কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল মেডিকেল হাসপাতালে রোগীর আর্তি!



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, সংগৃহীত

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ পরিস্থিতি জানিয়ে মর্মস্পর্শী আর্তি জানিয়েছেন একজন ভোক্তভোগী রোগী। কিশোরগঞ্জ শহরের ফিশারি রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী খালেদ শামস তুষার নিজের চরম কষ্টকর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জানিয়ে বলেন, "আমাদের সকলের প্রাণের নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনেক স্বপ্ন নিয়ে গড়া এই হাসপাতালের এহেন অবস্থা দেখে কিশোরগঞ্জের একজন নাগরিক হিসাবে আমি লজ্জাবোধ করছি। আমি এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে করজোড়ে আবেদন করছিযেন সৈয়দ আশরাফ সাহেবের আত্মার প্রতি সন্মান জানিয়ে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়।"

বার্তা২৪.কম'কে খালেদ শামস তুষার জানান, "গত রবিবার (১৯ জুন) বুকে ব্যথা নিয়ে আমি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সহায়তায় অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সিসিসি'তে ভর্তি হই। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা অবর্ণীয়। সিসিইউ ইউনিটে না আছে বেড,  না আছে এসি সাপ্লাই, না আছে সিসিইউ'র জন্য উপযুক্ত নার্স। এমন কি সিসিইউ'র জন্য কোনও ইমারজেন্সি ডাক্তার পর্যন্ত নেই। আছে শুধু ২ টা স্ট্যানড পাখা। আর যে বেডগুলো আছে, তা মোটেও সিসিও'র উপযুক্ত নয়।"

তিনি বলেন, "সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা হলো, একজন কার্ডিয়াক মুমূর্ষু রোগীকে বাথরুমে যাবার জন্য প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে যেতে হয়। আর এটাকে বাথরুম বলব না অন্য কিছু বলব আমার জানা নাই। এই হলো কার্ডিয়েক সিসিইউ ইউনিটের অবস্থা। অন্যান্য ইউনিটের কি অবস্থা আমার জানা নাই।"

খালেদ শামস তুষার বলেন, "বর্তমানে কিশোরগঞ্জের বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বার যারা পরিচালনা করছেন, তারা চায় না সরকারি হাসপাতলে রোগী যাক। তাই তারা কিছু অসাধু ডাক্তার সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় এই সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই অবস্থা করে রেখেছে।"

উল্লেখ্য, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত চিকিৎসা বিষয়ক উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু মহল বিশেষের নানা অসহযোগিতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর অবশেষে মুজিববর্ষের প্রথম দিনে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয় বহুল প্রত্যাশিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

সরকারি সূত্রানুসারে, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য বাজেট হিসাবে আনুমানিক ৫.৪৫ বিলিয়ন টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মধ্যে ছয়তলা হাসপাতাল ভবন, একাডেমিক ভবনের জন্য পাঁচতলা কলেজ, নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস, ইন্টার্নি ডাক্তারদের হোস্টেল, ডাক্তারদের ছাত্রাবাস, স্টাফ নার্সদের ছাত্রাবাস, মসজিদ, মিলনায়তন, অধ্যক্ষ ও পরিচালকদের আবাসিক ভবন, জিমনেসিয়াম ইত্যাদি স্থাপনা তৈরিসহ সরঞ্জাম সংগ্রহ, একটি মাইক্রো-বাস, দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং আসবাবপত্র কেনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা, দূরত্ব বাড়ছে? যেভাবে মেটাবেন



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলার একটাই চাবিকাঠি, তা হল ভালোবাসা। তবে এই ভালোবাসাও খুব সহজ কথা নয়। কখনও কখনও ঝামেলা, কথা কাটাকাটি হয়। তাই সত্যিকারের ভালোবাসার মধ্যে কতগুলো দিক না থাকলেই নয়। সেই বিষয়গুলোর ঠিকমতো খেয়াল রাখলেই শেষ দিন পর্যন্ত একসঙ্গে হাত ধরে হাঁটা সম্ভব।

