নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক দেখানো গেলেও কী সহিংসতা ঠেকানো যাবে?



নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুয়ারে কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র ৩৫ দিন পর আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে যেমন রয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা, তেমনি রয়েছে উৎকণ্ঠাও। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মত সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর এক দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা নির্বাচনে আসছে না।    

সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দু'ভাগে বিভক্ত, একপক্ষ আসন্ন নির্বাচনকে বর্জন করে নির্বাচনে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে অপর পক্ষ ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে। রাজনৈতিক দলের ন্যায় বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব মোড়লরাও দুইভাগে বিভক্ত। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে। এরই মধ্যে গণতন্ত্রে বাধা দানকারীদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে দেশটি। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কথা বলছেন অন্যান্য মিত্র দেশসমূহ।

ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী অপর শক্তিধর দেশ ভারতসহ চীন ও রাশিয়া। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের এমন তৎপরতাকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলছে চীন ও রাশিয়া। 

দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা। ফলে সে নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে আসে বিএনপিসহ বিরোধীরা। এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন বিএনপির অনেক প্রার্থী। ৭ আসনে জয় পেয়ে সংসদেও যায় বিএনপি। শেষ পর্যন্ত তারাও সংসদ থেকে বের হয়ে এসে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলন জোরদারের চেষ্টা করেন।

এমতাবস্থায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকিসহ যারা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিবে তাদের জন্য অগ্রীম ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি দিচ্ছে পশ্চিমা দেশ সমূহ। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সরকারি দলের নেতারাসহ খোদ নির্বাচন কমিশনও চিন্তিত।

বিএনপি ও সমমনারা নির্বাচনে না আসায় তাদের ছাড়া কিভাবে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু দেখানো যায় তা ঠিক করেছে আওয়ামী নীতি নির্ধারকরা। এ জন্য বিএনপি থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় তাদের স্বাগত জানিয়েছে দলটি। এর বাইরে অন্যান্য দলকেও কাছে টানছে সরকার। এছাড়া ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরা ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হলে বাধা দেওয়া হবে না-এমন ইঙ্গিত আসার পর জেলায় জেলায় নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করতে মনোনয়ন জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এদের মধ্যে মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান সংসদ সদস্য যেমন আছেন, তেমনি আছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরা; অনেক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী একাধিক।

বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজের অনুসারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকার মনোনিত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যদিও তাদেরকে ডামি প্রার্থী বলা হচ্ছে কিন্তু তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এতে তৃণমূল আওয়ামী লীগে দল, উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করে শাস্তির মুখে পড়েছে অনেকে। সে সময় শাস্তির ভয়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করেনি। এসব নির্বাচনে সারা দেশেই আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। 

এমতাবস্থায় বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। জেলা, উপজেলায় দলীয় শীর্ষ পদে থাকা নৌকা বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে জেলা-উপজেলা চেয়ারম্যানের পদও ছেড়েছেন। এতে অনুসারীদের নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন আসনের নেতারা।

যেহেতু দলীয় পদে থেকে ডামি প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে বাধা নেই, তেমনি দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করতেও দল থেকে বাধা দেওয়া হবে না এমনটাই ভাবছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন আসনে ছাড় না দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নৌকাবঞ্চিতরা।

ইসি জানায়, দ্বাদশ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩০ টি নিবন্ধিত দলের ১৯৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছে। এছাড়া অধিকাংশ আসনে মোট স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে ৭৪৭ জন। এদের মধ্যে বর্তমান জেলা-উপজেলা ৫৪ জন চেয়ারম্যান নৌকার বিপক্ষে ভোটে লড়বেন বলে জানা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ডামি বলা হলেও মাঠ না ছাড়ার কথা বলছেন অনেকে।  

এমন পরিস্থিতিতে নিজ দলের মধ্যে সহবস্থান বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করাটাই মূখ্য বিষয়।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে শুধু প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করলেই পুরো নির্বাচন ‍সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বলা যাবে না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করেছিল সেটাকে কি গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছিল? সেটাও গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা নিজেদের পছন্দের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচনে তারা নিজেরা যেভাবে প্রার্থী হচ্ছে সেখানে একটা সংঘাতের সম্ভাবনা আছে। তবে এটা তাদের কৌশলের অংশ। দ্বন্দ্ব সংঘাত এড়ানোর জন্য তারা কি ব্যবস্থা রেখেছে এটা তারাই বলতে পারবে।

জামালপুর জেলার পাঁচ আসনের মধ্যে বর্তমান এমপিসহ আওয়ামী লীগের ১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে দল থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলা হলে নমনীয় হওয়ার কথা জানিয়েছেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জিয়াউল হক জিয়া। তিনি বলেন, ডামি প্রার্থীর বিষয়টা আমি জানি। আমি সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিব। এর আগে উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি।

