যুক্তরাষ্ট্রে আইটিভি ইউএসএ-এর সিরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাষ্ট্রে আইটিভি ইউএসএ-এর সিরাত কনফারেন্সের অতিথি ও আয়োজকবৃন্দ

যুক্তরাষ্ট্রে আইটিভি ইউএসএ-এর সিরাত কনফারেন্সের অতিথি ও আয়োজকবৃন্দ

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্লোবাল দাওয়াহ টেলিভিশন আইটিভি ইউএসএ-এর উদ্যোগে আড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুইন্সের ডিটমার্স বুলেভার্ডে অবস্থিত লাগোর্ডিয়া প্লাজা হোটেলে বিশাল এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

কনফারেন্সে ছিল বিশ্বখ্যাত কারিদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, রাসুল (সা.)-এর জীবন নিয়ে আলোচনা, দোয়া-মাহফিল, ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনী, সিরাত বইমেলা এবং অ্যাওয়ার্ড প্রদান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত কারি শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী, শায়খ হাসান সালেহ, ইমাম শামসী আলী, শায়খ ওয়ালিদ, ড. জাকির আহমেদ, কারি নজরুল ইসলাম, কারি ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. মো. ওয়াহিদুর রহমান, কণ্ঠশিল্পী ইকবাল হোসাইন জীবন এবং কারি আবদুল্লাহসহ আরও অনেকে।

নিউইয়র্ক সিটির বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও জমকালো এই কনফারেন্সে বিপুল পরিমাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন কারি শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী ও অন্যান্য কারিরা। রাসুলের শানে নাত পরিবেশন করেন ইকবাল হোসাইন জীবন।

অনুষ্ঠানের আকর্ষণ ছিল কারিদের তেলাওয়াত

সিরাত নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শুধু জানা নয়, তার জীবনকে আমাদের জীবনে এপ্লাই করার চেষ্টা করতে হবে। যে যেখানে যে অবস্থায় আছি, আমরা যেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অনুসরণ করি। আমরা সবসময় আল্লাহকে ভালোবাসার কথা বলি। আসলে আল্লাহকে ভালোবাসা মানেই হলো তার রাসুলকে অনুসরণ করা।

অনুষ্ঠানের দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত নিউইয়র্কের বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা থেকে আগত খুদে শিক্ষার্থীরা কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের মুসলিম অ্যাডভাইজারি বোর্ডের মেম্বার, আইটিভি ইউএসএ-এর পৃষ্ঠপোষক ডা. মো. ওয়াহিদুর রহমান ডিডিএস। তিনি মিডিয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনায় বলেন, আইটিভি গত ৮ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীজুড়ে যে দাওয়াতের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আইটিভির যে কনটেন্ট সেটা সাধারণ মুসলমানের জন্য বিরাট উপকারী। অন্যান্য সবার জন্য এই টেলিভিশন জ্ঞানার্জনের দ্বার উন্মোচন করেছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্যায়ে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ কারি, নিউজার্সির মসজিদ দারুল ইসলাহর পরিচালক এবং ইমাম ও খতিব শেখ ওয়ালিদ আল বারদাউইশ।

দ্বিতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন তাজবিদের ওপর বিশেষজ্ঞ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ কারি শেখ নাদি। তিনি তাজবিদের বিভিন্ন স্টাইলসহ কোরআন তেলাওয়াত করে শোনান।

ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনী

অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ইসলামিক কালচারাল সেন্টার অব নিউইয়র্কের ইমাম ও খতিব, রাওদা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. জাকির আহমেদ।

উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন আইটিভির পৃষ্টপোষক, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ভুঁইয়া।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কারি শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী। দীর্ঘ সময় ধরে অসাধারণ ভঙ্গিতে, বিভিন্ন পঠন পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। সবশেষে কোরআন তেলাওয়াত করেন আমেরিকার শীর্ষ কারি উসতাজুল কুররা শায়খ হাসান সালেহ।

