নবী করিম সা.-এর জন্মের তারিখ নিয়ে আলোচনা

ইসলাম ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
হলুদ বাড়িটিতে নবী করিম সা.-এর জন্মস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যদিও বর্তমান সৌদি কর্তৃপক্ষ এটা মানতে নারাজ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হলুদ বাড়িটিতে নবী করিম সা.-এর জন্মস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যদিও বর্তমান সৌদি কর্তৃপক্ষ এটা মানতে নারাজ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রবিউল আউয়াল মাসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেন। অবশেষে দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে পৃথিবীতে আল্লাহর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে তিনি এ দুনিয়া ছেড়ে আল্লাহর কাছে চলে যান। আমাদের জন্য রেখে যান আল্লাহর দেওয়া পবিত্র কোরআন ও তার জীবনাদর্শ।

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বের নবী ও রাসূলগণ একটি জাতি কিংবা নির্দিষ্ট কিছু জনপদের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু হজরত মুহাম্মদকে (সা.) সমগ্র মানব জাতির মুক্তির দূত হিসেবে এই পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালা প্রেরণ করেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি মুহাম্মদকে (সা.) প্রেরণ করেছি সমগ্র জাতির জন্য রহমতস্বরূপ।’ সে হিসেবে নবী করিম (সা.) রহমতের নবী। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তার জন্মও হয়েছে অলৌকিকভাবে। তার জন্মে গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যার স্মরণ সব জাতি, সব যুগে করেছে। কিন্তু কবে এই মহামানব জন্মগ্রহণ করেছেন, তা নিয়ে সব আলোচনা রবিউল আউয়াল মাস ঘিরেই হয়ে থাকে।


রবিউল আউয়াল মাসে নবী করিম (সা.)-এর জীবনালেখ্য, আদর্শ, অনুসরণ ও অনুকরণসহ নবী জীবনের নানাদিক নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-এ থাকবে নিয়মিত সীরাত বিষয়ক লেখা।


রবিউল আউয়াল মাস যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ১২ রবিউল আউয়াল তারিখটিও ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত। বিশেষত দুটি কারণে ১২ রবিউল আউয়াল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

প্রথমত, সব ইতিহাসবিদের ঐকমত্য বর্ণনা মতে, এই দিনেই নবী করিম (সা.) পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী ১২ রবিউল আউয়ালেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন।

খ্রিস্টীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে নবী করিম (সা.) ভূমিষ্ঠ হন। তার জন্ম তারিখ ২০ এপ্রিল। আরবি হিজরি সন অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন, রবিউল আউয়ালের ৮ তারিখ নবী করিম (সা.) জন্মগ্রহণ করেছেন। বেশিরভাগ হাদিসবিশারদ একে বিশুদ্ধ বলেছেন।

নবী করিম (সা.)-এর জীবনীকারদের মধ্যে ইবনে ইসহাক প্রথম সারির জীবনীকার। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) হাতিবাহিনীর ঘটনার বছর ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। -সিরাতে ইবনে হিশাম: ১/১৫৮

আধুনিক যুগে সিরাত বিষয়ে ‘আর রাহিকুল মাকতুম’ নামক গ্রন্থটির বেশ আলোচনা আছে। সেই গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘সাইয়্যিদুল মুরসালিন মক্কায় বনি হাশিমের ঘাঁটিতে সোমবার সকালে ৯ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর হাতির ঘটনা ঘটে। সে বছর পারস্য দেশের বাদশাহ আনু শিরোয়ার ক্ষমতা গ্রহণের ৪০ বছর পূর্ণ হয়। -আর রাহিকুল মাকতুম: ১/৪৫

তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন প্রণেতা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) নবী করিম (সা.)-এর জন্ম তারিখ সম্পর্কে আরও কিছু অভিমত উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এ বিষয়ে সবাই একমত যে নবী করিম (সা.)-এর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন হয়েছিল। কিন্তু তারিখ নির্ধারণে চারটি বর্ণনা প্রসিদ্ধ আছে- ২, ৮, ১০ ও ১২ রবিউল আউয়াল। এর মধ্যে হাফিজ মুগলতাই (রহ.) ২ তারিখের বর্ণনাকে গ্রহণ করে অন্য বর্ণনাগুলোকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ বর্ণনা হচ্ছে ১২ তারিখের বর্ণনা। ‘তারিখে ইবনে আছির’ গ্রন্থে এ তারিখই গ্রহণ করা হয়েছে।

গবেষক মাহমুদ পাশা জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে ৯ তারিখ গ্রহণ করেছেন। এটি সবার মতের বিপরীত ও সূত্রবিহীন উক্তি। যেহেতু চাঁদ উদয়ের স্থান বিভিন্ন, তাই গণনার ওপর এতটুকু বিশ্বাস ও নির্ভরতা জন্মায় না যে তার ওপর ভিত্তি করে সবার বিরোধিতা করা যাবে। -সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া: ১৭

নবী করিম (সা.)-এর জন্ম তারিখ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দিন হিসেবে সোমবার সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই। কারণ জীবনচরিতকাররা একমত যে রবিউল আউয়াল মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে সোমবার দিন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম। এই সোমবার ৮ অথবা ৯ কিংবা ১২—এটুকুতেই হিসাবের পার্থক্য রয়েছে মাত্র। -ইসলামী বিশ্বকোষ

আপনার মতামত লিখুন :