হটলাইনে কল দিলেই খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে যাবে বাড়ি



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দরিদ্র, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা অসহায় এসব মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিলেও অনেকেই লোকলজ্জায় প্রকাশ্যে কিংবা লাইনে দাঁড়িয়ে এসে ত্রাণ নিতে পারছেন না। ফলে তারা ভুগছেন খাদ্য কষ্টে।

এই অবস্থায় অসহায় মানুষের নাম-পরিচয় গোপন রেখে তাদের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। খাদ্য সহায়তা দিতে চালু করা হয়েছে হটলাইন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেই পৌর কর্তৃপক্ষ বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। পৌরসভার ০১৭১২০৫৫০৮৬, ০১৩০৬৭৯৮০০০-এ দুটি হটলাইন নম্বর খাদ্য সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে।

কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পোঁছে দিতে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। হটলাইনে যোগাযোগ করলেই বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরাও বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম হটলাইন সেবা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৩ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। আমাদের কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক দল অসহায় মানুষের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া হটলাইনে যোগযোগ করলেই নাম পরিচয় গোপন রেখে স্বেচ্ছাসেবক টিম খাদ্যসামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে। কেউ যেন খাদ্য কষ্টে না থাকে আমরা সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

এদিকে, করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে রোববার একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে গৌরীপুর পৌরসভা।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ৩১টি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এরইমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা পরিষদ, পুলিশ করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা দিয়েছেন। ত্রাণ সহযোগিতা বাড়াতে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের অর্থায়নে ৩ লাখ টাকার তহবিল করা হয়েছে। এ উদ্যোগে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সামিল হওয়ার অনুরোধও জানানো হয়।

গৌরীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র দেওয়ান মাসুদুর রহমান খান সুজন বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে পৌরসভার উদ্যোগে ৭ হাজার মাস্ক, ৩ হাজার গ্লাভস ও লিফলেট বিতরণ, শহরে অস্থায়ী বেসিন নির্মাণ, জীবাণুনাশক ছিটানো, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, হটলাইন চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছ। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়ালে সরকারের পক্ষে করোনা মোকাবিলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’

বেনাপোলে দুই রেল যাত্রী গাজাসহ আটক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে দুই যাত্রীকে ৪ কেজি গাজাসহ আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বেনাপোল রেল ষ্টেশন থেকে রেল পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করে।
আটকরা হলেন, বেনাপোল বন্দর থানার বোয়ালিয়া গ্রামের গনি মিয়ার ছেলে লিটন(৩০) ও সাদিপুর গ্রামের সব্বত আলীর ছেলে মাহাবুব হাসান(১৬)।

বেনাপোল রেল ষ্টেশন পুলিশ ফাড়ির উপপরিদর্শক সেফাতুর রহমান জানান, তাদের কাছে গোপন খবর আসে মাদক পাচারকারীরা যাত্রী সেজে রেলে বেনাপোল থেকে যশোরের দিকে যাবে। পরে রেল ষ্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে ধরা হয়। এসময় তাদের শরীর তল্লাশী চালিয়ে কোমরে বাঁধা ৪ কেজি গাজা পাওয়া যায়। আটকদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

;

শাহজালালে গোল্ডবার জব্দ, গ্রেফতার ২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩০টি গোল্ডবার সহ যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা কর্মী গ্রেফতার।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি)এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, আজ বিকাল ৪ টায় বিমানবন্দরের এপ্রন সাইড থেকে বিমান নিরাপত্তা কর্মী ইব্রাহীম খলিলকে প্রথমে সন্দেহ করে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৩০ টি গোল্ডবার উদ্ধার করা হয় ৷ পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সৌদী প্রবাসী যাত্রী কামাল উদ্দীনের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকেও আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে সৌদী আরবের রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৪০৪০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় বাংলাদেশ বিমানের নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহীম খলিলকে ইতস্তত সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে তার কাছে গোল্ডবার রয়েছে। এ সময় তিনি নিজ হাতে তার জ্যাকেটের পকেট থেকে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৩০ টি গোল্ডবার সহ একটি ছোট ব্যাগ বের করে দেন।

এরপর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এই গোল্ড বহনকারী যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হয় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ এবং যাত্রী কামাল উদ্দীনকেও আটক করা হয়।

আটককৃত নিরাপত্তাকর্মী জানান, এই গোল্ডবার পাচার করতে পারলে প্রতিটি গোল্ডবারের জন্য তিনি ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। আটককৃত দুইজনের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মী ইব্রাহীম খলিল নোয়াখালী এবং যাত্রী কামাল উদ্দীন ফেনী জেলার অধিবাসী।

আটককৃত দুইজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এপিবিনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

;

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের মিঠাপুকুরে ট্রাক ও সিমেন্ট বোঝাই কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুই গরু ব্যবসায়ীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়ামিন আলী।

এর আগে, বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- বগুড়ার সদর উপজেলার নামুজা শাহাপাড়া গ্রামের সুধীর চন্দ্র (৪৫) ও তার বাবা লাল চাঁদ (৭০)।

পুলিশ জানায়, সুধীর চন্দ্র ও তার বাবা লাল চাঁদ গত বুধবার দুপুরে গরু কিনে অন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ট্রাক যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রাকটি মিঠাপুকুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিমেন্ট বোঝাই কার্গোর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকে থাকা চার গরু ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুধীর ও তার বাবা লাল চাঁদের মৃত্যু হয়।

বড় দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনায় আহত দুজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

