ফি ফি আইল্যান্ডে মুসলিম স্ট্রিট ফুড জনপ্রিয় যে কারণে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফি ফি আইল্যান্ডের স্ট্রিট ফুড, ছবি : সংগৃহীত

ফি ফি আইল্যান্ডের স্ট্রিট ফুড, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

থাইল্যান্ডের ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণপিপাসুদের একটি পছন্দের গন্তব্য। নীল স্বচ্ছ জলরাশি, স্নরকেলিং এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য দ্বীপটি বিখ্যাত। ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ ছয়টি ছোট ছোট দ্বীপে ফি ফি ডন, ব্যাম্বু দ্বীপ, বিদা নোক, ফি ফি লেই, ইয়াং দ্বীপ এবং বিদা নাই-এর সমন্বয়ে গঠিত। মানুষজন সাধারণত হাফ ডে, ডে ট্রিপ বা প্রাইভেট বোট ভাড়া করে এই দ্বীপগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে।

ফি ফি দ্বীপপুঞ্জে সারা বছর গড় তাপমাত্রা থাকে ২৪ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যটন মৌসুম। দ্বীপটি ছোট হওয়ার কারণে কোনো গণপরিবহনের ব্যবস্থা নেই, তাছাড়া সবকিছুই হাঁটার দূরত্বে। এই দ্বীপে থাই মুসলিম জনগোষ্ঠী বেশি।

দ্বীপটির আয়তন ১২.২৫ কিলোমিটার। প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটক এই ছোট্ট দ্বীপ ভ্রমণ করেন। এখানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে মুসলিম পরিবারের লোকজন হরেক রকম খাবার পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। এই দ্বীপে মুসলিম স্ট্রিট ফুড বেশ জনপ্রিয়।

স্থানীয় আইন এবং ফি ফি আইল্যান্ডে হালাল খাবার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হয়। সেই সঙ্গে খাদ্য প্রস্তুতকারীকে অবশ্যই খাবারের উপাদানগুলোর উত্স হালাল এবং হালাল সার্টিফিকেটপ্রাপ্তদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এমনকি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এগুলো অ-হালাল পণ্য থেকে পৃথক করে বহন করতে হয়। এ ছাড়া খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং ও পরিবহনের সময় পণ্যটি অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং যেকোনো অ-হালাল উপাদান থেকে মুক্ত হওয়া আবশ্যক।

ফি ফি আইল্যান্ডের দ্বীপে মুসলিম স্ট্রিট ফুড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে যেহেতু খাদ্যপণ্যের কঠোর নৈতিক মান বিবেচনা করা হয়, তাই অনেক লোক নিজেরা মুসলিম না হওয়া সত্ত্বেও এসব হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন। তাদের বিশ্বাস, হালাল খাদ্য অনেক স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদান করে। যেহেতু হালাল খাবারে, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই এসব খাবারে খাদ্য দূষণের হার কম।

ফি ফি দ্বীপে মুসলিম স্ট্রিট ফুড জনপ্রিয় হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে পশুদের ভালো যত্ন নেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যকর এবং পরিষ্কার ফিড দিতে হয়। কৃষকরা অ্যান্টিবায়োটিক এবং কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করতে পারেন না। যেসব মুসলিম খাবার তৈরি করেন, তারাও এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করেন।

দ্বীপে কোনো অসুস্থ প্রাণী জবাই করার অনুমতি নেই, তাই রোগমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণীর গোশত ব্যবহার করা হয় খাবার প্রস্তুতের ক্ষেত্রে। ইসলামিক জবাই পদ্ধতিতে, মৃতদেহ থেকে রক্ত সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। হালাল গোশত শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকরই নয়, এর স্বাদও ভালো। কারণ এটি রক্তের অনুপস্থিতির কারণে এটিকে দীর্ঘতর সতেজ রাখে, এটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী করে তোলে।

   

