রং তুলির আঁচড়ে বসন্ত বরণের প্রস্তুতি দেশসেরা কলেজের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী, চরণে পায়লা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরী’ পুষ্পিত সৌরভে এভাবেই ঋতুরাজ বসন্ত তার আগমনের বার্তা নিয়ে প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে। শীতের আমেজ কমে প্রকৃতি সেজেছে রঙিন সজ্জায়। শীতের রুক্ষতা কেটে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। বসন্তদূত কোকিলের অবিরাম কুহু ডাক সবার কানে কানে বলে যায় বসন্ত এসে গেছে।

বসন্তের আগমনের সাথে সাথে দেশসেরা রাজশাহী কলেজ তার বার্ষিক বসন্ত বরণ উৎসবের জন্য সজ্জিত হচ্ছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা রং তুলির আঁচড়ে তাদের ক্যাম্পাসকে বর্ণিল করে তুলছেন, যা বসন্তের আগমনকে স্বাগত জানায়।

রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা রাজশাহী কলেজে লেগেছে বসন্তের হাওয়া। কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে রং-তুলি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। কেউ প্লাস্টিকের পাত্রে রং তৈরি করছেন। আবার কেউ সেই রং দিয়ে রাঙিয়ে তুলছেন ক্যাম্পাসের আঙ্গিনা। ক্যাম্পাসের মাটিতে ছোঁয়া লাগছে হরেক রকমের রং-তুলির। লাল, নীল, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙের তুলিতে তৈরি হচ্ছে দেয়ালচিত্র, রঙিন হচ্ছে ক্যানভাস। ১৪ ফেব্রুয়ারি বসন্ত বরণকে কেন্দ্র করে অঙ্কন করা হচ্ছে এই প্রতিচ্ছবি। রং-তুলির আঁচড়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বসন্ত বরণের আমেজ।

শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রংধনুর সাত রং, ফুলের ডিজাইন, এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মোটিফ আঁকছেন। এই উৎসবের প্রস্তুতি শুধু ক্যাম্পাসকে সজীব করে তোলে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা এবং ঐক্যের এক অনন্য বন্ধন সৃষ্টি করে।

শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রংধনুর সাত রং, ফুলের ডিজাইন আঁকছেন

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে চলছে আঁকিবুকি। যেখানে সবার নিয়মিত আড্ডার রং ছড়াতো সেখানে রঙিন এখন আলপনার রঙে। রবীন্দ্র নজরুল চত্বর, হাজী মোহাম্মদ মহসিন ভবনের সামনের রাস্তা, শহীদ কামরুজ্জামান ভবনের সামনের রাস্তা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনের অংশ সবটাতে দৃষ্টি কাড়ছে রঙিন আলপনা। আড্ডা, গল্প, খেলাধুলা, হৈ-হুল্লোড়, গিটারের টুংটাং শব্দে ক্যাম্পাসে রোমাঞ্চকর পরিবেশ যেন রোজকার চিত্র। আলপনার আঁচড়ে আজ সেই চিত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে। আড্ডা-গানের আসরের পাশাপাশি চিত্রকল্পে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে ক্যাম্পাস চত্ত্বর। বসন্ত বরণে বিভিন্ন আলপনা আঁকছেন অনেকে। তাদের মধ্যে উৎসব উৎসব ভাব। অনেকেই সেখানে আঁকার ফাঁকে ফাঁকে সেলফি তুলতে ব্যস্ত।

রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল খালেকের নির্দেশনায় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আলপনায় অংশ নিয়েছে কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, বসন্ত বরণ আমাদের কলেজের একটি ঐতিহ্য, এবং প্রতি বছর আমরা এই উৎসবকে আরও সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী উপায়ে উদযাপন করতে চেষ্টা করি। এই বছর আমরা রং এবং আঁকা দিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসকে সজ্জিত করে বসন্তের আনন্দ ছড়াতে চাই। বসন্ত বরণ উৎসবের দিন, কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, নৃত্য, এবং কবিতা পাঠের মতো কার্যক্রম আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে শিক্ষক ও কর্মচারীদেরও একত্রিত করে। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্প ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহ এবং সম্মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রাখে। বসন্তের এই উদযাপন কলেজের সম্প্রদায়কে আরও কাছাকাছি আনে।

রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে রং তুলির আঁচড়ে আলপনা আঁকছিলেন বাংলা বিভাগের সম্মান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব জামান, হামিদা আক্তার রেখা ও আনিকা ইসলামসহ বিভাগের অগ্নিবীণা সংগঠনের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন রং লেগে তাদের মুখ রঙিন হয়ে গেলেও সেদিকে মন নেই। আলপনায় তুলির আঁচড় দিতেই তারা ব্যস্ত। তারা বলেন, প্রতিবছর আমাদের কলেজে আলপনার উৎসব হয়ে থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়; রং তুলির আঁচড়ে আলপনা আঁকছি এতে খুব ভালো লাগছে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আলপনা আঁকা দেখছিলেন রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার ছন্দা। তিনি বলেন, আমাদের কলেজে প্রতিবছর এভাবেই আলপনা একে বসন্তকে বরণ করা হয়। এত কলেজের শিক্ষার্থীরা ভালো কাজের দিকে উদ্বুদ্ধ হয়। সংস্কৃতি চর্চায় নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

আলপনা আঁকার দেখভাল করেছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, বসন্ত মানেই বাংলা বিভাগ। আর আমরা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো না তা তো হয় না। শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সারাদিন আলপনা আঁকছে। আজ যারা আলপনায় হাত বাড়িয়েছে, তারা কেউ পাকা শিল্পী নয়। এটা তাদের ভালোবাসার থেকে, ভালোলাগা থেকে। এই আলপনায় ফুটিয়ে তুলেছে বসন্তের আমেজ, যা দেখে আমি অভিভূত।

রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা. আব্দুল খালেক বলেন, সবুজ চাদরে মোড়ানো ক্যাম্পাসটি নিজের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারা সাজগোজসহ নানা শিল্পমুখী কাজে রাঙিয়ে চলছে অনবরত। বসন্তকে বরণ করতে ও ক্যাম্পাসকে রাঙাতে রাঙানো হচ্ছে বিভিন্ন আলপনা। সব চাপিয়ে এই রং তুলির আঁচড়ই যেন দোলা দেয় শিহরণ জাগানিয়া আবহে। এটা খুবই ভালো দিক। চারুকলা নামে কোন বিভাগ না থাকার পরেও শিক্ষার্থীরা এমন কাজে আমাদেরকে আনন্দিত করছে।

   

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হুমকি



Sajid Sumon
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার দীপ্ত চন্দ্র পালকে মোবাইল ফোনে মামলাসহ নানাবিধ হুমকির অভিযোগ উঠেছে যাত্রাবাড়ী লাইফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৪ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় হুমকির অভিযোগ জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন প্রতিবেদক দীপ্ত চন্দ্র পাল।

দীপ্ত চন্দ্র পাল বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করি। পরে গতকাল শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে লাইফ হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সাকিবুল হাসান নিলয় আমার হোয়াটস অ্যাপে কল করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ও ভয়ভীতি দেখায়। প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। তাই নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি আজ যাত্রাবাড়ী থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

এদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আরটিভি।

ফ্রি স্টাইলে চলছে দেশের বেশীরভাগ বেসরকারি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই অনুমোদন। যাদের আছে মেয়াদ শেষে তারাও নবায়ন করেন না। মানা হয় না শর্ত।

এমন তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন হাসপাতালের পাশাপাশি রাজধানীর শনির আখরার লাইফ হাসপাতালের নামও উঠে আসে। অনুমোদন ছাড়াই চলছে এর ডায়গনস্টিক সেন্টার।

এ বিষয় জানতে চাইলে সে সময় প্রতিবেদকের ওপর ক্ষুব্ধ হন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশ করার পর এই হুমকি দেওয়া হয়।

;

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন স্বতন্ত্র জাতিসত্তার উপাদান: আ জ ম নাছির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন আমাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা এবং জাতি গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উপাদান বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। 