অনুষ্ঠান শেষে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট, মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক ড. আবু জাফর মাহমুদ। বক্তব্যে তিনি প্রিয় নবীর আদর্শ অনুযায়ী দেশপ্রেম এবং আগামী দিনের নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি আইটিভির পক্ষ থেকে সাইটেশন প্রদান করা হয় ড. আবু জাফর মাহমুদ এবং শায়খ আহমেদ বিন ইউসুফ আল আজহারীকে।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদ আত তাওহিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কারি ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দ্বিতীয় পর্বে সিরাহ ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনীতে অংশ নেন অতিথিরা। কনফারেন্সের মধ্যে আয়োজিত বইমেলায় অংশ নেয় দারুল আহনাফ, ইলহাম ইনস্টিটিউট, মসজিদ তাওহিদ, পিপল এন টেক, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, দাওয়াহ ইউএসএ, আইটিভি ইউএসএসহ অন্যান্য স্টল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, দর্শক-শ্রোতা, স্পন্সরসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান আইটিভি ইউএসএ-এর সিইও মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

  • Font increase
  • Font Decrease

আশুরার দিবসের একটি বিশেষ দিক আছে। মানুষের অজ্ঞতা কিংবা উদাসীনতার ধরুন অনেক সময় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। দিকটি হলো, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।

হাদিস শরিফ ও ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব ধর্মের লোকেরা আশুরাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ইহুদিরা এই দিনে রোজা রেখে হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করে। এ ছাড়া খ্রিস্টানরাও এই দিনকে মর্যাদার চোখে দেখে। খ্রিস্টানরা আশুরার দিনকে হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন মনে করে।

মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) জায়দ আম্মি থেকে বর্ণনা করেন, ‘ঈসা ইবনে মারয়াম আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।’ তবে আল্লামা জাহাবি (রহ.) বলেন, এ বর্ণনার সনদ দুর্বল। -হাকেম : ৪১৫৫

অন্যদিকে মূর্তি পূজারি আরবদেরও দেখা গেছে যে তারা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিত। জাহেলি যুগে মক্কার কাফেররা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখত। সেদিন ছিল কাবাকে গিলাফ পরিধান করার দিন। যখন আল্লাহতায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যারা রোজা রাখতে চায়, তারা রোজা রাখবে, আর যারা ছেড়ে দিতে চায়, তারা যেন ছেড়ে দেয়। -সহিহ বোখারি : ১৫৯২

এসব বর্ণনার আলোকে বোঝা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক। সুতরাং বলা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

আশুরার দিনে আমল হিসেবে তিনটি কাজ করা যায়। প্রথমত, রোজা রাখা। এ আমলটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরা উপলক্ষে দুই দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব। মহররমের ১০ তারিখের আগে বা পরে এক দিন বাড়িয়ে রোজা রাখার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয়ত, আরেকটি আমল বর্ণনা সূত্রে দুর্বল হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তা হলো, আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবে, সে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ -বায়হাকি : ৩৭৯৫

এ হাদিসের বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা আছে। তবে ইবনে হিব্বানের মতে, এটি ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের হাদিস। ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর দাবি, রিজিকে প্রশস্ততার ব্যাপারে কোনো হাদিস নেই। এটি ধারণাপ্রসূত। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ হাদিস নয়। তবে এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা থাকার কারণে ‘হাসান’ হওয়া অস্বীকার করা যাবে না। আর ‘হাসান লিগাইরিহি’ পর্যায়ের হাদিস দ্বারা আমল করা যায়। -আস সওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রফজি ওয়াদ দালাল ওয়াজ জানদিকা : ২/৫৩৬

তৃতীয়ত, আরেকটি আমল যুক্তিভিত্তিক প্রমাণিত। তা হলো, আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের শাহাদাতের কারণে তাদের জন্য দোয়া করা, দরুদ পড়া ও তাদের কাছ থেকে সত্যের ওপর অটল থাকার শিক্ষা গ্রহণ করা। এই তিনটি কাজ ছাড়া আশুরায় অন্যকোনো আমল নেই।

স্মরণ রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে। প্রাক-ইসলামি যুগেও মহররমের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের অসংখ্য কালজয়ী ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুণ্যময় এ মাস। আর কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ায় পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রচিত হয়েছে শোকাভিভূত এক নতুন অধ্যায়। কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনাই আশুরার একমাত্র ও আসল প্রেরণার উৎস নয়। বরং সৃষ্টির আদি থেকে চলে আসা সত্যাশ্রয়ী মহামানবদের দ্বারা লালিত সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে যুক্ত যবনিকা বলা যেতে পারে এ ঘটনাকে।

;

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য বিশেষ কিছু সময় ও মৌসুম দিয়েছেন, যে সময়ে বান্দা অধিক ইবাদত-বন্দেগি ও ভালো কাজ করে সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুমিনের জন্য এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। অতীতে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় গোনাহসমূহ মার্জনা করানোর সুবর্ণ সুযোগ বটে। এই বরকতময় সময়ের মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, ‘মহররম ও আশুরা’।