রমজান পরবর্তী জীবন যেভাবে কাটাবেন



মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, অতিথি লেখক, ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আত্মশুদ্ধির মাস রমজান আমাদের বিভিন্ন আঙ্গিকে উত্তম মানুষ হতে অনুপ্রাণিত করে ও কিছু দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেয়। রমজান মাসে দানশীলতা, মহানুভবতা ও আত্মসংযমে আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করি, আর এটাই যৌক্তিক বিষয়। কিন্তু এই বিষয়গুলোকে ঈদ পরবর্তী জীবনেও মেনে চলা উচিত। এটা শুধু একটা মাসের বিষয় নয়। বরং এক মাস পরে আমরা কেমন মানুষ হয়ে উঠি সেটাই বিবেচ্য। এখানে রমজান পরবর্তী জীবনে করণীয় নির্ধারণে সহায়ক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো-

শিশুদের পৃষ্ঠপোষকতা

একজন এতিম, দরিদ্র কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থ হচ্ছে- আর্থিকভাবে তার শিক্ষাগত এবং কখনো কখনো জীবনযাপনের অন্যান্য খরচের দায়ভার গ্রহণ করা। বার্ষিক, অর্ধ-বার্ষিক কিংবা স্বল্প পরিমাণের মাসিক কিস্তিতে তাকে এ টাকা প্রদান করা যেতে পারে।

আত্মসংযম

রমজান মাস আমাদের আত্মসংযম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণকে অনুশীলন করে চলার সংকল্প করুন। খাদ্য এবং অর্থের ব্যাপারে আকাক্সক্ষার চেয়ে প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দান করুন। এই সংযম আপনাকে মৌলিক প্রয়োজনীয়তা পূরণে যাদের পর্যাপ্ত সামর্থ্য নেই, তাদের তুলনায় আপনি কতটা সৌভাগ্যবান তা বুঝতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে নিজের এবং নিজের জীবনের ওপর কীভাবে আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারেন, সে ব্যাপারেও সহযোগিতা করে।

দানশীলতা

কথায় আছে- দান শুরু হয় আপন ঘর থেকে। এটা শুধু এক মাসের জন্য নয় বরং পুরো বছরই ধরে রাখার বিষয়। এটা এমনও নয় যে, শুধুমাত্র যখন আপনার কাছে অতিরিক্ত আছে তখনই দান করবেন। বরং এটা সমস্ত মানবজাতির প্রতি আমাদের এক দায়িত্ব। দান, তা যত ক্ষুদ্রই হোক, নিম্নবিত্তের মানুষকে সাহায্য করার এক বিরাট সুযোগ। রমজান আপনাকে শুধু একটা মাসের জন্য নয়, বরং সারাজীবন ব্যাপী সদয় এবং দানশীল হতে শেখায়।

দায়িত্ব পালন

রমজানের লক্ষ্য হচ্ছে, সবচেয়ে উত্তমভাবে রোজাদারকে পরিণত করা, সেটি কর্মক্ষেত্রে হোক কিংবা নিজের ঘরে হোক। ঈদের পরেও নিজের সেরা হয়ে ওঠার এই সংকল্প জারি রাখুন। যখন রোজা শেষ হয়ে যায়, তখন নিজেকে গঠনমূলক কাজে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার সঙ্গে নিমজ্জিত রাখুন। নিজের কর্মের এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বের ব্যাপারে শতভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ হোন।

মাসে একদিন রোজা

প্রতিমাসে অন্তত একটি দিন রোজা রাখার মাধ্যমে রমজানের চেতনাকে জাগ্রত রাখুন। এটি আপনার শরীর ও মন উভয়কে সতেজ করবে। যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবান অবস্থায় রোজা শেষ করুন। নির্জনে ধ্যান করুন। ইতিবাচক অন্তদর্শনে সময় ব্যয় করুন এবং স্থিরতার সঙ্গে দিন অতিবাহিত করুন। এতে আপনার অন্তর সজীব থাকবে এবং শরীর ও মনের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে।

