যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

রোববার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ শরমিন জাহানের আদালতে এ মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর মা লাকী আক্তার।

মামলার আসামি হলেন- রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই থানার রাঙ্গুনিয়া বাজার হোসেনের বাড়ির মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. সোহেল (৩৫)। বর্তমানে ভিকটিমকে নিয়ে তিনি হাটহাজারী থানার ৫ নম্বর বুড়িশ্চর ওয়ার্ডের আহমদ আলী টেন্ডলের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মো. সোহেলের সাথে বিয়ে হয় ভিকটিমের। আকদ অনুষ্ঠান শেষে সোহেলকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ৭০ হাজার টাকার ফার্নিচার দেওয়া হয়। এছাড়াও দেওয়া হয় ৩টি স্বর্ণের আংটি। বের একমাস পর সোহেল তাদের ভাড়া বাসার কাছেই রাজমিস্ত্রীর দোকান দিতে চায়। এসময় ভিকটিমের বাবার কাছ থেকে সে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবি করে। আর তা না দেওয়ায় মারধর শুরু করে।

এদিকে, বিয়ের সময় সোহেলের পরিবারকে ৭০ হাজার টাকা ফার্নিচার বাবদ দেওয়া হলেও সেই টাকা দিয়ে ফার্নিচার না কিনে আরও এক লাখ টাকা দিতে চাপ দেয় সোহেল। এরপর বাধ্য হয়েই ভিকটিমের বাবা ৫০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু এরপরেও নিয়মিত স্ত্রীকে যৌতুকের জন্যে নির্যাতন করতো সোহেল। গত বছরের ২০ জুলাই ভিকটিমকে আইইইউডি (কপার-টি) করানো হয়। এরপর থেকেই ভিকটিমের শরীরে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় সোহেল।

চলতি বছরের ১ মে ভিকটিম সোহেলকে চিকিৎসার কথা জানালে দোকান করতে এক লাখ টাকা বাবার কাছ থেকে এনে না দিলে তালাক দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে হুমকি দেয় সে। কিন্তু সোহেলের স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে পারবে না জানালে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে সকাল ৬টার দিকে ঘরের মাটির চুলায় তার বাঁ পা ঢুকিয়ে দেয়। এসময় ভিকটিমের পায়ের চামড়া ও মাংস ঝলসে যায়।

এদিকে, ভিকটিমের পরিবারকে রান্না করতে পা পুড়েছে বলে জানায় সোহেল। সাথে সাথে ভিকটিমের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।

মামলার বিষয়টি করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, হাটহাজারীতে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভিকটিমের মা। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে হাটহাজারী থানার ওসিকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এতে রেলের ২২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যার পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনাম ও জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

রেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সহিংসতা রেল যোগাযোগে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, রেল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে থেকে ট্রেন চলবে।

তিনি বলেন, ট্রেন চলাচলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রেন চালানো কোনো বিষয় না, বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে কবে থেকে ট্রেন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, স্বল্প দূরত্বে কিছু ট্রেন আজ বৃহস্পতিবার থেকে চলাচলের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

;

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে মির্জা ফখরুলের নিন্দা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোর নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধীদল ও মতের মানুষদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম তেনজিং এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ছেলে সানিয়াতকে গ্রেফতার করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মিথ্যা অভিযোগে ঢালাওভাবে বিএনপি ও বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য দোষারোপ করছে। যদি তাই হয়, তাহলে তাদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়নি কেন? এটাই জনগণের প্রশ্ন। এতে প্রমাণিত হয়, বিএনপি কিংবা বিরোধীদলের কেউই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয়।

তিনি বলেন, জনগণ পুরো ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করে। এ ছাড়া ব্যর্থতার সব দায় নিয়ে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে জনগণ মনে করে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে পুলিশ ও আনসার সদস্য যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে বিনা অপরাধে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে তাদের মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

;

ইন্টারনেটবিহীন ৬ দিন যেমন ছিল ফেনী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪, ইন্টারনেটবিহীন যেমন ছিল ফেনী শহরের অবস্থা

ছবি: বার্তা২৪, ইন্টারনেটবিহীন যেমন ছিল ফেনী শহরের অবস্থা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বন্ধ ছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। এখনো বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম। বিগত ৬ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, কারফিউ ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটিসহ নানা ঘটনায় সরব ছিল ফেনীর জনপদ।

