বরিশালে ভুয়া মেজর আটক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
আটক হওয়া প্রতারক, ছবি: সংগৃহীত

আটক হওয়া প্রতারক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে মিথ্যা প্রলোভনের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক ভুয়া মেজরকে আটক করেছে র‌্যাব-৮।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডের লেক সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে র‌্যাব-৮ এর সদস্যদের খবর দেয়। পরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে সাইফুলকে আটক করে।

আটককৃত সাইফুল ইসলাম বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের কুমারের পাড় এলাকার নুরুজ্জামান হাওলাদারের ছেলে। আটকের সময় সাইফুলের সাথে থাকা ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’ স্টিকার লাগানো সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেট কার জব্দ করেছেন র‌্যাব-৮ সদস্যরা। তবে প্রাইভেটকার চালককে আটক করতে পারেনি র‌্যাব।

বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার মেজর খান সজিবুল ইসলাম। ভুক্তভোগী তুহিন ও ইশতিয়াকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকার ডি.আর মোটরস এন্ড কার ডেকোরেশনের মালিক মো. ইশতিয়াক তুহিনের সাথে প্রতারক সাইফুলের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। কেননা সাইফুল তার প্রাইভেট মেরামত ও ডেকোরেশন কাজের জন্য প্রায় তুহিনের দোকানে আসতেন।

পরিচয়ের এক পর্যায় তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দিয়ে দোকান মালিকের ছেলে ইশতিয়াক তুহিনের ছোট ভাই ইশতিয়াককে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি হয় ইশতিয়াক ও তার বাবা। সে অনুযায়ী সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তুহিনের ভাই’র বায়োডাটা ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিতে পুনরায় তুহিনের দোকানে আসে সাইফুল। তখন তার পরিচয় ও ভাবভঙ্গি আর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তুহিন র‌্যাব-৮ কে অবহিত করেন।

পরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুয়া মেজর সাইফুল ইসলামকে আটক ও তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করে র‌্যাব-৮ সদর দফতরে নিয়ে আসে।

তিনি আরও জানান, আটকের সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল সেনাবাহিনীর সদস্য নয় বলে নিজেই জানান।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন লোকজনদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি নিজেকে চিকিৎসক বলে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে বিভিন্ন সময়ে টাকা আত্মসাৎ করেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। তার নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের মামলা রয়েছে।

এদিকে, সাইফুলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২/৩ বছর পূর্বে শের -ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া প্রতারক সাইফুল একই হাসপাতালের আব্দুর রশিদের কাছ থেকে তার ছেলেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে এক লাখ ৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান।

এরপর গত বছরের ২৮ অক্টোবরে সাইফুল তার গলার সঙ্গে স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের সামনে ঘোরাফেরা করেন। তখন আব্দুর রশিদ নামের ওই কর্মচারী সাইফুলকে চিনে ফেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাহায্যে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আপনার মতামত লিখুন :