হারাম কারবারিদের এখনই রুখতে হবে



শাহীন হাসনাত
অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে অনেকে, ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে অনেকে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইনে জুয়া মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র এই জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত খেলা, বিশেষ করে ক্রিকেট ও ফুটবলকে কেন্দ্র করে জুয়ার রমরমা কারবার গড়ে উঠেছে। অর্থ কিংবা পণ্যের বিনিময়ে প্রতিযোগিতা, লটারি, যেকোনো আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা ইত্যাদি এ জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।

সহযোগী কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে, অনলাইনে শত শত জুয়ার সাইট রয়েছে। অনলাইনে জুয়ায় যারা আকৃষ্ট, তাদের মধ্যে শিশু-কিশোর ও তরুণরাই প্রধান। এই অপরাধ ও অপকর্মে তাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জুয়ার সাইটগুলোতে জুয়ায় আকৃষ্ট করার জন্য আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের কিছু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং সামাজিক মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হতে দেখা যাচ্ছে। নন্দিত ক্রীড়াবিদ, ক্রিকেটার, বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিজ্ঞাপনে অংশ দিতে দেখা যাচ্ছে।

আমরা জানি, ক্রীড়া ও রূপালিজগতের মানুষেরা নানাভাবে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট ও প্রভাবিত করে। এ জন্য পণ্যাদির মতো জুয়ার বিজ্ঞাপনেও তাদের ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের বিজ্ঞাপন যারা তৈরি করে, প্রচার করে তাদেরও সাবধান হওয়া দরকার। তারা যে একটা গুরুতর অপরাধে সহযোগীর ভূমিকা পালন করছেন, সেটা তাদের উপলব্ধি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি আমলে নিতে হবে। যেকোনো মাধ্যম- তা টিভি চ্যানেলই হোক বা সামাজিক মাধ্যমই হোক জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে। যারা এর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত হবে বা থাকবে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে অনেকে। জুয়ার অর্থ যোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। অর্থাভাব, পারিবারিক অশান্তি, মারামারি, হানাহানি এমন কি প্রাণহানির ঘটনাও বিরল নয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের শিশু-কিশোর ও তরুণরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যারা জাতির আগামীর কাণ্ডারি হিসাবে পরিগণিত, তারা যদি মাদক কিংবা জুয়ায় ডুবে যায়, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও অন্ধকারময় হতে বাধ্য।

উল্লেখ করা আবশ্যক, দেশময় মাদকের আগ্রাসনে সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থায় পতিত হয়েছে শিশু-কিশোর ও তরুণরা। এদের মাদক ও জুয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের দেশে যেকোনো ধরনের জুয়া আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও গোপনে-প্রকাশ্যে নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন রয়েছে। এখন জুয়ার ক্ষেত্র ও মাধ্যম পরিবর্তিত হয়ে অনলাইনে ভর করেছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়, এটা বন্ধ করা অতীব জরুরি। তাদের দৌরাত্ম্য এখনই রুখতে হবে।

আরেকটি কথা, দেশে ই-কমার্সের বিকাশ ঘটছে। বর্তমানে ই-কমার্স মার্কেটের আকার ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সাল নাগাদ তা ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। দ্রুত সম্প্রসারণমুখী এ খাতের কতিপয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও প্রতারণার কথাও সবারই জানা। ই-ভ্যালি, আলেশা মার্ট প্রভৃতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, প্রতারণা করা ও বিদেশে অর্থপাচার করার অভিযোগ উঠেছে। কাউকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ই-কমার্স মার্কেটের বিস্তার ও বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ ও উদাহরণ নিশ্চিতভাবেই হুমকিস্বরূপ। অনলাইনে ব্যবসার নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা অনলাইনে জুয়ার সাইট খুলে অর্থ লোপাট একই ধরনের অপরাধ। এ অপরাধ রোধ করতে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তেমনি অপরাধীদের উচিত শাস্তিও হওয়া দরকার।

জুয়া নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে জুয়াকে অন্যতম ঘৃণ্য ও শয়তানের কাজ বলে ঘোষণা করেছেন। সুতরাং জুয়ার পক্ষে বলার কিছু নেই। ই-কমার্সে গ্রাহক ঠকানোর কোনো এখতিয়ারও কারো নেই। এজন্য উপযুক্ত আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে না।