এদিকে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় সারাদেশের মতো ফেনীতেও প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন কর্ম ব্যস্ততায়। বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার বাস। কারফিউকালীন ফাঁকা হয়ে যায় ফেনী শহর।
প্রয়োজন ছাড়া বের হননি সাধারণ মানুষ। স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। এর মধ্যে থেমে থেমে চলছিল আন্দোলন। পুলিশের সঙ্গে হয় সংঘর্ষ। আন্দোলন, সংঘর্ষ, নাশকতার মামলায় গ্রেফতার অভিযানসহ ঘটে নানা ঘটনা।

কেমন ছিল গত ১৯ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ফেনীর চিত্র। তা থাকছে এ প্রতিবেদনে-

শুক্রবার (১৯ জুলাই)- দুপুর ২টার দিকে শহরের বড় মসজিদ এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তারা সড়ক থেকে সরে যান। এদিন বিকেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে বড় মসজিদ এলাকায় গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

শনিবার (২০ জুলাই)- এদিন বিকেলের দিকে শহরের তাকিয়া রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর আগে সকালে আইনশৃঙ্খলার বিশেষ সভার আয়োজন করেন জেলা প্রশাসক। সভা শেষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মহড়া দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার।

রোববার (২১ জুলাই)- এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক জানায় ফেনী জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিকেল ৫টার দিকে শহরের তাকিয়া রোডে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের নেতৃত্বে একটি মিছিল করা হয়। এ সময় সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এদিন রাতে শহর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইলিয়াসকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুলাই)- সরকার ঘোষিত কারফিউতে ফাঁকা ছিল গোটা শহর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফেনী থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাগামী সড়কগুলোতে কিছু ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কারফিউ এবং সাধারণ ছুটি থাকায় ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হননি সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যার আগে কিছু মুদি দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান খুললেও সন্ধ্যার পর ফার্মেসি ও প্রয়োজনীয় দোকান ব্যতীত সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়।

যেমন ছিল বিগত ৬ দিন ফেনী শহর, ছবি- বার্তা২৪.কম


এদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকলেও আন্দোলনকারীদের মাঠে দেখা যায়নি। সন্ধ্যার দিকে শহরের ট্রাংক রোড এলাকা থেকে সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই)- কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারা দেশের মতো ফেনীতেও বন্ধ ছিল ইন্টারনেট সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পর্যায়ের সেবাপ্রার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় শহরের এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংসহ সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে না পারায় শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে মানুষজনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বুধবার (২৪ জুলাই)- এদিন জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তে জেলায় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কয়েকদিনের স্থবিরতার পর দোকানপাট খোলেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য দিনের তুলনায় বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে মানুষজনের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফিরে আসায় স্বস্তি ফেরে মানুষের মাঝে, ছবি- সংগৃহীত


এদিন দুপুরে শহরের বড় বাজার ও পৌর হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় বাজারে পণ্য সামগ্রীর জোগান বাড়ে। বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা উপস্থিতিও বাড়ে এদিন। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারদরও অন্য দিনের তুলনায় কম রাখা হয়। তবে কারফিউ শিথিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কমতে দেখা গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। বিগত ৩ দিনে নাশকতার দুই মামলায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই)- এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অব্দি কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলছে দিনের কার্যক্রম। সকালে অফিসগামী মানুষদের ভিড় লক্ষ করা যায় শহরে। শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম চালু হওয়াতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে জনজীবনে। তবে স্কুলগামী ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবকিছু বন্ধ থাকাতে হতাশার মধ্যে আছেন তারা।

পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

;

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে ক্ষতের দাগ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ফলকের বর্তমান চিত্র/ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল

ফলকের বর্তমান চিত্র/ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল। স্বাধীনতার সঙ্গে বেতারের জড়িয়ে থাকা সেই স্মৃতি ধরে রাখতে বহদ্দারহাট মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ’ শীর্ষক ভার্স্কয। গত ৭ মার্চ সেটি উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

উদ্বোধনের পর থেকে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল কাচ ঘেরা পিরামিড আকৃতির ফলকটি। কিন্তু চার মাসের মাথায় সেই স্মৃতিফলকটি যেন এখন নিজেই স্মৃতি! গত ১৮ জুলাই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতরা সেই ফলকটি ভেঙে চুরমার করে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ফলকটিকে তছনছ দেখে থমকে দাঁড়ান সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সাহাব উদ্দিন। ফলকটির কি অপরাধ ছিল-নিজের কাছে নিজেই সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে এই চালক বলতে শুরু করেন, ছাত্রদের আন্দোলন আর কারফিউর কারণে পাঁচদিন ঘরে বসা ছিলাম। বুধবার দুপুর থেকে গাড়ি নিয়ে বের হলেও বহদ্দারহাটের দিকে আসা হয়নি। আগে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়মিত চোখ যেত ফলকটির দিকে। কিন্তু আজ সেই ফলকটির এমন অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ শীর্ষক ভার্স্কয

