আত্মহত্যা মহাপাপ ও ঘৃণিত কাজ



জাওয়াদ তাহের, অতিথি লেখক, ইসলাম
আত্মহত্যা মহাপাপ ও ঘৃণিত কাজ, ছবি: সংগৃহীত

আত্মহত্যা মহাপাপ ও ঘৃণিত কাজ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দিন দিন বেড়ে চলেছে আত্মহত্যার প্রবণতা। পত্র-পত্রিকা খুললে হরহামেশা দেখতে পাই আত্মহত্যার সংবাদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যনুযায়ী সারাবিশ্বে আত্মহত্যায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। প্রতিবছর বাংলাদেশে দশ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যার মতো জঘন্য পথ বেছে নেয়। অন্যান্য দেশে যেখানে পুরুষের আত্মহত্যার পরিমাণ নারীদের তুলনায় দুই গুণ বেশি। সেখানে বাংলাদেশে সম্পূর্ন উল্টো চিত্র। পুরুষের তুলনায় নারীদের মাঝে আত্মহননের প্রবণতা বেশি। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। যাদের বেশিরভাগই নারী। নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট আত্মহত্যাকারীদের বেশিরভাগের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ যারা টগবগে যুবক। বাংলাদেশে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ ও অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। আমাদের সমাজে অনেক লোক আছে, যারা জীবনযাপনের কঠিন দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে পরিত্রাণের জন্য অথবা আবেগের বশবর্তী হয়ে বেছে নেয় আত্মহননের পথ।

তখন তার মধ্যে বিবেক-বুদ্ধি আত্মবোধ, মনুষত্ব বলতে কিছুই থাকে না। সে তখন তার মাঝে লালন করে আত্মঘাতীপূর্ণ চিন্তা-চেতনা। ভুলে যায় নিজেকে, বুঝতে পারে না সে; ফলে আত্মহত্যা নামক জঘন্য কাজটি কেন করছে? কি লাভ হবে জীবনকে নিঃশেষ করে? সে তার জীবনে ও পরিবারে ডেকে আনে মহা বিপর্যয়।

পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে নির্দেশিত হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর করুণাময়।’ -সূরা আন নিসা: ২৯-৩০

পারিবারিক বিপর্যয় কিংবা মানসিক অশান্তিসহ নানা সঙ্কটে ইসলাম মানুষকে ধৈর্যধারণের কথা বলেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ -সূরা বাকারা: ১৫৩

কারণ আল্লাহতায়ালা দুনিয়াকে পরীক্ষাগার বানিয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই, মাঝে-মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সঙ্গে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও।’ –সূরা আল বাকারা: ১৫৫

দুনিয়াতে ভালোমন্দ সবই থাকবে। তবে যেকোনো পরিস্থিতে নিরাশ হওয়া যাবে না। কারণ মুমিন কখনও নিরাশ হতে পারে না। শয়তান মানুষকে নিরাশ করে দেয়। আর অধিকাংশ মানুষ হতাশা আর নৈরাশ্য থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কারণ তার সামনে আপাতদৃষ্টিতে বেছে থাকার সকল উপায় রূদ্ধ।

আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ। তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। সন্দেহ নেই, তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।’ -সূরা যুমার: ৫৩

তাই নিরাশ হওয়া যাবে না, কারণ নিরাশ হওয়া কুফরির নামান্তর। দুনিয়ার কষ্ট লাঘব করার জন্য মানুষ আত্মহত্যা করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে কষ্টকে লাঘব করেনি বরং নিজেকে এক সুনিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। হাদিসে আত্মহত্যাকারীর ব্যাপারে জঘন্য হুঁশিয়ারী এসেছে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামেও তার সেই যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তার সেই যন্ত্রণাকেও জাহান্নামে অব্যাহত রাখা হবে।’ –সহিহ বোখারি

কোরআনে কারিমে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলো আমাদেরকে জীবনের প্রকৃত অবস্থাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। কিছু আয়াত রয়েছে যা আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমরা কীভাবে নিজেরাই নিজেদের জীবনটাকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দেই। আর কিছু আয়াত রয়েছে যা আমাদেরকে জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট, ভয় হাসিমুখে পার করার শক্তি-সাহস জোগায়।

এ জন্য আমরা নিজেদের এবং সন্তানদের অঙ্কুর থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তুলি তাহলে আমাদের সমাজ ধীরে ধীরে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবে।

আত্মহত্যার শাস্তি সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের এক ব্যক্তি আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। সে একটি ছুরি দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এরপর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়।’ এ ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