নরসিংদী জেলার পাঁচ আসনের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

নরসিংদী সদর-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরুর (বীর প্রতিক) পক্ষে বুধবার এক মতবিনিময় সভায় নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমন বলেছেন, কোন স্বতন্ত্র মতন্ত্র চিনি না, মাইরের ওপর ঔষধ নাই। ছাত্রলীগের কোনো পোলাপান স্বতন্ত্ররে মানতো না। স্বতন্ত্ররে কেমনে পিডাইতে হয় তা জানা আছে। হেরে আমরা এমনেই পিডামু। সদরের কোন এলাকায় তাদেরকে জায়গা দেয়া যাবে না। তারা নৌকার বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী, তারা দেশ বিরোধী।

পরে অবশ্য তার এই বক্তব্যের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পৌর মেয়র কামরুজ্জামান।

ফেনী জেলার তিন আসনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ১২ জন। ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্ল্যাহ বলেন, আমি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে সব সময় সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা দিয়েছেন ডামি প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হতে পারলে তিনি পুরস্কৃত করবেন। তিনি বলেই দিয়েছেন দলীয়ভাবে কোন চাপ আসবেনা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারবে, এতে দল থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। 

নীলফামারী-৩ আসনে গোলাম মোস্তফার বিপরীতে মনোনয়ন নিয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার সদস্যসচিব মো. রোকনুজ্জামান জুয়েল, জলঢাকা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হুকুম আলী ও জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ শামীম।

গাজীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রার্থী প্রয়াত রহমত আলীর কন্যা রুমানা আলী টুসির বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়বেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং অনুসারী নিয়ে গত বুধবার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে ১৭ তারিখের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। সুনির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া যে কোন জায়গায় ইচ্ছামত দাঁড়িয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে এটি পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তিনি যে নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগের প্রতিটা নেতাকর্মী সে নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। 

স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলগতভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অ্যাকশনের ব্যাপারটা ভিন্ন। আমাদের কৌশলগত দিক আছে। আমাদের নেত্রীর বক্তব্য যেটা উনি গণভবনে দিয়েছিলেন, আমাদের প্রার্থীদের উদ্দেশে। সেখানে আমরা ঢালাওভাবে সবাই ইলেকশন করব বিষয়টা এমন না। দলীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১৭ তারিখের মধ্যে আমরা বিষয়টা নতুন করে দেখবো। অ্যাডজাস্টমেন্ট, অ্যাকুমুডেশন আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি দেখব।

   

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ: গণতন্ত্র মঞ্চ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারকে গুরুতর আহত করার প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের হাঁকডাক সত্ত্বেও বাজারের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। বাজার নিয়ন্ত্রণের কোন পদক্ষেপ যে কাজ করছে না, এটা এখন সরকারি স্বীকার করছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার এখন বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরোধী দল যদি বাজারে দাম বাড়িয়ে দিতে পারে তাহলে আপনারা ক্ষমতায় আছেন কেন? আসলে সরকার নিজেই এখন সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। সে কারণে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে। জনগণের পকেট হাতিয়ে নেওয়া দুর্বৃত্তদের স্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করছে সরকার। আর তার মাশুল দিতে গিয়ে জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। নেতৃবৃন্দ সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, অবৈধ সরকার সর্বত্র ভয়-ত্রাস আর দমন পীড়ন করে মানুষের কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার খামারবাড়ি এলাকায় নাগরিক ঐক্যের গণতন্ত্রের পক্ষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে হামলা করে নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারকে গুরুতর আহত করার ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। এইভাবে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতেও হামলা প্রমাণ করে এক অজানা আতঙ্ক সরকারকে তাড়া করে ফিরছে। সে কারণে হামলা-মামলা, গ্রেফতার এবং গুম-খুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে সরকার নিজেদের ভয় কাটানোর চেষ্টা করছে। আজ সকালে ১২ দলীয় জোটের মিছিলেও পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানান নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতের স্বৈরাচারীরাও এই পথে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পার পায়নি। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সকল ভয়-ত্রাস মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছে। এই সরকারও শেষ রক্ষা করতে পারবে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু। সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল তারেক। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

;

জাপায় সরকারি দলের এজেন্ট ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের বলেছেন, আমাদের দলের মধ্যে সরকারি দলের এজেন্ট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের দল করে কিন্তু রাজনীতি করে অন্য দলের।

শনিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে নিজ জন্মদিনের আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের আরও বলেন, আমাদের দল করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নেয় কিন্তু রাজনীতি করার সময় তারা সরকারি দলের রাজনীতি করে। যখনই আমরা সঠিক রাজনীতি করতে চাই, তখনই আমাদের দলকে ভেঙে আরেকটি দল সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। এটা সরকারই করে, যাতে আমরা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে না পারি। আগে আমরা পরজীবী হলেও আমাদের একটা পছন্দ ছিলো, আমরা যেকোন পক্ষে যেতে পারি, আমাদের বার্গেনিং পয়েন্ট ছিলো। এখন আমরা বন্দি হয়ে গেছি, একজনের কাছেই যেতে হবে। আমরা সঠিক রাজনীতি করতে গেলেই.... একজন একটা ডাক দেবেন, সরকার মদদ দেবেন, মিডিয়া কাভারেজ দেবে আর আমাদের দল ভেঙে আইনের মাধ্যমে লাঙ্গল নিয়ে নেয়ার হুমকী দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, দল বাঁচাই না রাজনীতি বাঁচাই এই সমস্যায় জাতীয় পার্টি ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। কারণ, আমরা লোভ-লালসা থেকে দূরে থাকতে পারি না। আমাদের দলে থেকে যারা অন্য দলের রাজনীতি করে তাদের আমরা দল থেকে বের করে দিতে পারি না। রাজনীতি বাঁচাতে আমাদের ঝুঁকি নিতে হবে। সরকার আমাদের দুর্বল করতে আমাদের মাঝেই একটি জোট বানিয়ে রাখছে। আমরা সঠিক রাজনীতি করতে গেলেই সরকার আমাদের দল ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা করে। যারা জাতীয় পার্টি ব্যবহার করে অন্য দলের রাজনীতি করতে চায় তাদের দল থেকে বের করে দিতে হবে। এটা করতে পারলেই জাতীয় পার্টি টিকবে।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের পর জাতীয় পার্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে আমাদের দেশের দলগুলো টিকতে পারে না। ক্ষমতাসীনরা জুলুম-নির্যাতন করে আমাদের রাজনীতি করতে দেয়নি। যারা ক্ষমতাসীন দল করতে এসেছিলো তারা নব্বই সালের পর দল ছেড়ে চলে গেছে। তারা দল বা দেশের স্বার্থ দেখেনি।

২০০৮ সালে যখন আমরা মহাজোট করেছি, তখন অনেকেই বলেছে, আমরা পরজীবী হয়ে গেছি। তারা বলেছেন, আমরা নাকি অন্যের সহায়তা ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনা। দেশের বড় দুটি দলের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয় পরাজয় নির্ধারণ হয়। সেই অল্প ভোট তো আমরা দিতে পারতাম। আমরা যদি পরজীবী হই তারপরও আমাদের কাছে টানতে প্রতিযোগিতা ছিলো। সেখানে আমাদের একটি বার্গেনিং পয়েন্ট ছিলো, আমরা বার্গেনিং করে অনেক কিছু আদায় করতে পারতাম। ২০১৪ সালের পর থেকে আমরা বার্গেনিং করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। এখন আমাদের বলা হয় গৃহপালিত রাজনৈতিক দল। দেশও জাতির কাছে গৃহপালিত বিরোধীদলের প্রয়োজনীয়তা নেই। 

আমরা একটি দলের কাছে বন্দি হয়ে গেলে জনগণের কাছে আমাদের প্রয়োজন থাকবে না। আর জনগণ কেন এমন দলকে ভোট দেবে? দলকে বাঁচাতে হলে গৃহপালিত অপবাদ থেকে বের হতে হবে। যারা গৃহপালিত হবার জন্য দায়ী তাদের বর্জন করতে হবে। আমাদের দলে থেকে অন্যদলের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। সরকারকে অনুরোধ করবো দেশের রাজনীতি শেষ করবেন না। রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেন। সবাইকে ধ্বংস করে সরকার একক রাজনীতি করবে এটা দেশ ও জাতির জন্য ভালো হবে না। 

তিনি বলেন, আরো কিছু দিন পরে আমার সঠিক মূল্যায়ন হবে। এখন যারা আমাকে মূল্যায়ন করছেন সেটা হয়তো সঠিক হচ্ছে না। সময়ের ব্যবধানে সব কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

গেলো নির্বাচনে আমি অনেক কিছুই শিখেছি। দেখেছি... রাজনীতি কত বেশি নোংরা হতে পারে আবার কত বেশি মহৎ হতে পারে। দেখেছি, ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য মানুষ কত বেশি নিচে নেমে যেতে পারে। দেখেছি, দেশ ও জাতির জন্য মানুষ কত বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। এগুলো আমার চলার পথে পাথেও হয়ে থাকবে।

জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর এর আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক এ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরীফা কাদের, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান। ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর এর সকল থানার নেতৃবৃন্দ।

;

মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট ও এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি নেতারা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনটায় রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি জানান, বৈঠকে উপস্থিত আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য, পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