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় অমর একুশে বই মেলা মঞ্চে লেখক সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাছির বলেন, বই মানুষকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। জ্ঞানের দুয়ার খুলে গেলে অপশক্তির কপাট বন্ধ হয়ে যায়। নতুন পাঠক সৃষ্টি করতে নতুন বইয়ের বিকল্প নেই। বই কেনা ও পাঠের অভ্যাস গঠনে পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের সুযোগ করে দেয় বই মেলা। একুশের বই মেলা নবীন-প্রবীণদের সংযোগ রচনায় প্রকৃতই এক মিলনতীর্থ।

'লেখকদেরকে বয়স দিয়ে নয়, মূল্যায়ন করতে হবে তাঁর সৃষ্টি কর্ম দিয়ে। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংকট থেকে মুক্তির জন্য ও সুন্দর আগামীর লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক বিকাশ অপরিহার্য। মানবিক বিকাশের মাধ্যমে সমাজ ও রাজনীতি থেকে হিংসার অবসান ঘটাতে হবে।'

তিনি বলেন, সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের স্মার্ট নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান আলোচক কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, বই মেলা জ্ঞানের মেলা, আলোর মেলা। অমর একুশে বই মেলা আমাদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে রাখছে অনন্য ভূমিকা। বই হচ্ছে মানুষের সত্যিকার বন্ধু। যা মানুষের বুকের ভিতর সযত্নে লালন করা সপ্নের বাস্তব রূপ দিতে পারে।

'লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের আকাশের মতো উদার, সমুদ্রের মতো গভীর ও মানবিক হতে হবে। জঙ্গি সন্ত্রাসীদের গোলাবারুদের চেয়ে লেখকদের কলম বেশি ধারালো, তাই প্রত্যেক কবি সাহিত্যিককে সেই ধারালো কলমের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।'

তিনি একুশের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে শিল্পীত জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

লেখক সম্মিলনে কবি ও প্রাবন্ধিক অভিক ওসমানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বই মেলা কমিটির আহবায়ক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ডিআইজি জয়নুল টিটু। আলোচনা সভা শেষে অঁলা ব্যান্ড সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

;

দেশে প্রতিবছর তামাকে প্রাণ হারাচ্ছে ১ লাখ ৬১ হাজার জন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় পৌনে ৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হল রুমে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের বহুল ব্যবহার হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, বক্ষব্যাধি এবং অন্যান্য অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তামাকের এসব ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষার জন্য দ্রুত বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে। তা না হলে তামাকজনিত এই অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ বলেন, তামাকের ভয়াবহতা থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষা করার লক্ষ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিএমএ। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের একযোগে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। তারা রোগীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও তামাক ব্যবহার ছেড়ে দিতে উৎসাহিত করতে পারেন। তাহলে তামাক ব্যবহারে জনসাধারণ নিরুৎসাহিত হবে।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণে যেভাবে প্রভাব ফেলছে তা অতুলনীয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আব্দুল আউয়াল রিজভী জানান, তামাক দেহের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রতঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেটা আমরা চিকিৎসক হিসেবে এবং আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে গিয়ে ব্যাপকভাবে বুঝতে পারছি। দেশের তরুণ চিকিৎসকদের নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার (অব.) অধ্যাপক ডা. ইউনুছুর রহমান প্রমুখ।

;

শবে বরাতের রুটি-হালুয়া তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা



রাজু আহম্মেদ ও গুলশান জাহান সারিকা, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শবে বরাত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি বিশেষ রাত। শবে-বরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্জন ও ক্ষমা প্রার্থনায় ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি পুরান ঢাকার বাড়িতে-বাড়িতে তৈরি হয় হালুয়া রুটিসহ লোভনীয় নানা খাবার। সে খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকে বাড়ির বড়রা। আত্মীয় স্বজনদের বিতরণ করা হয় বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। বিশেষ করে রুটি-হালুয়া বিতরণ হয় প্রথা মেনে।

