ভয়ের কোন কারণ নেই, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহাসংকটের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি সাময়িক উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবেলায় দেশের মানুষকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐকবদ্ধ্য থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, অনেক উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমাদের দেশের অবস্থা এতো খারাপ হলে তারা তো আমাদের সহযোগিতা করতো না। একটি গ্রুপ বলে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলংকা হবে। কেন হবে? শ্রীলঙ্কা কি করেছে আর আমরা কি করছি? ভয়ের কোন কারণ নেই। আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন।

আজ দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত 'নিত্যপণ্য ও জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি: জনজীবনে চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহবান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলমান। এই যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বেই এখন টালমাটাল অবস্থা। অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ সবকিছু নিয়েই মানুষ আতঙ্কিত। এখন আবার তাইওয়ান-চায়ান ‍উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সেটির প্রভাব কিন্তু সারাবিশ্বে পড়বে। পৃথিবীতে কি হতে যাচ্ছে ভবিষ্যত বাণী করা কঠিন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ইউরোপী ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক দেশ প্রয়োজনের বড় অংশ গ্যাসসহ ফুয়েলের ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। ফুয়েল উৎপাদনে প্রথম হচ্ছে ভেনিজুয়েলা, এরপর সৌদি আরব এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধের কারণে এসব দেশ তেল সরবরাহ করতে না পারায় সারাবিশ্বেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশেও এর বাহিরে নয়।

মন্ত্রী বলেন দেশের মানুষ কষ্টে থাকুক এটা বঙ্গবন্ধু কন্যা কখনোই চাননা। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করছেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, গ্রাম-গঞ্জের কোন মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেকটি মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড় আছে। গ্রামের প্রায় সব রাস্তাঘাট পাকা হয়ে গেছে। প্রত্যেক গ্রামে প্রাইমারি স্কুল করা হয়েছে, ঘর না থাকলে ঘর করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবক্ষেত্রে ভুর্তকি দেয়া যায় না। ভুর্তকি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার কাকে ভুর্তকি দিবে? ধনীকে না গরীবকে? সবখানে ভর্তুকি দিলে অন্য খাতগুলো শৃঙ্খলা হারাবে। ভর্তুকি কোথায় দিতে হবে সরকার সেটি অ্যানালাইসিস করে তারপর দেয়।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য করোনা মহাসংকটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছিলো। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে পূর্ব থেকেই করোনার টিকা ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী জানতেন টিকার ক্রাইসিস দেখা দিবে। বাংলাদেশ পৃথীবির মধ্যে করোনা মোকাবেলায় পঞ্চম স্থান অর্জনে করেছে, এশিয়াতে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার যুদ্ধে জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এদেশ স্বাধীন করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ৯০ শতাংশ মানুষ একাত্ম থাকলেও আমরা যে কোনো সংকট মোকাবেলা করে বিজয় অর্জন করবোই। বর্তমান সংকট বৈশ্বিক  তাই সবাইকে ঐকবদ্ধ্য হয়ে কাজ করতে হবে।

নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক সোহেল মামুনের সঞ্চালনায় সংলাপে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি হিসাবে গোলাম রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ঢাবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রিয়াজুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৫ ও ১৪২৬ প্রদান করা হচ্ছে। এরমধ্যে ১৪২৫ সালের ১৫ ব্যক্তি ও সংগঠনকে এবং ২১ ব্যক্তি ও সংগঠনকে ১৪২৬ সালের জন্যে পুরস্কার দেয়া হবে।

কৃষির বিভিন্নখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ব্যক্তি ও সংস্থার মধ্যে তিনটি স্বর্ণপদক, ২৫টি ব্রোঞ্জ পদক এবং ১৬টি রৌপ্য পদক বিতরণ করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পুরস্কার প্রদান করবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কৃষিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

প্রত্যেক স্বর্ণ পদক বিজয়ী পাবে ২৫ গ্রাম ওজনের ১৮-ক্যারেট স্বর্ণপদকসহ এক লাখ টাকা করে, রৌপ্যপদক বিজয়ী ২৫ গ্রাম খাঁটি রৌপ্য পদকসহ ৫০ হাজার টাকা করে এবং ব্রোঞ্জ বিজয়ী প্রত্যেকে একটি করে ব্রোঞ্জপদকসহ ২৫ হাজার টাকা পাবে।

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ, সমবায়, প্রেরণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাণিজ্যিক চাষ, বনায়ন, পশুপালন ও হাঁস-মুরগি ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন। যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গঠিত সরকার বাতিল করে।

তবে, ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত পুরস্কারটির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিল আইন-২০০৯’ গঠন করে।

এই খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন, ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়।

;

প্রয়োজন মনে করলে সরকার র‍্যাবের সংস্কার করবে: নতুন ডিজি খুরশীদ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গোপালগঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)-এর নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, র‌্যাবের সংস্কারের বিষয়টি তাদের দেখার বিষয় নয়। র‌্যাবে কী সংস্কার হবে, কী হবে না-সেটা সরকারের বিষয়। প্রয়োজন মনে করলে সরকার র‌্যাবের সংস্কার করবে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ]র‌্যাবের সংস্কারের কোনো প্রয়োজন দেখি না।

