কোথায় হারালো ১৩ ও ১৫ বছরের মেয়ে দুটি? পাচারের পরিসংখ্যান বাড়ল!



আল-আমিন রাজু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর হাজারীবাগ থানার বোরহানপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিসের মেয়ে সুমনা খাতুন (১৫)। কাগজে কলমে কিশোরী হলেও সুমনা জীবনের পথে এগিয়ে গেছে বহুদূর। প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোতেই শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ে। এরই মধ্যে ভালোবেসে বিয়ে করে হাজারীবাগ এলাকার লেগুনা চালক শাওনকে।

দুই বছরের সংসারে সুমনার কোলে আসে সন্তান। ৯ মাস বয়সী ছেলেটিকে রেখে হঠাৎই হারিয়ে গেলো মেয়েটি। শিশুটি হলো মা-হারা।

ওদিকে একই এলাকার নাসিমার মেয়ে খাদিজাও একই পথের পথিক। মাত্র ১২ বছর বয়সে ভালোবেসে বিয়ে করে সবুজ নামের এক তরুণকে। বিয়ে বছর না যেতেই স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় মায়ের কাছে এসে থাকতো। খাদিজাও হারিয়ে গেছে। মায়ের বাসা থেকে বান্ধবী সুমনাকে নিয়ে বের হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। সেই থেকে নিখোঁজ সুমনা ও খাদিজা! এরপর আর তাদের সন্ধান পাচ্ছে না পরিবার।

থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছে না দুটি পরিবার! নানা জায়গায় ধরনা দিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। পরে এই ঘটনায় সুমনার মা নিলু বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। শুরু হয় মামলার ছায়া তদন্ত। তাতে নেমে একটি অপহরণ চক্রের সন্ধান পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র রমনা বিভাগ। তাতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার এক চক্রের তথ্য বেড়িয়ে আসে। যারই শিকার সুমনা ও খাদিজা।

পুলিশ এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে পাচার চক্রের অন্যতম হোতা কবির হোসেনকে। সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খুলনার দৌলতপুর থেকে একইভাবে হারিয়ে যাওয়া সীমা আক্তার ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে নবাব শেখকে। তবে সুমনা ও খাদিজার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য এখনো মেলেনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে।

রাজধানীর হাজারীবাগে নিখোঁজ দুই কিশোরীর বাসায় গিয়ে দেখা মেলে এক করুণ দৃশ্যের। নিখোঁজ খাদিজার মা নাসিমা বেগম, পেশায় গৃহকর্মী। বাবা আহম্মদ, পেশায় একজন জেলে। পেশাগত কারণেই খাদিজার মা থাকেন ঢাকায়, বাবা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের এদেরকান্দি গ্রামে। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে খাদিজা চতুর্থ। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে করে কিছু দিন খুলনার বাগেরহাটে স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী থেকে দূরে থাকছেন।

হাজারীবাগের মনেশ্বর লেনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ফ্লোরে পাতলা একটি তোশক বিছানো। তাতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিতেই চোখ মেলে তাকালেন। প্রতিবেদকের পরিচয়ে জেনে নিজেকে টেনে তুলে বসলেন। জানা গেলো তার নাম ফিরোজা বেগম। নাতনি খাদিজা নিখোঁজের খবর পেয়ে ঢাকায় ছুটে এসেছেন। কাজে থাকায় অপেক্ষা করেও খাদিজার মায়ের দেখা মিললো না।

ফিরোজা বলেন, আমার মেয়ের পাঁচটা সন্তান। স্বামীর আয়ে সংসার চলছিল না। তাই মেয়ে নাসিমা ঢাকায় এসে গৃহকর্মীর কাজ করছেন। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে আড়াইহাজার থেকে মায়ের কাছে আসে খাদিজা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, খাদিজার বাবা মেঘনা নদীতে মাছ ধরে। মেয়ে বাসা বাড়িতে কাজ করে ছেলে মেয়েদের দু মুঠো ভাত দিচ্ছে। এখন আমরা কার কাছে যাব। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

খাদিজার মায়ের সঙ্গে থাকেন নাতনি পলি। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘খালামনি (খাদিজা) মাঝে মাঝে ঢাকায় এসে থাকেন, আবার গ্রামে চলে যান। কয়েক দিন আগে ঢাকায় আসেন। তাকে প্রায়ই দেখতাম ফেসবুক ব্যবহার করতে। কিন্তু কারো সঙ্গে কথা বলতে দেখিনি। কীভাবে কি হলো বুঝলাম না।’

