মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট সূত্রনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট সূত্রনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী

মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট সূত্রনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

‘পক্ষপাতদুষ্ট সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে করা মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন একপেশে’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার (২২ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স ও বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে উল্লিখিত বাংলাদেশ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন একটি সূত্র থেকে নয়, সরকারিবিরোধী এবং পক্ষপাতদুষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছে। সুতরাং সেই প্রতিবেদনটা একপেশে। অবশ্যই পুরো প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি না কারণ সেখানে অনেক ভালো কথাও বলা আছে। তবে সার্বিকভাবে আমাদের মানবাধিকার, নির্বাচন, গণতন্ত্র সংক্রান্ত যে সমস্ত বিষয়াদি আছে সেগুলো পক্ষপাতদুষ্ট।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়েও তো অনেক প্রশ্ন আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তো এখনো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। সেটির প্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যেভাবে ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়েছে, সে ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা তো আমাদের দেশে কখনো ঘটে নাই। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে তাদের নিজেদের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো আছে বা তাদের নির্বাচন হওয়ার পর ক্যাপিটল হিলে যে হামলা, সেই বিষয়গুলোর দিকে তাদের তাকানো প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’ ‘ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার কিম্বা নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দেয় কি না, সেটিও দেখার বিষয়’ বলেন তিনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা নিয়ে কথা বলে -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের দিকে তাকালে দেখা যায় ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ৭ হাজার ৬৬৬ জন, ২০২০ সালে ৯৯৬ জন, ২০২১-২০২২ সালে গড়ে প্রায় ১ হাজার জন।’

তিনি বলেন, ‘যেই দেশে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার মানুষ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়, সেখানে অন্য দেশকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার নৈতিক অধিকার কতটুকু আছে, সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন। আমাদের দেশে যে কখনো এমন হয় না আমি সেটি বলছি না। কিন্তু সেগুলোর তদন্ত হয় এবং তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিও বিধান করা হয়।’

এর আগে সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার এবং ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি মো: আলমগীর হোসেন খান সংগঠন দু’টির সদস্যদের কর্মক্ষেত্রের নানা বিষয় উত্থাপন করেন। সংবাদপত্র কর্মচারি ও নিউজপেপার প্রেস শ্রমিকদের জন্য করোনাকালীন সহায়তা, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, কল্যাণ ফান্ড গঠনসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন তারা। মন্ত্রী বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুবিবেচনার আশ্বাস দেন।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: কাউসার আহাম্মদ, সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশনের সহসভাপতি মো: বজলুর রহমান মিলন, মহাসচিব মো: খায়রুল ইসলাম, সদস্য মো: তানভীর হোসাইন, মো: আমিনুল ইসলাম, মো: আব্দুল গফুর, মো: রফিকুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ, মো: শাহাদাত হোসেন, আব্দুল কাদির, মো: হামিদুর রশিদ খান, আবিদা সুলতানা এবং ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সহসভাপতি শামীম চৌধুরী, মহাসচিব মো: কামাল উদ্দিন, সদস্য মো: রাজ্জাক পাটোয়ারি, এ এইচ এম নাজমুল আহসান, মো: মোস্তাক আহমদ, তাজাম্মেল হক, মো: ইউসুফ আলী, মো: আবদুল মান্নান, মো: আতিউর রহমান, মো: লিয়াকত আলী ও সেলিনা আক্তার ইতি বৈঠকে অংশ নেন।

কোটা আন্দোলনে সহিংসতায় সিসিক’র ক্ষতি ১৪ কোটি টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: খুলে নিয়ে গেছে রাস্তার ব্যারিকেড