আল্লাহতায়ালা আমাদের এ অমার্জনীয় জঘণ্য অপবাদ থেকে বেছে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

   

স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টির দিন



মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত, অতিথি লেখক, ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলাম মানবতার ধর্ম। তাই মুসলমানদের সমস্ত আনন্দ উৎসব মানবিক ও সর্বজনীন। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দিনটির সর্বজনীনতা ও ব্যাপকতা এতই বিস্তর যে, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মুসলমানরা এ দিনটি মহা ধুমধামের সঙ্গে উদযাপন করেন। সারা বছর অধীর আগ্রহে বিশ্ব মুসলিম অপেক্ষা করে মহিমান্বিত এ দিনটির জন্য। মুসলিম জাতি তথা অন্যান্য জাতির কাছেও ঈদুল ফিতরের মতো এত ব্যাপক ও আকাঙ্ক্ষিত দিন বা অনুষ্ঠান আর নেই। ঈদুল ফিতর নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এর রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূর প্রসারী ভূমিকা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক সাম্যতা গঠনে ঈদুল ফিতর এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেব অনাদি কাল থেকে চলে আসছে।

ঈদের নির্মল আনন্দে ভেসে যায় মানুষের মনের সমস্ত হিংসা বিদ্বেষ, পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে অন্তরাত্মা। ঈদুল ফিতর সমাজের নিরন্ন অসহায় মানুষগুলোর আর্থিক দৈন্যতা গুচিয়ে ঈদের আনন্দে যাতে শামিল হতে পারে সে ব্যবস্থা করে সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্যতাকে কিছুটা হলেও লাগব করে। ঈদুল ফিতরের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম ও অনবদ্য। মানুষ হিসেবে আমরা প্রত্যেকে সমাজ বা রাষ্ট্রে বসবাস করলেও প্রত্যেকের মতামতের বা চিন্তার ভিন্নতা রয়েছে। ভিন্নতা রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে ভাষার ভিন্নতা যা প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের একে অন্যের প্রতি অনেক সময় বিষিয়ে তুলে এবং পরস্পরকে দূরে ঠেলে দেয় সৃষ্টি হয় সামাজিক সংঘাত। কিন্তু ঈদুল ফিতর আমাদের সারাজীবনের এ সব কলুষতাকে দূর করে, সব ভেদাভেদ ভুলে একত্র করে দেয়।

ঈদের নামাজে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, মালিক-শ্রমিক, শিক্ষক-ছাত্র, সাদা-কালো, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব শ্রেণির-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায় এবং পরস্পর পরস্পরের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে; তখন এক স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টি হয় এবং ঈদগাহ ময়দান হয়ে ওঠে এক অনন্য সামাজিক মিলনমেলা। নামাজ শেষে সবাই মিলে একে অপরের সঙ্গে যখন কোলাকুলি করে জড়িয়ে ধরে তখন সারা বছরের মলিনতা, বৈষম্যতা যেন নিমিষেই ধুয়ে মুছে যায়, যা পৃথিবীতে আর কোনো দিন বা অনুষ্ঠানে বিরল।

পেশাগত কারণে আত্মীয়-স্বজন যারা দেশের বিভিন্নস্থানে থাকেন তারাও ঈদের দিনের একত্র হয় এবং একে অপরের বাড়িতে গিয়ে ভাব বিনিময় করে। এমনও দেখা যায়, কোনো কারণে সারা বছর হয়তো প্রতিবেশির বাড়িতে যাওয়া হয় না বা কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ ছিল অথচ ঈদের দিনে নির্দ্বিধায় পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে নিমিষেই বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করে দিল। এ যে সাম্যের জয়গান তা একমাত্র সম্ভব মহাসাম্যের এই ঈদে। ঈদুল ফিতর মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে, শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করে, আত্মীয়ের বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং সামাজিক সাম্যকে পরিপক্ব ও ব্যাপকতা দান করে।

তাই আসুন, ঈদকে ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনার বাহন হিসেবে এর মর্ম উপলব্ধি পূর্বক সারা মাসের সিয়াম সাধনায় অর্জিত সৎ গুণাবলি এবং ঈদের দিনের পবিত্র, নিষ্কলুষ আনন্দ সবার মধ্যে বিলিয়ে দিই। তাহলে নানা জটিলতায় ভরে থাকা এই সমাজ সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে উঠবে, পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও মজবুত হবে।

;

