখেন, শরিয়া আদালত একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যেখানে মুসলিমরা তাদের বিরোধগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারে। এর মাধ্যমে দ্রুততর সময়ে অল্প খরচে দুর্বল ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পেতে পারে।

তিনি আরও জানান, উগান্ডার মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শরিয়া আইন সমর্থন করেছেন। কারণ ধর্মনিরপেক্ষ আইন তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না। তাই মুসলিমরা যেখানে বসবাস করে সেখানে শরিয়া আইন থাকা জরুরি।

শরিয়া আদালতে আশ্রয় নিয়ে সুফল পাচ্ছেন উগান্ডার অসংখ্য ভুক্তভোগী। তিন সন্তানের জননী সাফিনা নামুকোসের ঘটনাটি এমনই একটি ঘটনা।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অবস্থিত গাদ্দাফি ন্যাশনাল মসজিদ দেশটির জাতীয় ও অন্যতম বৃহত্তর মসজিদ। মসজিদের তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। এতে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি আছে যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক ও জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিরা এসে ভিড় জমায়।

উগান্ডার মুসলিমদের জন্য একটি টিভি ও রেডিও চ্যানেল চালু আছে। বেলাল রেডিও ও আস-সালাম টিভি নামের চ্যানেলে ইংরেজি ও স্থানীয় ভাষায় ইসলামি বিষয়াবলি সম্প্রচারিত হয়।