একই দিনে নিখোঁজ হওয়া সুমনা স্বামী সন্তান নিয়ে হাজারীবাগ এলাকায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন। জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ হাজারীবাগের মাহাদীনগর এলাকায় আলাদা বাসা নেন। পরবর্তীতে ২৩ জানুয়ারি ৯ মাস বয়সী ছেলে আবিরকে নিয়ে মায়ের বাসায় আসে। সুমনা আসার একটু পর একই বাসায় আসে তার বান্ধবী খাদিজা। কিছু সময় অবস্থান করার পর বান্ধবী খাদিজাকে নিয়ে বের হয়ে যায় সুমনা।

৯ মাস বয়সী শিশুটি মায়ের জন্য কান্নাকাটি করে উল্লেখ করে সুমনার মা নীলু বলেন, মেয়েটা জীবনের শুরুতেই একটা ভুল করে বসে। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি। স্বামীকে নিয়ে আমাদের কাছে থাকত। হঠাৎ ১৫ তারিখ অন্যত্র বাসা ভাড়া নিলো। এরপর ২৩ তারিখ বাসায় এসে বাচ্চাটা রেখে বের হয়ে আর এলো না। নাতিটা (সুমনার ছেলে) মায়ের জন্য কান্নাকাটি করে। এতো ছোট বাচ্চা মা ছাড়া কি রাখা যায়? কি করবো কার কাছে যাবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, নিখোঁজের পাঁচদিন পর ২৮ জানুয়ারি রাত একটার দিকে বড় ভাই রাজুর মোবাইলের ইমো নাম্বারে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ফোন করেছিলো সুমনা। ঘুমন্ত অবস্থায় বিষয়টা বোঝার আগেই পাশের লোকজন তার ফোন কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে ফোন করা হলে এক ব্যক্তি জানায়, সুমনাকে ভারতের কেরালায় পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়েকে ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যদের ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফোনটি কেটে দেন। পরে আমরা শুনেছি একই সময়ে খাদিজাও নাকি তার মাকে ফোন করেছিল। এরপর আর কোনো সন্ধান পাচ্ছি না।

নিখোঁজ সুমনা দিনমজুর বাবা ইদ্রিস ও মা নীলুর সাত সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার শুক্তাবাদ এলাকায়। পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগ এলাকায় থাকত। স্বামী শাওন বেড়িবাঁধ এলাকায় মোহাম্মদপুর-সেকশন রুটের লেগুনা চালান।

মা নীলু আক্ষেপ করে বলেন, মানুষের বাসায় কাজ করে অনেক শখ করে মেয়েকে একটা টাচ (স্মার্ট) মোবাইল কিনে দিয়েছিলাম। সেই মোবাইলই কাল হলো মেয়েটার  জন্য।

কথা বলা শেষে নিখোঁজ দুই কিশোরীর পরিবারের কাছে তাদের ছবি চেয়েও পাওয়া যায় নি। পাচারের পরিসংখ্যানের খাতায় আরও দুটি বাড়তি সংখ্যা হয়ে গেলো তারা!

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)’র রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, চাকরির নামে মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে আমরা দু’জন ভিক্টিমসহ গ্রেফতার করেছি। আমাদের তদন্ত কাজ চলছে। চক্রের মূলহোতা আনারুলসহ পাঁচ থেকে ছয় জনের নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে মানবপাচার প্রায়ই ঘটছে।

   

কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৪ এর আলোকে প্রণীত কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কর্মপন্থা নির্ধারণে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়কে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও গতিশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স খুব ভালো। এটিকে আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে দ্বিতীয় বারের মতো এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাসমূহ ও চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মন্ত্রী এ সময় সততা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও টিমওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও আওতাধীন দফতর-সংস্থার প্রধানগণ মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ঈদ ও নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় ও উদযাপনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, এবারের ঈদযাত্রা বেশ নির্বিঘ্ন ছিল। সাধারণ জনগণকে কোন ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৪ এর আলোকে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘কর্মপরিকল্পনা ২০২৪-২০২৮’ শীর্ষক পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

;

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদে লাখো পুণ্যার্থীর স্নান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ ও ভক্তদের পাপমোচনে অষ্টমী স্নানে লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদে। হিন্দু ধর্মীয় মতে, চৈত্রের এই অষ্টমীতে জগতের সব পবিত্র স্থানের পুণ্য এসে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়। এদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পবিত্র মন্ত্রপাঠ শেষে স্নানে ফুল, ধান, দূর্বা, বেলপাতা ও হরিতকি উদ্দেশ্য পূরণে নদের জলে অর্পণ করেন।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ভোর ৪টা থেকে স্নানের লগ্ন শুরু হয়। আর পূণ্য এই স্নানের লগ্ন শেষ হয়েছে বিকেল ৪টা বেজে ৫৬ মিনিটে।

