কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ বিরোধীদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে ১৫ শতাংশ ট্রাক্স প্রদানের মাধ্যমে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, এতে সাধারণ সৎ ট্যাক্স দাতারা ক্ষুন্ন হবেন এবং ট্যাক্স দিতে চাইবেন না। যা দেশে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

রবিবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ২০২৪-২৫ বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় তারা এই কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী।

অধিবেশনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কোনো আশার বাণী নেই। বরং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে নিয়মিত ট্যাক্স দাতাদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আর যারা কর দেননি তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈধ পথে সকলেই ৩০-৩৫ শতাংশ ট্যক্স দেন। আর যারা দীর্ঘদিন ট্যাক্স দেননি, সেই কালো টাকা ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে অর্থ সাদা করে ফেলবেন। তাহলে কেন সাধারণ মানুষ নিয়মিত ট্যাক্স দেবে? এটা অনৈতিক, এর ফলে বহু মানুষ ট্যাক্স না দিয়ে এই সুযোগ নিবে।

তিনি বলেন, এই কালো টাকার দুই রকমের, এটা অর্জন করা অবৈধভাবে, সেটার জন্য সেটা প্রদর্শনও করা হয়নি। আর এক ধরনের বাটপারি করে ইনকাম করছে, তারাও ট্যাক্স দেননি। এদের মধ্যে বেশী কালো টাকা, অবৈধভাবে আয় করা টাকাকে বৈধ করার তীব্র বিরোধীতা করে তিনি তাদের শাস্তির দাবি জানান। এসময় তিনি মূল্যস্ফিতির জন্য সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির একটা বড় চালিকা শক্তি। প্রায় ১ কোটি মানুষ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠায়। তার মধ্যে মালয়েশিয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, তারা প্রতি মাসে ৪ হাজার কোটি টাকা, বছরে ৫১ হাজার কোটি পাঠান। অনেকে মনে করে এতো টাকা কেন আসবে, এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়ে সিণ্ডিকেটও রয়েছে। ফলে রেমিটেন্স পাঠাতে তাদের সমস্যাও হচ্ছে, সেখানে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অর্থ পাঠানো সুবিধা দেবার এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি অর্থ পাচার ব্যাংক ডাকাতি ইত্যাদি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে উচ্চবিত্তদের সুবিধা রাখা হয়েছে। আর মধ্যবিত্তরা চাপের মধ্যে পড়বেন। বাজেটের বিভিন্ন নীতি গরীবদের পক্ষে যায়নি।

তিনি বলেন, সিগারেটের দাম তেমন না বাড়ানোয় সরকারের আয় কমে যাবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু সবখানেই দুর্নীতি, যদিও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। মেগা প্রকল্প ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তার বিশাল অংশ বাইরের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়াররা নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে তরুন সমাজকে এ বিষয়ে দক্ষ করতে হবে।

কালো টাকা সাদা করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন এর ফলে সাধারণ করদাতারা কর দিতে চাইবে না। তাই ওই প্রম্তাব থেকে সরে আসতে হবে।

দেশের অর্থ বিদেশে পাঁচার করেছে, তাদের চিহ্নিত করে অর্থ ফেরৎ ও তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

তিনি সার্বভৌম এই পার্লামেন্টে কীভাবে কালো টাকা সাদা করা সুযোগ দেয় তার সমালোচনা করেন। তিনি অর্থ পাচার, দুর্ণীতি, ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে না দেওয়াসহ অর্থ আত্মস্বাদকারীদের চিহ্নিত ও শাস্তির দাবি করেন।

আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দীন বলেন, সম্প্রতি সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এই সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকগুলোকে সলভেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কার্যকারী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিধায় এই সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকগুলোর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, গ্রাহকরা তাদের সব টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই হটকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানা তিনি।

সোহরাব উদ্দীন বলেন, বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী যে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে সাদা করার কথা বলেছেন। তাতে উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে কেউ এ অপ্রদর্শিত টাকা প্রদর্শন করবে না, অতীতে ১০ শতাংশ ছিল তাতেও কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যদি এটা ৫ শতাংশ ট্যাক্স করা যায় তাহলে দেশে যে বিপুল পরিমান অপ্রদর্শিত অর্থ আছে তা প্রদর্শন করবে, অর্থমন্ত্রীর যে উদ্দেশ্য তা সাধিত হবে। তাই বিপুল পরিমান টাকা সাদা করতে আমি ৫ শতাংশ ট্যাক্স ধার্য্য করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো।

তিনি বলেন, দেশে উন্নয়ন দ্রুত গতিতে চলছে, কিন্তু তাতে সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়ে গেছে এর লাগাম টানা যদি না যায় তাহলে উন্নয়নের গতি হ্রাস পাবে। আজকে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। ব্যাংকেও প্রচণ্ড অর্থ নয়ছয় হচ্ছে, দুর্নীতি বেড়ে গেছে, ব্যাংকের যে পদস্থ কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান তারাই আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এদের কোনো বিচার হয়নি।

