অভূতপূর্ব স্বাধীনতা দিবস

ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার, ঢাকা, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার, ঢাকা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাত পোহালেই বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের পর এমন অভূতপূর্ব স্বাধীনতা দিবস আর আসেনি। করোনাভাইরাসজনিত কারণে ২০২০ সালের স্বাধীনতা দিবস এলো ভীষণ অন্য রকম প্রেক্ষাপট সঙ্গে নিয়ে।

১৯৭১ সালের পর ৫০ বছর স্পর্শ করার প্রাক্কালে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসটি অন্য রকম অক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে মৃত্যু ও আক্রান্তের আতঙ্ক বয়ে এসেছে মহত্তম দিনটি।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে সমবেত না হতে। কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সঙ্গরোধ করতে। নিজের এবং সামাজিক মানুষের জীবন রক্ষার্থেই দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশনা।

অথচ চিরাচরিত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বেশ বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করা হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয়। ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন রঙের পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। জাতীয় স্টেডিয়ামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও শরীরচর্চা প্রদর্শন করা হয়।

এই দিনটিতে সরকারি ছুটি থাকে, যদিও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির জন্য সর্বাত্মক ছুটি চলছে। তাই বিদ্যমান সঙ্কুল পরিস্থিতিতে অতীতের ঐতিহ্যানুযায়ী এ বছর মহান স্বাধীনতার উৎসব ও আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাবহ।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত রণাঙ্গন পেরিয়ে আসা যে বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামল মৃত্তিকার প্রতিটি অংশে অনির্বাণ জ্বলছে স্বাধীনতার অম্লান শিখা আর যে লক্ষ-কোটি বাঙালির হৃদয়ে আলো ছড়াচ্ছে স্বাধীনতার দীপ্তিময় হাজার প্রদীপ, সেই বাংলাদেশ ও বাঙালিকে দমাবে কে? কোনো বিরূপ পরিস্থিতিই থামাতে পারবে না স্বাধীনতার চেতনাদীপ্ত মহাসড়কে বাংলাদেশের বাঙালির দৃঢ়তর পথচলা।

হয়ত পরিস্থিতিগত কারণে আনুষ্ঠানিক আয়োজন থাকবে না, থাকবে না বর্ণাঢ্য সমাবেশ ও বর্ণিত উৎসবময়তা, কিন্তু অবশ্যই থাকবে স্বাধীনতার লেলিহান স্পৃহায় উজ্জীবিত বাংলাদেশের অপরাজেয় বাঙালি জাতিসত্তার সম্মিলিত হৃদয়ের আলোকমালায় উদ্ভাসিত একান্ত আয়োজন। চিরজীবী থাকবে বাংলাদেশ, বাঙালি এবং ২৬ মার্চের মহান স্বাধীনতা দিবস।

আপনার মতামত লিখুন :