ময়মনসিংহে বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার নামাজ আদায়



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার নামাজ আদায়

ময়মনসিংহে বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার নামাজ আদায়

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ময়মনসিংহে বৃষ্টি জন্য ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সকালে নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯ টা এবং গফরগাঁও পৌর শহরের ইমামবাড়ী ঈদগাহ মাঠে সকাল ১০ টায় ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী এবং গফরগাঁও উলামা সমিতির আয়োজনে ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।  

আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী চলমান অনাবৃষ্টি, খরা তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং আল্লাহর রহমত ও বৃষ্টি কামনায় ইসতিসকারের নামাজ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

ময়মনসিংহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার আগেই হাজারো মুসুল্লি হাজির হন নামাজ ও দোয়ার শরিক হতে।

নামাজের আগে বয়ান, দুই রাকাত নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল হক। নামাজ ও দোয়ার সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ে। অপরদিকে গফরগাঁও পৌরশহরের ইমাম বাড়ী ঈদগাহ মাঠে সকাল দশটা শত শত মুসুল্লি নামাজ ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন৷

নামাজের আগে বয়ান, দুই রাকাত নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন দুগাঁছিয়া জামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার গফরগাঁও, মুহতামিম মাওলানা গফরগাঁও উলামা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান সালমানী।
দোয়ায় বৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহপাকের রহমত পেতে কান্না ও আহাজারি করেন।

নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লি মো, বদরুল মিয়া বলেন আমাদের দেশের তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষসহ পশু পাখি সকল প্রাণীকুল চরম সংকটে। এজন্যই আমরা এই বিশেষ নামাজ আদায় করেছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীন যেন আমাদের সকল পাপকে ক্ষমা করেন উনার রহমতের বৃষ্টি আমাদের উপর বর্ষিত করেন।

দুগাঁছিয়া জামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার গফরগাঁও, মুহতামিম মাওলানা গফরগাঁও উলামা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান সালমানী বলেন এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে ও মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনসহ আনুগত্য প্রকাশে এই নামাজ আদায় ও দোয়া করা হয়েছে।

   

চিংড়ি চাষের পাশাপাশি সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা



মৃত্যুঞ্জয় রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরায় চিংড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মিঠা এবং নোনা পানির মাছের ঘেরের ভেড়ি বাঁধে সবজি চাষ। চিংড়ি মাছ চাষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঘেরের আইলে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষও। ফসল হিসেবে শুরু হলেও এখন মূল ফসলের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে সমানে সমান। মাচায় বা ঘেরের আইলে সবজি আর নিচে পানিতে চিংড়ি মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ও পাটকেলঘাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। অধিকাংশ মাছের ঘেরে যতদূর চোখ যায় সবুজের হাতছানি। ঘেরের আইলের ওপরে নির্মিত সারি সারি মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ, কুমড়া, বরবটি, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, শসা ও তরমুজ। আইলের ওপরে রয়েছে ঢ্যাঁড়শ, পুঁইশাক। চিংড়ি চাষের পাশাপাশি সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। চিংড়ি চাষের পাশাপাশি ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করে খুশিতে কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হরশিত নামে এক কৃষক মাছের খাবার দিচ্ছেন এবং বাঁধের ওপর কিছু মানুষ সবজির পরিচর্যা করছেন।

তার সঙ্গে চিংড়ি চাষ ও সবজি চাষ সম্পর্কে কথা বলতে চাইলে বলেন, আমরা ঘেরে চিংড়ি চাষ করি তার পাশাপাশি এই দুই বছর ঘেরের বাঁধ বড় করে সেখানে সবজি চাষ করছি। কারণ চিংড়ি চাষ করতে হলে ঘেরের বাঁধ উঁচু করতে হয়। বাঁধ ফেলে না রেখে সবজি চাষ শুরু করলাম এবং ভালো ফলন পাচ্ছি। চিংড়ির পাশাপাশি সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছি।

পাশে ঘেরের বিকাশ মন্ডল। তিনি স্ত্রী পুত্র সঙ্গে নিয়ে দেখি ঘেরের বাঁধে সবজি তুলছেন। তার কাছে শুনতে চাইলে বলেন, আমি ঘেরের বাঁধে মিঠাকুমরা, খেরায়, সোসা, বরবুটি এসব ফসল রোপন করেছি। আমি একদিন বাদে বাদে সবজি তুলে বিক্রি করে দেয় এবং তা থেকে আমি অনেক লাভবান হচ্ছি বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি সারাবছর সবজি চাষ করবো বলে আরো নতুন বীজ নিয়ে আসছি সেগুলো রোপণ করবো দেখা যাক ভালো ফলন পায় কি না।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর মাছের ঘেরে অনেক সবজি চাষ হয়েছে এবং প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে সবজি চাষ বাড়ছে। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সব সময় চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি এবং সব সময় ওদের পাশে আছি।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরাতে চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয়। সাতক্ষীরার চিংড়ি দেশ বিদেশে ভ্রমণ করছে এবং এখানকার চিংড়ি ঘের গুলো এখন দেখছি বাঁধ উচু করে সেখানে সবজি চাষ করছে পাশাপাশি তারা লাভবান হচ্ছে। এই উদ্যোগ তাদের অনেক লাভবান করছে এবং আমরা সব সময় তাদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

;

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের যেখানেই প্রাইভেট কারের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে সেখানেই যানজট, সময় অপচয়, জ্বালানী অপচয়ের মত সমস্যাগুলো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৩ উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা নীতিনির্ধারকদের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ এবং হাঁটা, সাইকেল, গণপরিবহনবান্ধব নগর যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতের গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই।