রোববার (২ অক্টোবর) বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন ডিজি খুরশীদ বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সরকার মোকাবিলা করছে। তারা আমাদের কাছে যেসব প্রশ্ন করেছে, যেসব বিষয় তারা জানতে চেয়েছে, আমরা যথাযথভাবে তার জবাব দিয়েছি। আমরা জবাব দেওয়ার পর তারা আর কোনো প্রশ্ন করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে র‌্যাবে কী সংস্কার করবে, কী করবে না, সেটা সরকারের বিষয়।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। প্রয়োজন মনে করলে সংস্কার করবে কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে র‌্যাবের সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি না।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, র‌্যাব আইন-কানুন মেনে সরকারের নির্দেশ পালন করে। আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য, প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন, সেটা বেগবান রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;

প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ১৫৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই অঙ্ক গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ (প্রায় ১.৫৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের এ অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বরের প্রবাসী আয়ের এই অঙ্ক গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১৪৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। সেপ্টেম্বরের চেয়ে কেবল ওই মাসে কম এসেছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্য সব মাসে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের টানা দুই মাস ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগস্ট মাসে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। জুলাই মাসে পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে বেশি পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। তবে আগস্টে বড় উৎসব ছিল না, তারপরও প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়ায়।

সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১২৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬১ লাখ মার্কিন ডলার। আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪১ মার্কিন ডলার।

আলোচিত সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এরপর সিটি ব্যাংকে এসেছে ১১ কোটি ২৮ লাখ ডলার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ১০ কোটি ৭২ লাখ ডলার, অগ্রণী ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকে এসেছে ৭ কোটি ৯২ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

;

মহামারির প্রকোপেও বিকশিত লিডার্স স্কুল



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বার্তা২৪.কম

লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির কিছুদিন আগে ২০১৮ সালে ছোট্ট পরিসরে চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন বালুছড়া এলাকায় শুরু হয় লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মহামারির প্রকোপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও লিডার্সের বিকাশ হয়েছে অভাবনীয় গতিতে। করোনা সঙ্কটের মধ্যের বছরগুলোতে প্রায় আট শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের নিয়ে কাজ করছেন শতাধিক শিক্ষক ও সহায়ক স্টাফ।

লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের উল্লেখযোগ্য বিকাশ সাধিত হয়েছে কোভিদ প্রটোকল, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মান্য করে। শিক্ষার্থীদেরও আনা হয়েছে টীকাকরণ কর্মসূচির আওতায়। অভিভাবকরা বলছেন, "এসব ছাড়াও শিক্ষার মানগত ও পরিবেশগত দিকগুলো এখানে আকর্ষণীয়। ফলে চট্রগ্রাম মহানগরের আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাতারে স্থান লাভ করেছে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ।"

লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্বপ্নদ্রষ্টা কর্নেল (অব.) আবু নাসের মো. তোহা, যিনি চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে গড়ে তুলেছেন লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বার্তা২৪.কম'কে কর্নেল (অব.) আবু নাসের মো. তোহা বলেন, "ভালো ছাত্র হওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ করতে হবে। ভালো মানুষ হলে সে ভালো ছাত্র হবেই।"

"এজন্য আমরা অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার সমান্তরালে নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান করি। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সালাম চর্চা, ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং ভুল করলে কালবিলম্ব না করেই সরি বলার অভ্যাস করানো হয়। পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জাগানো হয় তাদের মধ্যে", বলেন তিনি।

স্কুলের পরিবেশও বেশ সুন্দর আর পরিপাটি। লতা, গুল্ম, ক্যাকটাস দিয়ে আচ্ছাদিত পুরো প্রাঙ্গণ। রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা, যেখানে নানা জাতের পাখি ও উদ্ভিদ শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেখে চিনতে পারে। প্রতিদিন সকালে স্কুলের শুরু হয় আনন্দঘন আবহে। প্রতিটি শিক্ষক উপস্থিত থেকে অভিভাবকদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রহণ করেন। পড়াশোনা, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যবিধি এবং ভালো ও মন্দ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। মোবাইল, টিভি আসক্তি এ কারণে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে ঘেঁষতে পারে না। মেধা বিকাশের সৃজনশীল প্রয়াসের সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যা, প্রবঞ্চনা, সন্ত্রাস ইত্যাদির বিরুদ্ধেও নৈতিক প্রতিরোধ তৈরি করা হয় তাদের মননে।

কর্নেল (অব.) আবু নাসের মো. তোহা বলেন, "ভালো শিক্ষার জন্য প্রয়োজন ভালো প্রতিষ্ঠান ও ভালো পারিবারিক পরিবেশ। আমরা তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মতবিনিময় করি। প্রতিটি ছাত্রের সমস্যা ও সম্ভবনার দিকগুলো চিহ্নিত করে কাজ করছি আমরা। ফলে শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে ভালো মানুষ ও ভালো ছাত্র হিসাবে গড়ে উঠছে।"

তিনি বলেন, "অবসর গ্রহণের পর একটি দৃষ্টান্তমূলক আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্নময় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করি। মহান আল্লাহর রহমতে আমরা সামাজিক নেতৃত্ব, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সমর্থন ও সহযোগিতা পাচ্ছি। আমরা আশা করি, শুধু চট্টগ্রামের নয়, বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অচিরেই লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থান লাভ করবে।"

;