ছবি: খুলে নিয়ে গেছে রাস্তার ব্যারিকেড

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব পড়ে সিলেটেও। আন্দোলন চলাকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংহিসতার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে নগরীজুড়ে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তথ্যমতে, আন্দোলনচলাকালে প্রায় ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট নগরীর আখালিয়া ও ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া সিসিকের ময়লার গাড়ি ও ডাস্টবিন ভাংচুর করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুবিদবাজার থেকে তেমুখী মুখ পর্যন্ত সড়ক বিভাজকগুলো ভাঙা হয়েছে। মাঝখানে সৌন্দর্যবধনের জন্য লাগানো গাছ ও রেলিং ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিলেট নগরীর পত্রিকাপয়েন্ট খ্যাত করিম উল্ল্যা মার্কেটের সামনে ও ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি এ সড়কের পাশেই। ফলে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় আখালিয়া এলাকায় অনেকে লোহার গ্রিল দিয়ে বানানো সড়ক বিভাজক ভেঙে নিয়ে গেছে। অনেকে আবার সেগুলো বিভিন্ন ভাঙারি দোকানে বিক্রি করেছেন বলে তারা ধারণা করছেন। আর দোকান মালিকরা ট্রাকে সেগুলো অন্য স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এব্যাপারে সিলেট সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর হয়েছে। নগরীর বন্দরবাজার থেকে ধোপাদিঘীরপাড় ও সুবিদবাজার থেকে তেমুখী সড়কে লোহা দিয়ে বানানো ডিভাইডার, রেলিং ও সৌন্দর্যবধনে লাগানো গাছের ক্ষতি করা হয়েছে।

এছাড়াও সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার ১৫টি ট্রাক, দুই শতাধিক ডাস্টবিন ও বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙচুর হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশেনের ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, শাবিপ্রবি এলাকায় সিসিকের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। সুবিদবাজার থেকে তেমুখী সড়ক (বিশ্ববিদ্যালয় এলাক) পর্যন্ত সাড়ে ৭কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে আমাদেরকে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি।

;

পুলিশ মারলে ১০ হাজার, ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার: ডিবির হারুন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার যুবদল নেতা নুরে আলম সিদ্দিকি পিটন লন্ডন থেকে নির্দেশনা পান পুলিশ মারলে ১০ হাজার এবং ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই নির্দেশনার পর মাঠে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় নুরে আলম সিদ্দিকির দুলাভাই মো. আব্দুল আজিজ ওরফে সুলতানকে। সেই সুলতানকে গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

ডিবি বলছে, গ্রেফতার আব্দুল আজিজ ছাত্রদের মিছিলের ভেতর টাকার বিনিময়ে টোকাই ও ছিন্নমূল শ্রেণির লোকদের ঢুকিয়ে তাদের দিয়ে দেশব্যাপী হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের নির্দেশনা দিয়ে আসছিল। টাকার বিনিময়ে টোকাই ও ছিন্নমূলদের দিয়ে রাজধানীর উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গ্রেফতার মো. আব্দুল আজিজ ওরফে সুলতান

তিনি বলেন, সরকার পতনের আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য গ্রেফতার মো. আব্দুল আজিজ সুলতান টোকাই ও ছিন্নমূল শ্রেণির লোকদের দিয়ে একজন ছাত্রলীগকে মারলে ৫ হাজার টাকা এবং একজন পুলিশ সদস্য মারলে ১০ হাজার টাকা প্রদান করার জন্য জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের নির্দেশনা প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার আসামির প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা টাকার বিনিময়ে টোকাই ও ছিন্নমূলদের দিয়ে রাজধানীর উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

পুলিশের যদি মনোবল ভেঙে দেওয়া যায় তাহলে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির যে ষড়যন্ত্র তা সফল হবে। সেই মানসিকতা নিয়েই গত বছরের ২৮ অক্টোবরও পুলিশের ওপর হামলা করেছিল। সে সময় একজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ হাসপাতাল ও প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাঙচুর করা হয়। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রটি আবারও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন-হামলা ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। এটা কি কোনো সভ্য দেশের মানুষের পক্ষে সম্ভব, প্রশ্ন মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের।

;

