ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। পরে চলমান পরিস্থিতিতে প্রাণ ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন লালমনিরহাটের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যরা। অভিভাবকশূন্য সংকটময় এ দিনগুলোতে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
লালমনিরহাট (১ হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগের সরকারের মন্ত্রী সভার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পরে বিক্ষুব্ধরা তার বাড়িতে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন। এছাড়াও তার ছেলে মাহমুদুল হাসান সোহাগ তার বাবার পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। বিক্ষুব্ধরা তার একটি পেট্রোল পাম্পে অগ্নিসংযোগ করেন৷
লালমনিরহাট ২ (কালিগঞ্জ- আদিতমারী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদ সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে গেলে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনিও। এরআগে বিক্ষুব্ধরা তার বাড়িতে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন। এছাড়াও তার ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমদে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এঘটনার পরে তিনিও আত্মগোপনে রয়েছেন।
লালমনিরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। তিনি লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। বিক্ষুব্ধরা তার বাড়িতেও ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন। এখন তিনিও আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া জেলার পাঁচ উপজেলার আওয়ামী লীগ অফিসসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।
লালমনিরহাট-১ আসনের আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ নুরুজ্জামান আহমেদ ও লালমনিরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।