আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে ষষ্ঠতম জাতীয় পার্টি



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টি নামে ৫টি দল রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ষষ্ঠতম জাতীয় পার্টির জন্ম হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫টি টুকরো রাজনীতির মাঠে বিচরণ করছে। ৯ মার্চ কাউন্সিলের মাধ্যমে আরও একটি জাতীয় পার্টি গঠন এখন সময় ব্যাপার বলা যেতে পারে।

জাপা প্রথম ভাঙ্গনের শিকার হয় ১৯৯৯ সালে। ওই সময় কারাবন্দি এরশাদের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন সংসদ সদস্য ও সিনিয়র কয়েকজন নেতা। মিজানুর রহমান চৌধুরী-আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বে গঠন করা হয় পৃথক জাতীয় পার্টি (মিম)। ওই ভাঙ্গনটি ছিলো সবচেয়ে বড় ভাঙ্গন। তখন অল্পের জন্য সংসদীয় নেতার পদ রক্ষা করতে সক্ষম হন কারাবন্দি এরশাদ। পরে দলীয় প্রতীক লাঙল নিয়ে টানা হেচড়া করেন জাতীয় পার্টি (মিম)। শেষ পর‌্যন্ত কোর্টে গড়ায় বিষয়টি। তখন কোর্টে এরশাদের পক্ষে লড়েছিলেন সহধর্মীনী রওশন এরশাদ। জাপার ওই অংশটি এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক। নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পার্টি জেপি নামে নিবন্ধিত অংশটির প্রতীক বাইসাইকেল।

২০০০ সালে জাতীয় পার্টি তখন বিএনপি জোটের দিকে ঝুঁকেছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনের পুর্বে হঠাৎ ইউটার্ণ নিলে তৎকালীন মহাসচিব প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু ও কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে আরেকবার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে জাপা। এবার সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (নাফি) বিজেপি। যেই দলটি এখনও জাতীয় পার্টি বিজেপি নামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়ে গেছে। এই অংশটিও ইসিতে নিবন্ধিত তাদের দলীয় প্রতীক দেওয়া হয়েছে গরুরগাড়ি।

বিজেপি ভেঙে আরেকটি দল হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি নামে। এই অংশটিও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। কাঁঠাল প্রতীক পাওয়া ওই অংশটির ইসির নিবন্ধন নম্বর ০২৮।

সর্বশেষ ভাঙ্গনের শিকার হয় ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ’র হাত ধরে। তখনও বেশ কিছু প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ বের হয়ে গিয়ে নতুন জাতীয় পার্টি (জাফর) সৃষ্টি করেন। এই অংশটিও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে সক্রিয় রয়েছে।

ভাঙ্গা গড়ার খেলায় পার্টি অনেকটাই নেতৃত্বে শূন্য বলা যেতে পারে। ঝানু রাজনীতিবিদ বলতে যা বুঝায় এমন নেতার সংখ্যা সংখ্যা হাতে গোনা। যে কারণে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন দল থেকে হায়ার করে জেলা কিংবা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেমন হঠাৎ করেই যোগদান করা এক নেতাকে খুলনা মহানগরের আহ্বায়ক করা হয়। আবার ইদানিংকালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কয়েকটি নির্বাচনে নেতা হায়ার করতে দেখা গেছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাপার মাঠ পর্যায়ে অনেক জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু সেই সমর্থনকে কাজে লাগানোর মতো নেতার সংকট প্রকট। আবার যারাও রয়েছেন তারাও ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় পার্টি এরশাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দু’একবার যারাই এরশাদের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে গেছেন তাদেরকেই দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক নেতা একাধিক দফায় শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারের শিকার হয়েছেন। শো’কজের ক্ষেত্রে এরশাদ ছাড় দেননি আপন ভাই জিএম কাদের ও স্ত্রী রওশন এরশাদকেও।

এরশাদের মৃত্যূর পর থেকেই নানা রকম টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে দেবর-ভাবির (জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ) সম্পর্ক। এরশাদের মৃত্যূতে শুন্য হওয়া বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে প্রথম বিরোধ দেখা দেয়। দেবর ও ভাবি পৃথকভাবে নিজেকে বিরোধীদলীয় নেতা করার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন বিগত সংসদে। শেষ পর্যন্ত রওশন এরশাদকে বহাল করেন স্পিকার। আরও কতগুলো ইস্যুতে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল।

কিন্ত গত সংসদ নির্বাচনে রওশন এরশাদ এবং তার সন্তানকে পার্টি থেকে মনোনয়ন না দেওয়া অম্লমধুর সম্পর্ক এখন সাপে-নেউলে রূপান্তরিত হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। রওশন দাবী করেছেন তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করতে না পারায় ইসির কাছে একাধিক দফায় সময় চেয়ে নিয়েছিল জাপা। সেই সময়ও গত হয়েছে কয়েক মাস আগেই, কিন্তু কাউন্সিল করতে পারেনি জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলের চেয়ারে থাকা দলটি। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাচ্ছেন রওশন এরশাদ। হঠাৎ করেই একতরফাভাবে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ডেকেছেন। এরপর বর্ধিতসভাসহ নানান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে রওশন এরশাদকে সামনে রেখে। রওশন এরশাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে ইতিমধ্যেই বহিস্কার করা করেছেন জিএম কাদের।

রওশনপন্থীরা শুধু পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবকে মানতে চাইছেন না। আর অন্যান্য সকল কমিটিকে তাদের কমিটি বলে দাবী করে আসছেন। তারা বলতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল জেলা-উপজেলা কমিটি তাদের সঙ্গে রয়েছে। তারা কাউন্সিলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু কাউন্সিলকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, রওশন এরশাদ পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদে রয়েছেন, পদটি অলঙ্কারিক। তার কাউন্সিল ডাকার কোন এখতিয়ার নেই। আর তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির কোন নেতাকর্মী নেই। তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা কেনো নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির সম্পর্ক স্পর্শকাতর।