আজ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি ২৭ এর মোড় থেকে আবাহনী খেলার মাঠ পর্যন্ত আয়োজিত “স্বল্প দূরত্বে হেঁটে ও সাইকেলে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করি” শীর্ষক র‌্যালিতে বক্তারা এ কথা বলেন। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রায় ৪০০০ শহরে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও ২০০৬ সাল থেকে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আয়োজক সংস্থাসমূহের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালীতে রায়েরবাজার এলাকার শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ দুই শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট- এর সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ মিঠুনের সঞ্চালনায় আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন। র‌্যালীর পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী। আরো বক্তব্য রাখেন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক আদিল মোহাম্মদ খান, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এম এ মান্নান মনির, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তাহাজ্জোত হোসেনসহ আরো অনেকে।

শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। গাড়িকেন্দ্রিক নগর যাতায়াত পরিকল্পনার কারণে গাড়ির সংখ্যা যেমন বেড়েছে, ঠিক তেমনি ট্রাফিক জ্যামও বেড়েছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত হবে।

হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বাংলাদেশে 'কার ফ্রি ডে' অনেক বছর ধরে উদযাপন করা হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কোন টেকসই উদ্যোগ বা দিবসটি জাতীয় পর্যায় থেকে পালনের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। এ বিষয়ে ডিটিসিএ, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক পরিবহন বিভাগ-কে আরো সচেষ্ট হতে হবে।

হেলাল আহমেদ বলেন, যাতায়াত পরিকল্পনায় যান্ত্রিক যানবাহন যেভাবে প্রাধান্য পায় সেভাবে হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াত প্রাধান্য পায় না। অনেকে আবার পথচারী ও সাইক্লিস্টদের যান্ত্রিক যান চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা বলে মনে করেন। পথচারী ও সাইকেলবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বল্প দূরত্বে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে মানুষকে নিরুৎসাহিত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।

আলমগীর কবীর বলেন, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের প্রভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৮৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দেশে বায়ুদূষণের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ এবং যান্ত্রিক যানের নিয়ন্ত্রণহীন সংখ্যা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে আমাদের কর্তব্য ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ। আজকের এ আয়োজনের মাধ্যমে এ বার্তাই আমরা পৌঁছে দিতে চাই।

আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ধারণ ক্ষমতার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে ব্যক্তিগত গাড়ি ঢাকা শহরে রয়েছে। ফলে যানজট, দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যাও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলেছে। যথাযথ নগর পরিবহন পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। সেই সাথে পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গাড়িমুক্ত রাস্তা তৈরি করা প্রয়োজন।

গাউস পিয়ারী বলেন, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ১৩,৮৬৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশ রাস্তা ২০ ফুটের বেশি চওড়া। অপ্রশস্ত সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল সময় নিয়ন্ত্রিত করা বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, এবং সপ্তাহে একদিন সমগ্র শহর ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
আবু নাসের খান বলেন, ঢাকা শহরে ৫-৭ শতাংশ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। তাতেই যানজট এমন অবস্থা ধারণ করেছে যে গাড়ির গতি হাঁটার গড় গতির নিচে নেমে গেছে। ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বাস সার্ভিস উন্নয়ন এবং হেঁটে যাতায়াতের সুষ্ঠুু পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।

;

ছেলের নির্যাতনে বাড়ি ছাড়া মা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বামীহারা ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূর জাহান বেগম। জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন করে বড় করেছেন। অথচ জীবন সায়াহ্নে এসে ঠাঁই হলো না সেই সন্তানের কাছে।

এমনকি নিজের নামে যে জায়গা ছিল সেটিও কেড়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে ছেলে শফিউল আলমের (২৫) বিরুদ্ধে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধা নূরজাহান সন্তানের ভয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাছ তলায়।

জানা যায়, বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের জে.এম ঘাট এলাকায় দুই মেয়ে আর দুই ছেলে নিয়ে ৫০ বছরের সংসার ছিল বৃদ্ধা নূর জাহানের। গত তিন বছর আগে স্বামী নজির আহমেদ মারা যাবার আগে সন্তানদের সম্পত্তির ভাগ বন্টন করে দিয়ে গেছেন । যেখানে স্ত্রী নূর জাহানের নামে দেওয়া হয় জমির কিছু অংশ। তবে সম্প্রতি নূর জাহানের সে জায়গা নিজের নামে করে নিতে ছেলে শফিউল আলম কর্তৃক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন নূর জাহান বেগম। এছাড়া তাকে করা হয় বাড়িছাড়া।

এ বিষয়ে শফিউল আলমের কাছ থেকে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এড. আবদুল খালেক জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়ে কয়েকদিন আগে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা নূর জাহানের পাওনা ২৪ কড়া জায়গা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরও বিষয়টি আবারও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীকি মারমা বলেন, এ বিষয়ে অবগত না, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;

অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ উজরা জেয়ার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চান বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উজরা জেয়া বলেছেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চান।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরাও চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন, বলেন তিনি।

এসময় মোমেন বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা জনগণের ভোটে বিশ্বাস করি। জনগণের ভোট ছাড়া কেউ ক্ষমতায় আসতে পারে না। ভোট কারচুপির মাধ্যমে কেউ ক্ষমতায় এলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, আমরা আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাই।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা।

বৈঠকে তারা বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন।

উজরা জেয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে তারা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জন্য ১১৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি (জেয়া) রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবিকা নিশ্চিত করতে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন।

মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো শুরু করার আগে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা উচিত অন্যথায় এই অঞ্চল নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে কারণ রোহিঙ্গারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত পড়েছে।

শেখ হাসিনা গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক সমর্থনও চেয়েছেন।

;