আম সুরক্ষায় কীটনাশকের বিকল্প ফ্রুট ব্যাগিং!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিতে আম চাষ রাজশাহী অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই পদ্ধতি আম চাষিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি মূলত আমের গায়ে বিশেষ ব্যাগ পরিয়ে দিয়ে চাষ করা হয়, যা ফলকে কীটপতঙ্গ, রোগ এবং অতিবৃষ্টির ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি পরিবেশ সংরক্ষণ ও ফলের গুণগত মান রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে আমের সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে একটি কার্যকর সমাধান প্রদান করছে। ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষিরা ফলের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারেন এবং একই সাথে পরিবেশের ওপর কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবও হ্রাস করতে সক্ষম হন।

বর্তমানে, বালাই নাশকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলচাষিরা সঠিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে এক মৌসুমে ফল বাগানে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি স্প্রে করে থাকেন। এর ফলে পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এই অবস্থার উত্তরণে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

চাষিরা আম সংগ্রহ করার পর থেকে পরের মৌসুমে আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত ১৫-৬২ বার বালাইনাশক ব্যবহার করেন। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষেত্র বিশেষে ২-৫ বার স্প্রে করলেই ভালো মানের আম সংগ্রহ করা সম্ভব। অতিরিক্ত স্প্রে যেমন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি আমের উৎপাদন ব্যয়বহুল করে তোলে। অতিরিক্ত স্প্রে করার ফলে উপকারী ও বন্ধু পোকামাকড়ের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। বালাইনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের পরিবেশবান্ধব সমাধানের অন্যতম উপায় হলো ব্যাগিং প্রযুক্তি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুর ফল বিভাগের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (এইচআরসি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা বয়সে বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায়। ব্যাগিং করার পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত ব্যাগটি গাছেই ফলের সাথে লাগানো থাকে। তবে এই ব্যাগ বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং এবং আকারের হয়ে থাকে। আমের জন্য দুই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। রঙিন আমের জন্য সাদা ব্যাগ আর অন্যান্য জাতের জন্য বাদামি রং এর ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

আম সুরক্ষায় কীটনাশকের বিকল্প ফ্রুট ব্যাগিং

তিনি বলেন, আমের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে বালাইনাশকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত স্প্রে যেমন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তেমনি আমের উৎপাদন ব্যয়ও বেশি। এই অবস্থায় আমে ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে বালাইনাশকের ব্যবহার ও খরচ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে। এই ব্যাগিং পদ্ধতিতে প্রায় ৩০ থেকে জাত ভেদে ৭০ ভাগ বালাইনাশক কম হয়।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, সকল জাতের আমের জন্য ব্যাগিং করার সময় এক নয়। যেমন বারি আম-১, বারি আম-২, বারি আম-৬, বারি আম-৭, খিরসাপাত এবং ল্যাংড়া জাতের আমে ব্যাগিং করা হয় ৪০-৪৫ দিন বয়সের গুটিতে। আমের অন্যান্য জাতগুলি যেমন বারি আম-৩, বারি আম-৪, বারি আম-৮, ফজলি ও আশ্বিনা জাতে ব্যাগিং করা হয় গুটির বয়স ৬০-৬৫ দিন হলে। আমের প্রাকৃতিক ঝরা বন্ধ হলে এবং ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার পূর্বেই ব্যাগিং করতে হবে। ব্যাগিং করার পূর্বে অবশ্যই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক নির্দেশিত মাত্রায় ভালভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। নির্দিষ্ট বয়সের এবং আকারের দাগমুক্ত আমে ব্যাগিং করতে হবে। একটি পুষ্মমঞ্জুরীতে অনেকগুলো আম থাকলে প্রথমেই ফল পাতলা করতে হবে। এরপর সবচেয়ে ভালো, দাগমুক্ত একটি অথবা দুটি আমে ব্যাগিং করতে হবে। তবে বড় জাতের আমের ক্ষেত্রে প্রতি পুষ্মমঞ্জুরীতে একটির বেশি ফল রাখা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ব্যাগিং করা উৎপাদিত আম গাছ থেকে সংগ্রহ করার সাথে সাথে খাওয়া যাবে না। সংগ্রহের সাথে সাথে বা ২/১ দিনের মধ্যে খেলে কম মিষ্টি লাগবে। এই আমগুলো যতবেশি ঘরে রেখে খাওয়া যাবে ততই মিষ্টতা বাড়বে। সাধারণভাবে দেখা গেছে যে, জাতভেদে ব্যাগিংয়ের আম সংগ্রহের ৬-৭ দিন পর ভালোভাবে নরম হয় এবং খেতে সুস্বাদু হয়। কোন অবস্থাতেই শুধুমাত্র রঙ বিবেচনা করে আম কাটা ঠিক হবে না। জাতভেদে আমগুলো ৯-১৪ দিন পর্যন্ত ঘরে রেখে খাওয়া যাবে।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আরএইচআরসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাগযুক্ত ফলগুলি নন-ব্যাগযুক্ত ফলগুলির তুলনায় অনেক ভালো। এ প্রযুক্তি পোকামাকড় এবং রোগের ক্ষতি কমাতে এবং আমের ফলের গুণ-মান ত্রুটিগুলি হ্রাস করতে সহায়তা করে। ফল ব্যাগিং পদ্ধতি ফল ও গাছের সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি।

কৃষকরা বলছেন, 'ফ্রুট ব্যাগিং' পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে তারা আমের ফলন ও গুণগত মানের ব্যাপক উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন। কীটনাশক ব্যবহার না করেও আমের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ায় তারা খুশি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে ফলের উপর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে যাওয়ায় ফলের রঙ, আকার ও স্বাদে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি আম চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ফলকে তাজা ও দাগমুক্ত রাখে। তিনি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো সুফল পেয়েছেন। তিনি ৩২ হাজার আমের ব্যাগিং করেছেন। যেখানে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকা।

রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আম এই অঞ্চলের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফল ফসলের মধ্যে একটি। তবে গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলটি বিকাশের সব পর্যায়ে কীটপতঙ্গ এবং রোগের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি আতঙ্ক দূর করার জন্য চাষি এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি উচ্চ আশা তৈরি করেছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন বলেন, এ প্রযুক্তিটি ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে এখনো তেমন জনপ্রিয়তা পায় নি। তবে যারা রপ্তানির জন্য আম উৎপাদন করছেন, তারা প্রয়োজনের তাগিদেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। বাণিজ্যিক বাগানগুলোতে এ পদ্ধতিতে জনপ্রিয়তা বেশি পেয়েছে। আর যে কোনো ভালো প্রযুক্তির সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ আন্তরিক। তবে সব চাষিই যে এ প্রযুক্তি বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করবে এমনটা না। তবে সময়ে সঙ্গে প্রয়োজনের তাগিদেই এ পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

   

কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ বিরোধীদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে ১৫ শতাংশ ট্রাক্স প্রদানের মাধ্যমে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, এতে সাধারণ সৎ ট্যাক্স দাতারা ক্ষুন্ন হবেন এবং ট্যাক্স দিতে চাইবেন না। যা দেশে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

রবিবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ২০২৪-২৫ বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় তারা এই কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী।

অধিবেশনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কোনো আশার বাণী নেই। বরং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে নিয়মিত ট্যাক্স দাতাদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আর যারা কর দেননি তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈধ পথে সকলেই ৩০-৩৫ শতাংশ ট্যক্স দেন। আর যারা দীর্ঘদিন ট্যাক্স দেননি, সেই কালো টাকা ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে অর্থ সাদা করে ফেলবেন। তাহলে কেন সাধারণ মানুষ নিয়মিত ট্যাক্স দেবে? এটা অনৈতিক, এর ফলে বহু মানুষ ট্যাক্স না দিয়ে এই সুযোগ নিবে।

