পশুপাখিকে কষ্ট দেওয়া পাপের কাজ

এ জে ইকবাল আহমদ, অতিথি লেখক, ইসলাম, বার্তা২৪.কম
পশুপাখিকে কষ্ট দেওয়া পাপের কাজ, ছবি: সংগৃহীত

পশুপাখিকে কষ্ট দেওয়া পাপের কাজ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অনেকেই শখের বশে কিংবা বিক্রির জন্য অবৈধভাবে বাঘের চামড়া, হরিণের চামড়া প্রভৃতি সংগ্রহ করে। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়, তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এভাবে শুধু সরকারি আইনে নয়, ইসলামেও পশুপাখির অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি সৃষ্টি করেছেন। আর এসব সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদের স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি। তাদের উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদের অনেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।’ -সূরা বনি ইসরাইল: ৭০

আমরা জীবনে বহুবার এমন দৃশ্য দেখেছি যে, রাস্তায় একটি কুকুর বা বিড়াল পা খুঁড়িয়ে হাঁটছে। কেউ হয়তো তার একটি পা ভেঙে দিয়েছে। এটা গর্হিত কাজ, চরম অন্যায়। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘একবার একটি পিপাসার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছে। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে কূপের পানি তোলে এবং কুকুরটিকে খাওয়ায়, এ জন্য তার পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ –সহিহ বোখারি: ৩৪৬৭

অনেককে দেখা যায়, খেলার ছলে কারও ঘরের বারান্দায় কিংবা সিঁড়িতে চুপচাপ শুয়ে থাকা বিড়ালটিকে অনর্থক লাথি মেরে ফেলে দিচ্ছে। এ কাজও ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘এক নারীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে একটি বিড়ালকে আটকে রেখে খাবার ও পানি না দেওয়ার জন্য। যদি সে বিড়ালটিকে ছেড়ে দিত তাহলে পোকা-মাকড় খেয়েও সে বাঁচতে পারত।’ –সহিহ বোখারি: ৩৩১৮

রাস্তা প্রচুর লেজকাটা কুকুর দেখা যায়। খেলার ছলে কিংবা দুষ্টুমি করে কেউ হয়তো লেজটা কেটে দিয়েছে। এমন কাজ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হজরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে প্রাণীদের অঙ্গচ্ছেদ করে।’-সহিহ বোখারি: ৫১৯৫

আমাদের আমিষের অন্যতম উৎস হলো- গোশত। সেই গোশত সংগ্রহের জন্য গরু-ছাগল জবাই করার সময়ও হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো জীবকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি একটি ভেড়া জবাইয়ের জন্য মাটিতে শোয়ালো। তারপর সে চাকুতে ধার দিচ্ছিল। তখন নবী করিম (সা.) তুমি কি পশুটিকে দু’বার মারতে চাও? তাকে শোয়ানোর আগে চাকুতে ধার দিতে পারলে না?’

সঠিকভাবে পশুপালনের ওপর ইসলামে জোর দেওয়া হয়েছে। অনেকেই অ্যাকুরিয়ামে মাছ ও খাঁচায় পাখি পুষেন। কিন্তু এসবের যত্ন নেন না। এটা অন্যায় ও পাপের কাজ। অনেকে গোয়াল ঘরে সন্ধ্যার পর ঠিকমতো ধোঁয়া দেয় না, গরুকে মশায় কামড়ায়। শীতের সময় গরুকে চটের কাপড় বা ছালা দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দেয় না। ফলে পশুটি কষ্ট পায়, এটা ভালো আচরণ নয়; এদিকে নজর দিতে হবে সবাইকে।

অনেকেই বাড়ির আশপাশে আম, কাঁঠাল, জাম ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ লাগান। জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। এসব গাছ, গাছের ফল কিংবা জমির ফসল গরু-ছাগল খেয়ে ফেলে। এর জের ধরে অনেক সময় গরুকে বেধড়ক মার দেওয়া হয়। এটাও শরিয়তসম্মত নয়। কোনো পশু তো তার ওপর করা অত্যাচারের কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। তাই বলে তাকে এভাবে পেটানো যাবে না। তাদের দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত কাজ নেওয়া যাবে না।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমানের লাগানো শস্য বা গাছ থেকে কোনো পাখি, মানুষ অথবা কোনো জন্তু খেলে তার জন্য ওই ব্যক্তির সদকার সওয়াব হবে।’ -সহিহ বোখারি

ইসলামে বিভিন্নভাবে পশুপাখির অধিকার রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আপনি বা আমি হয়তো কোনো প্রাণী পুষছি না, তাই বলে কোনো পোষা প্রাণী বা রাস্তায় চলাফেরা করছে এমন সব পশুপাখি ও জীবজন্তুকে ভালোবেসে খেতে না দিলেও তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন :