এত কাছে তবুও কত দূরে



তাসনীম হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাশাপাশি তিনটি চেয়ার। সেই তিন চেয়ারে বসে আছেন তিন প্রার্থী। একেবারে গা ছোঁয়া দূরত্ব। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও কথা নেই। উল্টো চলছে ‘বাকযুদ্ধ’। এই ‘যুদ্ধ’ এক প্রার্থীর হয়ে অন্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের খুঁত বের করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোট বেধেঁও দুজন হারাতে পারলেন না একজনকে!

এত কাছে তবুও কত দূরের এই ‘গল্পটি’ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময়কার।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে সেখানে চলতে থাকে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তিতর্ক। এই তিন প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান।

২০১৪ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। সেজন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে টানা দুটি নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এখনও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘আস্থা’ অর্জন করতে পারেননি তিনি। এবার তাই নদভীকে ঠেকাতে একাট্টা হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা। বেশ কয়েকজন নেতা দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। এরপরেও নদভীর ওপরেই আস্থা রাখে আওয়ামী লীগ। তবে এ আসনে এম এ মোতালেব ও ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

পৃথকভাবে প্রার্থী হলেও মোতালেব এবং মিনহাজুর একসঙ্গেই নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তবে নদভীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মোতালেবকেইে এগিয়ে রাখছিলেন সবাই। মাঠেও এর আভাষ পাওয়া যাচ্ছিল। গত কয়েকদিনে নদভীর সমর্থকদের হাতে মোতালেবের সমর্থকেরা হামলার শিকার হয়েছেন। মোতালেবের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলও করেছেন নদভীর সমর্থকেরা। এই ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও করেন মোতালেব। সেজন্য মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় নদভী ও মোতালেব কি করেন সেদিকে সবার নজর ছিল।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিন। এইদিন বিকেল তিনটায় শুরু হয় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। এই নিয়ে দুই পক্ষই বেশ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। বিশেষ করে নদভী সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বিশাল আইনজীবী প্যানেল। নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই প্যানেলে ছিলেন অন্তত ১২ জন আইনজীবী। অন্যদিকে মোতালেবের সঙ্গে ছিলেন দুজন আইনজীবী।

শুরুতে মোতালেবের দুজন আইনজীবী নদভীর জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের নানা খুঁত বের করেন। তাঁরা নদভীর ৯০ ভরি সোনার দাম শুধু আড়াই লাখ টাকা উল্লেখ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রে নদভী ৫০ ভরি স্বর্ণের কথা উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে তিনি অতিরিক্ত আরও ৪০ ভরি স্বর্ণ অর্জন করেছেন। কিন্তু সেই তুলনায় স্বর্ণের দাম কোনোভাবেই আড়াই লাখ টাকা হওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন মোতালেবের আইনজীবীরা।

এরপর ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান একটি পত্রিকায় নদভীর হলফনামা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম থেকে সম্মানি ও ভাতা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি দ্বাদশ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েলের বরাতে বিদেশি অনুদান থেকে সম্মানি নেওয়ার বিষয়টি সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন। তবে এই দাবির বিপরীতে পাল্টা যুক্তি দেখান নদভীর আইনজীবীরা। এভাবে চলতে থাকে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তিতে জয় হয় নদভীরই। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান নদভীর পক্ষেই ‘রায়’ দেন। জানান, সব কাগজপত্র বিবেচনা করে নদভীর মনোনয়নটি সঠিক বিবেচিত হয়েছে।

এরপর শুরু হয় মোতালেবের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। তাঁর ১ শতাংশ সমর্থক তালিকা থেকে দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত করা ১০ জনের মধ্যে দুজনকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জেলা প্রশাসক। স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাইকালে ওই দুজন মোতালেবের পক্ষে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান তিনি। তবে মোতালেব ওই দুই সমর্থককে সেখানে হাজির করলে জেলা প্রশাসক দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু এই পর্যায়ে নদভীর আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, যে বিষয়টি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দ্বারা যাচাইয়ের সময় মিমাংসিত হয়েছে সেটা এখানে আবার নতুন করে তোলার সুযোগ নেই। এ যুক্তির পর জেলা প্রশাসক শেষ পর্যন্ত মোতালেবকে নির্বাচন কমিশনারের কাছে আপিলের পরামর্শ দিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেন।

এরপর মিনহাজুরের মনোনয়নপত্রেও ওই এক শতাংশ সমর্থক নিয়ে প্রশ্ন উঠে। দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচন করা ১০ সমর্থকের মধ্যে ৭ জনের বিষয়েই ভুল তথ্য উপস্থাপন করার কথা বলেন জেলা প্রশাসক। একই সময়ে নদভীর আইনজীবীরাও সৈয়দুল হক নামের একজনকে মোতালেব ও মিনহাজুর দুজনেই সমর্থক হিসেবে দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। কিন্তু এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি মিনহাজুর। শেষ পর্যন্ত তাঁর মনোনয়নটিও বাতিল করা হয়।

পুরো সময় নির্ভার দেখা গেছে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীকে। মূলত তাঁর হয়ে আইনজীবীরাই যুক্তিতর্ক করে যান। আর একসঙ্গে নদভীর ৪-৫ জন আইনজীবীর যুক্তিতর্কের সামনে মোতালেবের দুই আইনজীবী কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। সে কারণে নদভীকে সেভাবে পাল্টা কিছুই বলতে হয়নি।

মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও নদভী বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষ আমার সঙ্গেই আছেন। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আমাকেই তাঁরা বিজয়ী করবেন।’

অন্যদিকে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও হাল ছাড়ছেন না এম এ মোতালেব। জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন এবং আপিল শেষে তিনি মনোনয়নপত্র ফিরে পাবেন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নদভী ও মোতালেব-মিনহাজুর ‘লড়াই’ দেখা অনেকে বলছেন, ‘নদভী ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড়। বরাবরের মতো এবারও তিনি পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আইনজীবীদের নামিয়ে দিয়েছেন। নদভীর এই খেলায় অন্য প্রার্থীরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। সেজন্য নদভীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো সেভাবে হালে পানি পায়নি। উল্টো অন্য প্রার্থীরা হয়েছেন কোনঠাসা।’

   

আ.লীগের কার্যালয়ে বিরোধী দল গঠনের অভিযোগ শমসের মবিনের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বসে সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলাকারী জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আওয়ামী লীগে চলে যায়। এটাই অসুস্থ রাজনীতির দৃষ্টান্ত। যেখানে বিরোধী দল বলে আমরা যেখানে নির্বাচন করব সেখানে নৌকা মার্কার প্রার্থী দেয়া যাবে না। বিরোধী দলের নেতা কে হবে, উপনেতা কে হবে সেটা তাদের কার্যালয় থেকে আসে না। আসেন সরকারি দলের কার্যালয় থেকে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে তৃণমূল বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তৃণমূল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা'র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ‘সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উত্তরণে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা'র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শমসের মুবিন চৌধুরী বলেন, সুস্থ্য রাজনীতি, সুশাসনের ভিত্তি' স্লোগান নিয়ে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছিলেন নাজমুল হুদা। নিবন্ধের জন্য প্রথমে না করে দেয়া হয়েছিল। তখন থেকেই একটা অসুস্থ রাজনীতি শুরু হয়েছে। নাজমুল হুদা আদালতের মাধ্যমে নিবন্ধন এনেছিলেন।

তৃণমূল বিএনপি একটি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানান দলটির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, 'দেশের ভাল চাল এমন অনেকে রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনেও আমরা অনেক জনসমর্থন পেয়েছি। আমরা তৃণমূল বিএনপি সুস্থ রাজনীতির পক্ষে একটি জাতীয় ঐক্য গঠনের উদ্যোগ নেব।'

তিনি বলেন 'বাংলাদেশে কিছু তারিখ আছে, যেমন- ২১ আগস্ট, ৩ নভেম্বর। এসব ঐতিহাসিক তারিখের কারণে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো দিন ঐক্য হবে না। ফলে তারা কোনো দিন দেশে সুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠাও করতে পারবে না। আমরা নতুন প্রজন্মকে নিয়ে সুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করব।'

তৃণমূল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. আক্কাস আলী খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রোকসানা আমিন সুরমা, কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি মো. সিরাজুল হকসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

;

সরকার শক্তভাবে দুর্নীতি দমন না করলে দেশ খালি হয়ে যাবে: চুন্নু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩’শ কোটি টাকার অডিটে আপত্তি ও আর্থিকখাতের অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, সরকার শক্তভাবে এগুলো হ্যান্ডল না করলে দেশ খালি হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীকে কঠিন হওয়ার অনুরোধ তিনি বলেন, কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উদ্বৃতি দিয়ে মুজিবুল হক বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩’শ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম। সব থেকে বেশি অনিয়ম হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সরকার যদি শক্তভাবে এগুলো হ্যান্ডল না করে তাহলে তো দেশ খালি হয়ে যাবে। ব্যাংক তো খালি হয়ে গেছে। ব্যাংকের মাধ্যমে এই যে যায়। নিশ্চয়ই এটা ওভার ইনভয়েজ আন্ডার ইনভয়েজ। এগুলো দেখার দায়িত্ব কার? আমরা কোথায় যাবো? অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যদি এগুলো না দেখেন..।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চুপচাপ বসে থাকেন। এই যে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচার। এটা তাদের রিপোর্ট (বাংলাদেশ ব্যাংক)। তাহলে এতদিন তারা কী করেছিলেন? বাংলাদেশ ব্যাংক কেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তারা কি জানে না কোন আইটেমের প্রাইজ কত? কোন ব্যবসায়ী কোন হিসাব থেকে এলসি করে। এটা ওভার ইনভয়েজ হচ্ছে না আন্ডার ইনভয়েজ হচ্ছে তারা কি জানে না? আমদানি-রপ্তানি একটি বিভাগ দেশে আছে না?

তিনি আরও বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে নেগেটিভ নিউজ দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে অ্যান্ড্রোসকপি করতে গিয়ে দেখলাম নেই। তাকে ঢোকানো হলো তারপর বলা হলো মারা গেছে। খাতনা করাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমার মনে হয় এত এলোমেলো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি কঠিন হন। মানুষ এখন ভাবছে সরকারি দল বিরোধী দল কী করে? জবাবদিহি কোথায়? সরকার শক্ত না হলে আমাদের তো যাওয়ার জায়গা নেই। আশা করব সরকার কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, ব্যবস্থা নেবে।

;

সংসদ নির্বাচনে ১৯৬৯ প্রার্থী মধ্যে ১৪৫৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসির) নিবন্ধিত দল হিসেবে ৪৪টি রাজনৈতিক দলের ২৮টি দল অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচনে ২৮ দলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এক হাজার ৯শ ৬৯ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে এক হাজার চারশ ৫৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, ২৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৩ দলের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি।

প্রায় ৭৩ শতাংশ প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ভোটও পাননি। রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর সঙ্গে এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া রেকর্ড সংখ্যক দলও জামানত হারিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৮ দলের মধ্যে ২০ দলের প্রার্থীরা সবাই জামানত হারিয়েছেন।

৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জন করা রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১৬টি।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ৩০০ আসনের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ, সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন।

বাজেয়াপ্ত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ঢাকা জেলা প্রার্থীদের। এখানে ১৩১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এসময় সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে দুই কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