আয়োজকরা জানান, লগ্ন শুরুর পর থেকেই গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামারজানি বন্দরে এবং ফুলছড়ির উপজেলার অতিপরিচিত বালাসীঘাট ও তিস্তামুখঘাটে আসতে থাকে সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বী ভক্তরা। তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই সব স্থান পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। তবে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয় লোকজ মেলার আয়োজনে। দিনব্যাপী জেলার সদর উপজেলার কামারজানি বন্দর এবং ফুলছড়ির উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট ও তিস্তামুখঘাটের ব্রহ্মপুত্রের বালুচরে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও সব ধর্মের বিভিন্ন বয়সের বিনোদন প্রেমী হাজারো মানুষ অংশ নেয়।

এসময় ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসীঘাটে পরিবারসহ ঘুরতে আসা বেসরকারি কোম্পানি চাকরীজীবী শামীম হায়দার বলেন, আমার মেয়ে রিয়া মনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী-আর একমাত্র কন্যাকে নিয়ে মেলায় আসছি। পূজা অর্চনা দেখলাম, মেলা ঘুরলাম ভাল লাগলো।

নদে স্নান করতে আসা সবিতা রানী বলেন, আজকের এই দিনে ব্রহ্মপুত্রে স্নান করলে ভগবান সব পাপমোচন করে দেন। আমি প্রতি বছরই এই দিনে এখানে স্নানে আসি।


এসময় জানতে চাইলে সবিতা বলেন, দেশের এবং দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে ভগবানের কাছে সেই প্রার্থনা করেছি। এছাড়া সবার ওপরে আমরা মানুষ। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে যেন একে অপরের আত্মীয় হিসেবে বসবাস করতে পারি সেটিও কামনা করেছি।

স্নান উৎসব কমিটির সহ-সভাপতি তপন কুমার জানান, আজ সকাল থেকেই মহা অষ্টমী স্নানে অংশ নিতে ব্রহ্মপুত্র নদে লাখেরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। সড়ক পথ ও নৌপথে নারী-পুরুষ পুণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নিতে আসেন। স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর ব্রহ্মপুত্র নদের বালুর ওপর লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় বাহারী পণ্য, শিশুদের খেলাধুলার হরেক রকম জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে।

গাইবান্ধা শনি মন্দিরের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পঞ্জিকা মতে চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে সনাতন ধর্মের নারী-পুরুষেরা পাপমোচনের আশায় পবিত্র অষ্টমী স্নানে অংশ নেন। ভোর থেকেই বিপুল সংখ্যক হিন্দু পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান সেরে দেবীর পূজা অর্চনা করে। এদিন পাপমোচনের প্রার্থনার পাশাপাশি সবাই আমরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনাও করে থাকি। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা থেকে স্নানের লগ্ন শুরু হয়। আর পূণ্য এই স্নানের লগ্ন শেষ হবে বিকেল ৪টা বেজে ৫৬ মিনিটে।

;

২৩ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি, কোথায় যাবেন রেখা!



মনিরুজ্জামান মুন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
২৩ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি, কোথায় যাবেন রেখা!

২৩ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি, কোথায় যাবেন রেখা!

  • Font increase
  • Font Decrease

 

লালমনিরহাটে ধর্ষণে জড়িত দুই আসামিকে সহযোগিতা করার অপরাধে দীর্ঘ ২৩ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন রেখা খাতুন (৪৪)। তবে মুক্তি পেলেও ঘরে ফেরার ঠিকানা নেই তার।

রেখা খাতুন জানান, পরিবারের সবাই মারা গেছেন। এমনকি তার স্বামী বিয়ে করে অন্য আরেকজনের সাথে সংসার করছেন। এমনকি জেলে থাকা অবস্থায় মা, বাবা, দুই বোন আর এক ভাইসহ আমার ২৫ আত্মীয় মারা গেছেন। এখন কোথায় যাবেন তার কাছে নেই কোনো ঠিকানা।

২০০০ সালের ৫ নভেম্বর শিশু ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হন রেখা খাতুন (৪৪)।  ওই দুই আসামি চার-পাঁচ বছর জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করলেও কারাগার থেকে বের হতে পারেননি রেখা। ফলে দীর্ঘ ২৩ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাকে।

ওই ঘটনায় ২০০৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রেখা খাতুনসহ তিন আসামি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত হন। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। তবে রেখা খাতুনের দাবি, ‘শিশু ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি’।

গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল)  রেখা খাতুনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর জেল থেকে বেরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানতে পারেন তার পরিবারে আর কেউ নেই। এখন কোথায় তার ঠিকানা কিছুই জানেন না।


রেখা খাতুনের বাবার বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কলাখাওয়া ঘাট এলাকায়।

জানা গেছে, রেখার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর শেষ হয়। এরপরও জরিমানার এক লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁকে আরও তিন বছর কারাগারে আটক থাকতে হয়। সেই হিসাবে তাঁকে ২০২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলা কারাগারে থাকতে হতো। বিষয়টি জানতে পেরে রেখা খাতুনের মুক্তির জন্য সাহায্যের হাত নিয়ে এগিয়ে আসেন লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ ও লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র মো. রেজাউল করিম স্বপন।

তাঁরা সম্মিলিতভাবে জরিমানার টাকা ৮ এপ্রিল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে দেন। এর ফলে ঈদের দুই দিন আগে ৯ এপ্রিল সকালে রেখা খাতুনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তত দিনে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বাইরে অতিরিক্ত আরও চার মাস ছয় দিন কারাভোগ করেছেন।

কারাগারে যাওয়ার আগের ও পরের জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেখা খাতুন বলেন, ‘আমি জেলে থাকার সময় আমার মা, বাবা, দুই বোন আর এক ভাইসহ আমার ২৫ আত্মীয় মারা গেছেন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি জেলে গেলে আমার স্বামী কোরবান আলী দ্বিতীয় বিয়ে করে এখন কোথায় আছে, কেউ বলতে পারে না। আমার বাবার বাড়িটা ধরলা নদীতে গেছে। স্বামীর অবর্তমানে বাবার বাড়িতে জীবনের বাকি দিনগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার স্বপ্নটাও ভেঙে গেছে।’ রেখা আরও বলেন, ‘আমি এখন কোথায় যাব?’


রেখা খাতুনের ধরলা নদীতে কলাখাওয়া ঘাটের বাবার বাড়ির ভিটা বিলীন হয়ে গেছে। ১৫ বছর আগে রেখার বাবা ফজলু রহমান মারা যান। আর মা নূরনাহার বেগম মারা যান ১২ বছর আগে। তাঁদের কবরও গ্রামের বাড়িতে হয়নি। পাশের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কবির মামুদ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ওই গ্রামে রেখার ছোট বোন টুম্পা বেগমের বিয়ে হয়েছে। কারামুক্তির পর টুম্পার শ্বশুরবাড়িতেই রেখা আপাতত আশ্রয় নিয়েছেন।

দারিদ্র্যের কারণে ১৩-১৪ বছর বয়সে রেখা খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী কোরবান আলী তখন ৩৪ বছরের যুবক। পেশায় দিনমজুর ছিলেন কোরবান। বিয়ের পরও দুই-তিন বছর বাবার বাড়িতে থেকে ১৯৯৮ সাল থেকে স্বামীর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। রেখা ও তাঁর স্বামী কোরবান আলী লালমনিরহাট শহরের খোচাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি লালমনিরহাট শহরের নর্থ বেঙ্গল মোড় এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন ও লালমনিরহাট শহরের কুড়াটারি গ্রামের ভোলা মিয়ার ছেলে ফরিদ হোসেন। রায় ঘোষণার সময় ফরিদ হোসেন পলাতক ছিলেন। পরে গ্রেফতার হন। ওই দুই আসামি চার-পাঁচ বছর জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এর মধ্যে আলমগীর হোসেন দাম্পত্য কলহের জের ধরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ফরিদ হোসেন লালমনিরহাট শহরের একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজ করেন।

নারী অধিকার সংগঠক ফেরদৌসী বেগম বলেন, রেখা খাতুন এর সঙ্গে কথা বলে তার জীবনের গল্প আমরা শুনেছি। সেই হিসেবেই লালমনিরহাট ৩ আসনের সকল সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলে তার মুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা করেছি।

রেখার জরিমানার টাকার অঙ্ক ১ লাখ টাকা হলেও তিনি অতিরিক্ত চার মাস ছয় দিন কারাগারে সাজা ভোগ করায় জরিমানা থেকে ১০ হাজার টাকা মওকুফ হয়ে যায়। এর বাইরে রেখা কারাগারে অবস্থানকালের শ্রমের বিপরীতে উপার্জন করেন ১৫ হাজার টাকা। ওই টাকা সমন্বয় হয়ে পরিশোধ করতে হতো ৭৫ হাজার টাকা। সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার মেয়র সম্মিলিতভাবে ওই টাকা দিয়েছেন। ৯ এপ্রিল সকালে রেখা খাতুনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেল সুপার মো. ওমর ফারুক বার্তা ২৪ কমকে বলেন, ‘কারাগারে রেখা খাতুনকে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি হস্তশিল্পের কাজ করে উপার্জন করতে পারবেন। রেখা ২৩ বছর ৪ মাস ৫ দিন লালমনিরহাট জেলে কাটিয়েছেন। ওই নারী অত্যন্ত ভালো মানুষ সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, রেখা খাতুনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সবকিছু শুনেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তার পুর্নবাসনের চেষ্টা চলছে। তাতে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