অনলাইনে জুয়া বন্ধের ব্যাপারে উপযুক্ত আইন নেই বলে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বলে থাকে। প্রশ্ন হলো, যেকোনো ধরনের জুয়া যেহেতু আইনে নিষিদ্ধ, কাজেই অনলাইন জুয়াও নিষিদ্ধ। সাধারণ জুয়ার আইনেই অনলাইন জুয়ার বিচার হতে পারে। অনলাইন জুয়ার হোতা ও জুয়াড়িদের গ্রেফতার ও বিচারে ‘আইন নেই’, এই অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী পুলিশ নানা সময় বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারে যে ধরনের ‘দায়িত্ববোধ ও পারঙ্গমতা’র পরিচয় দিয়ে থাকে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্তদের পাকড়াও করতে সেই দায়িত্ববোধ ও পারঙ্গমতা কোথায় থাকে? এ ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট কথা, অনলাইনে জুয়া বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন আরো কঠোর বা আলাদা আইন করতে হবে।

জুয়া থেকে এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। জুয়া বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ার একটা বড় কারণ লোভ। অস্বাভাবিক অর্থ লোভের ফলেই একজন ব্যক্তি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বা জুয়ার সাইটের কবলে পতিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত, প্রতারিত ও বঞ্চিত হয়। অতএব, যেকোনো ব্যক্তিকে লোভ সংবরণ করতে হবে।

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন এভাবে, ‘আদম সন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকে, তাহলে সে কামনা করে- তার যদি আরেকটি উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো! মাটি ছাড়া (মৃত্যু) কোনো কিছুই তার মুখ পূর্ণ করতে পারবে না!’ -জামে তিরমিজি : ২৩৩৭

লেখক : শিক্ষক ও কলাম লেখক। 

ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলমানদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রমবর্ধমান ইসলামফোবিয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো দেশটির মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন মুসলিম নারী। শাবানা মাহমুদ নামের ওই মন্ত্রী পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন।

এ ছাড়া আরও দুই মুসলিম নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের অন্যতম হলেন- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। তিনি গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের ‘সিটি মিনিস্টার’ হন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ।

মুসলিম নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে ২০১৯ সালে ১৯ জন এমপি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ২৫ জন মুসলিম নির্বাচিত হয়েছে। ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম এমপি এবারই নির্বাচিত হলেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে ১৮ জন লেবার পার্টির, চারজন স্বতন্ত্র, দুজন কনজারভেটিভ পার্টির এবং একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের।

মুসলিম নেটওয়ার্কের দাবি, গাজার প্রতি মুসলিম ভোটারদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। ফলে চারজন মুসলিমসহ পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।

তারা মোট ৬৫০ এমপির প্রায় ৪ শতাংশ। তবে মুসলিমরা যেহেতু ব্রিটেনের জনসংখ্যার ৬.৫ শতাংশ, তাই হাউস অফ কমন্সে মুসলিমদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও ১৭ জন এমপি দরকার।

নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে ব্রিটেনের ইসলামি মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মাসুদ শাজারেহ বলেছেন, ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলমানরা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটেনে বেশি সংখ্যায় মুসলমানদের যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয় প্রায় এক শতাব্দী আগে। বর্তমানে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

মাসুদ শাজারেহ সম্প্রতি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম ভোটের প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয়েছে মুসলমানরা। এটাকে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহারের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মুসলমানদের অসন্তোষের কারণে ব্রিটিশ লেবার পার্টি কয়েকটি আসন হারিয়েছে। এই প্রভাব ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ব্রিটিশ মুসলিম কাউন্সিলের মতো আরও সংগঠন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের সংগঠনের উপস্থিতি মুসলমানদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে তা মানুষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

গত ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে লেবার পার্টি পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তবে গাজায় নির্বিচার গণহত্যার ব্যাপারে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল মুসলমানেরা। তারা নির্বাচনে নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ব্রিটিশ জনগণ দেশটির খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দখলদার ইসরায়েলের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সরকারের সমর্থনের প্রতিবাদে ভোট দিয়েছে। এর অর্থ হলো, লেবার পার্টি বিজয় পেলেও সেটা তার নিজের নীতির কারণে পায়নি বরং বিরোধী দলের অপছন্দনীয় কিছু কাজ ও নীতির কারণে মানুষ বিদ্যমান বিকল্প ধারাটিকে বেছে নিয়েছে।