সম্প্রতি ভারতের মনোবিদ নিকোলে লেপেরা তাঁর ইনস্টাগ্ৰামে পরিণত ভালোবাসার এই দিকগুলো নিয়েই আলোচনা করেছেন।

১.মতানৈক্যের মধ্যেও যোগাযোগ থাকা: দুজনের মধ্যে কোনও একটি বিষয়ে মতানৈক্য হতেই পারে। তবে এই কারণে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব যেন না বেড়ে যায়। কথা বলা বন্ধ করে মান অভিমান দীর্ঘ সময় ধরে চলতে না দেওয়াই ভালো।

২. ক্ষমা করা: প্রতিটি মানুষই কিছু না কিছু ভুল করে। ভুল করে বলেই সে মানুষ। যার সঙ্গে সারাটা জীবন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, তার ভুলগুলোকে ভালোবেসেই ক্ষমা করা উচিত। এতে সম্পর্কও দৃঢ় হয়।

৩.পরস্পরের প্রয়োজন হয়ে ওঠা: পরস্পরের কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠা ভালোবাসাকেই দৃঢ করে। তবে এটাও দেখতে হবে, একজনের কাছ থেকে যেন অতিমাত্রায় আশা না করা হয়। এতে সম্পর্কে তিক্ততা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৪. সরাসরি কথা বলা: কোনও সমস্যা হলে অন্যজনের থেকে না লুকিয়ে সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। একইভাবে সঙ্গীকে চিন্তিত দেখলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তার সমস্যা জানা জরুরি। দুজনে মিলে আলোচনা করে অনেক সমস্যারই সমাধান বার করা সম্ভব।

৫. স্বাধীনতা দেওয়া: সম্পর্কে থাকার পাশাপাশি পরস্পর পরস্পরকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়াও জরুরি। এতে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক সহজ হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতাও থাকে।

৬. আনন্দ: যত বেশি স্বনির্ভর হবেন, ততই নিজেদের আবেগগুলোকে আগলে রাখতে পারবেন। এতে নিজে থেকে খুশি থাকাও সম্ভব। আর নিজে খুশি থাকলে একটা সম্পর্কও ভীষণ আনন্দের হয়ে ওঠে।

৭. একসঙ্গে সময় কাটানো: সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সময় ভীষণ জরুরি। ছোট ছোট খেলা বা কাজের মধ্যে দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে সময় দিতে পারেন। এতে যোগাযোগ আরও গভীর হবে।

;

মিষ্টি মানে কি শুধুই খারাপ, আছে গুণও!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মিষ্টি মানে কি শুধুই খারাপ, আছে গুণও!

মিষ্টি মানে কি শুধুই খারাপ, আছে গুণও!

  • Font increase
  • Font Decrease

খাওয়া-দাওয়ার পর শেষ পাতে মিষ্টি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। আসলে বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি। তাই এতরকমের মিষ্টিরও চল রয়েছে। কোনটা ছেড়ে কোনটা খাবেন, প্রায় সব মিষ্টিরই কিছু না কিছু বিশেষত্ব আছে।

অনেকে মনে করেন, মিষ্টি খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভয় থেকেই অনেকে এড়িয়ে চলেন এই খাবার। আবার ডায়াবিটিস রোগীদের তো একেবারেই মিষ্টি খাওয়া ভুলে যেতে হয়। তবে মিষ্টির যে শুধু খারাপ গুণ রয়েছে তা কিন্তু নয়। বরং বেশ কয়েকটি ভালো গুণের জন্য বিশেষজ্ঞরা মিষ্টি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমানে অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা খাবার খেলে এই সমস্যা আরও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের রোজকার ডায়েটই এই অ্যাসিডিটির জন্য মূলত দায়ী। তবে, মিষ্টি খেলে এই সমস্যা কিছুটা কমতে পারে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের কথায়, মশলাদার, ঝাল ও তৈলাক্ত খাবার খেলে তা থেকে অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যায়। তবে এসব খাওয়ার পর সামান্য মিষ্টি খেলে তা অ্যাসিড হওয়া আটকায়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পাকস্থলীর গাত্র থেকে অ্যাসিড ক্ষরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। মিষ্টি এই ক্ষরণের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

মিষ্টি খেলে কী ওজন বাড়ে?