সহনশীলতা

রমজানের আধ্যাত্মিকতা আমাদের সব কাজের মধ্যেই এক ধরনের ইতিবাচকতার অনুভূতি অল্প অল্প করে ছড়িয়ে দেয়। এমনকি যারা রোজা রাখে না তারাও ইতিবাচক, নমনীয় এবং সহনশীল হয়ে ওঠার একটি প্রচেষ্টা নিজের মধ্যে অনুভব করে। এই প্রচেষ্টাকে ঈদ পরবর্তী সময়েও জারি রাখুন। আপনার চারপাশের ঘটনাপ্রবাহ এবং মানুষজনের প্রতি আরও বিবেচক এবং সহনশীল হয়ে উঠুন।

যত বেশি পারেন, শুনতে ও শিখতে প্রস্তুত থাকুন। যেকোনো চিন্তার ব্যাপারে উদার হোন, এমনকি প্রথম দৃষ্টিতে তা আপনার কাছে কোনো কাজের মনে না হলেও। সহনশীলতা শুধুমাত্র উপলব্ধি এবং নতুন বা ভিন্ন কিছুকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকার মধ্য দিয়েই আসতে পারে।

স্বেচ্ছাসেবা

প্রতি মাসে একবার হলেও স্বেচ্ছাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করুন। আপনার হৃদয়ে যে কাজটি ভালো লাগে তেমন কাজেই অগ্রসর হোন। কীসে আপনি উদ্যমী অনুভব করেন সেই কারণ খুঁজে বের করুন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার আগে সেই সংগঠন সম্পর্কে পর্যাপ্ত খোঁজ খবর নিন।

পরিবার

শুধু রমজান পরবর্তী সময়ে ঈদপালনের জন্য পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার রেওয়াজ পরিত্যাগ করুন। পিতামাতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। সিদ্ধান্ত নিন প্রতি মাসে পরিবারের সঙ্গে নিবিঘ্ন এবং নিয়মিত সময় কাটানোর। এটি আপনার অন্তরে এই অনুভূতি এনে দেবে যে, পরিবারই একান্ত নিজের এবং সবচেয়ে কাছের। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা দেবে, পারিবারিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মানসিক চাপ এবং প্রতিকূলতাগুলো সহজ হয়ে ওঠে যখন আপনার চারপাশে সহযোগী এবং ভালোবাসার মানুষজন থাকে।

;

জেনে নিন শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জেনে নিন শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত

জেনে নিন শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

আল্লাহতায়ালা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তারই ইবাদতের জন্য। এ মর্মে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি জিন ও মানব জাতিকে আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ -সুরা যারিয়াত : ৫৬

ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভে ধন্য হতে পারে। প্রতিটি নেক কাজেই রয়েছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা। সুরা আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ কোনো সৎকাজ করলে সে তার ১০ গুণ সওয়াব পাবে।’ নেক ইবাদতের প্রতিদান প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা যেকোনো নেক আমলই করবে, আমার কাছে তার ১০ গুণ সওয়াব প্রস্তুত আছে।’ -হাদিসে কুদসি

১০ গুণ সওয়াব দেওয়ার এই ওয়াদা দুনিয়ার কোনো মানুষের নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই করা হয়েছে। আর এটিকে কোনো বিশেষ নেকির সঙ্গেও সীমাবদ্ধ করা হয়নি; বরং বলা হয়েছে যেকোনো ধরনের নেকি, হোক তা ফরজ কিংবা নফল। হোক একবার সুবহানাল্লাহ বলা কিংবা আলহামদুলিল্লাহ বলা। তার সওয়াব ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

মহান আল্লাহর একান্ত ইচ্ছা তার প্রত্যেক বান্দা তারই ইবাদত সম্পন্ন করার মাধ্যমে ইহ ও পরকালীন জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে। ইবাদত মূলত দুই প্রকার। ফরজ ইবাদত, যেমন- নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। নফল ইবাদত, যেমন- নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-খয়রাত, নফল রোজা রাখা ইত্যাদি।