তিন দিনের সফরে আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছান মার্কিন এই প্রতিনিধিদল। এ দলে আফরিন আক্তার ছাড়া আরও আছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল এইলিন লুবাখার, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সহকারী প্রশাসক মাইকেল শিফার।

জানা গেছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পারস্পরিক স্বার্থের অগ্রগতির জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। তরুণ সমাজকর্মী, সুশীল সমাজ, শ্রম সংগঠক এবং মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেনতারা। প্রতিনিধি দলটির আগামী সোমবার পর্যন্ত ঢাকায় থাকবেন বলে জানা গেছে।

;

নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে আমি জাপার চেয়ারম্যান: রওশন এরশাদ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রওশন এরশাদ বলেছেন, দলের অগনিত নেতা-কর্মীদের একান্ত দাবির মুখে আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি। আজ আপনারা আমার দায়িত্ব গ্রহণকে অনুমোদন দিয়েছেন। 

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আইডিইবি মিলনায়তনে জাপার একাংশের ডাকা বর্ধিত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে ২৮ জানুয়ারি রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এরপর ৯ মার্চ জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ঘোষণা করেন রওশন এরশাদ। সেই কাউন্সিলকে সামনে রেখে সিরিজ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বর্ধিত সভা ডাকেন রওশন এরশাদ। 


তিনি আরও বলেন, আপনারাই জাতীয় পার্টির সকল ক্ষমতার উৎস। আপনারা যেভাবে চাইবেন, পার্টি সেভাবেই পরিচালিত হবে। জাতীয় পার্টিতে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা হবে। আগামী ৯ মার্চ জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হতে পারে। কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো বিভ্রান্তিতে আপনারা কান দেবেন না।

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নীতি-আদর্শ, তার চেতনা-প্রেরণা হচ্ছে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব। সেই অস্তিত্বকে যারা মূছে দিতে চায়-তারা জাতীয় পার্টির পরিচয় দেয়ার অধিকার রাখে না। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারের মলাট থেকে এরশাদের ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এবার নির্বাচনে পার্টির প্রার্থীদের পোস্টারে ছবি ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তাঁর নির্বাচনী পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর ছবি রেখেছেন। অথচ জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যানের পোস্টারে এরশাদের ছবি জায়গা পায়নি। এটা জাতীয় পার্টির অগনিত নেতা-কর্মীর মনে আঘাত দিয়েছে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে। তারা ভোট কেন্দ্রে যাবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। 

রওশন এরশাদ বলেন, আপনাদের ভোটে জয়লাভের সম্ভাবনা ছিল-এমন সব প্রার্থীদের যদি মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এসব জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতা এবং অভিভাবকহীন অসংখ্য নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের বিপদে রেখে আমি নির্বাচনে যেতে পারি না। আমার ছেলের আসন যদি কেড়ে নেয়া হয়, তাহলে আমি কি নির্বাচনে যেতে পারি? নিশ্চয় না। তারপরও আমি সব কিছু মেনে নিতে পারতাম- যদি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি না হতো। জাতীয় পার্টিকে ধ্বংসের শেষ সীমানায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এটা আমি কীভাবে মেনে নেবো?

তিনি বলেন, ৯ মার্চের সম্মেলন সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনের জন্য রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া গেছে। আপনারা সকাল দশটার মধ্যে প্রত্যেক কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটদের নিয়ে সম্মেলন স্থানে উপস্থিত হবেন। ওই দিন আপনারাই জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।

তিনি বলেন, আজ আমার হৃদয় কানায় কানায় ভরে গেছে। আপনারা আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সকল জেলা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এই বর্ধিত সভায় এসে যোগ দিয়েছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন এরশাদের জাতীয় পার্টি হারিয়ে যায়নি, হারিয়ে যাবে না। আপনারা পার্টিকে আবার সুসংগঠিত করে এরশাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবেন। 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বেগম রওশন আজ আপনাদের পেয়ে আমার মনোবল দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই। এরশাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রামই হবে আমাদের সকলের পথ ও পাথেয়। ৯ মার্চ জাতীয় সম্মেলন সফল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন,  সাংবিধানিকভাবে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অশনি সংকেত শোনা যাচ্ছে। সরকার যদি তা মোকাবেলা করতে না পারে- তাহলে দেশে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। 

রওশন এরশাদ বলেন, দ্রব্যমূল্য এখনই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। আর রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা ওঁৎ পেতে বসে আছে। এক্ষেত্রে সরকারের প্রধান কাজ হবে- দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করতে হবে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। বেকার সমস্যা সমাধানের দিকে প্রাধান্য দিতে হবে। যুবকরা কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাচ্ছে-এটা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।

;