আধুনিক পদ্ধতিতে শসা চাষে সফল নরসিংদীর জাকির



শরীফ ইকবাল রাসেল,ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,নরসিংদী
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

গতানুগতিক চাষাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক শসা চাষাবাদের প্রথমবারেই সফলতা পেয়েছেন নরসিংদীর কৃষক জাকির খান। কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক চাষাবাদের নিয়মনীতি মেনে ফসল বপন করা হলে কৃষকরা অল্প জমিতে বেশী লাভবান হতে পারেন। 

কৃষি নির্ভর এদেশে যুগ যুগ ধরেই কৃষকরা খাদ্যশস্য চাষাবাদ করে আসছেন। কৃষকদের প্রাচীনকালের গতানুগতিক চাষাবাদের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে আসছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের উদ্ভাবিত আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু তাই নয়, খাদ্যে উদ্বৃত্ত হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এবার তেমনি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামের এক যুবক জাকির খান। বিগত বেশ কিছু দিন ধরে বাবা দাদার পেশা কলা, পেপে, ধান ও সবজি সহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করে আসছেন। এবার তিনি পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে শসা চাষ করেছেন। প্রথমবারেই এই চাষাবাদে তিনি সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। বাড়ির পাশে মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন উন্নত মানের শসার। আর এই জমি থেকেই এখন দৈনিক এক থেকে দেড়শো কেজি শসা উত্তোলন করতে পারছেন।

বিষমুক্ত এ শসা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর তাই ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে ভালো দাম দিয়েই শসা নিয়ে যাচ্ছেন। উপযুক্ত সময়ে বপন করে নিয়ম মেনে পরিচর্যা করায় দামও পাচ্ছেন ভালো। এবার ভালো হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বেশী করে চাষাবাদের লক্ষ্য তাদের।  

কৃষক জাকির খান জানান, তিনি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এরপরও বাবা খোরশেদ খানের গড়া কৃষি দেখাশোনা করেন। এরই অংশ হিসেবে এই শসা জমিতে সময় দেন। তিনি এবারের ফলনে খুশি, তাই আগামীতে আরও বেশী জমিতে শসা চাষের আগ্রহ তার।

জাকির খানের বাবা খোরশেদ খান জানান, আমরা একজন প্রান্তিক চাষি। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো শসা চাষে ভালো ফলন হওয়ায় খুবই খুশি। আর সময়মতো ফলন হওয়ায় বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। চরনগরদী বাজারে আমার একটি দোকান থাকায় ছেলে জাকিরই বেশী দেখাশোনা করে থাকে। জমিতে ফেরোমিন ফাঁদ ব্যবহার করায় বিষ দিতে হচ্ছেনা। যার ফলে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে এই শসা সকলেরই পছন্দের।

ক্রেতা হৃদয় দাস জানান, দৈনিক বাজারের অংশ হিসেবে সবজির সাথে শসা একটি বিশেষ অনুসঙ্গ। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শসাকেই বেছে নেন। আর আমরাও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শসা ক্রয় করলে এলাকার কৃষকরা উৎসাহী হয়ে উঠবেন।  

স্থানীয় চরনগরদী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই শসা বিষমুক্ত হওয়ায় এর চাহিদাও বেশী, তাই সাধারণ মানুষও দশ টাকা বেশী ধরেই নিয়ে যাচ্ছেন।

শসা খেতের শ্রমিক ফারুক মিয়া জানান, উন্নতমানের একটি কৃষি খামারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো এই শসা চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। আগামীতে আরও বেশী করে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, কৃষকরা গতানুগতিক চাষাবাদ থেকে বেরিয়ে আধুনিক পদ্ধতির নিয়ম মেনে চাষাবাদ করলে অল্প জমিতেও চাষাবাদ করে বেশী ফলনে লাভবান হতে পারেন। তাই সকল কৃষককে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

কৃষিখাতে গতানুগতিক চাষাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হবে এমন আশা সচেতন মহলের।

   

দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসুন, নতুন বছরে অতীতের সকল ব্যর্থতা-দুঃখ-গ্লানি পিছনে ফেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করি। আগামী রোববার (১৪ এপ্রিল) সারাদেশে উদযাপিত হবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে তিনি আজ বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় (ভিডিও) দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন,
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
বর্ষ পরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন বছর। আপনারা যারা দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে জানাই বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।
প্রধানমন্ত্রী কবি সুফিয়া কামালের ভাষায় উচ্চারণ করে বলেন:
‘পুরাতন গত হোক! যবনিকা করি উন্মোচন
তুমি এসো হে নবীন! হে বৈশাখ! নববর্ষ!
এসো হে নতুন।”
শুভ নববর্ষ।

;