মানব জাতি মূলত তখনই মহান আল্লাহর কাছে প্রকৃত সম্মানিত ও প্রিয় হবে, যখন তার প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র তার উদ্দেশ্যে। সুখে-দুঃখে একমাত্র তার ইবাদত করবে, তাকেই ভালোবাসবে। তারই নৈকট্য লাভের চেষ্টায় সর্বদা ব্যস্ত থাকবে। ফরজ ইবাদত সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গে নফল ইবাদতে অধিক মনযোগী হবে। নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে নফল রোজা বান্দাকে অতি সহজেই মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়। কারণ রোজা এমন একটি ইবাদত যা জাহান্নাম থেকে রক্ষার জন্য ঢালস্বরূপ এবং এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দিয়ে থাকেন।

নবী কারিম (সা.)-এর বাণী: কল্যাণকামী মুসলমানরা যেন শুধু রমজানের রোজা রেখেই থেমে না যায়, বরং অল্প কিছু রোজা রেখে পুরো বছরের রোজা রাখার মর্যাদা লাভ করতে পারে তার এক মহাসুযোগ করে দিয়ে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ফরজ রোজা পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়দিন রোজা পালন করল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ -সহিহ মুসলিম

অর্থাৎ একজন ব্যক্তি যখন রমজান মাসের রোজা রেখে তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল, সে এই রোজার কারণে মহান আল্লাহর দরবারে পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সওয়াব পেয়ে গেল। অপর এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে শাওয়াল মাসে ছয়দিন রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য।’ -মুসনাদে আহমদ

বিশ্লেষণ: যদি কোনো ব্যক্তি রমজান মাসের ৩০টি রোজা রাখে, তাহলে তার ১০ গুণ ৩০০ রাত হবে। আর শাওয়ালের ছয় রোজার ১০ গুণ ৬০ হবে। এমনিভাবে সব রোজার সওয়াব মিলে ৩৬০ দিন হয়ে গেল। আর আরবি দিনপঞ্জির হিসাবে ৩৬০ দিনেই তো বছর পূর্ণ হয়।

শিক্ষা: হাদিসদ্বয় থেকে আমরা যে শিক্ষা পেয়ে থাকি তা হলো- শাওয়ালের ছয়টি রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত অবগত হওয়া গেল। ক্ষুদ্র আমল কিন্তু অর্জন বিশাল। বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর সীমাহীন দয়ার বহিঃপ্রকাশ। অল্প আমলেই অধিক প্রতিদান প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতাস্বরূপ এই ছয় রোজার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা মোস্তাহাব, যাতে রোজাগুলো ছুটে না যায়। কোনো ব্যস্ততাই যেন পুণ্য আহরণের এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। নফলসমূহ ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণ করে। অর্থাৎ জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে রোজাদার কর্র্তৃক যে ভুলত্রুটি হয়, নফল রোজা তা দূর করতে সহায়তা করে।

ছয় রোজার উপকারিতা: এ রোজা ফরজ নামাজের পর সুন্নতে মোয়াক্কাদার মতো। যা ফরজ নামাজের অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করে। অনুরূপভাবে শাওয়ালের ছয় রোজা রমজানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দূর করে।

