আল্টিমেটামে ক্ষমা চাইলেন না মিনু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবজ্ঞা ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার’ ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল আওয়ামী লীগ। এ জন্য তাকে ৭২ ঘণ্টার সময়ও বেধে দেয়া হয়। সেই সময় শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে মিনু ক্ষমা চাননি। এখন তার ব্যাপারে আজ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে।

গত মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আজ রাত, কাল আর সকাল নাও হতে পারে। ৭৫ মনে নাই?’ সেই সমাবেশে মিনু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন।

এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে নগর আওয়ামী লীগ। পরদিনই বিক্ষোভ-সমাবেশ করে দলটি। সেই সমাবেশ থেকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মিনুকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। বলেন, এই সময়ের মধ্যে মিনু ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এক প্রতিবাদলিপিতে মিনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। নগর ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে তো মিনুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। কিন্তু এসব নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি বিএনপি নেতা মিনু। তিনি ক্ষমাও চাননি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ফোনে মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি বিষয়টি নিয়ে ফোনে কোন কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন। মিনুর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, মিনু এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি রাজনৈতিক কৌশলেই বিষয়টি মোকাবিলা করতে চাইছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেয়া একটি বক্তব্যকে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে তাকে নিজ দলের ভেতরেই বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল। আর সে কারণেই তিনি এবার ক্ষমা চাইলেন না।

২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে তুলনা করে কটুক্তিমূলক বক্তব্য রাখেন। এ নিয়ে রাজশাহীতে বিক্ষোভ করে আওয়ামী লীগ। তখনও তাকে ক্ষমা চাইতে হয়। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন সাবেক সিটি মেয়র মিনু।

অবশ্য এবারের ঘটনায় ক্ষমা নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি মনে করে, মিনুর এমন ঔর্দ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘মিনু জঙ্গিবাদের মদদদাতা। তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত থাকেন। জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ফাঁসির আগে আদালতে দেয়া তার বক্তব্যে বলেছিল, মিনু তাকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করতেন। ফলে এটা পরিস্কার যে মিনু সব সময় একটা ষড়যন্ত্রের মধ্যে থাকেন। তার এবারের বক্তব্য সরাসরি আরেকটা ১৫ আগস্ট ঘটানোর ইচ্ছার ইঙ্গিত। একে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ক্ষমা করারও কারণ নেই। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আল্টিমেটামের ৭২ ঘণ্টা পর মিনুর ব্যাপারে এখন কী ভাবছে নগর আওয়ামী লীগ, তা জানতে দলটির মহানগরের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে শনিবার রাতে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার মন্তব্য জানা যায়নি। তবে দলটির মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানিয়েছেন, রোববার ৭ই মার্চের কর্মসূচি শেষে দলের একটি সভা আছে। সেই সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা ১১টা-১২টার মধ্যে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’ মিনুর বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে নগর আওয়ামী লীগ মামলার দিকে এগোতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

শনিবার দুপুরে ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভার শুরুতে এ প্রসঙ্গে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই ঐতিহাসিক ক্ষণে এখনও তারা হত্যা-ক্যু-চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে ব্যস্ত। তাদের টার্গেট উন্নয়নের কারিগর, অগ্রগতির ধারক-বাহক, নন্দিত রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ। বিএনপির ওই নেতা (মিজানুর রহমান মিনু) আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর যে বক্তব্য দিয়েছে, এ ধরনের সাহস কীভাবে পেলো।

কাদের বলেন, আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে চাই, আজ মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, স্বাধীনতার আদর্শ নিয়ে চিৎকার করছেন, আজকে মায়াকান্না কাঁদছেন, দরদ দেখাচ্ছেন। তিনি কি জবাব দেবেন? রাজশাহীতে তার দলের নেতা প্রকাশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন, আরেকটা ১৫ আগস্ট ঘটানোর, এরকম মানসিকতা এরকম চরিত্র নিয়েই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করবেন, সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মুহূর্তে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সাহস আপনার দলের নেতা কি করে পেলো? এটা আপনাদের দলীয় বক্তব্য কি-না? আপনার কাছে জানতে চাই?’

আগের দিন শুক্রবারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তখন তিনি বলেন, বিএনপির নেতা দেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর যে ইঙ্গিতপূর্ণ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে দেশবাসী বিক্ষুব্ধ। এই বক্তব্য বিএনপির ফ্যাসিবাদী মানসিকতা, ষড়যন্ত্র এবং খুনের রাজনীতির চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় বিএনপি এখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছে। এ ষড়যন্ত্রের জাল দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। তাদের বক্তব্য লন্ডনের ছক অনুযায়ী গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।