কৃষকের দুই বিঘার মরিচ গাছ কাটলো দুর্বৃত্তরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতের আঁধারে দুই বিঘা জমির মরিচ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে ধলসা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল খানের দুই বিঘা জমির মরিচ খেত কেটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

মরিচ চাষি উজ্জ্বল খানের পিতা মোহাম্মদ আলী জানান, আমরা কৃষক, কৃষিকাজ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। আমার ছেলে উজ্জ্বল খান ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে আমাদের ২ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করে। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমার ছেলে উক্ত মরিচের জমিতে গিয়ে মরিচ দেখভাল করে বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার সময় আমার ছেলে তার উক্ত মরিচের জমি দেখভাল করার জন্য সেখানে গেলে দেখতে পায়, ২ বিঘা জমির প্রায় সকল মরিচের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমার ছেলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার ছেলের পক্ষে আমি নিজে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, মরিচ গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

রাজধানীসহ যেসব অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ঝুম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমন অবস্থায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামীকাল (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে অতি ভারি বর্ষণও। এর মধ্যে ঢাকাসহ ১৩ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের প্রবণতা সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তবে বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

;

নওগাঁয় নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পোরশা থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকালের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাসমান লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে বিকেল ৪টার দিকে আমরা সেখানে দ্রুত চলে যাই এবং লাশটি উদ্ধার করি তবে অজ্ঞাত ওই লাশটি পঁচা অবস্থায় ছিলে এজন্য সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশটির পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এরপরে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।

;

বিদায়ী অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ২২ লাখ পাসপোর্টধারীর ভারতে যাতায়াত



আজিজুল হক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বেনাপোল ও ভারত ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সারতে অপেক্ষারতরা

ছবি: বেনাপোল ও ভারত ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সারতে অপেক্ষারতরা

  • Font increase
  • Font Decrease

বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ২২ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ জন পাসপোর্টধারী। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪ জন এবং ভারত থেকে এসেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৪৭৪ জন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে যাত্রীর যাতায়াতের সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ২৯ হাজার।

এ সময় ভ্রমণ কর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। আর ভারত সরকারের আয় ১০০ কেটির উপরে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যাত্রী যাতায়াতের পরিমাণ বেড়েছে ৭৬,৪৭৮ জন।

তবে যাত্রী যাতায়াতে সরকারের আয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা বাড়েনি অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেবা বাড়াতে বন্দরে যাত্রী ছাউনির জন্য জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে, আর ভারতে অংশে ইমিগ্রেশনকেও সেবা বাড়াতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা যায়, বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর ও পর্যটন কেন্দ্র কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৫ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার বেশিরভাগ পাসপোর্টধারী চিকিৎসা, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ আর দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে বেনাপোল সীমান্ত ব্যবহার করে থাকেন। পদ্মা সেতু ব্যবহারে এ যাত্রা আরও সহজ হয়েছে।

তবে দুই পারের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ভুক্তভোগী যাত্রীদের, রয়েছে দালাল চক্রের কবলে পড়ে পাসপোর্টধারীদের ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনা। এসব বিষয় বিভিন্ন সময় পাসপোর্টধারীরা প্রতিবাদ জানালেও প্রতিকার মেলেনি। বেনাপোল ও ভারত ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সারতে একজন যাত্রীতে রোদ, বৃষ্টি ও মশার কামড় উপেক্ষা করে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ যাত্রী সেবার নামে বন্দর ৫৫ টাকা, সোনালী ব্যাংক ১০০০ টাকা আদায় করে। এছাড়া ভিসা প্রদানের জন্য ভারতীয় দূতাবাস ৮৪০ টাকা প্রতিজনে জমা নেয়।

বেনাপোল আমদানি, রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, বেশি হয়রানির শিকার হতে হয় ভারত অংশে। বিভিন্ন বৈঠকে যাত্রী সেবা বাড়াতে অনুরোধ জানালেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলেনি।

পাসপোর্টধারী রতন সরকার জানান, ভ্রমণ কর বাড়লেও সেবা বাড়েনি। রোদ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ৬ ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়াতে হয়।

অপর এক পাসপোর্টধারী পলাশ জানান, পদ্মা সেতুর সুবিধায় ঢাকা থেকে ৫ ঘণ্টায় বেনাপোল আসা যায়। তবে বন্দর ভোর সাড়ে ৬টার পর খোলায় দুর্ভোগ রয়ে গেছে।

বেনাপোল পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যাত্রী যাতায়াতের পরিমাণ বেড়েছে। যাত্রীদের দালালদের থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। যাত্রী সুবিধা বাড়াতে বন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলমান চয়েছে। ভারত অংশেও তাদের সেবা বাড়াতে বলা হয়েছে।

;