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের নামাজের পর খুতবা দেওয়া সুন্নত। আর উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য তা শ্রবণ করা ওয়াজিব। মুসল্লিরা মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবেন। -কিতাবুল আসল : ১/৩১৮

জুমার নামাজের ন্যায় ঈদের নামাজেও দুই খুতবা। দুই খুতবার মাঝে বসাও সুন্নত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- সুন্নত হচ্ছে, ইমাম ঈদে দুটি খুতবা দেবে। দুই খুতবার মাঝখানে বসার দ্বারা একটিকে আরেকটি থেকে আলাদা করবে। -সুনানে কুবরা : ৬২১৩

ঈদের খুতবার আগে আজানের কোনো বিধান নেই। খুতবার সময় ইমাম তাকবির বললে মুসল্লিরা চুপ থেকে খুতবা শুনবেন। নিজেরা তাকবির বলবেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব। জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক : ৫৬৪২

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়

ঈদের নামাজে কাজার বিধান নেই। তাই কারও ঈদের নামাজ ছুটে গেলে সে আশপাশের অন্যকোনো ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটি সম্ভব না হলে তওবা-ইস্তেগফার করবে। -শরহু মুখতাসারিত তাহাবি : ২/১৬১

ঈদের নামাজের আগে-পরে নফল পড়া

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন দুই রাকাত ঈদের নামাজ পড়ছেন। ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো নামাজ পড়েননি। -সহিহ বোখারি : ৯৬৪

এ জাতীয় হাদিসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, ঈদের নামাজের আগে বাড়িতে বা ঈদগাহে/মসজিদে পুরুষ মহিলা সকলের জন্যই নফল নামাজ পড়া মাকরূহ। তাই এসময় কেউ ইশরাক বা অন্য কোনো নফল নামাজ পড়বে না। -কিতাবুল আসল : ১/৩২৮

;

ঈদের নামাজের নিয়ম



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের নামাজ দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে সানা পড়বে। সানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে। প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সূরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। -কিতাবুল আসল : ১/৩১৯

ঈদের অতিরিক্ত তাকবিরে ভুল হলে

ইমাম যদি প্রথম রাকাতে ভুলে অতিরিক্ত তাকবির না বলে কেরাত শুরু করে দেয় তাহলে কেরাত অবস্থায় তাকবিরের কথা স্মরণ হলে কেরাত ছেড়ে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে নেবে। অতঃপর পুনরায় কেরাত পড়ে নেবে। কেরাত শেষ হওয়ার পর তাকবিরের কথা স্মরণ হলে তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবে। -শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৭২

ইমাম ঈদের অতিরিক্ত তাকবির ভুলে রুকুতে চলে গেলে (চাই প্রথম রাকাতের তাকবির হোক বা দ্বিতীয় রাকাতের) তাকবির বলার জন্য আর রুকু থেকে ফিরে আসবে না। এবং বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী রুকুতেও তাকবির বলবে না। এক্ষেত্রে নামাজ শেষে সিজদায়ে সাহু করে নেবে। (যদি জামাত ছোট হয়) -আল বাহরুর রায়েক : ২/১৬১

ঈদের অতিরিক্ত তাকবির ভুলে রুকুতে চলে যাওয়ার পর তাকবির আদায়ের জন্য রুকু থেকে ফিরে আসলে যদিও কোনো কোনো ফকিহ নামাজ ফাসেদ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তবুও বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কাজটি ভুল হলেও এ কারণে নামাজ নষ্ট হবে না। -রদ্দুল মুহতার : ২/১৭৪

ঈদের নামাজে মাসবুক হলে করণীয়

কেউ প্রথম রাকাতে ঈদের অতিরিক্ত তাকবির বলার পর ইমামের সঙ্গে শরিক হলে সে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজে শরিক হওয়ার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে নেবে; চাই এক্ষেত্রে ইমাম কেরাত পড়া অবস্থায় থাকুন না কেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে নামাজে শরিক হওয়ার পর দাঁড়ানো অবস্থায় (রুকুর আগে আগে) তাকবির আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি আদায় না করে তাহলে পরে আর রুকুতে তাকবির বলবে না। -আল বাহরুর রায়েক : ২/১৬১

ইমামকে রুকুতে পেলে সেক্ষেত্রে যদি প্রবল ধারণা হয়, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বললেও ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হতে পারবে তাহলে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হবে।