ফলকটির চারপাশের কোনো কাচই আর অক্ষত নেই। তবে কাচের ফ্রেমের ভেতর বসানো মাইক্রোফোন আকৃতির প্রতীকটিতে তেমন একটা দাগ লাগেনি। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের সময় যে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়েছে তারিই প্রতীক হিসেবে কাচের ভেতর এটি বসানো হয়েছিল। আর পিরামিড আকৃতির ফলকটি নির্মাণের কারণ ছিল-মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭ কোটি বাঙালির ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু আন্দোলনকারীরা কিনা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ফলকটিই ভেঙে দিলেন।

মূল শহরের পূর্ব প্রান্তে পড়েছে বহদ্দারহাট। ফলে আন্দোলন কিংবা সংঘাত এই এলাকায় খুব কমই হতো। কিন্তু সেই এলাকাটি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ১৮ ও ১৯ জুলাই টানা দুদিন উত্তপ্ত ছিল। এখানে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন তিনজন।

সংঘর্ষের পর থেকে বহদ্দারহাটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও পুলিশের উপস্থিতি ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।

১৮ জুলাইয়ের সংঘর্ষে শুধু ফলক নয়, বহদ্দারহাট মোড়ে থাকা পুলিশ বক্সটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। চার কক্ষের এই ফাঁড়িতে চান্দগাঁও থানার একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে একটি টিম ও একজন সার্জেন্টের নেতৃত্বে ট্রাফিক পুলিশের একটি দল নিয়মিত অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন। এখন ফাঁড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ায় তারা সেখানে আর বসতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গেটে তালা ঝুলছে। ফাঁড়ির সদর দরজাটিও বন্ধ। এক তলা ভবনজুড়ে পোড়ার ক্ষত, কালো দাগ। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় এই ফাঁড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ফাঁড়ির সামনে রাখা তিনটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয় সেদিন। আগুনে ফাঁড়ির ভেতরের সব জিনিস ও ফাইলপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফাঁড়ির বাইরে পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তারা এই বিষয়ে কথা বলতে চাননি। এর আগে ২০১২ সালেও এই ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়, আগুন দেয়। ওই ঘটনার পর পুলিশ ফাঁড়িটি এক তলা ভবনে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। এবার আগুনে আরেকবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেই পুলিশ বক্সটি।

পুড়ে যাওয়া পুলিশ বক্স


সংঘর্ষের কারণে ও কারফিউ জারি থাকায় বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংঘর্ষের সময় বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ায় প্রায় দুদিন অন্ধকারেই বেচাবিক্রি করতে হয়েছে বিক্রেতাদের। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আগের মতো ক্রেতা নেই সেখানে। গত তিনদিন ধরে দিনের বেলায় বেশিরভাগ দোকান খুললেও কারফিউর কারণে সন্ধ্যার পর প্রায় দোকানই বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের প্রবেশমুখে ফলের দোকানিরা বসেন। বেশ কয়েকদিন দোকান বন্ধ থাকায় তাদের অনেক ফলই পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফল দোকানি আবদুর রশিদ বলেন, ১৮ জুলাই সংঘর্ষ শুরু হলে কোনোমতে জান নিয়ে পালাই। ভেবেছিলাম দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু পরদিন আবারও ঝামেলা হয়। এরপর তো কারফিউ শুরু হলো। সেজন্য আর দোকানমুখী হতে পারিনি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এসে দেখি-বেশিরভাগ আমই পচে গেছে। বহু টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম।

একই কথা বললেন আরেক ফল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেলও। তার দোকানেরও প্রায় সব ফল নষ্ট হয়ে গেছে। সোহেল বলেন, পচা ফলগুলো ফেলে দিয়ে বুধবার নতুন ফল দোকানে তুললাম। এখন আল্লাহ আল্লাহ করছি-পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে। কেন না দোকান না খুললে তো আমাদের পেটে ভাত পড়বে না।

আশপাশের মানুষেরাও সাঁয় দেন সোহেলের কথায়। বলেন, ‘পেট তো আর আন্দোলন বুঝবে না, বুঝবে না কারফিউ। যত কিছুই হোক-তার তো তিন বেলা খাবার লাগবেই…’

;