ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া বার্বাডোসের মুসলিমদের সাফল্য



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বার্বাডোসে জামে মসজিদ, ছবি : সংগৃহীত

বার্বাডোসে জামে মসজিদ, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বার্বাডোস। ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১১তম দেশ হিসেবে তারা এ স্বীকৃতি দিয়েছে। এ নিয়ে জাতিসঙ্ঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪০টি এখন ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

বার্বাডোসের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী কেরি সিমন্ডস জানান, দেশটির মন্ত্রিসভা মনে করে যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এসেছে। বার্বাডোস সর্বদা জাতিসঙ্ঘের নীতি মেনে চলে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, চলমান সংঘাত নিরসনে একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান হওয়া উচিত। আমরা মুখে একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান দেখতে চাওয়ার কথা বললেও হাস্যকরভাবে বার্বাডোস নিজেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। আমরা যদি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেই তবে আমরা কিভাবে বলতে পারি যে, আমরা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান চাই?’

বার্বাডোসের নীতির আলোকেই ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান কেরি সিমন্ডস। তবে সিদ্ধান্তটি দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে বার্বাডোসের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য একে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রত্ন বলা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ব্রিজটাউন দেশটির বৃহত্তম শহর, প্রধান বন্দর ও রাজধানী।

বার্বাডোসের মোট আয়তন ৪৩৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে মোট জনসংখ্যা দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮০০। বার্বাডোসের বেশির মানুষ খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী। দেশটিতে চার হাজার মুসলমান রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৫ শতাংশ। তবে দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

বার্বাডোস প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশ ছিল। ১৯৬৬ সালে দেশটি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্য দ্বীপগুলোর মতো বার্বাডোসেও ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল আফ্রিকান দাসদের মাধ্যমে। ঔপনিবেশিক শাসকরা ক্যারিবীয় অঞ্চলের কৃষি খামার ও খনিতে কাজ করতে বিপুল পরিমাণ দাস আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বন্দি করে নিয়ে এসেছিল। ধারণা করা হয়, তাদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মুসলিম ছিল।

কিন্তু ইসলামচর্চায় কঠোর বিধি-নিষেধ এবং ধর্মান্তরে বাধ্য করায় তারা মুসলিম পরিচয় রক্ষা করতে পারেনি। তবে বার্বাডোসে খ্রিস্টীয় ১৭ শতক পর্যন্ত মুসলমানদের অস্তিত্ব ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

ঈদের নামাজ আদায় করছেন বার্বাডোসের মুসলমানরা, ছবি : সংগৃহীত

বার্বাডোসে ইসলামের নবযাত্রা শুরু হয় একজন মুসলিম বাঙালি মুসলমানের মাধ্যমে। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছিলেন। ব্যবসায়ী বিশারত আলী দেওয়ান ১৯১০ সালে বার্বাডোসে যান এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই স্থায়ী হন। বিশারত আলীর পথ অনুসরণ করে বার্বাডোসে আসেন রুহুল আমিন, আবদুল গফুর ও নাসরুল হক। তারা সবাই বাঙালি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কিছু গুজরাটি মুসলিম ব্যবসায়ীও বার্বাডোসে যান। বাঙালি ও গুজরাটি এসব মুসলমানদের বংশধররা এখনো বার্বাডোসে বসবাস করেন।

বাঙালি মুসলিম বিশারত আলী ও তার পরিবার বার্বাডোসে ইসলাম প্রচার, মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তাদের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় দেশটির প্রথম মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।

গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে যখন বার্বাডোসে ‘জামে মসজিদ’ নামে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন প্রথম আজান দিয়েছিলেন বিশারত আলীর নাতি আকরাম আলী।

