ঘূর্ণিঝড় রেমাল: চট্টগ্রাম বন্দরে অ্যালার্ট-১ জারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া অফিস ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলায় চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব অ্যালার্ট-১ জারি করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) দুপুর ২টায় বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

আজ (শনিবার) সন্ধ্যা থেকে এর প্রভাব সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে পড়তে শুরু করবে। আর মধ্যরাত থেকে পুরোপুরি প্রভাব পড়া শুরু হতে পারে। সেজন্য সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপটি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হচ্ছে।

গভীর নিম্নচাপ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যালার্ট-১ জারি করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি চলমান আছে। চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব অ্যালার্ট-১ জারি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বন্দর জেটি এবং বর্হিনোঙ্গরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে।

এদিকে রেমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এছাড়া জনগণকে তথ্যসেবা দিতে নগরীর দামপাড়াস্থ চসিকের বিদ্যুৎ বিভাগে চালু করা হয়েছে জরুরী কন্ট্রোল রুম। এ কন্ট্রোল রুম থেকে দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা দুর্যোগকবলিত জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৮১৮৯০৬০৩৮।

চসিকের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, রেমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্দেশে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। রেমালের ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম থেকে নাগরিকদের তথ্য সেবা দেয়া হবে। এছাড়া, আমরা রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং শুরু করেছি যাতে ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। এছাড়া, জরুরি প্রয়োজনে বিতরণের জন্য শুকনো খাবারের ত্রাণও প্রস্তুত করা হয়েছে।

আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর টাইাগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে মেয়র রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সভা হবে বলে জানান তিনি।

   

জামিনে মুক্তি পেলেন আলোচিত পাপিয়া



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
ছবি: শামীমা নূর পাপিয়া

ছবি: শামীমা নূর পাপিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হলেন আলোচিত শামীমা নূর পাপিয়া। সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হন। বিষয়টি বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, বিকেলে পাপিয়ার জামিনের সব কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে তাকে কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কুমিল্লা কারাগারে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে জেল সুপার বলেন, আমাদের নজরে এমন কিছু পড়েনি।

জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন এবং অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‍‍্যাব। এরপর তাদের কাছ থেকে ৭ টি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার এবং সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন পাপিয়া। সেখানে এক নারী বন্দির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই শামীমা নূর পাপিয়াকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুমিল্লা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

;

দুর্নীতির মচ্ছব বন্ধে বিশেষ কমিশন গঠন করুন: মেনন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্নীতির বিস্তার রোধ করা না গেলে ‘হিমশৈলের ধাক্কায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির সলিল সমাধি’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, দুর্নীতির মচ্ছব বন্ধ করতে এখনই বিশেষ কমিশন গঠন করুন।

সোমবার (২৪ জুন) দ্বাদশ জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ সব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন।

এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি দেশের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বিএনপি আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছি। বিএনপি আমলের দুর্নীতির বিশ্ব সূচকে আমাদের সেই কলঙ্ক দূর হলেও ওই সূচকে বাংলাদেশ এখনো শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে। বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির সম্প্রতি যে চিত্র বেরিয়ে আসছে, তা দেশের ভাবমূর্তি কেবল নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি করছে। এ কথা এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সাবেক পুলিশ প্রধান ও সেনা প্রধানের দুর্নীতির চিত্র ‘হিমশৈলের ক্ষুদ্র উপরিভাগ’ মাত্র।

এখনই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দুর্নীতির এই বিস্তার রোধ করা না গেলে হিমশৈলের ধাক্কায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির সলিল সমাধি হবে। দুর্নীতির এই মচ্ছব বন্ধ করতে এখনই বিশেষ কমিশন গঠন করুন। দুর্নীতিবাজদের অর্থ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও বিচার করে কঠিনতম শাস্তি দিন। ঋণখেলাপি অর্থ আত্মসাৎকারীদের জন্য ‘ট্রাইব্যুনাল গঠন’ করুন।

সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি জানি, উন্নয়নের বেদনা আছে। সেই বেদনা যদি চোখের সামনে দেশের সম্পদ লুট করার কারণে হয়, তবে সেটা গ্রহণ করা যায় না। ওই লুটের টাকাকে ‘যখন সাদা করার জন্য সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের চেয়ে অর্ধেক কর দিয়ে সাদা করার প্রস্তাব করা হয়’, তখন সেটা সততার জন্য তিরস্কার ও অসততার জন্য পুরস্কারের শামিল হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, এ সম্পর্কে যে সব যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল আশার নয়, এ প্রসঙ্গে সরকারের অতীত অবস্থানের বিপরীত। খালেদা জিয়ার জন্য যেটা অনৈতিক, বর্তমানেও সেটা অনৈতিক। আশা করি, অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে সংসদকে এর দায়ভার থেকে রেহাই দেবেন।

সংসদ সদস্য মেনন বলেন, এক নিষ্ঠুর অলিগার্করা দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। সেই অলিগার্কির স্বার্থ রক্ষার্থে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা যায়নি। দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধগতি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংকিংখাতে লুট ও নৈরাজ্য এবং খেলাপি ঋণের বিশাল পাহাড় দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থায় উপনীত করেছে।

এর থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই ছিল বর্তমান সময়ের জরুরি কর্তব্য। কিন্তু সেই লক্ষ্যে বাজেটে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের যে নির্বাচনি ইশতেহারের কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, তার থেকে বাজেট প্রস্তাবনা যোজন যোজন দূরে এবং সাংঘর্ষিক। বাজেটে মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বৈশ্বিক সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই একই বৈশ্বিক সংকটে শ্রীলঙ্কা, ভারত মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারলেও বাংলাদেশ পারছে না কেন, সে কথা বলার প্রয়োজন ছিল। অর্থমন্ত্রী অবশ্য বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৬ মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার আশা দিয়েছেন। আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবো। ৬ মাস পর এই সংসদে এ ব্যাপারে পর্যালোচনা উত্থাপনের জন্য আমি প্রস্তাব করছি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, মূল্যস্ফীতির অভিঘাত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়। এর ফলশ্রতিতে যে বিষয়টি সাধারণ মানুষকে সর্বাপেক্ষা পীড়িত করছে, তা হচ্ছে উচ্চ দ্রব্যমূল্য। আমি সংসদে কাউকে কাউকে ঢোক গিলে বলতে শুনেছি, মানুষ কষ্টে আছে। মানুষ শুধু কষ্টে নেই, তাদের সঞ্চয় ভেঙে খেতে হচ্ছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কমিয়ে দিতে হচ্ছে!

;

প্রাণ ফিরেছে লঞ্চে: ঈদের এক সপ্তাহ পরও ফাঁকা নেই ডেক ও কেবিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম, বরিশাল
বরিশাল নৌবন্দর/ছবি: বার্তা২৪.কম

বরিশাল নৌবন্দর/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ বন্দরে। ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ পরও ফাঁকা নেই কোনো লঞ্চের ডেক ও কেবিন। এমনকি আগামী ২৮-২৯ জুন পর্যন্ত অগ্রীম বুকিং হয়েছে সব লঞ্চের কেবিন।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে বরিশাল নৌবন্দর ঘুরে ৮টি লঞ্চ ঢাকার পথে যাত্রার জন্য প্রস্তুত পাওয়া গেছে। পারাবত, সুন্দরবন, অ্যাডভেঞ্চার, মানামিসহ ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে ৮ থেকে ১২টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ'র বরিশালের কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, ঢাকা থেকেও বরিশালের উদ্দেশ্যে ৮ টি লঞ্চ ছেড়ে আসবে। এই মুহূর্তে মোট ১৬টি লঞ্চ রোটেশন করা হয়েছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। তবে ঢাকা অংশে যাত্রীচাপ তুলনামূলক অনেক কম। তাই সেখানে লঞ্চ কম রাখা হয়েছে। এর আগে ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ২টি করে মোট চারটি লঞ্চ রোটেশন করা হয়েছিল। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা সদরঘাটে চাপ বাড়তে শুরু করায় গত ১৫ জুন শুক্রবার থেকে ১০টি থেকে ২০টি লঞ্চ রোটেশন করা হয়। ১৬ জুন থেকে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক।

