ফরিদপুরে তিন বিকাশ প্রতারক আটক



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তিন বিকাশ প্রতারক। ছবি: বার্তা২৪.কম

তিন বিকাশ প্রতারক। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের মধুখালীর ডুমাইন গ্রাম থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সক্রিয় তিনজন বিকাশ প্রতারককে আটক করেছে র‌্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্প। এ সময় তাদের কাছে থেকে বিকাশ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল সেট ও ২৭টি সিম কার্ড জব্দ করেছে।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৮, সিপিসি-২, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার।

আটককৃতরা হলো- ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন গ্রামের আকবর মোল্লার ছেলে মো: নুর আলম মোল্লা (১৯), মো: সাজ্জাদ আলী কনকের ছেলে মো: শাজারুপ শেখ অমি (১৮) ও মো: জিন্নাহ শেখের ছেলে মো: শাকিল শেখ (১৯)।

প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে র‌্যাব-৮, সিপিসি-২, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার জানান, র‌্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্প গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানাধীন ডুমাইন গ্রাম এলাকায় কিছু ব্যক্তি বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্প গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গভীর অনুসন্ধান করে। ঘটনা সত্যতা সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্তির পর র‌্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল সোমবার (৯ নভেম্বর) গভীর রাতে ডুমাইন গ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়।

এ সময় আটককৃত প্রতারক চক্রের সদস্যেদের হেফাজত হতে বিকাশ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল ফোন ও ২৭টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিগণ বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দুর্নীতিপরায়ণ মোবাইল সিম বিক্রেতার সাথে পরস্পর যোগসাজস করে ভুয়া নামে সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন ও উক্ত সিমকার্ড ব্যবহার করে অসাধু ডিএসআর (বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বিকাশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগকৃত এজেন্ট) গণের মাধ্যমে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলে।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা দুর্নীতিপরায়ণ ডিএসআর গণের নিকট থেকে অর্থের বিনিময়ে বিকাশ এজেন্টদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে ঐসব ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সহজ সরল সাধারণ জনগণের নিকট নিজেকে বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে কৌশলে তাদের বিকাশ পিন কোড জেনে নেয় এবং স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপস ব্যবহার করে উক্ত সাধারণ লোকজনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট হতে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়।

আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।