;

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে যারা অংশ নিলেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পবিত্র দুই মসজিদের সেবক ও সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের পক্ষ থেকে মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ এবার পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সকালে কাবা শরিফ ধোয়া হয়েছে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, মক্কার ডেপুটি গভর্নর মসজিদে হারামে পৌঁছলে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মসজিদে হারামের পরিচালনা পরিষদের প্রেসিডেন্ট শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

এবার কাবা শরিফ ধোয়ার কাজে অংশ নেন মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ, সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া, হারামাইন পরিচালনা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ইসা, কাবার চাবি রক্ষক শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শায়বি, মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ অনেকেই।

জমজমের পানি ও গোলাপজল মিশ্রিত বিশেষ পানি দিয়ে কাবা শরিফ ধৌত করার পর ভেজানো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা হয়।

কাবা শরিফের ভেতরের দেয়ালগুলো সবুজ ভেলভেটের পর্দা দিয়ে আবৃত। ওইসব পর্দা প্রতি তিন বছর পর পর পরিবর্তন করা হয়। এর ছাদে ১২৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও ১০৪ সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। যা দিয়ে ভেতরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে।

এটি একটি কাচ দিয়ে ঢাকা। প্রতিবছর কাবা শরিফের ভেতর ধৌত করার সময় এ কাচ খোলা হয়। এবারও কাচটি খোলা হয়েছিল।

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজ শেষে বেরিয়ে আসছেন মক্কার গভর্নরসহ অন্যরা, ছবি: সংগৃহীত

মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার ঐতিহ্য চলে আসছে। অষ্টম হিজরিতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবাঘর ধৌত করেন। ইসলামের সম্মানিত খলিফারাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের পর থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রথা চালু রয়েছে। আগে বছরে দুবার পবিত্র কাবা ঘর ধোয়া হতো। প্রথমবার মহররম মাসে, দ্বিতীয়বার রমজান মাস শুরুর আগে।

ধোয়ার সময় পবিত্র কাবাকে ঘিরে রাখে স্পেশাল ইমারর্জেন্সি ফোর্স ও হজ সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। তখন দূর দিয়ে তাওয়াফ করেন মুসল্লিরা।

পবিত্র কাবা ধোয়ার পর এ কাজে নিয়োজিতরা হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন শেষে কাবা তাওয়াফ ও মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ আদায় করেন।

পবিত্র কাবা ধোয়াকে সৌদি সরকার সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা একটা উৎসবও বটে। উপস্থিত তাওয়াফকারীরা এ সময় আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

;

ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

  • Font increase
  • Font Decrease

আশুরার দিবসের একটি বিশেষ দিক আছে। মানুষের অজ্ঞতা কিংবা উদাসীনতার ধরুন অনেক সময় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। দিকটি হলো, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।

হাদিস শরিফ ও ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব ধর্মের লোকেরা আশুরাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ইহুদিরা এই দিনে রোজা রেখে হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করে। এ ছাড়া খ্রিস্টানরাও এই দিনকে মর্যাদার চোখে দেখে। খ্রিস্টানরা আশুরার দিনকে হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন মনে করে।

মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) জায়দ আম্মি থেকে বর্ণনা করেন, ‘ঈসা ইবনে মারয়াম আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।’ তবে আল্লামা জাহাবি (রহ.) বলেন, এ বর্ণনার সনদ দুর্বল। -হাকেম : ৪১৫৫

অন্যদিকে মূর্তি পূজারি আরবদেরও দেখা গেছে যে তারা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিত। জাহেলি যুগে মক্কার কাফেররা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখত। সেদিন ছিল কাবাকে গিলাফ পরিধান করার দিন। যখন আল্লাহতায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যারা রোজা রাখতে চায়, তারা রোজা রাখবে, আর যারা ছেড়ে দিতে চায়, তারা যেন ছেড়ে দেয়। -সহিহ বোখারি : ১৫৯২

