মানুষের চোখের পানি আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়

ইসলাম ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মানুষের চোখের পানি আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়, ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চোখের পানি আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইহকাল ও পরকাল নিয়ে মানব জীবন অবর্তিত। ইহকাল তথা দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী আর আখেরাতের জীবন স্থায়ী অর্থাৎ অনন্তকালব্যাপী। তাই আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, মানব জীবনের ইহলৌকিক পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু বা পরলোকে গমন।

পরকালে আল্লাহতায়ালার কাছে দুনিয়ার জীবনে আমরা যে যা করে যাবো, তার চুলচেরা হিসাব দিতে হবে। আমরা এখন আমোদ-প্রমোদ, সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসে বিভোর হয়ে দুনিয়ায় জীবন অতিবাহিত করছি। সে তুলনায় আসল যে জায়গায় আমাদের অনন্তকাল থাকতে হবে, সেই আখেরাতের জীবন নিয়ে কে কতোটা ভাবছি?

অথচ একজন সত্যিকারের নেক বান্দার কাজ হচ্ছে, মৃত্যুর কথা, আখেরাতের কথা চিন্তা-চেতনায় ও অন্তরে সর্বদা জাগ্রত রাখা। শুধু তাই নয়, সত্যিকারের আল্লাহভীরু এ জগতের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। সর্বদা সে আল্লাহর ধ্যান, নামাজ-কালাম ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে। হাদিসের পরিভাষায় এসব মানুষই প্রকৃত জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান।

এ সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় কামনা-বাসনা ও স্বীয় নফসকে সংযত করতে সক্ষম- সেই প্রকৃত ইমানাদার।

এ কথা সত্যি যে, যারা অধিক সময় আখেরাতের চিন্তা করে তারা কখনও সমাজ জীবনে পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারে না। আর যারা আখেরাত বা পরকালীন জীবনকে গুরুত্ব দেয় না, অহেতুক আমোদ-প্রমোদ, ভোগ-বিলাসে লিপ্ত থাকে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘যারা আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে অধিক গুরুত্ব দেয় এবং দুনিয়াদারিকে সীমাতিরিক্ত ভালোবাসে এবং আল্লাহর পথ থেকে দূরে থাকে, সুযোগ খুঁজে ফেরে এরাই সেই দল যারা প্রতিনিয়ত পাপের পথে ঘুরপাক খাচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অধিক ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থাকো, আর বেশি বেশি করে আখেরাতের কথা স্মরণ করো।’ সুতরাং সব মানুষের উচিৎ প্রতিটি মুহূর্ত জিকির-আজকার ও ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা।

আল্লাহতায়ালা ও হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আখেরাতে সম্পর্কে বারবার সতর্ক করে দেওয়া সত্বেও আমরা পার্থিব জগতের মোহ-মায়াজালে পড়ে ঘর-সংসার, অর্থসম্পদ, পরিবার-পরিজন ও আমোদ-প্রমোদে বিভোর থাকি।

শুধু তাই নয়, আমরা দীর্ঘকাল দুনিয়ায় বেঁচে থাকারও ইচ্ছা পোষণ করি এবং এ জন্য নানা ধরণের কসরত করি। আমাদেরকে আল্লাহতায়ালা কাছে সমর্পণ করি না। অথচ আমাদের উচিৎ ছিলো, সর্বোতভাবে নিজেকে আল্লাহতায়ালার কাছে সঁপে দেওয়ার। মৃত্যু মানুষের অনিবার্য বিষয়। কার মৃত্যু কখন, তা বলার কোনো উপায় নেই। তাই ভোগ-বিলাস আর আমোদ-প্রমোদে সময়ক্ষেপণ নয়। সময় চলে যাচ্ছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর সন্তষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় এখন থেকেই আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং আল্লাহর নির্দেশমতো, কম হাসি এবং আল্লাহকে স্মরণ করে বেশি বেশি কাঁদতে হবে। বান্দার হৃদয় দিয়ে ক্রন্দন আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়। বিশেষ করে আমরা যেনো এই দোয়া করি, ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসনাতও ওয়াফিল আখিরাতি ওয়াকিনা আজাবান্নার।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! দুনিয়াতে আমদের কল্যাণ দান করো। তোমার ইবাদত-বন্দেগিতে সর্বদা নিয়োজিত থাকতে পারি তার মন-মানসিকতা দান করো এবং আখেরাতের জীবনে সুখ-শান্তি নাজাত হিসেবে গ্রহণ করো।

আমরা যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের দেখানো পথে পরিপূর্ণভাবে জীবন পরিচালনা করি, সব ধরনের নিয়ম রক্ষা করে ইবাদত-বন্দেগি করি, তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলি- তাহলে আমরা আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভে সমর্থ হবো এবং আখেরাতে এর পুরস্কারস্বরূপ অনন্ত সুখের বেহেশত হাসিল করতে পারবো। আল্লাহতায়ালা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :