‘বেশি বেশি টেস্ট, কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউনই করোনার সমাধান’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আর্ক ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) যৌথভাবে আয়োজিত ওয়েবিনার

আর্ক ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) যৌথভাবে আয়োজিত ওয়েবিনার

  • Font increase
  • Font Decrease

বেশি বেশি টেস্ট, যথাযথভাবে কোয়ারেন্টাইন, লকডাউনের মাধ্যমেই করোনা মহামারি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এটা যে অত্যন্ত কার্যকরী সেটা ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম করে দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিয়েতনামের করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জাতীয় কমিটি ও র‌্যাপিড রেসপন্স ইনফরমেশন টিমের সদস্য ড. ফাম কুয়াঙ থাই।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় অনলাইন মিটিং প্লাটফর্ম ‘জুম’ এর মাধ্যমে ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা জানান।

আর্ক ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) যৌথভাবে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অ্যাকাডেমিশিয়ান, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. ফাম কুয়াঙ থাই আরও বলেন, আমরা অন্যান্য দেশের অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাদের করণীয় নির্ধারণ করেছি। বেশি বেশি পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্তদের খুঁজে বের করে অন্যদের থেকে তাদের আলাদা করে ফেলা হয়েছে। নিখুঁত কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং এর মাধ্যমে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং অন্তত দুবার পরীক্ষা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কোথাও রোগীর সংখ্যা বেশি হলে সেইসব জায়গা লকডাউন করা হয়েছে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গেলে তার ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইন থাকা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনামে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে ২৫টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পারস্পরিক সমন্বয়ের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সম্মুখযুদ্ধে শত্রুর সাথে যেভাবে যুদ্ধ করা প্রয়োজন করোনা মোকাবিলায় সেটাই ভিয়েতনাম করেছে। ফলে ইতিমধ্যে সেই সফলতাও পাওয়া গেছে। ভিয়েতনামে প্রতি ১ হাজার জনে মাত্র ১ জন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। করোনা ঠেকাতে টেস্টের কোনো বিকল্প নেই।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, করোনা মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে নিরাপদে থাকতে হবে। ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ জন্য নানা ধরনের যে ঝুঁকি রয়েছে তা চিহ্নিত করলেই এ মহামারির সমাধান সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যুফিল্ড সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর প্রধান টলিব মিরজয়েভ বলেন, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই স্পষ্টতই অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে। তারা অন্যদের জন্য পথ প্রদর্শক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে সুস্থ হওয়ার হার সবচেয়ে কম এবং করোনা মোকাবিলায় তাদের নেওয়া পদক্ষেপ দ্রুত ও কার্যকর না হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। তাই এটা প্রমাণিত যে, উপকরণ ও সম্পদের সহজলভ্যতাই সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার পূর্বশর্ত নয়। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও তার কার্যকর প্রয়োগ।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো সংকট মোকাবিলায় তার সম্পর্কে আগেই সচেতন থাকা, সংকট এড়ানো, প্রতিরোধ, নির্মূল, প্রতিক্রিয়া এবং অবশেষে নিজেকে রূপান্তরিত করার পদ্ধতিগত সক্ষমতা থাকতে হবে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, ব্যাপকহারে পরীক্ষা, ট্র্যাকিং এবং ট্রেস করা প্রয়োজন। প্রতিটি দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই স্বতন্ত্র। তাই এক দেশের অভিজ্ঞতা অন্য দেশে কাজে লাগানোর সময় সে দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যের লিভারপুল স্কুল অব ট্রোপিকাল মেডিসিনের সিনিয়র হেলথ ইকোনোমিস্ট ড. জাহাঙ্গীর খান বলেন, বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত স্বাস্থ্য বাজেট একেবারেই প্রচলিত ও সাধারণ একটি বাজেট। কারণ এ বাজেটে করোনা মহামারিকে কোনো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটাও একেবারেই পরিকল্পনাহীন। করোনা পরবর্তী সময়ে অসংখ্য মানুষ দারিদ্রের মধ্যে পড়বে সেটা নিয়ে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া যেভাবে পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ তা করছে না।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের সাবেক পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, পরিচিত অসংক্রামক রোগ ও মানসিক রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে অনিচ্ছুক। একইসঙ্গে ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা, গণপরিবহন লকডাউন, আয় হ্রাস এবং শারীরিকভাবে হাসপাতালে যাওয়ার কারণে অনেকেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ থেকে বিরত আছেন। তবে মনে রাখতে হবে, সরবরাহ খাতের অদক্ষতার পাশাপাশি দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা ও বেসরকারি হাসপাতালের ঘাটতি করোনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি ও নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, কোভিড ১৯ নিয়ন্ত্রণে সংক্রামক রোগসংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। আইনের প্রয়োগ নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা ও শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনা নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। কোভিড ১৯-র সকল জরুরি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড গঠন করা জরুরি।

আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক সমাপনী বক্তব্যে বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের তাৎক্ষণিক, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বগুড়ায় বাস চাপায় পথচারী নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় বাস চাপায় পথচারী নিহত

বগুড়ায় বাস চাপায় পথচারী নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুরে রাস্তা পারাপারে সময় বাসের চাপায় আবদুল বাকী (৬২) নামের এক ব্যক্তি  নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুল বাকী শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রাধানগর  গ্রামের বাসিন্দা।

জানাগেছে, আব্দুল  বাকী নয় মাইল বাজারে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময়  উল্টো পথে বগুড়াগামী একটি বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক বানিউল আনাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

;

দেশে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দেশে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা গেছেন। আগের দিন ২ জন মারা যায়। এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৩৫৯ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে দশমিক ৬২ শতাংশ। রোববার করোনায় শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ ৫ হাজার ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৭১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আগের দিন ৪ হাজার ৪১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৫৭২ জন। দেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় মোট শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ২২ হাজার ৪০৮ জন। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ৪৩৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩০৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। গতকাল সুস্থতার হার ছিল ৯৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এদিকে, রাজধানীসহ ঢাকা জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৪ হাজার ১৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ৫৭৩ জন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গতকাল শনাক্তের হার ছিল ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।

;

কটিয়াদীতে চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব, মিলছেনা চোখের ড্রপ



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী ( কিশোরগঞ্জ)
চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব, মিলছেনা পর্যাপ্ত ওষুধ

চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব, মিলছেনা পর্যাপ্ত ওষুধ

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা জুড়ে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন অনেক রোগী। এদিকে হঠাৎ এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পর্যাপ্ত ওষুধ মিলছেনা দোকানগুলোতে ৷ ফলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে রোগীদের। এদিকে চোখ ওঠা রোগীদের সচেতন ও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত একসপ্তাহ ধরে এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়। উপজেলা জুড়েই এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়তই একি পরিবারের নতুন কারো চোখ উঠছে। পৌর এলাকাসহ গ্রামের বাজার গুলোতে মিলছেনা চাহিদামত চোখের ড্রপ।

বনগ্রাম ইউপির নাগেরগাও গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, 'আমার পরিবারে প্রথমে একজনের চোখ ওঠার পর পর্যায়ক্রমে আরো দুইজন আক্রান্ত হয়'।

লোহাজুরী ইউপির বাসিন্দা ফজলুল হক কবির বলেন,'ঘুম থেকে উঠেই দেখি চোখ লাল হয়ে আছে এবং তীব্র ব্যথা করছে। চিকিৎসকের পরামর্শে চোখের ড্রপ আনতে গিয়ে অনেক ফার্মেসী খুঁজে একটি ড্রপ পেয়েছি'।

হাসপাতাল রোডে ওষুধ মার্কেটের একাধিক ওষুধের ফার্মেসী মালিকদের সাথে কথা হয়। এর মধ্যে নাঈম মেডিকেল হল , আলতা মেডিকেল হল, গ্রীন ও সাহা ফার্মেসীর মালিকরা জানান, প্রতিদিন শতশত চোখের রোগী আসছেন। চাহিদামতো কোম্পানি গুলো চোখের ওষুধ সরবরাহ করতে পারছেনা। যা কিছু আসে তাও মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

একাধিক চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, চোখ ওঠলে কখনো কখনো এক চোখে অথবা দুই চোখেই জ্বালা করে এবং লাল হয়ে চোখ ফুলে যায়। চোখ জ্বলা, চুলকানি, খচখচে ভাব থাকা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে বার বার সাদা ময়লা আসা, কিছু ক্ষেত্রে চোখে তীব্র ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা কনজাংটিভার বলা হয়। তবে এ সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই বেশি পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ সেরে যায়। তবে জটিল রূপ ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

কটিয়াদী হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন,'রোজ ৫০-৬০ জন চোখ উঠা রোগী আসছেন। সপ্তাহ আগেও এর পরিমাণ কম ছিল। তাদেরকে চশমা ব্যাবহার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে'।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.তাজরীনা তৈয়ব বলেন, 'এটা সিজনাল একটি রোগ। গরমে এবং বৃষ্টিতে এই রোগ বেশি হয়। হাসপাতালের আই ভিশন সেন্টার থেকে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চোখ ওঠা নিশ্চিত হয়ে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা ও সচেতন থাকতে হবে'।