তিনি বলেন, এই কালো টাকার দুই রকমের, এটা অর্জন করা অবৈধভাবে, সেটার জন্য সেটা প্রদর্শনও করা হয়নি। আর এক ধরনের বাটপারি করে ইনকাম করছে, তারাও ট্যাক্স দেননি। এদের মধ্যে বেশী কালো টাকা, অবৈধভাবে আয় করা টাকাকে বৈধ করার তীব্র বিরোধীতা করে তিনি তাদের শাস্তির দাবি জানান। এসময় তিনি মূল্যস্ফিতির জন্য সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির একটা বড় চালিকা শক্তি। প্রায় ১ কোটি মানুষ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠায়। তার মধ্যে মালয়েশিয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, তারা প্রতি মাসে ৪ হাজার কোটি টাকা, বছরে ৫১ হাজার কোটি পাঠান। অনেকে মনে করে এতো টাকা কেন আসবে, এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়ে সিণ্ডিকেটও রয়েছে। ফলে রেমিটেন্স পাঠাতে তাদের সমস্যাও হচ্ছে, সেখানে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অর্থ পাঠানো সুবিধা দেবার এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি অর্থ পাচার ব্যাংক ডাকাতি ইত্যাদি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে উচ্চবিত্তদের সুবিধা রাখা হয়েছে। আর মধ্যবিত্তরা চাপের মধ্যে পড়বেন। বাজেটের বিভিন্ন নীতি গরীবদের পক্ষে যায়নি।

তিনি বলেন, সিগারেটের দাম তেমন না বাড়ানোয় সরকারের আয় কমে যাবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু সবখানেই দুর্নীতি, যদিও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। মেগা প্রকল্প ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তার বিশাল অংশ বাইরের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়াররা নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে তরুন সমাজকে এ বিষয়ে দক্ষ করতে হবে।

কালো টাকা সাদা করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন এর ফলে সাধারণ করদাতারা কর দিতে চাইবে না। তাই ওই প্রম্তাব থেকে সরে আসতে হবে।

দেশের অর্থ বিদেশে পাঁচার করেছে, তাদের চিহ্নিত করে অর্থ ফেরৎ ও তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

তিনি সার্বভৌম এই পার্লামেন্টে কীভাবে কালো টাকা সাদা করা সুযোগ দেয় তার সমালোচনা করেন। তিনি অর্থ পাচার, দুর্ণীতি, ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে না দেওয়াসহ অর্থ আত্মস্বাদকারীদের চিহ্নিত ও শাস্তির দাবি করেন।

আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দীন বলেন, সম্প্রতি সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এই সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকগুলোকে সলভেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কার্যকারী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিধায় এই সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকগুলোর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, গ্রাহকরা তাদের সব টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই হটকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানা তিনি।

সোহরাব উদ্দীন বলেন, বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী যে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে সাদা করার কথা বলেছেন। তাতে উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে কেউ এ অপ্রদর্শিত টাকা প্রদর্শন করবে না, অতীতে ১০ শতাংশ ছিল তাতেও কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যদি এটা ৫ শতাংশ ট্যাক্স করা যায় তাহলে দেশে যে বিপুল পরিমান অপ্রদর্শিত অর্থ আছে তা প্রদর্শন করবে, অর্থমন্ত্রীর যে উদ্দেশ্য তা সাধিত হবে। তাই বিপুল পরিমান টাকা সাদা করতে আমি ৫ শতাংশ ট্যাক্স ধার্য্য করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো।

তিনি বলেন, দেশে উন্নয়ন দ্রুত গতিতে চলছে, কিন্তু তাতে সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়ে গেছে এর লাগাম টানা যদি না যায় তাহলে উন্নয়নের গতি হ্রাস পাবে। আজকে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। ব্যাংকেও প্রচণ্ড অর্থ নয়ছয় হচ্ছে, দুর্নীতি বেড়ে গেছে, ব্যাংকের যে পদস্থ কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান তারাই আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এদের কোনো বিচার হয়নি।

;

‘সেনানিবাস না থাকলে কক্সবাজার দখল করে নিত আরাকান আর্মি’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারে সেনানিবাস না থাকলে এতো দিনে ওই এলাকা মিয়ানমারের আরাকান আর্মি দখল করে নিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার।

রবিবার (২৩ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন কক্সবাজার-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি সংসদের হুইপও।