ক্যালোরিই ওজন বেড়ে যাওয়ার পিছনে মূল কারণ। তাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মিষ্টি না খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। মাপ বুঝে খেলে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না।

ডায়াবিটিস রোগীরা কী মিষ্টি খেতে পারেন?

ডায়াবিটিস হলে মিষ্টি একেবারেই খাওয়া যায় না, এমনটা কিন্তু চিকিৎসকদের মত নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা গুরুতর না হলে এক আধটা মিষ্টি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া যায়। এছাড়া অনেক বিশেষজ্ঞদের কথায়, সুগার ফ্রি দিয়ে বাড়িতে তৈরি মিষ্টি নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে।

;

কোমর ব্যথা? ১০ টি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সতর্কতা মেনে চলুন!



ডাঃ মোঃ মুরাদ হোসেন মেহেদী
কোমর ব্যথা একটি কমন সমস্যা

কোমর ব্যথা একটি কমন সমস্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোমর ব্যথা একটি কমন সমস্যা। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, অনেক চেষ্টা ও চিকিৎসা করা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি এক্ষেত্রে থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি জরুরি সতর্কতা। এখানে কোমর ব্যথায় কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হল।

কোমর ব্যথা হতে বাঁচতে কি করা চাই? কোমর ব্যথায় প্রতিকার কি?

১) ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন। নিতান্তই দরকার হলে ভারী জিনিসটি শরীরের কাছাকাছি রাখুন, চেষ্টা করুন কোমরে চাপ না লাগাতে।

২) ত্রিশ মিনিটের বেশি একটানা কোথায়ও বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। একটানা দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছেন যে কোমর ব্যথা করে? তাই একটানা কোথাও দাঁড়িয়ে থাকার দরকার যদি হয় তবে শরীরের ভর এক পা হতে আরেক পায়ে নিন কিছুক্ষণ পর পর। প্রয়োজনে একটু বসে বিশ্রাম নিন।

৩) হাঁটু না ভেঙ্গে সামনের দিকে বেশি ঝুঁকবেন না। দীর্ঘ সময় হাঁটতে হলে মহিলারা হাই হিল পরিহার করুন।

৪) মাটি হতে বা নিচ থেকে কিছু তোলার দরকার হলে না ঝুঁকে, হাঁটু ভাজ করুন অতঃপর তুলুন।

৫) কোথাও বসলে সোজা হয়ে বসুন, ঝুঁকে বসা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনার স্মার্টনেস বৃদ্ধি পাবে আর বাড়বে কনফিডেন্স। পাশাপাশি এতে পেতে পারেন কোমর ব্যথা হতে মুক্তি। কোমরের পেছনে সাপোর্ট যুক্ত চেয়ার বসার জন্য উপযুক্ত। বসার সময় এমনভাবে বসুন, যেন হাঁটু ও ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে।

৬) বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকেন? এভাবে শোবেন না। আর ফোম বা নরম স্প্রিং এর গদি যুক্ত বিছানা শরীরের তথা কোমরের জন্য ভাল নয়। পাতলা তোশক ও সমান হলে ভাল হয়।

৭) নিয়মিত শারীরিক অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রম করুন। শারীরিক শ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম করুন। হাঁটার যতটুকু সুযোগ আছে কাজে লাগান। যাতে ওজন না বেড়ে যায় যা কোমর ব্যথা সমস্যাটি বাড়বে বৈ কমাবে না!

