কলকাতার স্থাপিত হলো ব্রোঞ্জের বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কলকাতা
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

ফলে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের বছরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (১০ জানুয়ারি) কলকাতাস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে নবনির্মিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য, ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, এমপি।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান ও সকল কর্মকর্তাবৃন্দ।

কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন, কলকাতা তাদের মিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কলকাতায় অতিবাহিত করেছেন। বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ অর্থাৎ তৎকালীন ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৫-৪৬ শিক্ষাবর্ষে বেকার গভর্নমেন্ট হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষে আবাসিক ছিলেন। যেটি এখন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কক্ষ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু

১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে মুসলিম লীগের তরুণ কর্মী হিসাবে পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে ভারতবর্ষ চষে বেড়িয়েছেন। তরুণ মুজিব, জীবনবাজি রেখে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার মাঝখানে দাঁড়িয়েছেন মানবঢাল হিসাবে।

১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ - তারুণ্যের ছয়টি বছর কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সক্রিয়তা খুব সহজেই তাকে পরিচিত করে তোলে, বৃহত্তর বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কাছে। শহীদ সাহেবের স্নেহভাজন হিসাবে শেখ মুজিব হয়ে উঠেন কলকাতায় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা। কলকাতার অভিজ্ঞতা বঙ্গবন্ধুর অসামান্য নেতৃত্বগুণকে বিকশিত করতে সহায়তা করে।

এরপর ড. মোমেন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতের সহযোগিতার স্মৃতিচারণ করার পর বলেন,  ১৯৭১ এর ১৮ ই এপ্রিল তৎকালীন কলকাতার মিশন প্রধান জনাব হোসেন আলী বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মিশনের অন্যান্য বাঙালি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন। সেইদিন থেকে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশন বিদেশে বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং সেই ঐতিহাসিক ভবনটি আজও বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন হিসেবে স্বমহিমায় বিরাজমান। প্রতি বছর ১৮ ই এপ্রিল তারিখে বাংলাদেশে “ফরেন সার্ভিস ডে” হিসেবে পালিত হচ্ছে।  আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাই কলকাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর কলকাতায় যাত্রা বিরতি করার কথা ছিল। কিন্তু দেশমাতৃকার টানে বঙ্গবন্ধু দিল্লী থেকে সোজা ঢাকায় অবতরণ করেন এবং কলকাতায় শীঘ্রই আসবেন বলে কলকাতার আকাশে বিমান থেকেই কলকাতায় বার্তা পাঠান। তাঁর সেই কথা রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা সফর করেন এবং ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বিখ্যাত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউণ্ডে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে বক্তব্য রাখেন। সেইসময় বঙ্গবন্ধু কলকাতার ঐতিহাসিক বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন ভবনটি সফর করেন এবং মিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বহির্বিশ্বে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশনে জাতির পিতার সেদিনের উপস্থিতি এক অন্যরকম তাৎপর্যপূর্ণ আবহ সৃষ্টি করেছিল।  

এ বছর আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি এবং একইসাথে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীরও ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। এরকম একটি সময়ে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী শহর কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এজন্য আমি মিশনের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সবাইকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। এটি আমাদের জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসারই একটি চমৎকার নিদর্শন হিসেবে থেকে যাবে চিরদিন।

প্রসঙ্গত, কলকাতাস্থিত বাংলাদেশ মিশনে এই প্রথম বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠিত হলো। এর আগে বঙ্গবন্ধু কর্ণার, বঙ্গবন্ধু মঞ্চ ও মিশনের বাইরের দেওয়ালে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ নামে একটি ম্যুরাল গত বছর উন্মোচন করেছিলেন উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান। মিশণ প্রাঙ্গণের সেখানেই বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকে। আবক্ষ ভাস্কর্যটি সম্পূর্ণ ব্রোঞ্জ দ্বারা নির্মিত। দীর্ঘ ছয়মাস সময় নিয়ে তৈরি করেছেন নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের শিল্পী সুবীর পাল।

নজরুল-স্মৃতিধন্য হেরিটেজ ভবন গ্রেসকটেজে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নজরুল-স্মৃতিধন্য হেরিটেজ ভবন গ্রেসকটেজে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন।  বার্তা২৪.কম