বগুড়ায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর মামলার আসামি আ. লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা, সদ্য পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ছাত্রলীগ নেতা, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দুটি বেসরকারি পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ ও পরিচালকসহ অনেককেই। এরমধ্যে ৬৮ বছর বয়সী এক নারী কাউন্সিলরকেও আসামি করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজা বাদী হয়ে গত ২২ জুলাই রাতে ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শহর যুবলীগের রহমান নগর আঞ্চলিক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক কাজলকে ৬৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তিনি শহরের বিআরটিসি শপিং কমপ্লেক্সের সভাপতি। ওই মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন আকরামকেও আসামি করা হয়েছে। অথচ তার নিজের এবং শ্বশুর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার আপন ভাই বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই মামলার অপর আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী। ওই মামলায় ১২ নম্বর আসামি জাকি তাজওয়ার সমুদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের উপদফতর সম্পাদক ছিলেন। তিনি বগুড়া শহরের সাতমাথায় জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত ১৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাওন পালকে। অথচ হামলার সময় জেলা ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ও আক্রান্ত হয়। মামলায় বগুড়ার বিআইআইটি নামক বেসরকারি পলিটেকটিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন সৈকত ও আইআইটিবি’র পরিচালক সবুর শাহ লোটাসকেও আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র-৩ ও নারী কাউন্সিলর ৬৮ বছর বয়সী শিরিন আক্তারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তার স্বামী বজলুর রশিদকে বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা কাজল দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আসামি হওয়াকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার সময় আমিসহ সাধারণ সম্পাদক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ মার্কেট রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। দোকান-পাটে হামলা এবং লুটপাট ঠেকাতে সকলে মিলে মার্কেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মার্কেটে প্রবেশ বন্ধ করে দেই। অথচ আমি নিজে যে দলের সদস্য, সেই দলীয় কার্যালয় পোড়ানোর ঘটনায় আসামি হওয়া খুবই লজ্জাজনক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকি তাজওয়ার সমুদ্র বগুড়া জিলা স্কুলের ২০১৯ সালের এসএসসি ব্যাচ এবং সরকারি আজিজুল হক কলেজের ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মাহতাব উদ্দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি ঘটনার সময় বগুড়ায় ছিলেন উল্লেখ করে সাংবাদিকদের জানান, জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের কারণেই তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পোড়ানো মামলার আসামি করা হয়েছে, এমনটা হয়তো নাও হতে পারে। কেউ হয়তো আওয়ামী লীগ নেতাদের ভুল বুঝিয়ে তকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাতমাথা এলাকায় অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেসবের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা উচিত ছিলো। ওই দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।

ওই মামলার আসামি জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, অভিযোগটি খুবই হাস্যকর, কারণ একই ভবনে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং আমাদের কার্যালয় অবস্থিত। হামলা এবং অগ্নিসংযোগে শুধু আওয়ামী লীগ অফিসই না, ছাত্র ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট পার্টির অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলা দেখে তো মনে হচ্ছে আমরা নিজেদের অফিসেই হামলা করেছি।

ওই মামলায় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ ৮৭ জনের নাম আছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামি ছাড়াও অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ আসামি দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। তারা কার্যালয়ের মালামাল লুট করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী টাউন ক্লাব ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এবং সামনের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন।

মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলের উপ-দফতর সম্পাদক হিসেবে আমাকে বাদী করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিষয়ে দলীয় সভায় সিদ্ধান্তক্রমে নাম দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ থেকে লিখিত যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটিই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তকালে যাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে না তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

;

নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির জন্য কাজ করছি: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরি

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরি

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যাতে কর্মীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে প্রেরণ করা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর অফিস কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কবে নাগাদ খুলতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের কাছে যেতে না পারা কর্মীদের বিষয়ে চিঠি লিখেছি। আগামী মাসের আমাদের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিটিং আছে, শ্রমবাজার কবে খুলবে তখন জানা যাবে।

মালয়েশিয়া যেতে না পারা শ্রমিকদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীজ (বায়রা) আমাদের জানিয়েছে, যেতে না পারা কর্মীদের ৭০ শতাংশকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমরা বায়রাকে বলেছি, কর্মীরা যত টাকা দিয়েছে, সেই টাকা পাওয়ার পর তারা এগ্রিমেন্টে সাইন করবে, যে আমরা টাকা পেয়েছি। এরপর সেই লিস্ট বায়রা আমাদের কে পাঠাবে। তখন জানা যাবে কতজন মানুষ টাকা পেয়েছে। তাই ঠিক কতজন কর্মী টাকা পেয়েছে এখনই এটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে না পারলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ইস্যুতে বাংলাদেশীদের শাস্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবিষয়ে আমি গতকাল আপনাদের সাথে কথা বলেছি। আজ আবারও বলছি, যে দেশে বসবাস করবে সে দেশের আইন সম্পর্কে তাদের সচেতন থাকা উচিৎ। দুবাইয়ে আন্দোলন করে প্রবাসীরা আইন অমান্য করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এজন্য তাদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। এটি তাদের রাষ্ট্রীয় বিষয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে সিংহভাগ প্রবাসীদের অবদান। এই বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারটা এখন একটা মহল নষ্ট করতে চাচ্ছে। আমি মনে করি, ৭১ এর যুদ্ধাপরাধী জামায়াত, বিএনপির পেতাত্মারা এসব রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

;