এক সাহাবি নবী কারিম (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে বলেন? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররমে রোজা রাখো। কেননা মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন এক দিন আছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন। -জামে তিরমিজি : ৭৪১

আলেমদের অভিমত হলো, এই হাদিসে যে দিনের দিকে ইশারা করা হয়েছে- খুব সম্ভব সেটি আশুরার দিন।

ইসলামের বিধানে তওবা-ইস্তেগফার যেকোনো সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে কিছু কিছু সময় এমন রয়েছে, যখন তওবার পরিবেশ বেশি অনুকূল হয়। বান্দার উচিত সেই প্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোর কদর করা। মহররমের এ মাসটি, বিশেষ করে ১০ তারিখ- এমনই এক মোক্ষম সময়। এদিনে তওবা কবুল হওয়া, নিরাপত্তা এবং অদৃশ্য সাহায্য লাভ করার কথাও রয়েছে। এ জন্য এ সময়ে এমন সব আমলের প্রতি মনোনিবেশ করা উচিত, যাতে আল্লাহর রহমত বান্দার দিকে আরও বেশি ধাবিত হয়।

তওবা-ইস্তেগফারের জন্য সবথেকে উত্তম হলো, কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত ইস্তেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে মুখস্থ করা। সেই দোয়াগুলোর মাধ্যমে রাব্বে কারিমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তবে নিজের ভাষায় নিজের মতো করে ইস্তেগফার করলেও ঠিক আছে। কারণ আল্লাহতায়ালা সব ভাষারই স্রষ্টা। তিনি সবার কথা বুঝেন। সবার আরজি কবুল করেন।

;

ইতিহাসে আশুরার ঘটনাবলি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস

মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিভাষায় আশুরা বলতে মহররম মাসের ১০ তারিখকে বোঝায়। মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। বছরের প্রথম মাস হিসেবে মহররম যতটা না গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে বহুগুণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আশুরা।

চেতনার মিলনায়তনে আশুরা মানে মহররম আর মহররম মানেই আশুরা। মহাকালের যাত্রালগ্ন থেকে আশুরা বহু উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়া ও ধ্বংস-সৃষ্টির স্মৃতিকে ধারণ করে আসছে। গোটা বিশ্বের মুসলমানদের চেতনার বেদিতে আশুরা চিরভাস্বর। তবে সময়ের ব্যবধানে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে আজ আশুরা আর মহররম চেতনার জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নিয়ে টিকে আছে।

কোথাও একে স্মরণ করা হচ্ছে শোকের স্মারক হিসেবে। কোথাও তা আনন্দের উপাদান হিসেবে। আবার কোথাও প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে।

আশুরা দিবসকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে ইতিহাসের নানা তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনাপ্রবাহ। নবী-রাসুলদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আশুরার মর্যাদাবাহী অসংখ্য ঘটনা-উপাখ্যান-বিবরণ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়।

যেমন আশুরার দিন পৃথিবীর সৃষ্টি, এ দিনেই কেয়ামত, এ দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি, একই দিনে তার তওবা কবুল হওয়া, এই দিনেই হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জন্মগ্রহণ ও নমরুদের প্রজ্বলিত আগুন থেকে মুক্তি লাভ, হজরত আইয়ুব (আ.)-এর আরোগ্য লাভ, হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পাওয়াসহ অসংখ্য ঘটনার বিবরণ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

‘মাওজুআতে ইবনে জাওজি’-এর বর্ণনামতে, আশুরার দিনে সংঘটিত ঘটনাবলি বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তা সত্ত্বেও ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সেসব ঘটনার বিশেষ আবেদন রয়েছে বৈকি?

তবে হাদিস শরিফে আশুরার ইতিহাস সম্পর্কে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখত। তিনি তাদের বললেন, এটি কোন দিন, তোমরা যে রোজা রাখছ? তারা বলল, এটি এক মহান দিন, যেদিন আল্লাহ মুসা (আ.)-কে মুক্তি দিলেন ও ফেরাউনের পরিবারকে ডুবিয়ে মারলেন। তখন হজরত মুসা (আ.) শোকর আদায় করার জন্য রোজা রাখলেন (দিনটির স্মরণে আমরা রোজা রাখি)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা মুসার অনুসরণে তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। তখন তিনি রোজা রাখলেন ও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। -সহিহ বোখারি : ৩৩৯৭

