বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমা করেছেন এটা সত্যি নয়: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এটা সত্যি নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (১৭ মে) বিকালে তেজগাঁওয়ের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরের পর আমাদের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর ১১শ' অফিসারকে নাস্তা খেতে খেতে ফাঁসি দিয়েছিলো।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে বলেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এটা সত্যি নয়। ১১ হাজার স্বাধীনতা বিরোধী কারাগারে ছিলো, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এদের মুক্তি দিয়েছিলো। যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলো ৭১৩ জন। এদের মুক্তি দিয়েছিলো জিয়াউর রহমান। এই ইতিহাস ভুলে গেছেন? কথায় কথায় আজকে বলেন, কারাগার। আমি কি মিথ্যা বলেছি? জিয়াউর রহমান কি করেছিলো এর প্রমাণ আছে।

বিএনপি ২৮ অক্টোবর পালিয়ে গিয়ে এখন বেসামাল হয়ে এখন প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, আমি তাদের বলতে চাই, মুক্তির কথা বলেন, লজ্জা করে না? জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য দলের ৬২ হাজার নেতাকে জেলে রেখেছিলো। আপনাদের কতজন নেতা জেলে আছে? ৩ হাজার আমাদের নেতাকর্মীর ও সরকারি অফিসারদের গুম করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

আমাদের নাকি প্রতিবেশী দেশ নিয়ন্ত্রণ করে, ফখরুল সাহেব শেখ হাসিনাকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি জয় বাংলার চেতনা। দেশি বিদেশি কোন শক্তি নয়। আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে দেশের জনগণ, সংবিধান। এই সংবিধানের বাইরে আমরা যাবো না।

যত ষড়যন্ত্র করুক, বিদেশি শক্তির নামে হুমকি ধমকি দিতে পারেন। তিনি কোন বিদেশি শক্তির পরোয়া করেন না, শুধু বাংলাদেশের জনগণকে পরোয়া করেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের পূর্ব পৃথিবীর সূর্য, আশার বাতিঘর, স্বপ্নের ঠিকানা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে সাহসী রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। গত ৪৪ বছরের সবচেয়ে বিচক্ষণ, সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সবচেয়ে জনপ্রিয়, সবচেয়ে সফল কূটনীতিক এর নাম শেখ হাসিনা।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, এড. কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, এড. কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

   

যেখানে খাল, মাঠ দখল হবে সেখানেই রুখে দাঁড়াতে হবে: আতিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: বার্তা২৪.কম

মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যেখানে খাল, মাঠ দখল হবে সেখানেই এর বিরুদ্ধে কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় হাতিরঝিলের এমফিথিয়েটারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আতিক বলেন, খাল আমার, খেলার মাঠ আমার, কেউ আমরা চিন্তা করি না এটা আমাদের। আমরা চিন্তা করি 'মি, মি, মি', এখন সময় এসেছে চলুন আমরা চিন্তা করি 'উই, উই, উই'। আমি সকল কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনকে বলবো যে, যেখানে খাল, মাঠ দখল করবে আমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। কেউ খাল, মাঠ দখল করতে পারবে না। কাউন্সিলররা জানাবেন, তাহলে আমরা সেখানে সাংবাদিকদের নিয়ে সেখানে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে উত্তর সিটির মেয়র বলেন, আপনি আমাদের উপহার দিয়েছেন হাতিরঝিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছেন আমাদের একটি স্বাধীন দেশ। আওয়ামী লীগ আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়েছে, লাল সবুজের পতাকা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কথা বলতে হলে ইতিহাসের কথা বলতে হবে।

এসময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ একজন বললো আর দেশ স্বাধীন হয়ে গেলো! দেশ স্বাধীন হওয়া এতোটা সহজ না। এসম্পর্কে জানতে হলে আমাদের ইতিহাস জানতে হবে, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জানতে হবে।

যতই ষড়যন্ত্র আসুক, আমরা তা প্রতিহত করবো এমন প্রতিজ্ঞা আমাদের করতে হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। আসুন আমরা এই শহরকে ভালোবাসি, দেশকে ভালোবাসি, মানুষকে ভালোবাসি। যা আমরা জাতির পিতার থেকে শিখেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শিখছি।

এসময় তিনি আগামী ২৮ জুন সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত সাইকেল র‍্যালি করার ঘোষণা দিয়ে সে সাইকেল র‍্যালি তে সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

;

আ.লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো বলেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে: বিপ্লব বড়ুয়া



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। ছবি: বার্তা২৪.কম

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো বলেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় হাতিরঝিলের এমফিথিয়েটারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, সে কারণে অনেক বদনাম হয়তো শুনে থাকবেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো বলেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির জ্যানেটিক এনসেস্ট্রি। আমাদের শরীরের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হচ্ছে আওয়ামী লীগ। পৃথিবীর দ্বিতীয় কোনো রাজনৈতিক দল পাওয়া যাবে না, যতটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ করেছে, বুকের রক্ত দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক পরম্পরা।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ ৭৫ বছর অতিক্রম করায় এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে যা অর্জন সবই এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

;

জামিনে কারামুক্ত হলেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী পাপিয়া



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লায় কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে কারামুক্ত হলেন আলোচিত যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া। সোমবার (২৩ই জুন) ৬টায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বের হোন তিনি।