সিলেটের চা বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা



মশাহিদ আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ প্রেয়সী মানুষের পাদচারণায় মুখরিত সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো। প্রতিবারের মতো এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের টানা ছুটিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের চা-বাগানগুলো। পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব মিলে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে এক স্থান অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। চা-বাগানের দৃশ্য দেখে কেউ বইয়ের পাতায় চা-বাগানের ছবি থেকে বেশি সুন্দর বলে মন্তব্য করেছেন আর কেউই কবিতার পঙক্তি ও গানের মাধ্যমে চা বাগান নিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করছেন।

শুক্রবার (১২এপ্রিল) ঈদের দ্বিতীয় দিন ও সরকারি ছুটির তৃতীয় দিনে সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগান ও লাক্কাতুরা ন্যাশনাল টি ও তারাপুর চা-বাগানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সিলেটে এসেছেন অনেকেই।

সরেজমিনে সিলেটের মালনীছড়া, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে লাক্কাতুরা ন্যাশনাল টি ও তারাপুর চা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, চা বাগানগুলোর উঁচু-নিচু, আঁকা-বাঁকা পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। কেউ একতারা হাতে নিয়ে গান গাইছেন। কেউবা কবিতা আবৃত্তি করছেন। আবার অনেকেই সুন্দর মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে মুঠোফোনে ও ডিএসএলআর ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী করতে দেখা যায়।

সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানে গিয়ে কথা হয় বরিশাল থেকে আসা চন্দনা বিশ্বাসের সঙ্গে। বরিশালে একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্বে রয়েছেন।

বইয়ের চিত্র থেকে বাস্তবে সিলেটের চা-বাগানগুলো অনেক অনেক সুন্দর ও স্বর্গীয় সৌন্দর্যে ভরপুর বলে দাবি করে চন্দন বিশ্বাস বলেন, এত সুন্দর চা-বাগান আর কখনো দেখা হয়নি। এই প্রথম সিলেটে ঘুরতে এসেছি। চা-বাগান ঘুরে দেখে খুব ভালো লাগছে। এক কথায় অপূর্ব। মনে হচ্ছে প্রকৃতি যেন ঢেলে দিয়েছে। তাই আমি সবাইকে আহ্বান করছি সিলেটের চা বাগান দেখতে আসার জন্য।

সুনামগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসেন আরেক পর্যটক আমিনুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, এখানকার সবুজ প্রকৃতির আর রূপ লাভণ্যতায় বিমুগ্ধ হয় পর্যটক দর্শনার্থীরা। এখানে ঘুরতে এসে আমরা বন্ধুবান্ধব সবাই অত্যন্ত খুশি। পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে পারার মতো পরিবেশ রয়েছে।

ভোলা থেকে সিলেটে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী বিশ্বদেব বারই বলেন, সিলেটে এমন একটি জায়গায় যা কোনো কবিতা বা বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। প্রকৃতির কাছাকাছি না এলে বুঝা যায় না প্রকৃতি সুন্দর। আসলে সৃষ্টিকর্তা এতো সুন্দর প্রকৃতি তৈরি করে দিয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এই যে ঈশ্বর প্রদত্ত চমৎকার প্রকৃতি আর এই প্রকৃতি মনে হয় সিলেট ছাড়া আমরা আর কোথাও পাবো না।

সিলেট নগরীর বাসিন্দা ইমদাদুল হক বলেন, শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে। বিভিন্ন সময় আমরা অনেক জায়গায় যেতে চাইলেও নিরাপত্তা জনিত কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে যেতে পারি না। তবে এখানকার পরিবেশ অত্যান্ত ভালো। তবে আরেকটু বেশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিলে ভালো হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করবো এখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য। কারণ প্রায় সময় শুনা যায় অনেক ঘটনা ঘটে থাকে।

পর্যটন কেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরে না থাকলেও কেন্দ্রগুলোর বাইরে আমাদের পুলিশ সব সময় থাকে। কারো কোনো সমস্যা হলে আমাদেরকে জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও তাৎক্ষণিক কোনো অভিযোগ থাকলে স্থানীয় থানার ওসি বা ৯৯৯ এ কল দিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য আহবান জানান।

;

চিরতরে টিকেটে কালোবাজারি বন্ধ হবে: রেলমন্ত্রী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মেহেরপুর
চিরতরে টিকেটে কালোবাজারি বন্ধ হবে: রেলমন্ত্রী

চিরতরে টিকেটে কালোবাজারি বন্ধ হবে: রেলমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেছেন, এক সময় ট্রেনের টিকেটে কালোবাজারি থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। আশা করি চিরতরে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে যাবে।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধকালীন রণাঙ্গনের স্মৃতি বিজড়িত স্থান মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষলোটাকা গ্রাম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী এই ষােলটাকা গ্রামের কথা বলতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় আমি এই ষলোটাকা গ্রামে রাতযাপনও করেছি। দেশ স্বাধীনতার বড় একটা ভূমিকা ছিল এই গ্রামের মানুষের।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হয়ে মুজিবনগর থেকে মেহেরপুর রেললাইন স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ রেললাইন স্থাপন কাজ দ্রুত শুরু হবে। প্রক্রিয়া চলছে।