;

জানুয়ারিতে এক দিনও ভালো বায়ু পায়নি ঢাকাবাসী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এক দিনও রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা নির্মল বাতাস পায়নি। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাপা এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

আরও জানানো হয়েছে, ঢাকা শহরে রাতের বেলা মালবাহী ট্রাক প্রবেশের কারণে দিনের চেয়ে রাতে আরও বেশি বাতাসের মান খারাপ থাকে।

বিপজ্জনক মাত্রায় ঢাকার বায়ুদূষণ: জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সামনে রেখে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

তিনি বলেন, দেশে নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি, আইনের দুর্বলতা, আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা ঢাকার বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের অর্থাৎ গত ৬ বছরের জানুয়ারি মাসের বায়ুমান সূচকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে গড় বায়ু দূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৯.৮ শতাংশ। ২০২২ সালে জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনের গড় বায়ুমান সূচক ২১৯.৫২ তে এসে দাঁড়িয়েছে; যা খুবই অস্বাস্থ্যকর।

এবিষয়ে অধ্যাপক মজুমদার বলেন, জানুয়ারি মাসে ঢাকার মানুষ ১ দিনের জন্যও ভালো বাতাস পাননি, বাতাসের মান বেশিরভাগ সময় ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় ছিল এবং গত ৬ বছরের মধ্যে ঢাকার মানুষ মাত্র ৩৮ দিন ভালো বাতাস পেয়েছে।

ক্যাপসের তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে বিকেল ৪টার পর থেকে বাতাসের মান খারাপ হতে শুরু করে, যা রাত ১১টা থেকে ২টার মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে। গত ৬ বছরে বাতাসের মান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাত ১টায় বায়ুমান সূচক থাকে ১৬২; যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ। রাত ১০টার পর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচুর মালবাহী ট্রাক ঢাকা শহরে প্রবেশ করে, যার কারণে এইসব যানবাহন থেকে রাতে প্রচুর বায়ুদূষণ হয়।

অধ্যাপক মজুমদার বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তাগুলোতে রাতের বেলায় ঝাড়ু দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে, যার কারণে বাতাসে ধূলোবালি উড়তে থাকে। রাতে যেহেতু দিনের চেয়ে তাপমাত্রা কম থাকে সেহেতু ধূলোবালি বাতাসে বেশি সময় ধরে অবস্থান করে।

ঢাকা শহরের ১০টি স্থানের গবেষণার তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপসের পরিচালক জানান, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত ছিল তেজগাঁও (প্রতি ঘনমিটারে ৭০ মাইক্রোগ্রাম)। এর পরের অবস্থানে ছিল শাহবাগ (প্রতি ঘনমিটারে ৬৮ মাইক্রোগ্রাম)।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, ধানমন্ডি-৩২, সংসদ ভবন, আগারগাঁও, মিরপুর-১০ এবং গুলশান-২ এই এলাকাগুলোতে ক্ষতিকর বস্তুকণা পিএম-২.৫-এর গড় পরিমাণ ছিল যাথাক্রমে ৫৭, ৬২, ৬০, ৬৩, ৫৯, ৬১,৬৬ এবং ৬৫ মাইক্রোগ্রাম; যা নির্ধারিত মান মাত্রার প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি।

বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এস সিদ্দিকী বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজের ফলে ঢাকার দূষণ বেশি হচ্ছে এবং এই দূষণ কমানোর জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকার নিজেদের পরিকল্পনা ও বাজেট যথাযথ খরচ করলে নির্মাণের যে দূষণ সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

রাজধানীর এই ভয়াবহ বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে বাপা ১৫টি সুপারিশ তুলে ধরে বাপা।

সুপারিশগুলো হলো-

>> শুষ্ক মৌসুমে সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ঢাকা শহরে প্রতি দিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

>> নির্মাণ কাজের সময় নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখতে হবে ও নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে নিতে হবে।

>> রাস্তায় ধূলা সংগ্রহের জন্য সাকশন ট্রাকের ব্যবহার করা যেতে পারে।

>> অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প ইটের প্রচলন বাড়াতে হবে।

>> ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে নম্বর প্লেট অনুযায়ী জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলাচলের প্রচলন করা যেতে পারে।

>> সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগাতে হবে এবং ছাদ বাগান করার জন্য সকলকে উৎসাহিত করতে হবে।

>> ঢাকার আশপাশে জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।

>> আলাদা সাইকেল লেনের ব্যবস্থা করতে হবে।

>> আগুনে পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসাবে স্যান্ড ব্লক-এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে।

>> সিটি গভর্নেন্সের প্রচলনের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কার্যকলাপের সমন্বয় সাধন করতে হবে। সেবা সংস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করতে হবে।

>> নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ যতদ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে।

>> পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। নিয়মিত বায়ু পর্যবেক্ষণ স্টেশনের (ক্যামস) ব্যাপ্তি বাড়িয়ে ঢাকা শহরের সব এলাকাকে এর আওতাধীন করতে হবে। এছাড়াও বায়ু দূষণের পূর্বাভাস দেওয়ার প্রচলন করতে হবে।

>> সর্বোপরি সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে বায়ু দূষণ সম্পর্কে আরও বেশি তথ্যনির্ভর অনুষ্ঠান প্রচারের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশের বায়ু দূষণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

>> ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।

>> পরিবেশ ক্যাডার সার্ভিস এবং পরিবেশ আদালত চালু ও কার্যকর করতে হবে।

;