;

সমৃদ্ধিতে ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়ালেও স্বাধীনতা সূচকে পিছিয়ে বাংলাদেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৩ সালে বাংলাদেশ সমৃদ্ধিতে প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেলেও স্বাধীনতার সূচকে দেশগুলো থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতা এবং সমৃদ্ধির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দুটি সংস্থা।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ইউনাইটেড স্টেটস্ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আটলান্টিক কাউন্সিলের নতুন বৈশ্বিক স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধি প্রতিবেদনের (গ্লোবাল ফ্রিডম অ্যান্ড প্রসপারিটি রিপোর্ট) ফলাফল জানাতে সমৃদ্ধি ও সুশাসন সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রতিবেদনে সমৃদ্ধি সূচকে বাংলাদেশকে 'অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসচ্ছল' এবং স্বাধীনতা সূচকে 'অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরাধীন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৩ সালের জন্য করা এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমৃদ্ধি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৪টি দেশের মধ্যে ৯৯তম। তালিকায় ভারতের অবস্থান ১৪৬তম এবং পাকিস্তানের অবস্থান ১৫০তম। কিন্তু স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১তম যেখানে ভারত ১০৪তম এবং পাকিস্তান ১১৩তম অবস্থানে রয়েছে।

সমৃদ্ধি সূচকের তালিকা করার জন্য স্বাস্থ্য, বৈষম্য, পরিবেশগত অবস্থা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং শিক্ষা সহ মাথাপিছু জিডিপির মতো বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বাধীনতা সূচকের তালিকা করার জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আইনি অবস্থার পরিমাপ করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্কটির গবেষণায় দেখা গেছে, মৌলিক স্বাধীনতা জোরদার করলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে গতিশীল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী দলীয় ব্যবস্থার দিকে শক্তিশালী পরিবর্তন এসেছে। বিরোধী দলকে বয়কট করে সেটি পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ তার ১৫ বছরের শাসনকাল টিকিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকার প্রধান হতে যাচ্ছেন। এটি স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও কর্তৃত্ববাদী দলীয় ব্যবস্থাগুলো প্রায়ই বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হয় যা সুশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ঝুঁকিগুলো কমানোর জন্য রাজনীতি, সরকার ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সূচক

সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, আটলান্টিক কাউন্সিল যে ১৬৪টি দেশকে তালিকাভুক্ত সেখানে (স্বাধীনতা সূচকে) 'অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরাধীন' হিসেবে তালিকাভুক্ত দেশগুলো 'সমৃদ্ধশালী' দেশ হিসেবে (সমৃদ্ধি সূচকে) তালিকাভুক্ত হয়নি। এটি থেকে বোঝা যায়, সমৃদ্ধশালী হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি স্বাধীনতা বৃদ্ধি করতে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দেশ দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সমস্যাগুলো এড়িয়ে না গিয়ে বরং সমস্যা মেনে নেওয়া ও সক্রিয়ভাবে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করাই আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

সম্মেলনের মূল বক্তা আটলান্টিক কাউন্সিলের স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধি কেন্দ্রের পরিচালক জোসেফ লেমোইন প্রতিবেদনের মূল ফলাফলগুলো তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে স্বাধীনতা সূচক এবং সমৃদ্ধি সূচকের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক এবং শাসন সূচক ব্যবহার করে একটি জাতির অর্থনৈতিক অবস্থানের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

জোসেফ লেমোইন বলেন, তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়, অধিক স্বাধীনতার দেশগুলো বেশি সমৃদ্ধি উপভোগ করে এবং কম স্বাধীনতার দেশগুলোর সমৃদ্ধি নিচের দিকে। একটি দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে উন্নত করে একটি শক্তিশালী আইনি পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি স্বাগত জানাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অধিক স্বাধীন দেশগুলো কম স্বাধীন দেশের তুলনায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পায়। সামগ্রিকভাবে স্বাধীনতা সূচক প্রস্তাব করে, স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার মূল চাবিকাঠি।

সম্মেলনে সরকারের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, দাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

;