‘ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় করছে সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় কমিটি বন্যার্তদের সহায়তায় তৎপর ছিল। আমাদের যা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্যার্তদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  

বুধবার (২২ জুন) গণভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পদ্মাসেতু উদ্বোধন, বন্যা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে স্মরণেকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জ। সিলেট বিভাগের মৌলভিবাজার এবং হবিগঞ্জ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উত্তারাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, জামালপুর, শেরপুর জেলাসহ ১১টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। এ সময় বন্যা হবে এটাই স্বাভাকি। স্বাভাবিক বন্যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত। বন্যার পানি আমাদের কৃষি জমিকে উর্বর এবং সতেজ করে। ময়লা আবর্জনা-জঞ্জাল ধুয়ে মুছে সাফ করে নিয়ে যায়। এ ধরনের বন্যার সঙ্গে বসবাস করতে আমাদের দেশের মানুষ অভ্যস্থ। স্বাভাবিক মাত্রার বন্যা মোকাবিলা করার সক্ষমতাও আমাদের সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। রাস্তা ঘাট নষ্ট হলে তা দ্রুত মেরামত করা হবে। কৃষকদের বীজ প্রদান করা হবে। সড়কের যেখানে কাটা হয়েছে সেগুলোতে ব্রিজ কালভার্ট করে দেওয়া হবে। যাতে করে পানি বের হয়ে যেতে পারে। 

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ। আমাদের বন্যা নিয়ে বসবাস করতে হবে। সেভাবে আমাদের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। বন্যার পানি নেমে গেলে বাড়িঘর মেরামত এবং কৃষি পুনর্বাসনের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের আশ্বাস দিতে চাই, সরকার আপনাদের পাশে আছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘কিন্তু গত সপ্তাহে সিলেটে যে বন্যা হয়েছে তা অকল্পনীয়। এটাকে প্রলয়ঙ্করী বললেও ঠিক বুঝানো যায় না। সিলেট বিভাগের উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে তিন দিনে ২ হাজার ৫০০ মিলিমিটারে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ১২২ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।’

সরকারপ্রধান বলেন, মেঘালয় ও আসাম পাহাড়ি এলাকা। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত ভাটির দিকে সমতল ভূমি- সুনামগঞ্জ-সিলেটে প্রবেশ করে প্লাবিত করছে। এ অঞ্চলের হাওর ও নদীগুলোর স্বাভাবিক বন্যার পানি ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ পানি ধারণ ও পরিবহনের ক্ষমতা এসব হাওর বা নদীগুলোর নেই। ফলে পানি ফুলে-ফেপে উঠে গ্রাম, শহর, নগর, সড়ক-মহাসড়ক প্লাবিত করছে। এবারের বন্যা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহতম। বিগত একশো-সোয়াশো বছরের মধ্যে এত প্রলয়ঙ্করী বন্যা এ এলাকায় হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ নেতাকর্মীদের দুর্গত মানুষদের সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজ চালাচ্ছে। আমি নিজে গতকাল (মঙ্গলবার) সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যাকবলিত সিলেট অঞ্চলে ১ হাজার ২৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৩০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বন্যাকবলিথ ১১ জেলা ৯০০ মেট্রিক টন চাল, ৩ কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৫৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির। আমরা সে ব্যবস্থাই করেছি। আমাদের দলের নেতাকর্মীরাও সাধ্যমত দুর্গত মানুষের ঘরে শুকনো এবং রান্না করার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে দু-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার ( ৫ জুলাই) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন এই ভবন পরিদর্শনের সময় ভবনটি নির্মাণকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা ভবন সম্পন্ন হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, উইং ও  অন্যান্য শাখার জন্য স্থানসংকুলানের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে এবং আধুনিক সুবিধাবিশিষ্ট কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ভবনটির নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি দেখতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার আকস্মিক পরিদর্শন করেন এবং যথাসময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

মঙ্গলবার ভবনটি পরিদর্শনের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (সাধারণ সেবা) মোহাম্মদ হজরত আলী খান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডি এম সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) জানিয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস।

মঙ্গলবার (৫ জুন) তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেখর বিশ্বাস বলেন, 'মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ জুনের এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিষয়টি রেজিস্টারিং অথরিটির নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাবে না।'

এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

;

টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা দশ কেজি চালে বড় বড় পাথর পাওয়া গেছে। এতে চাল নিতে আসা উপকাভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) ভূঞাপুর পৌরসভায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে পাথরযুক্ত চালের বস্তাগুলো পরিবর্তনের আশ্বাস দেয়া হয়। এছাড়াও পোকা, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের চাল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূঞাপুর উপজেলা গোডাউন কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আব্দুল হালিম জানান, চালে পাথর পাওয়ার পরই বস্তাগুলো পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে চালে এমন পাথর থাকতেই পারে। চাল যে চাতালগুলোতে শুকানো হয়, চাতালের পাথরগুলোই উঠে চালে মিশেছে।

ভূঞাপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক কাজী হামিদুল হক বলেন, হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওয়তায় ৬টি ইউনিয়নে ১০২ মেট্রিকটন এবং পৌরসভায় ৩০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই চালের বস্তাগুলো গত বছর গোডাউনে মজুদ করা হয়েছিল। এই মৌসুমটায় চালে পোকা ধরে। পোকা দমনে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। 

মঙ্গলবার পৌরসভায় চালগুলো বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া গেছে। সেগুলো পরিবর্তন করে দেয়া হবে।

ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ জানান, চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বস্তাগুলো পরিবর্তন করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান জানান, পাথরযুক্ত চালের বস্তাগুলোতে পরিবর্তন করে দেয়ার জন্য খাদ্য পরিদর্শককে জানানো হয়েছে। কেন চালে পাথর পাওয়া গেলে সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন

ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন

  • Font increase
  • Font Decrease

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) নিকৃষ্ট যন্ত্র আখ্যা দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে এটি ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

সেই সঙ্গে সংগঠনটির সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারকুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে সুজন। সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম নিয়ে সুজনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সুজন সম্পাদক বলেন, ২০১২ সালে কুমিল্লা নির্বাচনে ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক ইভিএমে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে পেপার ব্যালটে ভোট পড়েছিল ৬৪ শতাংশ। এবারে সেখানে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশ। ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে, বায়োমেট্রিক ছাপ না মেলায় অনেকে বিরক্ত হয়ে চলে গেছে। এখানে ইভিএম মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। ইভিএম যদি মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সেই ইভিএম ব্যবহারের যৌক্তিকতা কী?

গত কয়েকটি নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট পড়ার হার তুলনা করেছে সুজন। তাতে দেখা যাচ্ছে ইভিএমে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়ছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন,গত জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল ৬টি আসনে আর ২৯৪টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল পেপার ব্যালটে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২৯৪ আসনে যেখানে পেপারব্যালটে ভোট হয়েছে, সেখানে ভোট পড়েছে ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে যে ৬টি আসনে ইভিএমে ভোট হয়েছে সেখানে ভোট পড়েছিল ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ ৩০ শতাংশ পার্থক্য। এর মানে যেখানে পেপার ব্যালটে ভোট হয়েছে সেখানে কারসাজি করা হয়েছে, না হয় যেখানে ইভিএমে ভোট হয়েছে, সেখানে মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রোবায়েত ফেরদৌস এবং সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

কুমিল্লা নির্বাচন সম্পর্কে সুজন-এর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এই নির্বাচনে মূল আলোচিত ঘটনা ছিল কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি। তিনি এলাকা ছাড়ার ব্যাপারে ইসির নির্দেশ অমান্য করা সত্ত্বেও বিধিমালার ৩১ ও ৩২ ধারা অনুযায়ী শাস্তির বিধান প্রয়োগ না করায় কমিশন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে কমিশন থেকে বলা হয় বাহাউদ্দিনকে এলাকা ছাড়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি কমিশনের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা না ফিরলে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কখনই সম্ভব নয়। তাই, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যথাযথ তদন্ত পূর্বক এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, কুমিল্লা নির্বাচন ছিল এই কমিশনের প্রথম পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষাতেই তারা অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইভিএমে প্রিন্টআউট না থাকার কারণে পুনঃগণনার সুযোগ নেই। যারা ইভিএমে ভোট দিতে না পেরে ফেরত যান, তাদের জন্য বিকল্প ভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সরকারি লোকজন যদি সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে পদত্যাগ করার সাহস ও দৃঢ়তা দেখাতে হবে। কমিশন এই দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

;