জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধু ও সোনার বাংলার স্বপ্নের বাস্তবায়ন (১)

মিনার মনসুর
গ্রাফিক: বার্তা২৪.কম

গ্রাফিক: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশকে দৃশ্যত দুবার হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে—একবার একাত্তরে, আরেকবার পঁচাত্তরে। সেই ষড়যন্ত্রে যে দেশি-বিদেশি অনেকেই যুক্ত ছিল—তাও এখন সুবিদিত। এটা প্রমাণিত যে, একাত্তরে জন্মলগ্নেই বাংলাদেশকে হত্যার লক্ষ্যে যারা রক্তসমুদ্র বয়ে দিয়েছিল এই জনপদে, পরাজয়ের গ্লানি তারা কখনোই ভুলতে পারেনি। তাদের সমস্ত কূটকৌশল ব্যর্থ করে দিয়ে বাংলাদেশ যখন সত্যি সত্যি স্বাধীন হয়ে গেল, তখন পশ্চিমা দুনিয়ার ঝানু ঝানু উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা রায় দিয়েছিলেন, সদ্যোজাত এই দেশটির কোনো ভবিষ্যত নেই। কেন নেই—তার অনুকূলে অকাট্য সব যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন তারা। কিন্তু তাদের যাবতীয় ভবিষ্যদ্বাণীকে মিথ্যা প্রমাণিত করে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জাদুকরী নেতৃত্বে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বাংলাদেশ যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, তখনই আবার প্রচণ্ড আঘাত হানা হয় বাংলাদেশের বুকে।

মূলত উদীয়মান বাংলাদেশকে হত্যার লক্ষ্যেই একাত্তরে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল এবং সম্ভ্রমহানি করা হয়েছিল তিন লক্ষ নারীর। কিন্তু তারপরও ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। কারণ তারা জানত, বঙ্গবন্ধুই হলেন বাংলাদেশের প্রকৃত প্রাণভোমরা। তিনিই বাঙালির ঐক্য, শক্তি, সাহস ও অগ্রযাত্রার প্রতীক—যা এদেশের মানুষকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।

বস্তুত বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল বিশ্বের মানচিত্র থেকে। কিন্তু তারা যেটা জানত না তা হলো, বঙ্গবন্ধু কোনো ব্যক্তিমাত্র নন, তিনি হলেন একটি আদর্শ ও স্বপ্নের নাম—যাকে কখনোই হত্যা করা যায় না। তার প্রমাণ হলো, দীর্ঘ দু দশকের অব্যাহত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সেই রক্তসমুদ্রের ভেতর থেকে বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু প্রবলভাবে ঘুরেই দাঁড়ায়নি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের পথে অনেক দূর এগিয়েও গেছে। অনিবার্যভাবে এই পুনরুজ্জীবনের মূল প্রেরণাও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেই স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করে গেছেন দেশের আপামর মানুষকে। বললে অত্যুক্তি হবে না যে এটাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আরাধ্য। সেই সোনার বাংলার একটি রূপকল্পও তিনি নির্মাণ করে গেছেন নানা উপলক্ষে, নানাভাবে। মাত্র দুটি বাক্য দিয়ে মূর্ত করে তোলা যায় তাঁর আকাশচুম্বী স্বপ্নের সেই ছবিটি। প্রথমত, ভুখানাঙ্গা দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে; এবং দ্বিতীয়ত, কেউ আমাদের ‘দাবায়ে’ রাখতে পারবে না। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং আত্মমর্যাদায় ও আত্মশক্তিতে বলীয়ান। প্রসঙ্গত লক্ষণীয় যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কথা প্রায়শ বলে থাকেন, সেটি হলো—“আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচব।” আর এটি যে কেবল কথার কথা মাত্র নয়, তার বহু দৃষ্টান্তও তিনি স্থাপন করেছেন ইতোমধ্যে। সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্তটি নিঃসন্দেহে পদ্মা সেতু। নানা কারণে এই সেতুটি পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের পুনর্জন্মের এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীকে। অনেকটা একাত্তরের আদলে বিশ্বব্যাংককে সামনে রেখে বাংলাদেশবিরোধী সমস্ত শক্তি একাট্টা হয়ে শুধু যে পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তা-ই নয়, পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির কালিমা লেপন করে তারা শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুতও করতে চেয়েছিল।

কিন্তু একাত্তরের রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোতে যেমন বঙ্গবন্ধু জীবনের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ইস্পাতকঠিন অবস্থান নিয়েছিলেন, তেমনি তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও দেশি-বিদেশি প্রবল পরাক্রান্ত ষড়যন্ত্রকারীদের সম্মিলিত বিরোধিতার মুখে দৃঢ় চিত্তে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাবে। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। শুধু তাই নয়, তিনি একথাও বলেছিলেন যে বিশ্ববাসীর সামনে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে দেবেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন অক্ষরে অক্ষরে। তাঁর অনন্য দৃঢ়তার কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে সবাই। মাত্র কদিন আগে বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বাংলাদেশ সফরে এসে প্রশংসার বৃষ্টিতে ভাসিয়ে দিয়ে গেছেন বাংলাদেশের মানুষকে। অতএব, ধীরে ধীরে যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়ে উঠছে তা সেতু মাত্র নয়, এটা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলারই দৃশ্যরূপ মাত্র।

পদ্মা সেতু সকল অর্থেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতীক। বিশ্ব মোড়লদের সমর্থনপুষ্ট দাতাগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ বিরোধিতার মুখে নিজস্ব অর্থে এ বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যেমন প্রথমবারের মতো নিজের সামর্থের স্বাক্ষর রেখেছে, তেমনি এটাও প্রমাণ করেছে যে কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কারো দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল নই। দ্বিতীয়ত, সমাজ ও অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় উন্নয়নযজ্ঞ চলছে—পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে তারও গৌরব পতাকা বহন করছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের সারিতে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞাপন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গর্বের বিষয় হলো, উত্তরণের এ পথপরিক্রমায় তিনটি সূচকেই চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. শামসুল আলম লিখেছেন:

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিল ইকোসক (ECOSOC)-এর উন্নয়ন নীতিমালা বিষয়ক কমিটি (CDP) তিনটি সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পর পর উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। গত ১৫ মার্চ ২০১৮ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সিডিপি’র ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সকল মানদণ্ড পূরণের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রে এ এক বড় সাফল্য।

এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য এবার সিডিপি কর্তৃক যে পর্যালোচনা হয়েছে, তাতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১,২৩০ মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংক নির্ধারিত যে এটলাস পদ্ধতিতে এ আয় নির্ধারণ করা হয়, সেই হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১,২৭১ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচক যা কি-না পুষ্টি, স্বাস্থ্য, স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হারের সমন্বয়ে তৈরি হয়—সেখানে একটি দেশের স্কোর থাকতে হবে ৬৬ বা তার বেশি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান স্কোর হচ্ছে ৭২.৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক—যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক আঘাত, জনসংখ্যার পরিমাণ এবং প্রধান বিশ্ববাজার থেকে একটি দেশের বিচ্ছিন্নতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়—সেখানে একটি দেশের স্কোর হতে হবে ৩২ বা তার কম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর এখন ২৪.৮।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখেছিল একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলার। সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে সরকার সফলভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ লাভের মধ্য দিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও রূপকল্প ২০২১-এর সফল বাস্তবায়নে নতুন দিগন্তে উন্নীত হলো। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এখন বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে স্বপ্নের সমৃদ্ধ দেশের তালিকায়। (ইত্তেফাক, ২০ মার্চ ২০১৮)।