নজরুল-স্মৃতিধন্য হেরিটেজ ভবন গ্রেসকটেজে বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশাখের প্রবল প্রতাপের মধ্যেই গত ১৭ এপ্রিল, ২০২২ (রোববার) গ্রেস কটেজে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'সুজন বাসর' এবং কলকাতার বিশিষ্ট নজরুল কেন্দ্রিক সংস্থা  'ছায়ানট' -এর যৌথ আয়োজনে 'বিদ্রোহী' কবিতা-প্রকাশের শতবর্ষ উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের এক উল্লেখযোগ্য সময় (১৯২৬ থেকে ১৯২৮) সপরিবারে কাটিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরে। প্রথমে মাস ছয়েক বন্ধু হেমন্ত কুমার সরকারের পারিবারিক আশ্রয়ে, পরে 'গ্রেস কটেজ' নামক এক নির্জন বাগানবাড়িতে। তাঁর 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসে এই বাড়ি এবং এলাকার পরিচয় আছে। এখানেই পুত্র বুলবুলের জন্ম হয়। বাংলায় প্রথম গজল গানের সৃষ্টিও হয় এই বাড়িতে।

গ্রেস কটেজের রীতি অনুসারে 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু' কোরাসে গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শঙ্খশুভ্র সরকারের নেতৃত্বে এই কোরাসে সুজন বাসর এবং ছায়ানটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। তার আগে কবির আবক্ষ মূর্তিতে মাল্য অর্পণ করেন ছায়ানটের কর্ণধার সোমঋতা মল্লিক। ঘরের ভিতরে নজরুলের প্রতিকৃতিতে মাল্য অর্পণ করেন কবিতা কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী 'শৃন্বন্তু'র সভাপতি এবং 'ঋদ্ধ' পত্রিকার সম্পাদক  বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী রতন কুমার ঘোষ।

বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী আকাশ দত্ত। ছায়ানটের পক্ষে সোমঋতা মল্লিক, তন্ময় মুখোপাধ্যায়, কাকলী সেন, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, রীনা রায়, সুরূপা মল্লিক গান ও কবিতা পরিবেশন করেন। ছায়ানটের পক্ষ থেকে গ্রেস কটেজ তথা সুজন বাসর কর্মকর্তাদের হাতে সোমঋতা মল্লিক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এবং কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিতে একটি ক্যালেন্ডার এবং একটি স্মারক উপহার তুলে দেন। সেই সঙ্গে কলকাতায় নজরুল স্মৃতি বিজড়িত ১২টি ভবনের বর্তমান ছবি দিয়ে তৈরী পোস্টকার্ডের সেট তুলে দেন।

সুজন বাসরের পক্ষে তপন কুমার বিশ্বাস, শঙ্খশুভ্র সরকার, বীথিকা মল্লিক, সুকৃতি ঘোষ প্রমুখ সঙ্গীত এবং আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রতন কুমার ঘোষ  তাঁর ভালো লাগার অনুভূতি প্রকাশের সাথে উল্লেখ করেন যে, কৃষ্ণনগর শহরের অনেক শিক্ষিত মানুষকে গ্রেস কটেজ কোথায় জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারছেন না। সুতরাং এর একটা উপযুক্ত প্রচার হওয়া দরকার।

নদীয়াতে নজরুল প্রসঙ্গে আলোচনা করেন গবেষক দেবনারায়ণ মোদক। নজরুল জীবনীকারদের লেখায় কৃষ্ণনগর পর্বের আলোচনা যথেষ্ট কম এবং এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে তিনি মনে করেন। নদী গবেষক সুপ্রতিম কর্মকার অঞ্জনা নদী সহ নজরুল সাহিত্যে যেসব নদীর উল্লেখ আছে সে বিষয়টি নিয়ে একটা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ হওয়া দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন বাসর সংস্থার সভাপতি দীপংকর দাস। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সম্পাদক ইনাস উদ্দীন।

;

একুশের নতুন চেতনা



দেবরাজ ভট্টাচার্য
একুশের নতুন চেতনা

একুশের নতুন চেতনা

  • Font increase
  • Font Decrease

‘সোনার কেল্লা’ চলচ্চিত্রে ফেলুদার যোধপুর যাওয়ার পথে জটায়ুর সাথে আলাপের দৃশ্যটি মনে আছে? সংলাপগুলি খানিকটা এরকম ছিল-

"তো আপ কাহা তক যা রহে হ্যায়?