;

রাঙামাটিতে মণ্ডপে ৫ স্তরের নিরাপত্তাবলয়: দায়িত্বে পুলিশ-আনসারের ৭০০ সদস্য



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
রাঙামাটিতে মণ্ডপে ৫ স্তরের নিরাপত্তাবলয়: দায়িত্বে পুলিশ-আনসারের ৭০০ সদস্য

রাঙামাটিতে মণ্ডপে ৫ স্তরের নিরাপত্তাবলয়: দায়িত্বে পুলিশ-আনসারের ৭০০ সদস্য

  • Font increase
  • Font Decrease

কাশফোটা ও শিউলি শরতের শারদীয় দূর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতেই রাঙামাটির মন্দিরগুলোতে চলছে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি। দেবীকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ের সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এই দুর্গোৎসব উপলক্ষে পাহাড়ে বসবাসরত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে সাজসাজ রব।

সারাদেশের ন্যায় পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতেও সনাতনী ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে চলছে শারদীয় দূর্গোৎসবের প্রস্তুতি। রাঙামাটি সদরে ১৪টিসহ পুরো জেলায় ৪২টি মন্দিরে রং তুলির আচরে দেবী দূর্গাকে রাঙ্গিয়ে তুলতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। ধর্মীয় উৎসব শেষ করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে রাঙামাটির সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এবারের পূজা যাতে নির্বিঘ্নভাবে পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে অন্তত ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ। জেলায় পুজোকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করবে প্রায় সাড়ে তিনশো পুলিশ সদস্য। পুলিশের নিজস্ব পোশাক পরিহিত একটি টিম, সাদা পোশাক, ট্রাফিক, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স এই পাচঁ ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে।

রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহমুদা বেগম জানিয়েছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর আরো নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দূর্গোৎসব পালনে নিরাপত্তাজনিত যাবতীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ। তিনি জানান, প্রতিটি পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে ওয়ান টু ওয়ান কথা হচ্ছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তাগণসহ প্রত্যেকটি থানার উদ্বর্তন কর্মকর্তারা প্রতিটি পূজা মণ্ডপ ভিজিট করে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এছাড়াও অতিরিক্ত অনেক ফোর্সকে প্রস্তুত রাখা হবে যাতে যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানেই এদেরকে কাজে লাগানো হবে।

এদিকে, দূর্গা পূজায় জেলা পুলিশের সাথে রাঙামাটির অতিগুরুত্বপূর্ণ পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিটিতে ৮ জন, গুরুত্বপূর্ন মণ্ডপের প্রতিটিতে ৬ জন এবং সাধারণ পূজো মণ্ডপে ৪জন করে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য দায়িত্বপালন করবে বলে জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলা আনসার কমাড্যান্ট ফয়জুল বারী। তিনি জানান, আমরাদের পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি ট্রাফিক ও স্টাইকিং ফোর্সের দায়িত্বেও ব্যাটালিয়ন সদস্যরা দায়িত্বপালন করবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে আগমন ঘটেছিল মর্ত্যলোকে। এরই ধারাহিকতায় দূর্গাপূজাকে স্বার্থক করতে হিন্দু সম্প্রদায়সহ পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন শারদীয় প্রহর গুণছে। সবমিলিয়ে রাঙামাটিতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি পূজামণ্ডপে।

এবছর দূর্গোৎসব পালনে রাঙামাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্তিতির সার্বিক বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ও রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনতোষ মল্লিক। তিনি জানান, আমরা উৎসবমূখর পরিবেশেই ধর্মীয় উৎসব পালন করি এ ক্ষেত্রে প্রশাসন আমাদের যথেষ্ট সহায়তা করে আসছে। তিনি বলেন, আমাদের পূজা পালনে এবছর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকেও যথাসময়ে মন্দিরগুলোতে বিশেষ বরাদ্ধ প্রদান করেছে। এছাড়াও এবছর রাঙামাটির কোথাও কোনো ধরনের হুমকি বা ঝূঁকিপূর্ণ পূজা মণ্ডপ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উৎসবপ্রেমী সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় পার্বণ এই দুর্গা পুজো। দুর্গা পূজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। গজে চড়ে দেবী দূর্গার আগমন ধ্বনি বেজে গিয়েছে পাহাড়ের আকাশে বাতাসে। উৎসবপ্রিয় পাহাড়ের মানুষের মাঝে শারদীয় দূর্গোৎসবের মাধ্যমে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, সম্মৃদ্ধি ও সকল সম্প্রদায়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

;