আর যদি প্রবল ধারণা হয়, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবির বলতে গেলে ইমামকে রুকুতে পাওয়া যাবে না, তাহলে তাকবিরে তাহরিমা বলে রুকুতে চলে যাবে। রুকুতে গিয়ে ছুটে যাওয়া অতিরিক্ত তাকবিরগুলো হাত উঠানো ছাড়া বলে নেবে। এরপর যদি সময় থাকে তাহলে রুকুর তাসবিহ আদায় করবে। -আল মুহিতুল বুরহানি : ২/৪৮৮

ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হওয়ার পর অতিরিক্ত তাকবির বলার মত সময় না পেলে আর তাকবির বলতে হবে না। ইমামের সঙ্গে রুকু পাওয়ার কারণে সে ওই রাকাত পেয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকবিরও পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ২/৬১৮

কেউ দ্বিতীয় রাকাতে ইমামের সঙ্গে শরিক হলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে সূরা-কেরাত পড়ে তারপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবির বলবে। অর্থাৎ ছুটে যাওয়া রাকাতেও দ্বিতীয় রাকাতের ন্যায় রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবির বলবে। অবশ্য যদি কেউ এক্ষেত্রে সূরা-কেরাতের আগে অতিরিক্ত তাকবির বলে নেয় তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। -কিতাবুল আসল : ১/৩২২

দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর পর এমনকি শেষ বৈঠকের তাশাহহুদের পরও কেউ জামাতে শরিক হলে সে ঈদের জামাত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই উভয় রাকাত আদায় করবে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের পর দাঁড়িয়ে কেরাতের পূর্বে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলবে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর অতিরিক্ত তাকবির বলবে। -কিতাবুল আসল : ১/৩২২

ঈদের নামাজে সাহু সিজদা

অন্যান্য নামাজের ন্যায় ঈদের নামাজেও জামাত ছোট হলে এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা না থাকলে ওয়াজিব ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তবে যেহেতু ঈদের জামাতে সাধারণত অনেক বড় জমায়েত হয়ে থাকে, অনেক মানুষ সিজদায়ে সাহুর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে না, তাই সিজদায়ে সাহু আদায় করতে গেলে অনেক সময় বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এ জন্য কোনো কোনো ফকিহের মতে ঈদ, জুমা বা এরকম বড় কোনো জামাতের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব সিজদায়ে সাহু করতে গেলে যদি মুসল্লিদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু মাফ হয়ে যাবে। ইমাম স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ শেষ করবে। -কিতাবুল আসল : ১/৩২৪

ঈদের নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক

ঈদুল আজহার নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক বলা যেতে পারে। তবে ফরজ নামাজের মত ঈদের নামাযের পর তাকবির বলা ওয়াজিব নয়। -আল বাহরুর রায়েক : ২/১৬৫

;

রমজানে উমরাকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র কাবায় উমরাকারীদের ভিড়

পবিত্র কাবায় উমরাকারীদের ভিড়

  • Font increase
  • Font Decrease

এবার পবিত্র রমজানে ৩ কোটির বেশি মুসলমান পবিত্র উমরা পালন করেছেন।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি বছরের ১১ মার্চ সৌদি আরবে শুরু হয় পবিত্র রমজান। দেশটির বাসিন্দারা এবার ৩০টি রমজান পূর্ণ করে বুধবার (১০ এপ্রিল) ঈদ পালন করেছেন।

রমজান মাস শুরু হওয়ার পরই সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উমরা পালনের জন্য মক্কায় ভিড় জমান মুসল্লিরা। প্রতি বছরের মতো এবারও মক্কায় মুসল্লিদের ঢল নামে।

পবিত্র রমজান মাসে মক্কায় এবার এত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন যে, ভিড় সামলানোর জন্য এ বছর একজন মুসল্লিকে শুধুমাত্র একবারই উমরা পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।

উমরা পালনের জন্য কাবা চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। এবার যারা উমরার জন্য কাবা চত্বরে প্রবেশ করেছেন তাদের আগে থেকে সৌদির সরকারি অ্যাপ নুসুকের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়েছে। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার যখন আবারও উমরার জন্য নুসুক অ্যাপে আবেদন করেছেন তখন তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মক্কায় উমরা পালন শেষে বেশিরভাগ মুসল্লি মদিনার মসজিদে নববিতেও গেছেন এবং সেখানে নামাজ আদায় করেছেন তারা। মসজিদে নববিতেও এবার মুসল্লির সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

রমজানে ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকার পর এখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদ উদযাপন করছেন। ঈদ শেষ হওয়ার পর রমজানের জন্য মুসল্লিদের আবারও অপেক্ষা শুরু হবে।

;