জন্মলগ্নেই যারা বাংলাদেশকে চরম তাচ্ছিল্যের সঙ্গে খারিজ বা বাতিল করে দিয়েছিল, বেশ জোরেশোরেই তারাও এখন বলছেন বা বলতে বাধ্য হচ্ছেন যে বাংলাদেশ বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে একটি মডেলে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলছেন যে অতি অল্প সময়ে বাংলাদেশ যা করে দেখিয়েছে—তা এককথায় ‘মির‌্যাকল’ বা উন্নয়নের বিস্ময়। প্রসঙ্গত বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক পরিচালক ওলুসজি আদেইয়ির একটি মন্তব্য এখানে তুলে ধরা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের ট্র্যাকরেকর্ড যথেষ্ট মর্যাদাপূর্ণ। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের এই অর্জনকে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর কাছে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে থাকেন। (ইত্তেফাক, ৯ নভেম্বর ২০১৪)।

এ তালিকায় যোগ করা যায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন কিংবা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নামও। আর নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মূল্যায়ন তো সুবিদিত। কোনো রাখঢাক ছাড়াই তিনি বলেছেন—খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সামাজিক উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতসহ প্রতিবেশি দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। জোরালো ভিত্তিও রয়েছে এসব মন্তব্যের। মাত্র দেড়-দুই দশক আগেও যে-দেশটিকে দুর্যোগের-দুর্ভোগের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হতো এবং টেলিভিশনে হাড্ডিসার শিশু আর ভিক্ষার থালা দেখিয়ে সংগ্রহ করা হতো এনজিওদের তহবিল, সেই দেশটিকে ঘিরে এই যে এত এত প্রশংসার পুষ্পবৃষ্টি—তা অকারণে নয়। ঘোর নিন্দুকেরাও বলছেন যে এই সাফল্যের নেপথ্যে যে দুটি বিষয় আলাদীনের আশ্চর্য চেরাগ হিসেবে কাজ করেছে তার প্রথমটি হলো, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা; এবং দ্বিতীয়টি হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।

মজার ব্যাপার হলো, পান থেকে চুন খসলেও যারা ‘গেল গেল’ বলে রব তুলে বাংলাদেশকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতে উদ্যত হন, তারাই এখন বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সেটা কোনো প্রকার ভালোবাসা কিংবা কৌশলগত সম্পর্কের কারণে যে নয়—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ এবং তার বর্তমান নেতৃত্ব নিজ গুণেই তা অর্জন করে নিয়েছেন। এটা সুবিদিত যে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) বেশিরভাগ সূচকেই বাংলাদেশ চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রশংসার বৃষ্টিতে স্নাত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি-দুটি ক্ষেত্রে হলে এটাকে আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু সাফল্যের তালিকা এত দীর্ঘ এবং তার ভিত্তি এতটাই মজবুত যে সেই সুযোগও নেই। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে একের পর এক চমক সৃষ্টি করে চলেছে বাংলাদেশ। শিশুমৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের উপরে। প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এডুকেশন-৯ (ই-৯) ফোরামভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশি ভারত, পাকিস্তান, চীন, এমনকি ব্রাজিলের মতো দেশকেও পেছনে ফেলে এসেছে।

আরো তাৎপর্যপূর্ণ চমকটি হলো, টানা এক দশক ধরে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.২৮ শতাংশ। পূর্ববর্তী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির এই হার ছিল ৭.১১ শতাংশ। এ সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে দারিদ্র্যের হার। ২০১০ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। এ সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১৭.৬ থেকে ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আর সেটি হয়েছে এমন এক সময়ে যখন উপর্যুপরি মন্দার অভিঘাতে বিশ্ব-অর্থনীতির গতি মন্থর এবং ইউরোপের একাধিক দেশ অর্থনৈতিক সংকটে প্রায় বিপন্ন। সর্বোপরি, যে-কথাটি না বললেই নয় তা হলো, জঙ্গিবাদের বিষে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহদংশ যখন অবশ হতে চলেছে এবং আফ্রিকা ও বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ যখন জঙ্গিবাদের উদ্যত ফণার নীচে বিনিদ্র রাত্রি যাপন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। 

বাকি অংশ পড়তে ক্লিক করুন


মিনার মনসুর
কবি ও পরিচালক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র

আপনার মতামত লিখুন :