কখন এবং কীভাবে: শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা যাবে মাসের শুরু-শেষ-মাঝামাঝি সব সময়। ধারাবাহিকভাবে কিংবা বিরতি দিয়ে যেভাবেই করা হোক, রোজাদার অবশ্যই এর সওয়াবের অধিকারী হবেন। এ কথা স্মরণ রাখতে হবে, শাওয়ালের ছয় রোজার সঙ্গে রমজানের কাজা রোজা আদায় হবে না। উভয় রোজাই আলাদা আলাদা রাখতে হবে। প্রথমে রমজানের কাজা রোজা রাখতে হবে, তারপর ছয় রোজা রাখবে। যদি পুরো মাসই কাজা রোজায় শেষ হয়ে যায় এবং নফল রোজা রাখার সুযোগ না পাওয়া যায়, তবুও মহান আল্লাহ বান্দার মনের আকাক্সক্ষার কারণে তাকে ওই ছয় রোজার সওয়াব দেবেন বলে আমরা আশা করি। মা-বোনদের এ দিকটি খেয়াল রাখা উচিত যে, প্রাকৃতিক কারণে প্রতি রমজানে তাদের যে রোজাগুলো কাজা হয়ে যায়, উচিত হবে প্রথমে সেই কাজা রোজাগুলো আদায় করা। এরপর শরীর সুস্থ ও সুযোগ থাকলে পূর্ববর্তী বছরের কাজা রোজা আদায় করা। যদি কোনো কাজা রোজা না থাকে, তাহলে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখাই হবে উত্তম। কারণ নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা রাখবে সে যেন পুরোপুরি রাখে। যার ওপর কাজা রয়ে গেছে, তার রোজাগুলো পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না, কেননা সে তার কাজা আদায় করেনি।’ -মুগনি

উল্লেখ্য, শাওয়ালের রোজা হচ্ছে নফল আর রমজানের রোজা হচ্ছে ফরজ। আর রমজানের কাজা রোজা আদায় করাও ফরজ।

শেষ কথা: প্রত্যেক সুস্থ-সবল ব্যক্তির উচিত শাওয়াল মাসের ফজিলতপূর্ণ ছয়টি রোজা রেখে পূর্ণ এক বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব হাসিল করে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভে ধন্য হওয়া। কোনো মুমিন নারী-পুরুষ যদি তার অপর কোনো ভাই-বোনকে এই রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সে যদি তার পরামর্শে রোজা রাখেন, তবে উদ্বুদ্ধকারীও সওয়াব পাবেন। উল্লেখ্য, কেউ নফল রোজা রেখে ভেঙে ফেললে তার কাজা আদায় করা ওয়াজিব।

;

স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টির দিন



মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত, অতিথি লেখক, ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলাম মানবতার ধর্ম। তাই মুসলমানদের সমস্ত আনন্দ উৎসব মানবিক ও সর্বজনীন। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দিনটির সর্বজনীনতা ও ব্যাপকতা এতই বিস্তর যে, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মুসলমানরা এ দিনটি মহা ধুমধামের সঙ্গে উদযাপন করেন। সারা বছর অধীর আগ্রহে বিশ্ব মুসলিম অপেক্ষা করে মহিমান্বিত এ দিনটির জন্য। মুসলিম জাতি তথা অন্যান্য জাতির কাছেও ঈদুল ফিতরের মতো এত ব্যাপক ও আকাঙ্ক্ষিত দিন বা অনুষ্ঠান আর নেই। ঈদুল ফিতর নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এর রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূর প্রসারী ভূমিকা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক সাম্যতা গঠনে ঈদুল ফিতর এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেব অনাদি কাল থেকে চলে আসছে।

ঈদের নির্মল আনন্দে ভেসে যায় মানুষের মনের সমস্ত হিংসা বিদ্বেষ, পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে অন্তরাত্মা। ঈদুল ফিতর সমাজের নিরন্ন অসহায় মানুষগুলোর আর্থিক দৈন্যতা গুচিয়ে ঈদের আনন্দে যাতে শামিল হতে পারে সে ব্যবস্থা করে সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্যতাকে কিছুটা হলেও লাগব করে। ঈদুল ফিতরের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম ও অনবদ্য। মানুষ হিসেবে আমরা প্রত্যেকে সমাজ বা রাষ্ট্রে বসবাস করলেও প্রত্যেকের মতামতের বা চিন্তার ভিন্নতা রয়েছে। ভিন্নতা রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে ভাষার ভিন্নতা যা প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের একে অন্যের প্রতি অনেক সময় বিষিয়ে তুলে এবং পরস্পরকে দূরে ঠেলে দেয় সৃষ্টি হয় সামাজিক সংঘাত। কিন্তু ঈদুল ফিতর আমাদের সারাজীবনের এ সব কলুষতাকে দূর করে, সব ভেদাভেদ ভুলে একত্র করে দেয়।