শুক্রবার দুপুরে রেলপথমন্ত্রী সড়ক পথে মেহেরপুরে পৌঁছলে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার আবু সালেহ মো. নাজমুল হক সাগর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ খালেক, গাংনী পৌরসভার মেয়র আহম্মেদ আলী।

পরে মন্ত্রী ঐতিহাসিক মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। সবশেষে তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন রণাঙ্গনের স্মৃতি বিজড়িত ষোলটাকা গ্রাম ও গ্রামসংলগ্ন নােনা বিল এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযােগিতাকারী পরিবারের সদস্যরা মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন।

;

ঈদ আনন্দে ভিড় ‘সামরিক ও বিমান বাহিনী’ জাদুঘরে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের লম্বা ছুটিতে রাজধানী এখন অনেকটাই ফাঁকা। যানজটের এই ব্যস্ত শহরে স্বস্তিতে তাই ফাঁকা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঢাকাবাসী। ঈদ ব্যাতিত যানজট মুক্ত ঢাকা শহরের এই ফাঁকা চিত্র দেখা যায়না বছরের অন্য কোন সময়ে। এই যানজট উপেক্ষা করে তাই নগরবাসী অনেকেরই আনন্দ বিনোদনের সুযোগ মেলেনা। অন্যদিকে শহুরে মানুষের আনন্দ বিনোদনের মাধ্যম নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো। শহর এখন ফাঁকা, এই সুযোগে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে পরিবার পরিজনদের নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে ঈদের দ্বিতীয় দিন বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর এবং আগারগাঁওয়ের বিমান বাহিনী জাদুঘরে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুরে বিজয়নগরে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারের সামনে নারী পুরুষের পৃথক দীর্ঘ লাইন। সবার চোখেমুখেই ঈদ আনন্দের ছোঁয়া। শহরে চাহিদা অনুযায়ী তেমন কোনও বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারসহ এখানে ঘুরতে এসেছেন নগরবাসী। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই সামরিক জাদুঘরে এসেছেন অনেকেই।

রাজধানীর মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে সামরিক জাদুঘরে এসেছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ। বার্তা২৪.কমের প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, 'এবারের ঈদে বাড়ি যাইনি। পরিবার ও ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা মাথায় আসছিল না। তাই ঈদের দিন বাসায় ছিলাম। আজ মাথায় আসলো সামরিক জাদুঘরের কথা। এখানে সামরিক বাহিনীর অনেক ইতিহাসের নিদর্শন আছে। যা থেকে ছেলেরা কিছু জানতে এবং শিখতে পারবে সাথে ঈদের ঘুরাও হবে। তাই চলে আসলাম।'

এখানে যে শুধু বাচ্চাদের নিয়ে অভিভাবকরাই আসেন তা কিন্তু নয়। তরুণ-তরুণীরাও বন্ধুরা একত্রিত হয়ে এখানে ঘুড়তে আসেন। তেমনই একজন আফিয়া বিনতে আলিয়া। তিনি এসেছেন চিটাগাংরোড থেকে। ঘুরতে আসার জন্য এখানেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'খুবই সুন্দর একটা জায়গা এটা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক দেখেছি। ছবি আর ভিডিওতে দেখে মনেই হয়নি এটা বাংলাদেশে। প্রযুক্তির এত সুন্দর ব্যবহার করে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বিষয় তারা এখানে দেখিয়েছেন- এগুলো দেখতেই বন্ধুদের সাথে এখানে এসেছি। ঈদের ঘুরাঘুরিও করা হল আবার নতুন কিছু দেখাও হল।'

অন্যদিকে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিমানবাহিনী জাদুঘরের দৃশ্যও একইরকম। শুক্রবার বিকেলে সেখানে গিয়েও দেখা যায় ছোট-বড় সব বয়সি মানুষের সরব উপস্থিতি। এখানেও শিশুদের প্রাধান্য দিয়েই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সবাই। খোলামেলা পরিবেশ এবং বিমান বাহিনির বিভিন্ন বিষয়বস্তু দিয়ে সাজানো বিমান বাহিনী জাদুঘর। যেকারনে অবিভাবকদেরও পছন্দের তালিকায় শীর্ষে এই জাদুঘর।

দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালনা করায় নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কোনও ভাবনা থাকে না দর্শনার্থীদের। যে কারনে ছোট শিশু থেকে শুরু করে পরিবার নিয়ে নিরাপদে নিশ্চিন্তে ঘুরে আসা যায় সামরিক ও বিমান বাহিনী জাদুঘরে।

;