‘অপরিকল্পিত লকডাউন বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অপরিকল্পিত লকডাউন অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্তকরণ, কন্টাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইনসহ যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে আংশিক লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন, পুরোপুরি লকডাউন ইত্যাকার গাল ভরা ‘ঘোষণা’ করোনা নিয়ন্ত্রণে মোটেই সহায়ক হবে না। অপরিকল্পিত লকডাউন অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। গত এক সপ্তাহের লকডাউনের তেলেসমাতি জনগণের আস্থা দারুণভাবে বিনষ্ট করেছে। সরকার ইতিপূর্বে করোনা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বহু আত্মতুষ্টি প্রকাশ করেছে কিন্তু এখন আর আত্মতুষ্টি প্রকাশ করার সময় নয়।

ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (১২ এপ্রিল) ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার গণমাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনার ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য 'জাতীয় ঐক্য' গড়ে তোলা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। ঐক্যমতের ভিত্তিতে লকডাউন কার্যকর করতে হবে। এই ধরনের সর্বগ্রাসী জাতীয় সংকট কোন একক দলীয় সরকার দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। জাতীয় সঙ্কটে দল-মত নির্বিশেষে সবাই যখন সংকটগ্রস্ত তখন সমগ্র জাতিকে কার্যকর ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে একক শক্তিতে পরিণত করে এই অদৃশ্য যুদ্ধকে মোকাবিলা করতে হবে।

যেভাবে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যু এবং সংক্রমণের বিস্তার ঘটছে, তা যথাযথ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে চরম বেদনাদায়ক অবস্থার সৃষ্টি হবে।

মানুষের মূল্যবান জীবন সুরক্ষা ও করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য:

(১) সকল রাজনৈতিক দল, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধিকারী পেশাজীবী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'জাতীয় ঐক্য' স্থাপন করতে হবে।

(২) করোনা নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্তকরণ ও আইশোলেশন, কন্টাক্ট ট্রেসিং ও কোয়ারেন্টাইনসহ সার্বিক উদ্যোগ নিতে হবে।

(৩) সমাজে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা প্রদান কর্মসূচির বিস্তার ঘটাতে হবে।

(৪) স্বাস্থ্যবিধি পালনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন সমূহের সমন্বয়ে কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যন্ত কমিটি গড়ে তুলে জোর প্রচারণা চালাতে হবে, এবং

(৫) প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা নিরন্ন মানুষের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এই ভয়াবহ বাস্তবতায় এখনো যদি সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে পূর্বের ন্যায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকে তা জাতির জন্য চরম দুর্দিন বয়ে আনবে যা কারো কাম্য নয়।