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার-৩ আসনের (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা) এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকান আর্মি সশস্ত্র লড়াই করছে। আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে তাদের অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাস না দিলে আজ কক্সবাজার অনিরাপদ হয়ে যেত। এতো দিনে তারা দখল করে ফেলত। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন সেনানিবাসের জন্য। আমাদের রক্ষিত করেছেন।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি দেশটির জান্তা সরকার উৎখাতে লড়াই করছে। তারা রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে আজ সংসদে সাইমুম সরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়বে, ভারতের নিরাপত্তা বাড়বে।

;

মিন্টুকে বহিষ্কারের দাবি আজীমকন্যা ডরিনের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে ডরিন বলেছেন, ‘পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি বাবা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। একজন খুনির জায়গা আওয়ামী লীগে হতে পারে না। তাকে এখনই দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। সেইসঙ্গে বাবার খুনের সঙ্গে জড়িত কালীগঞ্জে মিন্টুর অনুসারীদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।’

রবিবার (২৩ জুন) বিকালে কালীগঞ্জ বাস টার্মিনালে আয়োজিত আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও এমপি আজীম হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এ সময় মঞ্চে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডরিন।

তিনি বলেন, ‘বাবা পরিবারকে বেশি সময় দিতেন না। তিনি সারাদিন এলাকার মানুষের কল্যাণে ছুটে বেড়াতেন। মৃত মানুষের জানাজায় যেতেন। বাবা হত্যার পর আজকের এই প্রতিবাদ সভায় আপনাদের উপস্থিতি দেখেই বুঝতে পারছি তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। আপনাদের ভালবাসায় বাবা এই আসনে তিনবার এমপি হয়েছেন। আজ রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকারে তাকে খুন হতে হয়েছে। বাবার খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান ওদু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, কালীগঞ্জ পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান রাসেল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল প্রমুখ।

;

বিভক্ত কমলনগর উপজেলা আ.লীগ, পাল্টাপাল্টি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম লক্ষ্মীপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজু।

যে কারণে রবিবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পাল্টাপাল্টি পালন করেছে এ দুই নেতা। এ নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (ঈগল) প্রার্থীর সমর্থনকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্য আরেকটি অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুন নাহার লাইলী।

দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, রবিবার বিকালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পৃথক পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করে সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজু। পৃথক আয়োজনের মাধ্যমে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বিভক্তি প্রকাশ্যে আসে। এভাবে চলতে থাকলে দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে বলে জানান তারা।

জানা গেছে, উপজেলা সভাপতি নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন।

ওই সভার প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক রাখা হয়েছে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পীকে। তিনি সংসদ সদস্য আবদুলল্লহ আল মামুনের একান্ত সহকারীর (পিএস) দায়িত্বে রয়েছেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আরেকটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজু নেতৃত্বে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুন নাহার লাইলীর নাম রাখা হয়। যদিও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইস্কান্দার মির্জা শামিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সফিক উল্লাহ বাংলা নেতা, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আহসান উল্লাহ হিরণ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারেফ হোসেন রাসেল, সদস্য আব্দুল আহাদ দিদার, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সালা উদ্দিন দোলন, রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ছাত্রলীগ নেতা তানজুর রহমান রুবেলসহ প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে রবিবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজু বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের অনুষ্ঠান একটিই হয়েছে। সেটা আমার নেতৃত্বে হয়েছে দলীয় কার্যালয়ের সামনে হয়েছে। এতে দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিল। কিন্তু, হাজির হাট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে যে অনুষ্ঠান হয়েছে, সেটি আমাদের দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না। স্বতন্ত্র এমপির (আবদুল্লাহ আল মামুন) নিজস্ব অনুষ্ঠান ছিল। তিনি আমাদের দলের এমপি নন৷ ওই অনুষ্ঠান প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি। আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠান হলে যুবলীগ নেতা কিভাবে আহ্বায়কের দায়িত্ব পান?

তিনি দাবি করেন, দলে কোন গ্রুপিং নেই। সভাপতি নিজাম উদ্দিন স্বতন্ত্র এমপির নির্বাচন করেছেন। তাই তিনি আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে আসেননি।

;