এদিকে ঈদের পাঁচ-ছয় দিন পরেও টিকেট কাউন্টারগুলো ঘুরে জানা যায়, আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত কোনো লঞ্চেই কেবিন ও সোফা ফাঁকা নেই। সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির পরিচালক মো. আকতার হোসেন জানান, বরিশাল রুটে তিনটি, ঝালকাঠি দুটি ও পটুয়াখালী দুটি মোট সাতটি সুন্দরবন কোম্পানির লঞ্চ ঈদ উপলক্ষে চলাচল করছে। একটিতেও ২৯ জুন পর্যন্ত কোনো কেবিন ফাঁকা নেই।

সোমবার সন্ধ্যার আগেই বরিশাল ঘাটে থাকা ৮টি লঞ্চেরই ডেক পরিপূর্ণ চোখে পড়ে। দুএকটিতে কিছুটা বিছানা পাতার সুযোগ থাকলেও কেবিন ও সোফা প্রায় সবই ফাঁকা ছিলো।

এ সময় চরকাউয়া এলাকার যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ ভাড়াটা ৩০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের যাত্রীর অভাব হবে না।

যদিও অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের সুপারভাইজার বেলাল হোসেন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকার নির্ধারিত ভাড়া সাড়ে চারশত টাকা। আমরা তার চেয়েও কম নিচ্ছি। কিন্তু কেবিন বেশিরভাগ ফাঁকা থাকলে আমাদের চলাচল অসম্ভব।

শুভরাজ এর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও সহকারী সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, পদ্মা সেতুর কারণে গত এক বছর ধরেই লঞ্চে যাত্রী শূন্যতা চলছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে গত প্রায় তিনমাস ধরে মালিক সমিতি ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বৈঠকে রোটেশন করে দুটি করে লঞ্চ চালু রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

একই কথা বললেন মানামি সুপারভাইজার শাহদাত হোসেন শুভ। তিনি বলেন, তেলের দাম না কমালে আগামীতে হয়তো অনেক লঞ্চ ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। প্রতিটি ট্রিপে একটি লঞ্চের চার লাখ টাকা তেল বাবদ বরাদ্দ রাখতে হয় বলে জানান তিনি।

এ সময় লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও সুন্দরবন শিপিং এর চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা লোন আছে, শ্রমিকদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, সবমিলিয়ে প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে আছে লঞ্চ ব্যবসা। ঈদ উপলক্ষে কিছুটা অবস্থায় পরিবর্তন ঘটলেও তা শুধু সবমিলিয়ে এক কি দুই সপ্তাহ। এরপর কি হবে?

রিন্টু আরো বলেন, এভাবে রোটেশন করে করে কতদিন চলা সম্ভব? এই ঈদ-পার্বণে আগে যেখানে ৩০-৪০টি লঞ্চ প্রতিযোগিতা দিত, সেখানে এখন সর্বোচ্চ ৭-৮টি থেকে ১৬টি লঞ্চ চলাচল করে। এ থেকেই লঞ্চ ব্যবসার ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তেলের দাম কমার পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন সুন্দরবন নামের ১৫-২০টি লঞ্চের এই মালিক।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌ যান চলাচলে কোনো বাধানিষেধ রাখা হয়নি। রুট পারমিট আছে এমন সব লঞ্চই ঈদ উপলক্ষে চলাচল করতে পারছে এবং করছেও।

;

‘মাদক মামলার আসামিদের সাজা বহালে ব্যবস্থা নিতে হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকগণের মাসিক সমন্বয় সভা

চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকগণের মাসিক সমন্বয় সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, মাদক মামলার রায়ে যে সকল আসামির ৫ থেকে ৭ বছর সাজা হয়, আপিলের পরও তাদের সাজা যাতে বহাল থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবার (২৪ জুন) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত চোরাচালান নিরোধ আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভা, বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, বিভাগীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সভা, বিভাগীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স সভা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণের সাথে সমন্বয় সভা, বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকগণের মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় পৃথক পৃথক সভার আয়োজন করেন। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগের জেলা প্রশাসকগণের মধ্যে ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২০২৪-২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। বিগত সভার কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম অনীক চৌধুরী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মাদক একটি বড় সমস্যা। মাদকের ছোবল থেকে আমাদের শিশু-কিশোর ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। হেরোইন, ইয়ারা ও ফেন্সিডিলসহ যারা মাদক নিয়ে আটক হয় তাদের মধ্যে কেউ মামলা থেকে খালাস পায়, আবার কারও কারও নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা হয়। মাদক মামলার রায়ে যে সকল আসামির ৫ থেকে ৭ বছর সাজা হয়, আপিলের পরও তাদের সাজা যাতে বহাল থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মামলার সাজা ও খালাসের রায়ের কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাদীকে দিতে হবে। কাস্টমস অ্যাক্ট আইন ও ফৌজদারি আইনের মামলাগুলোর কার্যক্রম বাস্তবায়ন কতটুকু তা প্রতিমাসে প্রতিবেদন আকারে জানাতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ১৮ বছরের নিচে যে সকল শিশু-কিশোর ড্যান্ডি (মিথাইল মেথাক্রাইলেট) ও মাদক সেবন করে তাদের বিচারের জন্য আলাদা শিশু আদালত রয়েছে। তাদেরকে সংশোধনের জন্য সমাজসেবার সহযোগিতায় গাজীপুরে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সকল ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ইভটিজিং, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। ইতোপূর্বে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে আসা মাদক, অস্ত্রের চোরাচালান, তেল পাচার রোধ ও চোরাচালান রোধে সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথে টহল আরও জোরদার করতে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও নৌ-পুলিশসহসংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটতে পারবে না। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়াতে হবে। একইসাথে রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর প্রতিও নজর রাখতে হবে।

সভায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরেআলম মিনা বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের কারণে বিভাগের প্রত্যেক জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মাদক সেবন ও উদ্ধারের পর পুলিশ বাদী হয়ে যে সকল মামলা দায়ের করা হয় সেগুলোর রায়ের সাজা ও আপিলের বিষয়টি তদারকি করার জন্য পুলিশের আলাদা একটি ইউনিট রয়েছে। এ বিভাগে ৮০ শতাংশ আসামির সাজা হয় মাদকের মামলায় আর অন্যান্য বাদীর মামলায় সাজা হয় ২০ শতাংশ আসামির। চামড়ার দাম আরও বৃদ্ধি করতে ব্যবসায়ীদেও দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি ভারত থেকে আসা নিন্মমানের চিনি ও বিপিসি’র নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন ডিআইজি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোয়ায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরেআলম মিনা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল মান্নান মিয়া, বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়নের পরিচালক (লজিস্টিক) লে. কর্নেল মো. শরীফ উল্লাহ, বিডার পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান (চট্টগ্রাম), শাহীন ইমরান, (কক্সবাজার), মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন (রাঙামাটি), মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সুরাইয়া জাহান (লক্ষ্মীপুর), খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান (কুমিল্লা), মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার (ফেনী), মো. কামরুল হাসান (চাঁদপুর), মো. সহিদুজ্জামান (খাগড়াছড়ি), শাহ মোজাহিদ উদ্দিন (বান্দরবান), শারমিন আক্তার (নোয়াখালী), রেলওয়ে পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের পিপি হরিপদ চক্রবর্তী, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের উপ-কমিশনার (কুমিল্লা) মো. কেফায়েত উল্লাহ মজুমদার, যুগ্ম কমিশনার (চট্টগ্রাম) মো. মারুফুর রহমান, সহকারী পরিচালক আবদুল মতিন তালুকদার, পণ্য পরিবহন মালিক গ্রুপের সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

পৃথক সভাগুলোতে বিভাগের বিভিন্ন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, র‌্যাব-পুলিশ-কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;