কাউন্সিল নিয়ে জিএম কাদের পন্থীদের যে অস্বস্তি কাজ করছে তা তাদের কার্যক্রম দেখলে বোঝা যায়। পার্টির একটি খবর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর নির্দেশনা এবং আহ্বান ছাড়া অন্যকোন ব্যক্তিবর্গের আহ্বানে এবং জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে ঢাকায় বা অন্য কোন স্থানে আয়োজন করা কোন সম্মেলন, সভা, সমাবেশে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ওই চিঠি কেন্দ্রীয় কমিটি, সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

রওশন পন্থীরা কাউন্সিল করেই ক্ষ্যান্ত দিচ্ছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তারা এরপর পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। আবার লাঙ্গল প্রতীকও তাদের চাই, ইতোমধ্যে ইসিতে চিঠি দিয়েছেন। আবার কাউন্সিলের পর তৎপর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

   

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চির ভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত এই দিনটিকে বরাবরের ন্যায় স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্ববাসী সকলের সাথে একত্রিত হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহ যথাযথ মর্যাদা এবং গুরুত্বের সাথে স্মরণ ও পালন করবে।

কর্মসূচির মধ্য রয়েছে আগামী ১৭ এপ্রিল ভোর ৬ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এদিকে মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্য রয়েছে ভোর ৬ টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৯ টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে গার্ড অব অনার। সকাল ১০ টায় শেখ হাসিনা মঞ্চ মুজিবনগর দিবসের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. কামাল হোসেন, এডভোকেট আফজাল হোসেন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সঞ্চালনা করবেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম. মোজাম্মেল হক।

এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. আমিরুল আলম মিলন, পারভীন জামান কল্পনা, এডভোকেট গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম, এ খালেক এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

;

শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, চট্টগ্রামে ভিপি নুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবীর শুনানি শেষে এ পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার তানিম বাদী হয়ে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের ১ জুন আসামি ছাত্র যুব অধিকার পরিষদের নামে সমাবেশ ডেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে (সাবেক উপমন্ত্রী) বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেছেন। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছেন। যে ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীকে ‘গুন্ডাবাহিনী বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১৪ জুন মামলাটি দায়ের করা হলে ২৮ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আজ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

;

এবার ঈদে মানুষ চরম দুর্দশায় দিন কাটিয়েছে: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থেকে জনগণের পকেট কাটার কারণে দেশে হাহাকার পড়েছে। অনাহার—অর্ধাহারে ক্ষুধার্ত মানুষ এবারের ঈদে চরম দুর্দশায় দিন কাটিয়েছে।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বাজারে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির কারণে ভাত—তরকারি জোগাড় করা যেখানে কষ্টকর সেখানে ঈদের পোশাক কিনবে কিভাবে?’ তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত একজন গার্মেন্ট শ্রমিক নিজের শিশু সন্তানের জন্য ফুটপাত থেকে জামা কিনতে পারেনি। চট্টগ্রামে ঈদ বাজারে গত বছরের তুলনায় এবার ৩০ শতাংশ কেনাকাটা কমেছে। এই পরিস্থিতি সারা দেশে। ঢাকাতে ধনীদের কেনাকাটা বাড়লেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। কাপড় ব্যবসায়ীরা শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী তাদের টার্গেটের অর্ধেকও বিক্রি করতে পারেনি। অনেক ব্যবসায়ী ঈদের প্রাক্কালে বাকিতে কাপড় নিয়ে বিক্রি করার পর তার টাকা পরিশোধ করে। এখন তাদের কপালে হাত।

তিনিও বলেন, আওয়ামী নেতাদের অনেকেই বলেছেন, দেশে বিত্তশালীদের সংখ্যা বেড়েছে, যারা মূলতঃ বেনজীর শ্রেণির। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই বিত্তশালী কারা? এই বিত্তশালী শ্রেণি হচ্ছে বেনজীর শ্রেণি—যারা বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুম, খুন করে প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। এছাড়া মেগা প্রজেক্ট ও অবাধে ব্যাংক লুটের কথা এখন কল্পকাহিনীতে পরিণত হয়েছে যা অতিবাস্তব। এটা বাস্তব সত্য যে, দুর্নীতির সঙ্গে ক্ষমতার ওপরের দিকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। অত্যাচারী শাসকের পদতলে পিষ্ট আজ বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুইঁয়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক সরফুদ্দিন আহমেদ সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং, রফিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম প্রমুখ।

;

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাজা ভেঙে গেছে: হানিফ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এদেশের মানুষ জানে, নেতাকর্মীরাও জানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মাজা অনেক আগেই ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, মাজা ভাঙা বলেই তারা ঘরে উঠে গেছে, তারা আবার কিভাবে মাজা সোজা করে দাঁড়াবে।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের পিটিই রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হানিফ এসব কথা বলেন ।

তিনি বলেন, বিএনপির সাবেক নেতা কর্নেল অলি আহম্মেদ এক জনসভায় বলেছিলেন খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া মিলে দেশটারে খাইলো। আরও বলেছিলেন এই দুজনই দেশ ধ্বংসের মূল কারণ। যেখানে তাদের দলের এক সময়ের নেতা এসব কথা বলেছিলেন সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলামরা নতুন করে পুত-পবিত্র সাধু সেজে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এটা করে কোনো লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোথাও যুদ্ধ হোক এটা আমরা সমর্থন করি না। আমরা চাই গোটা পৃথিবীই শান্তিপূর্ণ থাকুক। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদ করেছি, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধেরও বিপক্ষে ছিলাম। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হোক।

এসময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

;