ঈদের নামাজে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, মালিক-শ্রমিক, শিক্ষক-ছাত্র, সাদা-কালো, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব শ্রেণির-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায় এবং পরস্পর পরস্পরের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে; তখন এক স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টি হয় এবং ঈদগাহ ময়দান হয়ে ওঠে এক অনন্য সামাজিক মিলনমেলা। নামাজ শেষে সবাই মিলে একে অপরের সঙ্গে যখন কোলাকুলি করে জড়িয়ে ধরে তখন সারা বছরের মলিনতা, বৈষম্যতা যেন নিমিষেই ধুয়ে মুছে যায়, যা পৃথিবীতে আর কোনো দিন বা অনুষ্ঠানে বিরল।

পেশাগত কারণে আত্মীয়-স্বজন যারা দেশের বিভিন্নস্থানে থাকেন তারাও ঈদের দিনের একত্র হয় এবং একে অপরের বাড়িতে গিয়ে ভাব বিনিময় করে। এমনও দেখা যায়, কোনো কারণে সারা বছর হয়তো প্রতিবেশির বাড়িতে যাওয়া হয় না বা কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ ছিল অথচ ঈদের দিনে নির্দ্বিধায় পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে নিমিষেই বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করে দিল। এ যে সাম্যের জয়গান তা একমাত্র সম্ভব মহাসাম্যের এই ঈদে। ঈদুল ফিতর মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে, শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করে, আত্মীয়ের বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং সামাজিক সাম্যকে পরিপক্ব ও ব্যাপকতা দান করে।

তাই আসুন, ঈদকে ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনার বাহন হিসেবে এর মর্ম উপলব্ধি পূর্বক সারা মাসের সিয়াম সাধনায় অর্জিত সৎ গুণাবলি এবং ঈদের দিনের পবিত্র, নিষ্কলুষ আনন্দ সবার মধ্যে বিলিয়ে দিই। তাহলে নানা জটিলতায় ভরে থাকা এই সমাজ সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে উঠবে, পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও মজবুত হবে।

;

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের নামাজের পর খুতবা দেওয়া সুন্নত। আর উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য তা শ্রবণ করা ওয়াজিব। মুসল্লিরা মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবেন। -কিতাবুল আসল : ১/৩১৮

জুমার নামাজের ন্যায় ঈদের নামাজেও দুই খুতবা। দুই খুতবার মাঝে বসাও সুন্নত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- সুন্নত হচ্ছে, ইমাম ঈদে দুটি খুতবা দেবে। দুই খুতবার মাঝখানে বসার দ্বারা একটিকে আরেকটি থেকে আলাদা করবে। -সুনানে কুবরা : ৬২১৩

ঈদের খুতবার আগে আজানের কোনো বিধান নেই। খুতবার সময় ইমাম তাকবির বললে মুসল্লিরা চুপ থেকে খুতবা শুনবেন। নিজেরা তাকবির বলবেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব। জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক : ৫৬৪২

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়

ঈদের নামাজে কাজার বিধান নেই। তাই কারও ঈদের নামাজ ছুটে গেলে সে আশপাশের অন্যকোনো ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটি সম্ভব না হলে তওবা-ইস্তেগফার করবে। -শরহু মুখতাসারিত তাহাবি : ২/১৬১

ঈদের নামাজের আগে-পরে নফল পড়া

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন দুই রাকাত ঈদের নামাজ পড়ছেন। ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো নামাজ পড়েননি। -সহিহ বোখারি : ৯৬৪

এ জাতীয় হাদিসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, ঈদের নামাজের আগে বাড়িতে বা ঈদগাহে/মসজিদে পুরুষ মহিলা সকলের জন্যই নফল নামাজ পড়া মাকরূহ। তাই এসময় কেউ ইশরাক বা অন্য কোনো নফল নামাজ পড়বে না। -কিতাবুল আসল : ১/৩২৮

;