-যোধপুর।

“ম্যায় ভি যোধপুর জা রহা হু। রাজস্থান কা পটভূমিকামে এক কাহানি লিখনা চাহতা হু। রহস্য-রোমাঞ্চ কাহানি। অব তক সাত্তাইশ কাহানি লিখি হ্যায়। অল পাবলিশড। ইয়ে হ্যায় মেরা সাম্প্রতিকতম্‌ উপন্যিয়াস। দুর্ধষ দুশমন। আপ ক্যায়া বাংলা পড়নে জানতে হো?”

-হাঁ। বোলনা ভি জানতা হু।

“তো কাহা শিখে?”

-কলকাত্তা। আপনি হিন্দি চালিয়ে যেতে পারেন। বেশ লাগছে।

“আরে দুররররর মশাই। আমি গড়পারের লোক। হিন্দি কি কেউ সাধে বলে নাকি?"

শৈশবের নিছক হাসিখেলার অনুভূতির মধ্যে দিয়ে এই দৃশ্য আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি আজীবন। কখনো তা রূঢ় বাস্তবের জমিতে অবস্থান করেও। আপোষ করে বদলে ফেলছি কথা বলার চলন। বলতে বলতে শিখতে চাইছি বদলে যাওয়া ভাষার নতুন কোনো এক কাঠামো যা ক্রমশ ভুলিয়ে দেবে আমাদের স্মৃতি সত্তা এবং ভবিষ্যৎ। তবে কি লড়াইটা শুধুই ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে?

শ্রদ্ধেয় শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন,- ‘বাংলাদেশ একদিন গান বেঁধেছিল ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়্যা নিতে চায়’। অলক্ষে আমাদেরও মুখের ভাষা কেড়ে নিচ্ছে কেউ, সেকথা যদি কিছুটা উপলব্ধি করি, এবং আমাদের সামান্যতম চেষ্টাকেও তার প্রতিরোধে যদি নিযুক্ত করি, একমাত্র তখনই একুশে ফেব্রুয়ারির মতো কোনো প্রতীকদিন-উদযাপন করবার তাৎপর্য দেখা দিতে পারে। তার অভাবে, সবটাই হয়ে উঠবে নিছক অলঙ্কার’।

কবি শব্দের জন্ম দেন যা একদিন চেতনা হয়ে উঠবে। অশ্বত্থ আর বট পাকুরের গায়ে চিহ্নিত ইতিহাসের বলিরেখা মুছে দেবে দেশ কালের বেড়াজাল। কেউ দেখাবে পথ। কেউ চলবো হাতে হাত রেখে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এমনই কিছু শব্দের অনুরণন ধ্বনিত হতে শোনা গেল কলকাতার দমদম মতিঝিল কলেজে। কলেজের অধ্যাপিকা ড. ময়ূরাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে অধ্যক্ষ, ছাত্র ছাত্রী, অধ্যাপক এবং সকল কর্মীরা আরও একবার শপথ নিলেন মাতৃভাষার পক্ষে। তবু শপথ ভুলে গেছে যুদ্ধক্ষেত্র। ভাষা এবং শব্দ দানবের হাহাকারে জর্জরিত প্রদেশ থেকে তাই এবারের ডাক নতুন চেতনার প্রতি। অধ্যাপিকা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষায়,- ‘একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত সংগ্রাম এবং মাতৃ-ভাষার প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতাকে স্মরণে রেখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা উচিত। এর মধ্যে দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃহত্তর সমাজের কাছে একাধারে মাতৃভাষা ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হবে তেমনি ভাষা আগ্রাসনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অন্য ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিখবে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়, ভাষা দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে ভাষা ব্যবহার এবং কথার বলার অধিকার সম্পর্কিত গনচেতনার ইতিহাসের সাথে বর্তমান প্রজন্মের পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। এই চেতনা তাদের সার্বিক বিকাশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ’।