এসব বর্ণনার আলোকে বোঝা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক। সুতরাং বলা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

আশুরার দিনে আমল হিসেবে তিনটি কাজ করা যায়। প্রথমত, রোজা রাখা। এ আমলটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরা উপলক্ষে দুই দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব। মহররমের ১০ তারিখের আগে বা পরে এক দিন বাড়িয়ে রোজা রাখার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয়ত, আরেকটি আমল বর্ণনা সূত্রে দুর্বল হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তা হলো, আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবে, সে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ -বায়হাকি : ৩৭৯৫

এ হাদিসের বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা আছে। তবে ইবনে হিব্বানের মতে, এটি ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের হাদিস। ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর দাবি, রিজিকে প্রশস্ততার ব্যাপারে কোনো হাদিস নেই। এটি ধারণাপ্রসূত। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ হাদিস নয়। তবে এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা থাকার কারণে ‘হাসান’ হওয়া অস্বীকার করা যাবে না। আর ‘হাসান লিগাইরিহি’ পর্যায়ের হাদিস দ্বারা আমল করা যায়। -আস সওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রফজি ওয়াদ দালাল ওয়াজ জানদিকা : ২/৫৩৬

তৃতীয়ত, আরেকটি আমল যুক্তিভিত্তিক প্রমাণিত। তা হলো, আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের শাহাদাতের কারণে তাদের জন্য দোয়া করা, দরুদ পড়া ও তাদের কাছ থেকে সত্যের ওপর অটল থাকার শিক্ষা গ্রহণ করা। এই তিনটি কাজ ছাড়া আশুরায় অন্যকোনো আমল নেই।

স্মরণ রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে। প্রাক-ইসলামি যুগেও মহররমের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের অসংখ্য কালজয়ী ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুণ্যময় এ মাস। আর কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ায় পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রচিত হয়েছে শোকাভিভূত এক নতুন অধ্যায়। কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনাই আশুরার একমাত্র ও আসল প্রেরণার উৎস নয়। বরং সৃষ্টির আদি থেকে চলে আসা সত্যাশ্রয়ী মহামানবদের দ্বারা লালিত সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে যুক্ত যবনিকা বলা যেতে পারে এ ঘটনাকে।

;

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য বিশেষ কিছু সময় ও মৌসুম দিয়েছেন, যে সময়ে বান্দা অধিক ইবাদত-বন্দেগি ও ভালো কাজ করে সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুমিনের জন্য এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। অতীতে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় গোনাহসমূহ মার্জনা করানোর সুবর্ণ সুযোগ বটে। এই বরকতময় সময়ের মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, ‘মহররম ও আশুরা’।

এক সাহাবি নবী কারিম (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে বলেন? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররমে রোজা রাখো। কেননা মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন এক দিন আছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন। -জামে তিরমিজি : ৭৪১

আলেমদের অভিমত হলো, এই হাদিসে যে দিনের দিকে ইশারা করা হয়েছে- খুব সম্ভব সেটি আশুরার দিন।

ইসলামের বিধানে তওবা-ইস্তেগফার যেকোনো সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে কিছু কিছু সময় এমন রয়েছে, যখন তওবার পরিবেশ বেশি অনুকূল হয়। বান্দার উচিত সেই প্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোর কদর করা। মহররমের এ মাসটি, বিশেষ করে ১০ তারিখ- এমনই এক মোক্ষম সময়। এদিনে তওবা কবুল হওয়া, নিরাপত্তা এবং অদৃশ্য সাহায্য লাভ করার কথাও রয়েছে। এ জন্য এ সময়ে এমন সব আমলের প্রতি মনোনিবেশ করা উচিত, যাতে আল্লাহর রহমত বান্দার দিকে আরও বেশি ধাবিত হয়।

তওবা-ইস্তেগফারের জন্য সবথেকে উত্তম হলো, কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত ইস্তেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে মুখস্থ করা। সেই দোয়াগুলোর মাধ্যমে রাব্বে কারিমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তবে নিজের ভাষায় নিজের মতো করে ইস্তেগফার করলেও ঠিক আছে। কারণ আল্লাহতায়ালা সব ভাষারই স্রষ্টা। তিনি সবার কথা বুঝেন। সবার আরজি কবুল করেন।

;