বিষয়টি গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৬টার সময় পাপিয়া জামিনে কারামুক্ত হোন। এর আগে বিকেলে পাপিয়া জামিনের সকল কাগজপত্র আসলে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে তাকে কারামুক্ত করা হয়।

এর আগে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন পাপিয়া। সেখানে এক নারী বন্দির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর পরপরই ২০২৩ সালের ৩ জুলাই শামীমা নূর পাপিয়াকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন এবং অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ছয় শ’ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার এবং সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি পাপিয়ার ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানার মাদক ও অস্ত্র মামলা, গুলশান থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা, বিমানবন্দর থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে (জাল টাকার) মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাপিয়াসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের আরেক পরিদর্শক ইব্রাহীম হোসেন।

২০২০ সালের ১২ অক্টোবর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে অস্ত্র মামলায় ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

;

ট্রানজিটের নামে ভারতকে করিডোর দেওয়া হয়েছে: এবি পার্টি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবি পার্টির সাংবাদিক সম্মেলন/ ছবি: বার্তা২৪.কম

এবি পার্টির সাংবাদিক সম্মেলন/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ট্রানজিটের নাম করে ভারতকে করিডোর দেওয়া হয়েছে। ভারত অবাধে যাতায়াত করতে পারবে, পৃথিবীর কোথাও এমন চুক্তির নজির নেই বলে দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন দাবি করা হয়।

বক্তারা বলেন, ভারতের আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, ক্রমাগত চেপে বসেছে। ট্রেনে যদি অস্ত্র পরিবহন হয়, তাতে যদি কোন সমস্যা হয়। তখন কি হবে কিছুই জানানো হচ্ছে না। এই না জানানোটাও বড় ধরনের অপরাধ। ৩টি চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে, ৭টি চুক্তি অথবা এমওইউ। জাতিকে অবহিত করার দরকার ছিল, কিন্তু জাতিকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সংবিধানের ১৪৫/ক-তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি করা হলে সংসদকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু পুতুল সংসদ সদস্যরা কোন প্রশ্ন করছেন না।

পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সরকার চিরকাল ক্ষমতায় থাকার ফন্দি ফিকির করে যাচ্ছে। একযোগে অবৈধ সরকারকে উৎখাত করতে হবে।

যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবি তাজুল ইসলাম বলেন, দিল্লির কাছে এক ধরনের দাসখত দিয়ে আসা হয়েছে, বন্ধক দিয়ে আসা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব জনগণকে সচেতন করা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত চিরদিন মনে রাখবে, আপনি কি দিয়ে এলেন! প্রত্যেকটা বিষয় পরিষ্কার করবেন, না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পার্টনারশিপ নিয়ে কি ফরমেটে চুক্তি হয়েছে। কেনো গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। সে কারণেই সন্দেহ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ভারতকে অবাধ একসেস দিচ্ছেন কিনা। ভারত বাংলাদেশকে করদরাজ্যে পরিণত করতে চায়। সিকিম, আসাম কিন্তু এক সময় ভারতের অংশ ছিল না। তার সুচ হয়ে ঢুলে ফাল হয়ে বের হয়েছে। সেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাদের নজর পড়েছে।

ব্যারিস্টার শেখ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সফর প্রসঙ্গে জানবার চেষ্টা করেছি, দুঃখজনকভাবে বেশি কিছু জানা যায়নি। যতটুকু জেনেছি খুবই ভয়ঙ্কর কোনভাবে সহায়ক বলে মনে করছি না। ব্লু ইকোনমি, সাইবার সিকিউরিটি ও রেল লাইন খুবই স্পর্শকাতর বলে মনে হয়েছে। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। ওয়ান ইলেভেনের গাদ্দার সরকার, ট্রান্স এশিয়ান কানেক্টিভিটি করতে চেয়েছিল। এখন হচ্ছে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে। ৮৫০-১১০০ কিলোমিটার ট্রানজিটের নামে করিডোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সর্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রত্যেক প্রজন্মের দায়িত্ব, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে বসবাস করতে চান নাকি করদ রাজ্যে বসবাস করতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানে বাংলাদেশ নয়। অনেক চুক্তি করতে পারবেন তবে জনগণকে বাদ দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। আমাদের দেশের রেলের লাইন উপড়ে ফেলা, বগিতে আগুন দেওয়ার অনেক নজির রয়েছে।

কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে চুক্তি প্রকাশ না করে। তালপট্টি আমরা হারিয়েছি, ট্রানজিট দিয়েছে আমাদের কোন লাভ নেই, যদি অস্ত্র প্রবেশ করে তাহলে কি হবে। আমাদের চেক করার কোন সুযোগ নেই। ৫৪টি আন্তসীমানা নদী রয়েছে, প্রত্যেকটি নদীতে বাঁধ দিয়েছে, কোন আইন তারা মানছে না। সরকার কোন প্রতিবাদও করছে না।

মেজর (অব.) আব্দুল ওয়াহাব মিনার বলেন, ভারতের সঙ্গে যতগুলো চুক্তি হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে কোনটাই বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি। এবার বাংলাদেশের পক্ষে যাবে সে আশা করা বৃথা। এই সরকারের কাছে কিছু চেয়ে পাওয়া যাবে না। তাই লড়াই করে আদায় করে নিতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা আকাম কুকাম রক্ষার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। টিআইবি বলেছে তারা এই বিবৃতি দিতে পারে না। এটা সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

;