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘এটি সেদিন, যেদিন হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতে স্থির হয়েছিল। তাই হজরত নুহ (আ.) আল্লাহর শুকরিয়াস্বরূপ সেদিন রোজা রেখেছিলেন।’ -মুসনাদে আহমাদ : ২/৩৫৯

ইতিহাসের ঘটনা পরম্পরায় ৬০ বা ৬১ হিজরির ১০ মহররম সংঘটিত হয় কারবালার হৃদয়বিদারক, মর্মস্পর্শী ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। মুজামে কবিরে এসেছে, হজরত জুবাইর ইবনে বাক্কার বলেন, হুসাইন ইবনে আলী (রা.) চতুর্থ হিজরির শাবান মাসের পাঁচ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। আর তাকে আশুরার জুমার দিনে ৬১ হিজরিতে শহীদ করা হয়েছে। তাকে সিনান ইবনে আবি আনাস নাখায়ী হত্যা করে। তাতে সহযোগিতা করেছে খাওলি ইবনে ইয়াজিদ আসবাহি হিময়ারি। সে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করেছে এবং উবাইদুল্লাহর দরবারে নিয়ে এসেছে। তখন সিনান ইবনে আনাস বলেন, ‘আমার গর্দানকে স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা সম্মানিত করুন। আমি সংরক্ষিত বাদশাহকে হত্যা করেছি, আমি মা-বাবার দিক দিয়ে উত্তম লোককে হত্যা করেছি।’ -তাবরানি, মুজামে কবির : ২৮৫২

সেদিন পাপিষ্ঠরা যে নির্মমতা ও নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা পাথরসম যেকোনো হৃদয়েই সমবেদনার কম্পন জাগিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাহাদাতের পর হজরত হুসাইন (রা.)-এর দেহ মোবারকে মোট ৩৩টি বর্শার এবং ৩৪টি তরবারির আঘাত ছাড়াও অসংখ্য তীরের জখমের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। এ ছাড়া তার সঙ্গে মোট ৭২ জনকে হত্যা করেছে ঘাতকরা।

আশুরার দিন বিশ্বের নানাপ্রান্তের মানুষ মহররম মাসকে বিশেষ করে কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করে থাকে। এ দিন অন্যায়, অসত্য ও স্বৈরাচারের কাছে মাথানত না করে হজরত হুসাইন (রা.) সহযোগীদের নিয়ে কারবালার যুদ্ধে শাহাদতবরণ করেন। কারবালার শিক্ষা মুসলমানদেরকে যুগে যুগে অন্যায়, অসত্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উৎসাহ যোগায়। এ কারণেই বলা হয়, ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হার কারবালা কি বাদ।’ অর্থাৎ ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়।

আমরা জানি, আল্লাহতায়ালা মানুষকে খেলাফতের মহান দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। মানুষ আল্লাহর নির্দেশিত পথে নিজে চলবে এবং অন্যদের পরিচালিত করবে এটাই আল্লাহর অভিপ্রায়। মানুষ দুনিয়াতে তার সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহতায়ালা গাইডলাইন তথা পবিত্র কোরআন পাঠিয়েছেন। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমান হিসেবে পরিচিত সবাই সেই জীবন বিধান মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু মানুষ বৈষয়িক বিভিন্ন স্বার্থ ও মানবিক দুর্বলতার কারণে ইসলামের পথ চলা থেকে দূরে চলে যায়। মহররমের শিক্ষা ত্যাগের শিক্ষা। চরম ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকার করেই ইসলামের পথে অটল অবিচল থাকতে হবে।

;

পবিত্র আশুরা আজ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র আশুরা আজ, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র আশুরা আজ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র আশুরা আজ, বুধবার ১০ মহররম। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূণ পরিবেশে নানা-কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

কারবালার ‘শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনাবহুল’ এই দিনটি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহরম মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাদের এই আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ক অনুষ্ঠান পালন করা হবে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র আশুরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যপময় ও শোকের দিন। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণা জোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার। পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা আমাদের সবার জীবনে প্রতিফলিত হোক এ প্রত্যাশা করি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র আশুরার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র আশুরা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত শোকাবহ, তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি দিন। ইসলামের ইতিহাসে এই মর্মন্তুদ বিয়োগান্ত ঘটনা ছাড়াও হিজরি সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ নানা কারণে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। শোকাবহ অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে তিনি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভকামনা জানান এবং অশুভ শক্তি থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা করেন।

;