তবে বাড়িতে হালুয়া রুটি তৈরির এত সব ঝামেলা এড়াতে অনেকেই শবে বরাতের হালুয়া রুটি কেনেন দোকান থেকে। আর তাই হালুয়া রুটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারও পুরান ঢাকার বেকারিগুলোতে চলছে রুটি কারিগরদের ব্যস্ততা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন পুরান ঢাকার চকবাজার, সওয়ারি ঘাটসহ বেশ কিছু এলাকা দেখা গেছে, বেকারির কারখানাগুলোতে দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। রুটি তৈরির আগে হাতের কসরতে খামির তৈরি করছে কারিগররা। এরপর বিভিন্ন নকশায় ময়দা খামির করে রাখা হচ্ছে টিনের তৈরি ছাঁচে। নিদিষ্ট সময় শেষে ছাঁচ দেওয়া হয় আগুনের চুলা অথবা ডিজিটাল মাইক্রোওভেনে।

ময়দা, চিনি, ঘি, ডিম ও তেলের মিশ্রণে তৈরি বিশেষ এই রুটির আছে নানা নান্দনিকতা। মাছ রুটি, বাটি রুটি, ফুল রুটিসহ বিভিন্ন নকশায় তৈরি হয় শবে বরাতে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই রুটি। যা বিক্রি হয় কেজি দরে। এবার প্রতিকেজি রুটি ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বেকারিগুলোতে।

পুরান ঢাকার সোয়ারি ঘাটের শাহাজাহান বেকারির কারিগর মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবছর শবে বরাতে ব্যস্ত থাকি নকশি রুটি তৈরিতে। এবারও অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। দিনে দুইশত রুটি তৈরির টার্গেট আমাদের। কিছু বানানো হয়েছে বাকিটা রাতেই শেষ হবে।

চকবাজার এলাকার হট এন্ড ব্রেড লাইভ বেকারির কারিগর ইদ্রিস বলেন, বিকেল থেকে রুটি তৈরি শুরু হয়েছে। আমাদের হাতে সময় নেই, ব্যস্ততা আছে-থাকবে আগামীকাল পর্যন্ত।

শাহাজাহান বেকারির স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, প্রতিবছর আমরা এই হালুয়া রুটি বিক্রি করি। গত বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার রুটি হালুয়া বিক্রি করেছি। এবার তেমন চাহিদা নেই। তবে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসছে শবে বরাতে এই রুটির তৈরির ঐতিহ্য। প্রতিবছর শবে বরাতে প্রায় কোটি টাকার হালুয়া রুটি কেনাবেচা হয় পুরান ঢাকাসহ রাজধানী মিরপুর, গুলশান ও আশেপাশের এলাকায়। শবে বরাতের আগের রাত থেকে থেকেই রুটির পসরা বসে পুরান ঢাকার অলিগলিতে। কেজি দরে কিনে নেয় ব্যস্ত নগরের বাসিন্দারা।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন, আজ থেকে দশ বছর আগে শবে বরাতের আগে থেকেই মুখরোচক খাবারের ঘ্রাণে ভরে যেত চারপাশ। এই ঐতিহ্য আমাদের যুগ যুগ ধরে চলছে। আমার দাদা করেছে, আমার বাপ করছে; এখন আমরা হালুয়া রুটি বানাই খাই, আবার সবাইকে দিই।

আবির নামের আরেকজন বলেন, আমরা অপেক্ষা করি এই দিনটির। রুটি হালুয়া খাই। আল্লাহর ইবাদত করি। ভালো লাগে।

তবে সময়ের সাথে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে আগের মত শবে বরাতে রুটি হালুয়ার প্রচলন কমে আসছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। চকবাজারের বাসিন্দা মারুফ হাসান বলেন, আগে খুব উৎসাহ নিয়ে মানুষ শবে বরাতে হালুয়া রুটি বানাত, সবাইকে বিলি করত। কিন্তু এখন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে এসব থেকে মানুষ পিছিয়ে আসছে। সময়ের সাথে হালুয়া রুটির উৎসব ঐতিহ্যটির পিছনে ফেলে মানুষ সুন্নাহ মেনে চলার চেষ্টা করছে।

তবে শবে বরাত ধর্মীয় শুভ্রতার হলেও পুরান ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় এখনো রুটির তৈরির উৎসবটাও কম নয়। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা পুরান ঢাকার হালুয়া রুটি সময়ের সাথে হয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনেও সেই ঐতিহ্য না হারিয়ে টিকে থাকুক—এমন প্রত্যাশা সকলের।

;