১৯১০ সালে বাঙালি মুসলমানদের মাধ্যমে বার্বাডোসে ইসলামের নতুন যাত্রা শুরু হয়। মূলত বার্বাডোসে ইসলামি শিক্ষার বিস্তার ঘটে গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে। ১৯৪৭ সালে হাফেজ মাওলানা আহমদ দাউদ পাণ্ডুর (রহ.) বার্বাডোসে গমন করেন। তিনি ছিলেন গুজরাটের ডাভেল মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং উপমহাদেশের বিখ্যাত তাফসিরবিদ মাওলানা আহমদ আলী লাহোরি (রহ.)-এর শিষ্য। তিনিই বার্বাডোসে প্রথম স্থায়ী মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন বাঙালি ও গুজরাটি মুসলিম ব্যবসায়ীরা। ১৯৫২ সালে মাওলানা দাউদ পাণ্ডুর (রহ.)-এর উদ্যোগেই বার্বাডোসের প্রথম মাদরাসা ‘কুওয়াতুল ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালে ব্রাদার দাউদুল হক আধুনিক ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র ‘দি ইসলামিক টিচিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৬ সালে মাওলানা ইউসুফ পাপরিওয়ালা জামে মসজিদের ইমাম ও কুওয়াতুল ইসলাম মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে বার্বাডোসে আসেন। বয়সে তরুণ এই আলেম বার্বাডোসে দাওয়াত ও তাবলিগের প্রসার, দ্বিনি শিক্ষার বিস্তার ও আধুনিকায়ন এবং মুসলমানদের সংঘবদ্ধ করতে অনবদ্য অবদান রাখেন।

বার্বাডোসে মুসলমানরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের সুযোগ পায়। বর্তমানে দেশটিতে পাঁচটি মসজিদ, একাধিক মুসল্লা (নাজামের স্থান), ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র ও সংগঠন রয়েছে।

   

নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী হজপালনে বঞ্চিত হবেন না



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, বার্তা২৪.কম
হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: বার্তা২৪.কম

হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের একাংশ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী হজপালনে বঞ্চিত হবেন না বলে আশাবাদী বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।

ভিসা না হওয়া হজযাত্রীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, চলতি হজ মৌসুমে নিবন্ধিত সবার ভিসা হবে বলে আমি আশাবাদী। কয়েকটি এজেন্সির হজযাত্রী নিয়ে জটিলতা হচ্ছে, তার অর্ধেকই ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। বাকি কাজ সমাধানের পথে।

জিলহজ মাসে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে ৯ মে শুরু হওয়া হজফ্লাইট শেষ হবে ১০ জুন। এই সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজপালনে সৌদি আরব যাবেন ৮৫ হাজার ১১৭ জন। ইতোমধ্যে ২৮ হাজার ৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। ৮২ হাজার ১০০ জনের ভিসা ভিসা হয়েছে। এখনও বেসরকারিভাবে নিবন্ধিত ৩ হাজার ৩৩৬ জনের ভিসা হয়নি।

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, পরিচালক, হজ অফিস, ছবি: বার্তা২৪.কম

জানা গেছে, যথাসময়ে ভিসার আবেদন না করায় ওয়ার্ল্ডলিঙ্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (লাইসেন্স ৫৭০, যাত্রী সংখ্যা ২৮৬), আনসারি ওভারসিস (লাইসেন্স ৬০১, যাত্রী সংখ্যা ২৬০), আল রিসান ট্রাভেল এজেন্সি (লাইসেন্স ৬৭২, যাত্রী সংখ্যা ৪৪৪), মিকাত ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস (লাইসেন্স ১০২৫, যাত্রী সংখ্যা ৩৭৫), নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (লাইসেন্স ১০৮৬, যাত্রী সংখ্যা ২৬০), হলি দারুন নাজাত হজ ওভারসিস (লাইসেন্স ১৪৬২, যাত্রী সংখ্যা ২৫০) কে ধর্ম মন্ত্রণালয় শোকজ করে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে ১ হাজার ৮৭৫ জনের চলতি বছর হজে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আর আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কারও ভিসা না করায় বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম মিয়ার দেশত্যাগ স্থগিত ও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ এজেন্সির মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সিসহ অভিযুক্ত এজেন্সির মালিকদের নিয়ে আমরা বসে, পয়েন্ট পয়েন্ট ধরে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে হলি দারুন নাজাত হজ ওভারসিস, ওয়ার্ল্ডলিঙ্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং মিকাত ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদেরও হয়ে যাবে। নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী হজপালন থেকে বঞ্চিত হবেন না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমন আশাবাদী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাব সভাপতি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব অংশে যে পরিমাণ অর্থ প্রেরণ করা দরকার এজেন্সিগুলো তা পাঠিয়েছে। আর যতটুকু সমস্যা রয়েছে, আশা করি তা সমাধান করা যাবে।

এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, ছবি: বার্তা২৪.কম

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি এবার হজে কোনো লোক পাঠাইনি। আকবর হজ গ্রুপের মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী তার লাইসেন্সে সমস্যা হওয়ায় আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে ৪৪৮ জন হজযাত্রী পাঠাচ্ছে। চলতি সমস্যা নিয়ে হাব সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে মুফতি লুৎফর রহমান সৌদি থেকে ফোনে কথা বলেছেন, তিনি আশ্বস্থ করেছেন; আজকালের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জনের ভিসা হয়ে যাবে। আর আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে সবার ভিসা হয়ে যাবে। তিনি মদিনার বাড়ি ভাড়া করেছেন, মক্কার বাড়িও ভাড়া হওয়ার পথে।’

;

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগমুহূর্তে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করলেন বাবা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আল হুমাইদি আল হারবি, ছবি: সংগৃহীত

আল হুমাইদি আল হারবি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মৃত্যদণ্ড কার্যকরের আগ মুহূর্তে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে দিলেন বাবা। শেষ সময়ে জন্মদাদা বাবার এমন উদারতা দেখে উপস্থিত কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরবে। খবর গালফ নিউজের।

আল হুমাইদি আল হারবি নামের ওই বাবা হঠাৎ করে দণ্ড কার্যকরের স্থানে যান। সেখানে গিয়ে ঘোষণা দেন, ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি। ওই হত্যাকারীর দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়ার আগে আল হুমাইদি আল হারবির কাছে একাধিকবার গিয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তারা।

কিন্তু ওই সময় তিনি ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে চাননি। কিন্তু পরে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। নিজ ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করার একমাত্র অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন ওই বাবা। সে অনুযায়ী, বিনা শর্তে তিনি হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন। এতে করে সেখানে থাকা সবাই বেশ অবাক হন।

আল হারবি জানিয়েছেন, ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও প্রথমে হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে চাননি। কিন্তু পরে নিজের মন পরিবর্তন করেন। ছেলের হত্যারকারীকে ক্ষমা করা ওই বাবার এমন উদারতার প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা এটিকে ক্ষমার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

খবরে প্রকাশ, নিজ গোত্রের প্রতিবেশীর বন্ধুর ছেলের হাতে তার ছেলে খুন হন। দেশটির আইন অনুযায়ী বিচার শেষে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। সৌদি আরবের আইনে রক্তপণ নিয়ে কিংবা অভিভাবক হিসেবে খুনিকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

সে হিসেবে তিনি ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক আজও আগের মতো।’

তার স্পষ্ট কথা, আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছি। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমার কথা বললেও তার পরিবার ক্ষমা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমাদের সম্পর্ক গত ছয় দশকের মতোই আজও আছে। ছেলের খুনের পর যেমন ছিল, এখনও সম্পর্ক তেমনি আছে।

হত্যাকারীর বাবা আবদুল মাজিদ আল হারবি বলেন, আমি নিহতের বাবাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা করি এবং সম্মান করি, তিনি আমার ভাইয়ের চেয়েও বেশি।

;

সৌদিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে মো. আসাদুজ্জামান নামের এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এটিই এবারের হজে প্রথম কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু।

শনিবার (১৮ মে) হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, ১৫ মে আসাদুজ্জামান মদিনায় মসজিদে নববীতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পরেন। পরে তাকে কিং সালমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ৭ নম্বর মাসকা ইউনিয়নের সাতাশী গ্রামের বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামান।

এদিকে শুক্রবার (১৭ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ২৭ হাজার ১১১ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। অন্যদিকে এখনো ৪ হাজার ২৫৬ জন হজযাত্রীর ভিসা হয়নি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয় গত ৯ মে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত যাওয়ার ফ্লাইট চলবে। হজ শেষে ২০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই।

;

সৌদি পৌঁছেছেন ২৪ হাজার ২৩৬ হজযাত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ থেকে চলতি মৌসুমে হজ পালন করতে ২৪ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ২০ হাজার ৪৮৯ জন। এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৯০১টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ মে) হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২১টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

হেল্পডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য মতে, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় গত ৯ মে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত যাওয়ার ফ্লাইট চলবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজ শেষে ২০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। এবার সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে মোট ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজ করতে যাবেন।

দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত এবার হজ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এজেন্সির সংখ্যা ২৫৯টি।

;