শরীরের ওজন বৃদ্ধি কোমরের ব্যথা বাড়ায়।

৮) বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পুষ্টিকর খাবার ও পানি পরিমাণ মত খান। কেননা ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কোমরে চাপ পড়বে এবং কোমর ব্যথা সমস্যাটি বাড়বে।

৯) নানাবিধ কাজ করার সময় আমাদের ঝুঁকে কাজ করতে হয় যেমন রান্না, কাটা-কাটি, কাপড়চোপড় ধোয়া, মশলা বাটা, ঝাঁড়ু দেয়া বা চাপকল চাপার সময়। এই অভ্যাসগুলো যে কোমর ব্যথা হওয়ার কারণ তা জানেন? যদি না জানেন তবে জেনে রাখুন এসব অভ্যাসও কোমর ব্যথা হওয়ার কারণ! তাই এসব ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড স্বাভাবিক ও কোমড় সোজা রাখুন।

১০) যারা দীর্ঘদিন কোমড় ব্যথায় ভুগছেন তারা কি বিছানা থেকে ওঠা নিয়ে ভেবেছেন? বিছানা হতে উঠার সময় সতর্ক হন। কারন বিছানা থেকে উঠে বসার সময় কোমরে হঠাৎ টান লাগতে পারে।

কোমর ব্যথা বেশ অস্বস্তিকর ও দীর্ঘস্থায়ী। জীবনে সুস্থ থাকতে সতর্কতার কোন বিকল্প নেই। তাই সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত জীবন পরিচালনা করে সুস্থতা উপভোগ করুন।

 

;

ক্যানসার হলে প্রথমেই কী সমস্যা হয়, জেনে নিন!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

মাঝে মাঝেই নানারকম ব্যথায় শরীর কাবু হয়ে পড়ে। তখন দৈনন্দিন কাজ সবকিছুতেই সমস্যা হতে থাকে। কিছু ব্যথা ওষুধ খেলে কমে যায়। আবার কিছু ব্যথা ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলেই ফিরে আসে। এমন কিছু ব্যথা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ শরীরে ব্যথা দিয়েই। এই ব্যথাকে আমরা প্রায়ই এড়িয়ে চলি। এতে বিপদ বাড়ে। রোগ গুরুতর আকার নিলে রোগীকে আর সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। এমন অবস্থায় এই ব্যথাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা জরুরি।

ভারতের মাসিনা হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রসাদ কাস্বেকর  এমন কয়েকটি লক্ষণ সম্পর্কে জানিয়েছেন।

চলুন দেখে নেই সেগুলো-

১. ব্রেন টিউমার: মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, হাত পা অসাড় হয়ে যাওয়া‌ ইত্যাদি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।

২. গলা মস্তিষ্ক ক্যানসার: মুখের ভিতরে আলসার, গলার কাছে দলাভাব, গলা বসে যাওয়া, গলা দিয়ে ঘড়ঘড় আওয়াজ বেরোনো, নাক বা মুখ থেকে রক্ত বেরোনো ইত্যাদি গলা ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের লক্ষণ।

৩. ফুসফুস ক্যানসার: বুকে কফ জমে থাকা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, বুকে অস্বস্তি হওয়া, কফ দিয়ে রক্ত বেরোনো ইত্যাদি ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ।

. স্তন ক্যানসার: স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষ স্তনে কোনওরকম দলা অনুভব করা, বৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল ক্ষরণ, ত্বকের ধরন পাল্টে যাওয়া, বগলের কাছে দলাভাব অনুভব করা।

. পাকস্থলী ক্যানসার: খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া, অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তবোধ করা, খাওয়াদাওয়ার পর পেট ফুলে যাওয়া।

. লিভার বা পিত্তথলি ক্যানসার: পেটের অংশে ব্যথা, খিদে কমে যাওয়া, অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যাওয়া, লিভার বা অগ্ন্যাশয়ের আকার বেড়ে যাওয়া।

. কোলন ক্যানসার: মলত্যাগে অসুবিধা, মলত্যাগের সময় রক্ত বের হওয়া, তলপেটে ভার অনুভব করা।

. প্রস্টেট ক্যানসার: প্রস্রাবে সমস্যা বা প্রস্রাব না হওয়া প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ। অন্যদিকে প্রস্রাব দিয়ে কোনও ব্যথা ছাড়াই রক্ত বেরোনো মূত্রথলির ক্যানসারের লক্ষণ।

. রক্ত ক্যানসার: ক্লান্তি বেড়ে যাওয়া, ওজন হঠাৎ করে কমতে থাকা, মাঝে মাঝে জ্বর আসা, হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া, প্লেটলেট কমে যাওয়া এই ক্যানসারের লক্ষণ।

;