মেয়রের অনড় অবস্থান, সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড থেকে ৫ দিনে আয় ৩ কোটি টাকা

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি প্রতীকী।

ছবি প্রতীকী।

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঘুণে ধরা রাজস্ব খাত হঠাৎ করেই দুর্বার গতি পেয়েছে। যেখানে বছরে ২ কোটি টাকা আয় হতো না সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন থেকে, সেখানে গত ৫ কর্ম দিবসেই আয় হয়েছে ৩ কোটি টাকা। কচ্ছপ গতি থেকে হঠাৎ যেন বিদ্যুৎ গতি পেয়েছে রাজস্ব খাত।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের অনড় অবস্থানের কারণে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব খাত। ডিএনসিসি এলাকার সকল অবৈধ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে মাঠে নামেন মেয়র। গত ১৫ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ থেকে শুরু হয় এই অভিযান। এরপর গুলশান-১, বনানী, কাকলী ও অন্যান্য এলাকায় চলে অভিযান।

ডিএনসিসির চলমান অভিযানে সকল অবৈধ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন বৈধ করতে হিড়িক পড়ে যায়। এর কারণ মেয়র আতিকুল ইসলাম অভিযানে নেমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যত ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোন না কেন সিটিতে ব্যবসা করতে হলে আইন মেনে নিয়ম মেনেই ব্যবসা করতে হবে। এই সিটিতে ব্যবসা করতে হলে ট্যাক্স দিয়েই করতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা করা যাবে না।’

মেয়রের এই নির্দেশনা যে শুধু মুখের কথা না, তা গুলশান-২ এ অভিযানের সময় যখন আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন ও গুলশান-১ এর ট্রান্সগ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়, তখনই অন্যান্যরা নড়েচড়ে বসে। এরপর শুরু হয় সকল অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার, শপ সাইন বৈধ করণের কাজ।

অর্থাৎ গত ১৫, ১৬, ১৭ , ২০, ২১ সেপ্টেম্বর অফিস দিবসে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার, শপ সাইন বৈধ করতে শুরু হয় পে অর্ডার জমার কার্যক্রম। সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট সাইনবোর্ডের জন্য ট্যাক্স ১০০ টাকা আর আলোকিত হলে ১৫০ টাকা।

ডিএনসিসির রাজস্ব খাতের ধারণা এই বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, শপ সাইন খাত থেকে বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা আসতে পারে। যা আগে বছরে ২ কোটি টাকার মতো আসত।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবদুল হামিদ মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই যে ৫ দিন বা ১০ দিনে ৩ কোটি টাকা আয়, এটা কিন্তু ‘রাই কুড়িয়ে কুড়িয়ে বেল’ (অর্থাৎ ক্ষুদ্র থেকে বড়)। আগে মানুষ জানত না এই বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, শপ সাইন, প্রজেক্ট সাইন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুনের জন্য আলাদা ট্যাক্স দিতে হয়। অভিযানে গিয়ে আমাদের মেয়র মহোদয়ের অনড় অবস্থানের কারণে মানুষ এখন সচেতন হয়েছে। মানুষ সাড়া দিচ্ছে। আমার ধারণা এই খাত থেকে ডিএনসিসি ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা আয় করতে পারে।’

অবৈধ বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড অপসারণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
 

এদিকে রাজস্ব খাতের আরও একটি বড় অর্জন হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স এর আওতা বৃদ্ধি। এজন্য গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিএনসিসির জোন-৫ (কাওরানবাজার) ও জোন-২ (মিরপুর) এ চিরুনি অভিযান শুরু হয়। গত ১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিরুনি অভিযান চালিয়ে দুই অঞ্চলে মোট ১০ হাজার ৩৯৯টি হোল্ডিং পরিদর্শন করে।

হোল্ডিং ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট বিহীন পেয়েছে ৭৩৪টি। আর সম্প্রসারিত হোল্ডিং পেয়েছে ১ হাজার ৬৬৪টি। এর মধ্যে জোন-২ মিরপুর অঞ্চলে মোট ৫ হাজার ১৭৮টি হোল্ডিং পরিদর্শন করে অ্যাসেসমেন্ট বিহীন পেয়েছে ৫৮৬ টি, সম্প্রসারিত হোল্ডিং পেয়েছে ১ হাজার ২৪৪ টি, আর জোন-৫ মোহাম্মদপুর এলাকায় মোট ৫ হাজার ২২১টি হোল্ডিং পরিদর্শন করে অ্যাসেসমেন্ট বিহীন পেয়েছে ১৪৮টি, সম্প্রসারিত হোল্ডিং পেয়েছে ৪২০টি।

এছাড়া ৪ হাজার ৫৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে লাইসেন্স নবায়নবিহীন পেয়েছে ৪৩৭টি এবং ট্রেড লাইসেন্সবিহীন পেয়েছে ২ হাজার ২৮৯টি। এর মধ্যে অঞ্চল-২ মিরপুর এলাকায় লাইসেন্স নবায়নবিহীন পেয়েছে ২১৬টি এবং ট্রেড লাইসেন্সবিহীন পেয়েছে ২ হাজার ২২টি। আর অঞ্চল-৫ মোহাম্মদপুর এলাকায় লাইসেন্স নবায়নবিহীন পেয়েছে ২২১টি এবং ট্রেড লাইসেন্সবিহীন পেয়েছে ২৬৭টি। যেসকল হোল্ডিং ট্যাক্স এর আওতায় ছিল না, সেগুলো ট্যাক্স নির্ধারণ করা হচ্ছে। আর যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ছিল না, সেগুলোর ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। এই খাত থেকেও বিরাট একটা রাজস্ব পাবে ডিএনসিসি।