  • নির্বাচনে প্রার্থী- এক হাজার ৯শ ৬৯ জন
  • জামানত বাজেয়াপ্ত- এক হাজার চারশ ৫৪ জনের
  • সরকারি কোষাগারে টাকা জমা- দুই কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা
  • নির্বাচনে নেওয়া ২৮ দলের ২৩ দলের কেনো প্রার্থী জিততে পারেননি

গত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। সেখানে ২৯৮ আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এক হাজার ৮৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪২২ জন অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ (৭৬.৬১) প্রার্থীই জামানত হারান। তার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান ১৫২ জন।

একাদশ সংসদের ৫৭ সদস্য পরাজিত
এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাদশ সংসদের ৫৭ জন সংসদ সদস্য পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বাকি ছয়জনের তিনজন জাতীয় পার্টির, একজন বিকল্পধারা বাংলাদেশের, একজন গণফোরামের ও আরেকজন তরীকত ফেডারেশনের।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান সিলেট-৬ আসনের শমশের মবিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম-২ আসনে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে বিকল্পধারা দলের প্রার্থী মাহি বি চৌধুরী। সিলেট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান, নেত্রকোনা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

এছাড়া এই তালিকায় আরো রয়েছেন, চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনএমের মহাসচিব ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির শেরিফা কাদের, পাবনা-২ আসনে বিএনএম–এর প্রার্থী সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনী, রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। রাজশাহী-৬ আসনে জাতীয় পার্টির শামসুদ্দিন রিন্টু। নাটোর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির আনিসুর রহমান। কুমিল্লা-২ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আবদুছ ছালাম। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এছাড়া, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১০ প্রার্থী অংশ নিয়ে আটজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারান আটজন। ঢাকা-৮ থেকে ১১ জন প্রার্থী হয়ে ১০ জনই জামানত হারান। ঢাকা-১৪ আসনে ১৪ প্রার্থী অংশ নিয়ে ১২ জনই জামানত হারান।

জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়ে ইসি কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, মনোনয়নপত্র কেনার সময় একজন প্রার্থীকে জামানত হিসাবে ২০ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা রাখতে হয়। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি ভোট পেলে জামানত হিসাবে রাখা ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী যদি না পান, তা হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।

বিগত নির্বাচনগুলোতে যত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
নির্বাচন কমিশনের ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন অনুযায়ী- ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনে ১৪৭ আসনে ৩৯০ জন প্রার্থী মধ্যে ১৬৩ জন জামানত হারান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মোট এক হাজার ৫৫৭ প্রার্থীর মধ্যে ৯৪১ জন জামানত হারান। তার আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে এক হাজার ৯৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ২৫৯ জন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে নির্বাচনে দুই হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ৭৬০ জন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দুই হাজার ৭৮৭ প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ৯৩৪ জন জামানত হারান।

২০১৮ সালের নির্বাচন এক হাজার ৮৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্য থেকে এক হাজার ৪২২ প্রার্থী জামানত হারান। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া মাত্র একটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। ১২ দিনের সংসদের মেয়াদের এই নির্বাচনের বিস্তারিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি ইসি।

;

আওয়ামী লীগ বাংলা ভাষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগ বাংলা ভাষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে: রিজভী

আওয়ামী লীগ বাংলা ভাষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে: রিজভী

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ সরকার বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই সরকার  দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের বাংলা ভাষার চর্চাকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য নানা কায়দায় ভিনদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, দখলদার সরকাররা ঐতিহ্যগতভাবেই জনগণকে শত্রুপক্ষ ভাবে। তাই ক্ষমতা দখলে রেখে সাধারণ মানুষের প্রতি জুলুম করে। জনগণের প্রতি এই তাচ্ছিল্যভাব ক্ষমার অযোগ্য।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে প্রতিশোধ নিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত হবে অতীব নিষ্ঠুর।

বিএনপি নেতা বলেন, গণবিরোধী সরকার জবাবদিহিতার ধার-ধারে না। এই সরকারের পক্ষে কোনো গণরায় নেই। 

;