একুশ জানে না মাথা নত করতে। একুশের রক্তাক্ত ইতিহাস ব্যক্তিগত চেতনার মাধ্যমে পৌঁছে যাক সমষ্টির অবচেতনে, কোনো এক নতুন একুশের দিকে। একটা মুক্ত এবং সুন্দর পৃথিবীর অপেক্ষায় আমরা। 

;

পশ্চিমবঙ্গে সোমবার অর্ধ দিবস ছুটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম কলকাতা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রয়াত লতা মঙ্গেশকর। রোববার(৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১২ মিনিটে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী-সহ দেশ বিদেশের বিশিষ্টজনেরা।

ভারতে শোক বার্তা পাঠিছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা শোক বার্তায় বলেন, ‘সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে উপমহাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। লতা মঙ্গেশকর তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে চিরদিন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১৫ দিন রাজ্যে বাজবে লতার গাওয়া গান, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের তরফে জারি করা মুখ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় লেখা হয়, ‘কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে আমরা রিক্ত হলাম। সুরসম্রাজ্ঞী ও অনন্য প্রতিভাময়ী সর্বজনশ্রদ্ধেয় লতা মঙ্গেশকর দীর্ঘ আট দশক ধরে কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। হিন্দি, মারাঠি, বাংলা সহ ছত্রিশটিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় তাঁর গাওয়া অগণিত ক্লাসিকাল,গজল, ভজন, আধুনিক ও সিনেমার গান আজও সমান জনপ্রিয়। বাংলার সঙ্গীতজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ ছিল। আমাদের নক্ষত্রদের সাধনা ও তাঁর প্রতিভা পরস্পরকে সমৃদ্ধ ও অভিষিক্ত করেছিল। ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, লিজিয়ন অফ অনার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস' অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড সহ অজস্র পুরস্কার ও সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি লতা মঙ্গেশকরের আত্মীয়-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে, শিল্পীর প্রয়াণে ভারতে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। অর্ধনমিত থাকবে ভারতের জাতীয় পতাকা। বাতিল করা হয়েছে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান। এদিন সন্ধে সাড়ে ছ’টায় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তার আগে লতার প্রভুকুঞ্জের বাড়িতে শায়িত ছিল দেহ। সেখানে মানুষ শিল্পীকে শেষশ্রদ্ধা জানান।

;

পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা



অরিন্দম ভট্টচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) রাজ্যটির স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১০ জন। গত একদিনে রাজ্যে করোনা টেস্ট হয়েছে ৩৪ হাজার ৮১৭টি। একদিন আগেই এই সংখ্যাটি ছিল ৫৭ হাজার ৮৫টি। তবে গত একদিনে করোনার কারণে প্রাণ গিয়েছে ৩৬ জনের।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যে করোনা কমেছে, তাই কিছু বিষয়ে শিথিল করা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না আরও নামবে ততদিন রাজ্যে কোভিড বিধি নিষেধ থাকবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি থাকবে বিধিনিষেধ। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও ঘোষণা করে বলেন, ৭৫ শতাংশ কর্মচারী নিয়ে খুলতে পারবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস। ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে খুলতে পারবে রেস্টুরেন্ট, বার, সিনেমা হল। পার্ক, বিনোদন পার্ক আপাতত খুলে দেওয়া হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এছাড়া মমতা জানান, ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি করা যাবে। ৭৫ শতাংশ মানুষ নিয়ে সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করা যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো রাস্তার মিটিং, মিছিল ২০০ জনকে নিয়েই করতে হবে। প্রসঙ্গত, সল্টলেক-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় রয়েছে পুরসভা ভোট।

এছাড়া কলকাতা থেকে মুম্বাই এবং দিল্লির বিমানে বিধিনিষেধ উঠল। তবে বেঙ্গালোরে করোনা গ্রাফ ঊর্ধমুখী থাকায় কলকাতা-বেঙ্গালোরর বিমানে কড়াকড়ি বহাল থাকছে। পাশাপাশি কলকাতা-ব্রিটেন বিমান চলাচলেও বিধিনিষেধ উঠল। তবে সব বিদেশির জন্য করোনা টেস্ট অর্থাৎ আরটি পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে, রাজ্যে করোনা সংক্রমণ কমার কারণে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়।

;